শুক্রবার, ২০ জুলাই ২০১৮
Tuesday, 10 Jul, 2018 08:12:08 pm
No icon No icon No icon

থাইল্যান্ডের দুর্গম গুহা থেকে ১২ ক্ষুদে ফুটবলার ও তাদের কোচ উদ্ধার


থাইল্যান্ডের দুর্গম গুহা থেকে ১২ ক্ষুদে ফুটবলার ও তাদের কোচ উদ্ধার


এবিএম সুজন, টাইমস ২৪ ডটনেট, ঢাকা: গত সপ্তাহ দুয়েক বিশ্ববাসীর মনোযোগ কেড়েছিল থাম লুয়াং নামে থাইল্যান্ডের উত্তরাঞ্চলের দুর্গম গুহাটি। কারণ, এই গুহার চার কিলোমিটার ভেতরে আটকা পড়ে মৃত্যুর ক্ষণ গুণছিল ১২ ক্ষুদে ফুটবলার ও তাদের কোচ। তবে দেশি-বিদেশি ৯০ জন ডুবুরি জীবনের ঝুঁকি নিয়ে টানা তিন দিন রুদ্ধশ্বাস অভিযান চালিয়ে তাদের উদ্ধার করেছে। মঙ্গলবার নাগাদ তাদের সবাইকে নিরাপদে উদ্ধার করা হলেও মারা গেছেন এক থাই ডুবুরি।রোববার রাত থেকে প্রবল বৃষ্টি শুরু হওয়ায় গুহার ভেতর পানির উচ্চতা বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দেয়। ফলে ওই দিনই উদ্ধার অভিযান শুরু করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এটি ছিল একটি আন্তর্জাতিক অভিযান। এতে বিভিন্ন দেশের উদ্ধারকারী ও বিশেষজ্ঞরা অংশ নেন।বিবিসি বাংলা জানায়, উদ্ধার অভিযান চালায় ৯০ জন দক্ষ ডুবুরির একটি দল। এদের ৪০ জন থাইল্যান্ডের এবং বাকিরা বিভিন্ন দেশের। অসামান্য সাহসী ডুবুরিরা গুহার ভেতরে অন্ধকার, সংকীর্ণ এবং জায়গায় জায়গায় পানিতে ডোবা পথ দিয়ে কিশোরদের হাঁটিয়ে বা ডুবসাঁতার দিইয়ে প্রবেশমুখে নিয়ে আসেন। 
এই কিশোরদের গুহার ভেতরে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হয় যেটা কিনা অভিজ্ঞ ডুবুরিদের জন্যও ভীষণ কষ্টকর ছিল। এই অভিযান প্রক্রিয়া জুড়ে ছিল হাঁটা, পানির ভেতর দিয়ে চলা, বেয়ে ওঠা এবং পানিতে ডুবসাঁতার দিয়ে দড়ি ধরে এগিয়ে যাওয়ার মতো ঝুঁকিপূর্ণ সব কাজ।সব ডুবুরি বাড়তি সতর্কতার জন্য মুখোশ ব্যবহার করেন। প্রতিটি কিশোরকে দুজন করে ডুবুরি সাহায্য করেছে। তারা ওই কিশোরের অক্সিজেন সরবরাহের ট্যাঙ্কও বহন করে।
তবে গুহার সবচেয়ে জটিল অংশটি হল অর্ধেক পথের ‘টি-জংশন’। যেটা এতোটাই সংকীর্ণ যে তার ভেতর দিয়ে যাওয়ার জন্য ডুবুরিদের অক্সিজেন ট্যাঙ্কটি খুলে ফেলতে হয়।
গত ২৩ জুন এই দলটি গুহার ভেতর বেড়াতে গিয়ে ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে আটকা পড়ে যায়। পরে গত সপ্তাহে তাদের সন্ধান পায় ডুবুরিরা। এরপর তাদের উদ্ধারে শুরু হয় সর্বাত্মক তৎপরতা।ওই সুড়ঙ্গে রয়েছে আরেকটি স্থান যার নাম দেয়া হয়েছে চেম্বার থ্রি। যেটা ডুবুরিদের জন্য ফরোয়ার্ড বেইজে পরিণত হয়। সেখানে কিশোররা বাকি পথ পাড়ির দেয়ার আগে কিছু সময় বিশ্রাম নিতে পারে। পরে তারা পায়ে হেঁটে সহজেই প্রবেশমুখে পৌঁছে যায়। সেখান থেকে তাদের চিয়াং রাইয়ের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
উদ্ধারকারীরা গুহায় ঢুকার আগে বিশাল পাম্পিং মেশিন দিয়ে গুহার ভেতরের পানির স্তর নীচে নামিয়ে আনা হয়। পুরো অভিযানকে এটা আরও সহজ করে তোলে।
এই উদ্ধার অভিযানে অংশ নেয়া এক সাবেক থাই নৌবাহিনীর ডুবুরির মৃত্যুর ঘটনার মধ্যে দিয়ে ইঙ্গিত পাওয়া যায় যে এই যাত্রা কতোটা বিপজ্জনক ছিল। সামান গুনান নামের ওই ডুবুরি শুক্রবার গুহার মধ্যে দিয়ে কিশোরদের অক্সিজেন ট্যাঙ্ক দিয়ে ফিরছিলেন। এসময় পানির ভেতরেই অক্সিজেন ফুরিয়ে গেলে শ্বাসরোধ হয়ে মারা যান তিনি।

এই রকম আরও খবর




Editor: Habibur Rahman
Dhaka Office : 149/A Dit Extension Road, Dhaka-1000
Email: [email protected], Cell : 01733135505
[email protected] by BDTASK