বৃহস্পতিবার, ১৮ অক্টোবর ২০১৮
Monday, 11 Jun, 2018 01:48:55 pm
No icon No icon No icon

কর্মব্যস্ততায় ঈদ আনন্দ


কর্মব্যস্ততায় ঈদ আনন্দ


হারুন অর রশিদ, টাইমস ২৪ ডটনেট, ঢাকা: ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিক সংবাদ সংগ্রহের জন্য, চিকিৎসক রোগীর সেবা প্রদানে এবং পুলিশ জনগণের জানমালের নিরাপত্তার জন্য ঈদের দিন দায়িত্ব পালন করেন। কর্মব্যস্ততার মধ্য দিয়ে তারা কীভাবে ঈদ উদযাপন করবেন লিখেছেন রীতা ভৌমিক।বাবা-মায়ের সঙ্গে ঢাকার উত্তরায় থাকেন যমুনা টেলিভিশনের স্টাফ রিপোর্টার লাভলী বিথী। ঈদের দিন ভোরে ঘুম থেকে উঠে মাকে রান্নায় সহযোগিতা করেন। সকালের নাস্তার জন্য পুডিং, বুট অথবা গাজরের হালুয়া, গরুর মাংস রান্না করবেন এবারের ঈদে। এরপর ৯ বছরের বোন অধরাকে গোসল করিয়ে, নতুন জামাকাপড় পরিয়ে, সাজিয়ে গুছিয়ে নিজে তৈরি হবেন। সকালে ঈদের নাস্তা পরিবারের সবার সঙ্গে খেয়ে ৯টার দিকে অফিসের জন্য বের হবেন। সকাল দশটার মধ্যে বসুন্ধরায় চলে আসবেন যমুনা টেলিভিশনের প্রধান কার্যালয়ে।
ঈদের দিনে কাজ করতে কেমন লাগে জানতে চাইলে লাভলী বিথী বলেন, ঈদের দিন কাজ করতে মন্দ লাগে না। সিনিয়র, জুনিয়র সহকর্মীদের ঈদ শুভেচ্ছা জানাব। বড়দের সালাম করে সালামিও পাব। এরপর অ্যাসাইনমেন্ট অনুযায়ী স্পটে চলে যাব। অ্যাসাইনমেন্ট শেষ করে অফিসে ফিরে নিউজ ধরাব। ঈদের দিন দশ-বারোজন একেকটা পদ রান্না করে নিয়ে আসি। দুপুরে যারা অফিসে থাকব তারা সবাই মিলে ওই খাবার খাব।
যাদের অ্যাসাইনমেন্ট থেকে ফিরতে দেরি হবে তাদের জন্য খাবার রেখে দেয়া হবে। সবাই খুব মজা করে খাব। আরেকটা অ্যাসাইনমেন্টের মাঝে যদি সময় পাই তাহলে বন্ধুবান্ধব, আত্মীয়স্বজনদের ঈদ শুভেচ্ছা জানাব।
খালাতো, চাচাতো, ফুফাতো ভাইবোনেরা ঈদের দিন আমাকে মিস করে অভিমান করে থাকে। অফিস থেকে বের হতে হতে বিকাল পাঁচটা থেকে ছয়টা বাজবে। আগেই ঠিক করে নেব বন্ধুরা সবাই কোথায় আড্ডা দেব নাকি মুভি দেখব। সঙ্গে খাওয়া-দাওয়াও হবে। বাসায় ফিরতে ফিরতে রাত ৯টা-১০টা হবে। ছোট বোনের অভিমানও ভাঙাতে হবে সারা দিন আমাকে না পাওয়ায়। মায়ের বায়না রাখতে পরিবারের সঙ্গে রাতের খাবার খাবো। এরপর সবাই মিলে টেলিভিশনে ঈদের অনুষ্ঠান দেখব।
১১ আর্মড পুলিশ ব্যটালিয়নের সহঅধিনায়ক (অতিরিক্ত পুলিশ সুপার) মোসা. সিদ্দিকা বেগমের এবারের ঈদটা কর্মব্যস্ততার মধ্য দিয়েই কাটাবেন। চাঁদ রাতে ঈদের রান্নার সবকিছু গুছিয়ে রাখবেন। খুব ভোরে ঘুম থেকে উঠে ননদের সহযোগিতায় সেমাই, পায়েস, চালের রুটি, ফলের ডেজার্ট, গরুর মাংস ভুনা, ভুনা খিচুড়ি সাড়ে সাতটার মধ্যে রান্না করবেন। দশ বছরের ছেলে আহনাফ আবরারকে তৈরি করে দেবেন।
স্বামী, ছেলে মিষ্টিমুখ করে ঈদের নামাজ পড়তে চলে যাবেন। তিনি নিজেও গোসল সেরে তৈরি হয়ে ঈদের নামাজ পড়বেন। মোসা. সিদ্দিকা বেগম বলেন, ঈদের দিন অফিস এবং পরিবার দুটো দায়িত্বই সমানভাবে পালন করতে হয়। ওরা নামাজ পড়ে এলে সবাই মিলে সকালের নাস্তা খাব।
স্বামীর বন্ধুবান্ধবরা এলে তাদের আপ্যায়ন করব। আপ্যায়নের ফাঁকে ফাঁকে দুপুরের জন্য কাচ্চি বিরিয়ানি, আতপ চালের ভাত, মুরগির রোস্ট, শামি কাবাব, কোরাল অথবা যে কোনো বড় মাছ রান্না করব, একটা সবজি থাকবে। রান্না শেষ করে অফিসে চলে আসব। মহিলা পুলিশ ব্যারাকের সহকর্মীদের সঙ্গে ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় করব। সাড়ে বারোটা থেকে একটার মধ্যে নামাজ পড়ে অধিনায়ক ও অন্যান্য সহকর্মীদের সঙ্গে দুপুরের খাবার খাব।
ঈদের দিন অফিসে খাবারের আইটেমে পোলাও, খাসির মাংস, মুরগির রোস্ট, চাইনিজ ভেজিটেবিল, সালাদ, কোমল পানীয়, মিষ্টি, ফল থাকবে। এরপর বিনোদনের ব্যবস্থাও থাকবে। যাতে ঈদের দিনটি আনন্দের সঙ্গে উদযাপন করতে পারেন।যে ফোর্স ডিউটিরত অবস্থায় স্থাপনাগুলোতে থাকবেন তারা ঠিকমতো দায়িত্ব পালন করছেন কিনা তার তদারক করব। দুটোর দিকে বাসায় এসে পরিবারের সবাইকে খাবার পরিবেশন করব। আত্মীয়স্বজনরা বেড়াতে এলে আপ্যায়ন করব।
কয়েকপদ ডেজার্ট তৈরি করব বিকালে খাওয়ার জন্য। সঙ্গে চটপটি, ফুচকাও করব। বিকালে আবার অফিসে যাব। সব ঠিকঠাক রয়েছে কিনা তা দেখার জন্য। এরই মধ্যে স্বামী ননদ আর ছেলেকে নিয়ে ঘুরে আসব। সন্ধ্যার দিকে বাসায় ফিরে সময় পেলে ওদের সঙ্গে আমিও বেড়িয়ে আসতে পারি আত্মীয়স্বজনের বাড়ি থেকে। রাতে যদি কেউ আসেন তাদের সঙ্গেও কিছুটা সময় কাটাব। খাবার-দাবার সব গুছিয়ে ঘুমুতে ঘুমুতে রাত বারোটা পেরিয়ে যাবে।
বারডেম জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. নূরে সাবা রহমান। ঈদের দিন ডিউটি করবেন সকাল ৮টা থেকে বেলা ২টা পর্যন্ত। সকালে হাসপাতালে আসার কারণে শাশুড়িকে সহযোগিতা করার জন্য রাতেই রান্নার প্রস্তুতি করে রাখবেন ডা. নূরে সাবা।
এ প্রসঙ্গে ডা. নূরে সাবা রহমানের মতে, মেয়ে আয়শার প্রথম ঈদ। ওর বয়স আট মাস। ওকে নিয়ে সবাই এবারের ঈদটা অনেক আনন্দে কাটাব। পায়েসটা চাঁদ রাতেই রান্না করব। মাংস মেরিনেট করে রাখব। খুব ভোরে ঘুম থেকে উঠে মুরগির রোস্ট, সেমাই রান্না করব।
মেয়েকে গোসল করিয়ে তৈরি করে দেব। নিজে গোসল সেরে তৈরি হয়ে নামাজ পড়ে বাবা-মা’কে (শ্বশুর-শাশুড়ি) সালাম করব। স্বামী-শ্বশুর মিষ্টিমুখ করে ঈদের জামাত পড়তে চলে যাবেন। আমি হাসপাতালে চলে আসব। বাকি রান্না মা-ই করবেন। আত্মীয়স্বজন, বন্ধুবান্ধব, প্রতিবেশীরা এলে তাদের আপ্যায়ন করবেন। এরি ফাঁকে আয়শাকেও দেখাশোনা করবেন। হাসপাতালে সিনিয়র, জুনিয়র সহকর্মীদের সঙ্গে ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় করব।
সহকর্মীদের সঙ্গে বাড়ি থেকে আনা মিষ্টিজাতীয় খাবার খাব। এভাবে সহকর্মীদের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করে নেব। আবাসিক রোগীদের পরিদর্শন করব। তাদের ঈদ শুভেচ্ছা জানাব। তাদের সমস্যার কথা শুনব।জটিল রোগী থাকলে তাদের অবস্থার কথা জানাব। ডিউটি শেষে বদলি সহকর্মীকে ঈদ শুভেচ্ছা জানিয়ে দায়িত্ব বুঝিয়ে বাসায় ফিরব। দুপুরের খাবারটা পরিবারের সবাই, অতিথিদের সঙ্গে খাব। এরই মধ্যে বাবা-মাকে ফোন করে ঈদের সালাম জানাব।বিকালে আপুর (ননাস) বাসায় দাওয়াত থাকবে। সেখানে সপরিবারে যাব। আপু-দুলাভাইয়ের কাছ থেকে ঈদের সালামি পাব। ছোটদের ঈদের সালামি দেব। রাতের খাবার খেয়ে বাসায় ফিরে টেলিভিশনে ঈদের অনুষ্ঠান দেখব। ঘুমুতে ঘুমুতে একটু রাত তো হবেই।

এই রকম আরও খবর




Editor: Habibur Rahman
Dhaka Office : 149/A Dit Extension Road, Dhaka-1000
Email: [email protected], Cell : 01733135505
[email protected] by BDTASK