শনিবার, ০৮ ডিসেম্বর ২০১৮
Monday, 25 Jun, 2018 11:55:40 am
No icon No icon No icon

আবারও তুরস্কের প্রেসিডেন্ট হলেন এরদোয়ান


আবারও তুরস্কের প্রেসিডেন্ট হলেন এরদোয়ান


টাইমস ২৪ ডটনেট, আন্তর্জাতিক ডেস্ক: টানা দ্বিতীয়বারের মতো তুরস্কের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলেন রিসেপ তাইপ এরদোয়ান। অনানুষ্ঠানিক ফলাফলে এরদোয়ানের স্পষ্ট বিজয়ের চিত্র পাওয়া গেলেও এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনের ফলাফল এখনো ঘোষণা করা হয়নি। ২৪ জুন, রবিবার অনুষ্ঠিত ভোটে এরদোয়ানের একে পার্টির নেতৃত্বাধীন জোট পিপলস অ্যালায়েন্স বিরোধী জোট ন্যাশনাল অ্যালায়েন্সের চেয়ে এখন পর্যন্ত অনেক এগিয়ে আছে। ইতোমধ্যে সংসদীয় আসনের প্রায় ৯৫ শতাংশ ভোট গণনা শেষ হয়েছে। প্রাপ্ত ফলাফলে দেখা গেছে  এরদোয়ানের নেতৃত্বাধীন জোট পিপলস অ্যালায়েন্স পেয়েছে ৫৩ দশমিক ৮৪ শতাংশ ভোট। প্রেসিডেন্ট নির্বাচনেও এরদোয়ান প্রতিদ্বন্দ্বী মুহাররেম ইনজের চেয়ে স্পষ্ট ব্যবধানে এগিয়ে আছেন। প্রাপ্ত ফলাফলে দেখা যাচ্ছে প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান পেয়েছেন ৫২ দশমিক ৮৩ শতাংশ ভোট। আর মুহাররেম ইনজে পেয়েছেন ৩০ দশমিক ৬৮ শতাংশ ভোট। তুরস্কের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা এনাদোলু জানিয়েছে প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান ৫২ দশমিক ৫ শতাংশ, আর ইনজে পেয়েছেন ৩০ দশমিক ৭ শতাংশ ভোট।
এদিকে এরদোয়ান নিজেকে বিজয়ী হিসেবে ঘোষণা করেছেন। তাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন কাতারের আমির, হাঙ্গেরির প্রধানমন্ত্রী, আজারবাইজানের প্রেসিডেন্ট, ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট ও আল বেনিয়ার  প্রধানমন্ত্রী।২০১৪ সালে প্রথমবারের মতো প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার আগে একটানা ১১ বছর দেশটির প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন এরদোয়ান।
২০১৯ সালে এ নির্বাচনটি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও এরদোয়ানের ইচ্ছাতেই নির্বাচন এগিয়ে আনা হয়। নানা কারণে এবারের নির্বাচন ছিল তুরস্কে একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তারকারী এরদোয়ানের জন্য সত্যিকারের চ্যালেঞ্জ। এবারের নির্বাচনে মোট চারজন প্রার্থী প্রেসিডেন্ট পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। তাদের মধ্যে মুহাররেম ইনজের সঙ্গে এরদোয়ানের তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বলে ধারণা করেছিল সবাই। 
অন্যদিকে প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা বাড়িয়ে আইন করার পর এটি দেশটির প্রথম নির্বাচন, সে কারণেও এ নির্বাচনের গুরুত্ব ছিল অনেক। প্রেসিডেন্টের হাতে ‘কুক্ষিগত ক্ষমতাকে’ তুরস্কের সাধারণ জনগণ কোন চোখে দেখে তা-ও এই নির্বাচনে প্রতিফলিত হবে বলে ধারণা করা হচ্ছিল।
অনানুষ্ঠানিক ফলাফলে স্পষ্টত এগিয়ে থাকার পর নিজের বাসভবনে দেওয়া এক ভাষণে এরদোয়ান বলেন, ‘অনানুষ্ঠানিক ফলাফলে পরিষ্কার হয়েছে যে প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালনে জাতি আমার ওপরই আস্থা রেখেছে।’

এদিকে, রাত ৩টার পর ইস্তাম্বুলে একে পার্টির সদরদপ্তরের বেলকনিতে দাঁড়িয়ে ভাষণ দেয়ার সময় রজব তাইয়্যেব এরদোগান বলেন 'নির্বাচনের বেসরকারি ফলাফলে এটা স্পষ্ট যে, প্রেসিডেন্ট হিসেবে আমি জনগণের আস্থা অর্জন করতে পেরেছি।'

সমর্থকদের উদ্দেশে দেয়া ভাষণে এরদোগান বলেন, “আগামীকাল থেকে শুরু করছি, আমাদের জনগণকে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছি তা বাস্তবায়নে কাজ শুরু করব আমরা।”

তিনি বলেন, “প্রায় ৯০ শতাংশ ভোটার উপস্থিতির মাধ্যমে তুরস্ক দুনিয়াকে গণতন্ত্রের শিক্ষা দিয়েছে। এ নির্বাচনে তুরস্কের জনগণ, এ অঞ্চল এবং দুনিয়ার সব নিপীড়িত মানুষের বিজয় অর্জিত হয়েছে।”

এরদোগান বলেন, “শাসক নয়, বরং সবসময় জনগণের সেবক হওয়ার চেষ্টা করেছি। আমার দেশের জনগণ এ ব্যাপারে অনেক সজাগ।”

তুরস্কের কর্তৃপক্ষ আরও কঠোরভাবে সন্ত্রাসী সংগঠনগুলোর বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করবে বলেও ঘোষণা দেন তিনি।

এর আগে, তুর্কি সরকারের মুখপাত্র বেকির বোজদাগও এক টুইটার বার্তায় এরদোগানের পুনর্নির্বাচিত হওয়ার দাবি করেছেন। প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রদত্ত ভোটের ৯৪ শতাংশ গণনা শেষে তিনি ওই টুইট করেন।

তুরস্কের এবারের নির্বাচনে ৮৭.৫ শতাংশ ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। তুরস্কের দৈনিক সাবাহ জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ৯৯.২ শতাংশ ভোট গণনায় এরদোগান পেয়েছেন ৫২.৫ শতাংশ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি সিএইচপি প্রার্থী মোহারেম ইনসে পেয়েছেন ৩০.৭ শতাংশ ভোট।

নির্বাচনে বিজয়ের পর ইস্তাম্বুলে রজব তাইয়্যেব এরদোগান

এছাড়া, এইচডিপির সালাদিন ডেমিরেটাস পেয়েছেন ৮.৪ শতাংশ, গুড পার্টির মেরেল আকসেনার পেয়েছেন ৭.৩ শতাংশ এবং সাদাত পার্টির টেমেল কারামোলাগ্লু পেয়েছেন ০.৯ শতাংশ ভোট।

এদিকে, সংসদ নির্বাচনে ৯৬ শতাংশ ভোট গণনায় শাসক পিপলস জোটের একে পার্টি পেয়েছে ৪২.৫ শতাংশ (আসন ২৯৩), এমএইচপি পেয়েছে ১১.১ (আসন ৫০) শতাংশ। পিপলস জোটের পেয়েছে ৫৩.৬ ভাগ (৩৪৩ আসন)।

অন্যদিকে, বিরোধী নেশন জোটের সিএইচপি পেয়েছে ২২.৭ শতাংশ (আসন ১৪৬), গুড পার্টি পেয়েছে ১০ শতাংশ (আসন ৪৪) এবং সাদাত পার্টি পেয়েছে ১.৪ শতাংশ ভোট। নেশন এলায়েন্স জোটের প্রার্থীরা মোট ভোট পেয়েছে ৩৪ শতাংশ (আসন ১৯০)। জোট বহির্ভুত কুর্দি দল এইচডিপি পেয়েছে ১১.৬ শতাংশ ভোট (আসন ৬৭)

তুর্কি পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার জন্য মোট আসন ৬০০ আসনের মধ্যে ৩০১ আসন দরকার হয়। এই সংখ্যাগরিষ্ঠতার চেয়ে বেশি আসন পেয়েছে সরকারি জোট।

তুরস্কের সংবিধান অনুযায়ী প্রেসিড্টে নির্বাচনে প্রার্থীদের কেউ ন্যূনতম পঞ্চাশ শতাংশ ভোট না পেলে নির্বাচন গড়াবে দ্বিতীয় দফায়। সর্বোচ্চ ভোট পাওয়া দুই প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বীতা করবেন দ্বিতীয় দফায়। প্রথম দফা নির্বাচনের পনের দিন পর অনুষ্ঠিত হয় দ্বিতীয় দফা নির্বাচন। যদিও ইতোমধ্যেই পঞ্চাশ শতাংশের বেশি ভোট পেয়ে গেছেন এরদোগান। তাই দ্বিতীয় দফায় নির্বাচন অনুষ্ঠানের কোনো প্রয়োজন হবে না।


এরদোগান ২০০৩ সাল থেকে তুরস্কের ক্ষমতায় আছেন। তিনি টানা ১১ বছর প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন শেষে তিনি ২০১৪ সালের নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট হিসেবে বিজয়ী হন। ২০১৬ সালের এক ব্যর্থ গণঅভ্যুত্থানের পর ২০১৭ সালে এক গণভোটে সামান্য ব্যবধানে জয়লাভ করেন এরদোগান। এতে তিনি দেশটিকে সংসদীয় ব্যবস্থা থেকে প্রেসিডেন্টশাসিত ব্যবস্থার দিকে নিয়ে যাওয়ার জনরায় পান। এরদোগান এবারের নির্বাচনে জয়লাভ করায় দেশটির প্রধানমন্ত্রীর পদ বিলুপ্ত হবে। প্রেসিডেন্ট হিসেবে তিনি সরকারি কর্মকর্তা,ভাইস প্রেসিডেন্ট,মন্ত্রীদের নিয়োগ দেবেন এবং যেকোনো সময় সংসদ ভেঙে দিয়ে জরুরি অবস্থা জারি করতে পারবেন।

 

এই রকম আরও খবর




Editor: Habibur Rahman
Dhaka Office : 149/A Dit Extension Road, Dhaka-1000
Email: [email protected], Cell : 01733135505
[email protected] by BDTASK