বুধবার, ১৮ জুলাই ২০১৮
Sunday, 08 Jul, 2018 10:11:29 am
No icon No icon No icon

থাই কিশোরদের উদ্ধারে সময় ৪ দিন


থাই কিশোরদের উদ্ধারে সময় ৪ দিন


টাইমস ২৪ ডটনেট, আন্তর্জাতিক ডেস্ক: থাইল্যান্ডের গভীর গুহায় আটকে পড়া ১২ কিশোর ফুটবলার ও তাদের কোচের ভাগ্য ক্রমেই সংকীর্ণ হয়ে উঠছে। গুহার ভেতর অক্সিজেনের মাত্রা কমে যাওয়া এবং ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে গুহার ভেতরে তাদের আর বেশিদিন টিকে থাকা সম্ভব হবে না। তবে ৮ জুলাই, রবিবার গুহায় আটকে পড়াদের উদ্ধারে চূড়ান্ত অভিযানের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। উদ্ধার অভিযানের প্রধান কমান্ডার নারোংসাক ওসোটানাকোর্ন জানিয়েছেন, কিশোরদেরকে গুহা থেকে বের করে আনতে সর্বোচ্চ তিন থেকে চারদিন সময় পাওয়া যাবে। তবে বর্তমানে যে অবস্থা বিরাজ করছে, তা কিশোরদের উদ্ধারের জন্য আদর্শ বলে জানিয়েছেন তিনি।

চিয়াং রাই প্রদেশে আগামী কয়েকদিন ভারি বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা আছে। বৃষ্টিপাত হলে গুহার পানির উচ্চতা আরও বেড়ে যাবে। এতে করে কিশোরদের জীবিত থাকা অসম্ভব হয়ে পড়বে। তবে গত দুই সপ্তাহ ধরে ধারাবাহিকভাবে গুহা থেকে পানি পাম্প করার সুফল পাওয়া যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন নারোংসাক। উদ্ধার অভিযানের সর্বশেষ অবস্থার বর্ণনা দিয়ে তিনি জানান, গুহার ভেতর পানির উচ্চতা নাটকীয়ভাবে কমে এসেছে এবং উদ্ধারকারী ডাইভাররাও এ সময়টিকেই কিশোরদের বের করে আনার জন্য উপযুক্ত সময় হিসেবে দেখছেন।

৮ জুলাই রবিবার সাংবাদিক ও উদ্ধার অভিযানের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা নেই, এমন সবাইকে উদ্ধার অভিযানস্থল থেকে চলে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধার অভিযানের জন্য জায়গা ফাঁকা করার প্রয়োজন ছিল। কিন্তু কখন চূড়ান্ত অভিযান শুরু হবে, সে সম্পর্কে কোনো কর্মকর্তা এখনো মুখ খোলেননি।

গত ২৩ জুন ফুটবল অনুশীলন শেষে ২৫ বছর বয়সী কোচসহ ওই ১২ কিশোর ফুটবলার গুহাটির ভেতরে ঘুরতে গিয়েছিল। কিন্তু বৃষ্টিতে গুহার প্রবেশমুখ বন্ধ হয়ে যাওয়াতে তারা আর বাইরে বের হতে পারেনি। এরপর থেকে টানা ৯ দিন নিখোঁজ ছিল তারা। থাইল্যান্ড সরকার তাদের উদ্ধারে স্মরণকালের সবচেয়ে বড় উদ্ধার অভিযান শুরু করে। এ অভিযানে যোগ দেন বহু দেশের সেরা সব বিশেষজ্ঞরা। গত ৩ জুলাই দুজন ব্রিটিশ ডাইভার গুহার ৪ মাইল ভেতরে প্রথম তাদের খুঁজে পান। এরপর তাদেরকে খাবার ও চিকিৎসা সেবা দেওয়া হয়।

আন্তর্জাতিক ও থাই বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে বিশাল একটি দল তাদেরকে নিরাপদে উদ্ধারে পরিকল্পনা করে। বেশ কয়েকটি উপায়ের প্রস্তাব করা হলেও সবগুলোরই ঝুঁকি রয়েছে।

চিয়াং রাই প্রদেশের গর্ভণর নারোংসাক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘এখন থেকে ৩-৪দিন সময় আছে। কিশোরদেরকে নিরাপদে বের করে আনার এটাই সেরা সময়। তাদের সবার স্বাস্থ্যও ভালো। কী করব, সে সম্পর্ক আমাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে হবে।’

শনিবার যখন তিনি সংবাদ সম্মেলন করছিলেন, তখনও কাছেই সামান্য বৃষ্টিপাত হচ্ছিল। আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুসারে আজ রবিবারের পর এ বৃষ্টিপাত প্রকট আকার ধারণ করতে পারে।

উদ্ধারকারীরা কিশোরদের উদ্ধারে যে পরিকল্পনা করেছিল, তাদের মধ্যে একটি হচ্ছে কিশোররা ভারী যন্ত্রপাতি পরে ডাইভ দিয়ে গুহা থেকে বের হবে। তাদের সঙ্গে থাকবে একজন করে উচ্চ প্রশিক্ষিত ডাইভার। কিন্তু অধিকাংশ কিশোরই সাঁতার না পারায় ও অল্প বয়সী হওয়ায় এটিকে সবচেয়ে বেশি বিপজ্জনক বলে মনে করা হচ্ছিল। শুক্রবার একজন সাবেক থাই নেভি সিল সদস্য কিশোরদের অক্সিজেন সরবরাহ করে গুহা থেকে ফেরার পথে মারা যান। তার মৃত্যু কিশোরদের এভাবে উদ্ধারকে আরও বেশি প্রশ্নের ‍মুখে ফেলেছে।

কিন্তু অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে উদ্ধারকারীরা নিরুপায় হয়ে এ উপায়টিই অবলম্বন করতে যাচ্ছেন। সেক্ষেত্রে যতটা সম্ভব ঝুঁকি এড়ানোর চেষ্টা করবেন তারা। একজন বিশেষজ্ঞ শনিবার বলেছেন, শিশুদের ওষুধ খাইয়ে অচেতন করে মুখে অক্সিজেন মাক্স লাগিয়ে তারপর অনেকটা পার্সেল ব্যাগের মতো প্রশিক্ষিত ডাইভাররা টেনে গুহার বাইরে বের করে আনতে পারে। অচেতন থাকার কারণে তারা আতঙ্কিত হবে না।

উদ্ধারকারীরা ধারণা করছেন, কিশোরদের উদ্ধারে আতঙ্ক অনেক বড় ভূমিকা রাখতে পারে। কিশোররা সবারই বয়স অনেক কম। তার ওপর গুহাটি অত্যন্ত বিপজ্জনক এবং কর্দমাক্ত পানির নিচে কিছুই দেখা যায় না। আবার গুহার কিছু অংশ এতটাই সংকীর্ণ যে সেখানে একসঙ্গে দুজন যাওয়া অসম্ভব। আবার কিছু জায়গায় পানির স্রোত এতটাই বেশি যে কিশোররা জ্ঞান থাকা অবস্থায় আতঙ্কিত হয়ে পড়তে পারে। এটা তাদের জীবনের ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দেবে।

উদ্ধারকারীরা প্রথমে বলেছিলেন, তাদেরকে পর্যাপ্ত খাবার ও চিকিৎসা সহায়তা দিয়ে গুহার ভেতর চারমাস রাখা হবে। বর্ষা চলে গেলে তারা স্বাভাবিকভাবে হেঁটে বের হয়ে আসতে পারবে। কিন্তু অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতের কারণে গুহার পানি বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরী হওয়ায় এ পরিকল্পনা এখন আর কাজে আসবে না বলে মনে করছেন উদ্ধারকারীরা।

থাইল্যান্ডের এ কিশোরদের উদ্ধার অভিযান সারা বিশ্বের মানুষের আবেগকে নাড়া দিয়েছে। বিশ্বের সব প্রান্তের মানুষ কিশোরদের নিরাপদ উদ্ধারের জন্য প্রার্থনা করছেন। আর গত দুই সপ্তাহ ধরে থাইল্যান্ডের পরিস্থিতি একেবারেই আলাদা। পুরো দেশ তাদের ১৩ সন্তানের জন্য আবেগাক্রান্ত এবং তাদের ফিরে পাবার আশায় কোটি কোটি মানুষ মনে প্রাণে প্রার্থনা করছেন।৭ জুলাই শনিবার আটকে পড়া কিশোররা তাদের বাবা মায়ের কাছে চিঠি লিখেছে। চিঠিতে তারা সবাই ভালো আছে বলে জানিয়েছে।

এই রকম আরও খবর




Editor: Habibur Rahman
Dhaka Office : 149/A Dit Extension Road, Dhaka-1000
Email: [email protected], Cell : 01733135505
[email protected] by BDTASK