সোমবার, ১৬ এপ্রিল ২০১৮
Monday, 16 Apr, 2018 10:09:19 am
No icon No icon No icon

মধ্যপ্রাচ্যে সিরিয়ার যুদ্ধ বিশ্বকে সম্ভাব্য তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের পদধবনি শোনাচ্ছে


মধ্যপ্রাচ্যে সিরিয়ার যুদ্ধ বিশ্বকে সম্ভাব্য তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের পদধবনি শোনাচ্ছে


আশিফুল ইসলাম জিন্নাহ, টাইমস ২৪ ডটনেট, আন্তর্জাতিক ডেস্ক: সিরিয়া সংকট ক্ষমতাসীন বাশারের সেনাবাহিনী-বাশারপন্থী মিলিশিয়া গ্রুপ-ইরান-রাশিয়া-হিজবুল্লাহ এবং বাশার বিরোধী বিদ্রোহী জোট, যুক্তরাষ্ট্র-ব্রিটেন-ফ্রান্স-ইসরাইল-সৌদি আরব এই দুই পরস্পরবিরোধী আঞ্চলিক-আন্তর্জাতিক জোটের মধ্যকার আন্তর্জাতিক স্নায়ুযুদ্ধ/ছায়াযুদ্ধে রূপান্তরিত/পরিণত করেছে। যা বিশ্বের শান্তি, স্থিতিশীলতা, সভ্যতার জন্য চরম উদ্বেগজনক, বিপদজনক এবং হুমকি সৃষ্টিকারী। সিরিয়ার আসাদ সরকারদের উপর যুক্তরাষ্ট্র, ইসরাইল, সৌদি আরব বহু পূর্ব থেকেই ক্ষিপ্ত। আসাদ পরিবার ঐতিহ্যগতভাবে ইহুদীবাদী ইসরাইল বিরোধী, মার্কিণ আধিপত্যবাদ বিরোধী এবং মার্কিণ-ইসরাইল-সৌদি বিরোধী ইরাকের সাদ্দাম সরকার, ইরানের বিপ্লবী ইসলামী সরকার, লেবাননের হিজবুল্লাহর প্রতি মিত্রভাবাপন্ন ছিল। ২০০৩ সালে দ্বিতীয় উপসাগরীয় যুদ্ধের সময় সিরিয়ার একনায়ক প্রেসিডেন্ট হাফেজ আল আসাদ ইরাক ও সাদ্দাম হোসেনকে সমর্থন করেছিলেন। মার্কিণ-পশ্চিমা জোটের আগ্রাসনে ইরাকে সাদ্দাম সরকারের পতনের পর ইসরাইলের ইন্দনে মার্কিণ-পশ্চিমা জোট মার্কিণ-ইসরাইল বিরোধী ইরান ও সিরিয়াকে তাদের পরবর্তী হামলা/আগ্রাসন চালাবার টার্গেট বানিয়ে ব্যাপক প্রপাগান্ডা শুরু করে। ফলে ইরানের ইসলামী সরকার এবং সিরিয়ার আসাদের বাথ সরকার চিন্তিত হয়ে পড়ে। সিরিয়ার সাবেক শাসক হাফেজ আল আসাদের মৃত্যুর পর তার ছেলে বাশার আল আসাদ সিরিয়ার নতুন প্রেসিডেন্ট হন। তার সময় ইরান-সিরিয়া তাদের অভিন্ন শত্রু মার্কিণ-পশ্চিমা জোট, ইসরাইলের হামলা/আগ্রাসনের ভীতি ও সম্ভাবনা থেকে নিজেদের রক্ষাকল্পে, শক্তি বৃদ্ধিকল্পে পরস্পরের সাথে সামরিক সহযোগীতামূলক মিত্রতা চুক্তি সম্পাদন করে। এতে ইরান/সিরিয়া কেউ তৃতীয় কোন বিদেশী রাষ্ট্র/জোটের হামলা/আগ্রাসনের শিকার হলে দুই মিত্রদেশ একসাথে মিলে তা প্রতিরোধ করার অঙ্গীকার করে। সিরিয়ার আসাদ পরিবার ও শাসকগোষ্ঠীর পুরানো ও বিশ্বস্ত মিত্র হচ্ছে ইরান, রাশিয়া, লেবাননের হিজবুল্লাহ। আর তাদের প্রধান শত্রু হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরাইল, সৌদি আরব এবং তাদের ঘনিষ্ঠ পশ্চিমা ও আরব মিত্ররা। ২০১১ সালে আরব বসন্তকালে সিরিয়ায় বাশার বিরোধীরা বাশারের পদত্যাগ, শাসনের অবসান এবং গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার দাবিতে রাজধানী দামেস্ক, আলেপ্প, হোমসহ বিভিন্ন শহরে ব্যাপক গণবিক্ষোভ শুরু করে। বাশার কঠোর হস্তে এই গণবিক্ষোভকে দমন করার চেষ্টা করেন। এই সুবর্ণ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে ইরান-রাশিয়া-হিজবুল্লাহপন্থী বাশার সরকারের পতন ঘটাতে সৌদি আরব, যুক্তরাষ্ট্র এবং তাদের ঘনিষ্ঠ আরব ও পশ্চিমা মিত্ররা বাশার বিরোধী বিদ্রোহীদের কূটনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামরিক সমর্থন-সহায়তা দিতে শুরু করে। ফলে বাশার বিরোধী গণবিক্ষোভ দ্রুত পূর্ণ সশ্রস্ত্র বিদ্রোহে পরিণত হয় এবং সিরিয়া দীর্ঘস্থায়ী রক্তক্ষয়ী, ধবংসাত্নক গৃহযুদ্ধে বিপর্যস্ত, বিধবস্ত হয়ে পড়ে।
এই সময় সিরিয়ায় বাশার বিরোধী বিভিন্ন শক্তিশালী ইসলামী জঙ্গী/সন্ত্রাসী/জেহাদী/মিলিশিয়া গ্রুপের উদ্ভব ঘটে। কার্যত বিদ্রোহীদের মূল নেতৃত্বও ছিল তাদের হাতে। প্রথম দুই/তিন বছরে বিদ্রোহীদের সাথে যুদ্ধে বাশার সরকারের ক্ষমতার ভিত্তি দুর্বল ও পতন আসন্ন হয়ে পড়লে সামরিক সহযোগীতা চুক্তির বলে সিরিয়ার মিত্র ইরানের বিপ্লবী গার্ড ফোর্স এবং লেবাননের ইরানপন্থী হিজবুল্লাহ গ্রুপ বাশারবাহিনীর পাশে এসে দাড়ায়। এদিকে ইরাক ও সিরিয়ার বিশাল অঞ্চল জুড়ে তাকফিরি/দায়েস/আইএসের খিলাফতের শাসন, নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা, তাদের ধর্মান্ধতা, শিয়া-খ্রীস্টান-ইয়াজুদী নারীদের উপর তাদের চরম পৈশাচিকতা এবং তাদের পুরুষদের গণহত্যার নিষ্ঠুরতা ইরান, রাশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, পশ্চিমাজোটকেও ভীষন চিন্তিত, আতংকিত করে তোলে। বাশারের ধর্মনিরপেক্ষ বার্থপার্টির সরকারের পতনে সিরিয়ার শাসন ক্ষমতা চরমপন্থী ইসলামী জেহাদীদের হাতে চলে যাবে এই আশংকায় যুক্তরাষ্ট্র ও তার ইউরোপীয় মিত্ররা বাশার বিরোধী বিদ্রোহীদের কূটনৈতিক-আর্থিক-সামরিক সহায়তা কমিয়ে/বন্ধ করে দেয় পর্যায়ক্রমে এবং এবার তারা বাশারের পতনের প্রচেষ্টার পাশাপাশি বাশার বিরোধী আইএস-আল কায়দা জঙ্গীদের দমন করার নীতি গ্রহন করে। আর এই সুযোগে ২০১৫ সাল থেকে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বাশার আল আসাদের পক্ষে সিরিয়ার গৃহযুদ্ধে সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপ করে। ফলে বাশার বাহিনীর পক্ষে ইরানের বিপ্লবী গার্ড ফোর্স, তাদের হাতে গড়া সিরিয়ার বাশারপন্থী মিলিশিয়া বাহিনী, হিজবুল্লাহ, রাশিয়া একযোগে বাশার বিরোধী বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে সর্বাত্নক যুদ্ধ শুরু করে। এরফলে প্রথমত সিরিয়া ইস্যুকে কেন্দ্র করে ইরান-রাশিয়ার মধ্যে ঘনিষ্ঠ কৌশলগত মিত্রতার বন্ধন গড়ে উঠে। দ্বিতীয়ত সিরিয়ায় ইরান ও রাশিয়া তাদের সামরিকঘাটি, বিমানঘাটি, নৌঘাটি প্রতিষ্ঠা করে এবং সিরিয়ার সাথে ইরান ও রাশিয়ার ঘনিষ্ঠ সামরিক সহযোগীতামূলক মিত্রতা চুক্তি/সম্পর্ক গড়ে উঠে। তৃতীয়ত বাশার বিরোধী বিদ্রোহীরা সিরিয়ার বিভিন্ন রণাঙ্গণে হারতে, পিছু হটতে, পালাতে থাকে, বিভিন্ন অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ হারায়, শক্তিহীন দুর্বল হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়ে। চতুর্থত সিরিয়ায় বাশার পরিবার ও বাথপার্টি সরকারের ক্ষমতা আরো সুদৃয় ও সুসংহত হয়। পঞ্চমত সিরিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও রাশিয়ার প্রভাব/আধিপত্য আরো সুদৃয় হয়। ষষ্ঠত সিরিয়া ইস্যুতে এই প্রতিকূল পরিস্থিতি যুক্তরাষ্ট্র, সৌদি আরব, ইসরাইল, তাদের আরব ও পশ্চিমা মিত্রদের হতাশাগ্রস্ত, আতংকিত, বিক্ষুদ্ধ করে তোলে, তারা নিজেদের অপমানিত ভাবতে শুরু করে। তবে সিরিয়ার ইস্যুতে নিজেদের দৃয় স্বার্থ ও অবস্থানের কথা জানান দিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল বিভিন্ন সময়ে সিরিয়ার বিভিন্ন সন্দেহজনক সরকারী সামরিক ও বেসামরিক অবস্থানে যুদ্ধবিমান-রণতরী থেকে ক্ষেপনাস্ত্র হামলা চালিয়ে আসছে। আর তাদের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসাবে ব্রিটেন ও ফ্রান্স সিরিয়া যুদ্ধে মার্কিণ-ইসরাইলের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। এদিকে ইরাক ও সিরিয়ার কুর্দি অধ্যুষিত অঞ্চলে কুর্দিদের পেশমার্গা মিলিশিয়াদের উত্থান, নিয়ন্ত্রণ ও স্বায়ত্তশাসনকে কেন্দ্র করে তুরুস্ক উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে। তুরুস্কের কুর্দীরা দীর্ঘদিন ধরে তুরুস্ক থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে স্বাধীনতা চাচ্ছে, সশ্রস্ত্র সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছে। আরব-পশ্চিমাদের মদদপুষ্ট আইএস, আল কায়দা, আল নুসরার মত ইসলামী জঙ্গী সংগঠনগুলো তুরুস্কের নিরাপত্তার প্রতি প্রবল হুমকি স্বরূপ। এই সমস্ত কারণে সিরিয়া যুদ্ধ তুরুস্কের মাথা ব্যথার কারণ হয়ে উঠেছে এবং তুর্কি সামরিকবাহিনী তুরুস্ক-সিরিয়া সীমান্তে সামরিক অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে সিরিয়ার কুর্দী মিলিশিয়া ও সুন্নি জেহাদীদের চাপে/নিয়ন্ত্রণে রাখার লক্ষ্যে।

নিঃসন্দেহে সিরিয়ার চলমান সংকট/যুদ্ধ সমগ্র মধ্যপ্রাচ্য ও বিশ্বের জন্য অত্যন্ত জটিল, স্পর্শকাতর, বিপদজনক, বিস্ফোরক আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক ইস্যু। সিরিয়ার আভ্যন্তরীণ গৃহযুদ্ধক্ষেত্র এখন ইরান, রাশিয়া, লেবাননের হিজবুল্লাহ, যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন, ফ্রান্স, ইসরাইল, তুরুস্ক, সৌদি আরব ও তার আরব মিত্রদের উন্মুক্ত রণাঙ্গণে পরিণত হয়েছে। এদিকে সপ্তাহ খানেক আগে পূর্বঘোটায়, দোমায় সিরিয়ার সরকারী বাহিনী কর্তৃক বিষাক্ত রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহারের অভিযোগে/ অজুহাতে ১৪/০৪/২০১৮ তারিখের খুব সকাল থেকে যুক্তরাষ্ট্র, তার মিত্র ব্রিটেন ও ফ্রান্স জোট একযোগে তাদের যুদ্ধবিমান বহর নিয়ে এবং ভূমধ্যসাগরের রণতরীগুলো থেকে সিরিয়ার দামেস্কে অবস্থিত রাসায়নিক ও জৈবিক অস্ত্র তৈরির গবেষনাগার, হোমসের পশ্চিম দিকের রাসায়নিক অস্ত্রাগার/গুদাম এবং সেখানের একটি সামরিক ঘাটি যেখানে রাসায়নিক ও জৈবিক অস্ত্রের যন্ত্রাংশ মজুত রাখা হয়েছে এই তিনটি সন্দেহজনক স্থানে ব্যাপক ক্ষেপনাস্ত্র হামলা চালায়। তাদের হামলার পূর্বে তুরুস্কের প্রেসিডেন্ট এরদুগান সিরিয়ার ক্ষমতা থেকে বাশারকে অবশ্যই সরে যেতে হবে/সরাতে হবে বলে বক্তব্য প্রদান করেন। এতে সারা মধ্যপ্রাচ্য ও বিশ্বে ব্যাপক উত্তেজনা/সংঘাতময় পরিস্থিতির সম্ভাবনা উদ্ভব হয়েছে। এখানে উল্লেখ্য যে, মার্কিণ-পশ্চিমা জোটের এই ক্ষেপনাস্ত্র হামলাকে সিরিয়ার সরকার রাশিয়ার কোনপ্রকার সামরিক সাহায্য ছাড়াই ইরান-রাশিয়ার অত্যাধুনিক ক্ষেপনাস্ত্র সজ্জিত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার দ্বারা সফলতার সাথে প্রতিরোধ করেছে এবং মাঝপথেই আকাশে প্রায় অর্ধেক ক্ষেপনাস্ত্রকে বিধবংস করে দিতে সক্ষম হয়েছে। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন তার মিত্র সিরিয়ার উপর মার্কিণ-পশ্চিমা জোটের এই হামলার পরিণাম ভয়াবহ হবে বলে কঠোর হুশিয়ারী দিয়েছেন এবং অপরদিকে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু মধ্যপ্রাচ্যে আধিপত্য বিস্তার, সন্ত্রাসবাদে মদদ দেবার অভিযোগে সরাসরি ইরানে সামরিক হামলা চালাবার হুমকি দিচ্ছে, গোপন প্রস্তুতি নিচ্ছে। মার্কিণ প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ট ট্রাম্প সিরিয়ার উপর মার্কিণ-ব্রিটেন-ফ্রান্স জোটের এই হামলাকে সিরিয়ার বাশার সরকারের জন্য একটি শক্ত বার্তা হিসাবে অভিহিত করেছেন এবং ভবিষ্যতে সিরিয়ার সরকার আবার রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহার করলে আবারো এমন ধরনের হামলা চালানো হবে হুশিয়ারী দিয়েছেন সিরিয়াকে। মার্কিণ প্রেসিডেন্টের এই বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে সিরিয়ার মিত্র রাশিয়া তার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে বলেছে, তার মিত্রের উপর পুনরায় হামলা চালানো হলে এবার কেবল সেসব ক্ষেপনাস্ত্র ধবংস করা হবে না সাথে ক্ষেপনাস্ত্র উৎক্ষেপণকারী স্থানগুলোতেও পাল্টা ক্ষেপনাস্ত্র হামলা চালানো হবে।

মার্কিণ-পশ্চিমাজোট, ইসরাইল-সৌদি আরব এবং তাদের আরব মিত্রদের অভিন্ন লক্ষ্য প্রথমত সিরিয়ার ইরান-রাশিয়া-হিজবুল্লাহপন্থী বাশারের বাথ সরকারের পতন ঘটানো, দ্বিতীয়ত সিরিয়ার উপর ইরান-রাশিয়ার একচ্ছত্র আধিপত্য ধবংস করা, তৃতীয়ত মধ্যপ্রাচ্যে রাশিয়া-ইরান-হিজবুল্লাহর প্রভাব/আধিপত্য হ্রাস করা। চতুর্থত সিরিয়ায় আফগানিস্তান/লিবিয়ার মত মার্কিণ-সৌদি-পশ্চিমা অনুগত নতুন শাসকগোষ্ঠীকে ক্ষমতায় বসানো। পঞ্চমত ইসরাইলের জাতীয় নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করা। এই সমস্ত কারণে সিরিয়ার গৃহযুদ্ধ/যুদ্ধ ক্রমান্বয়ে আঞ্চলিক/আন্তর্জাতিক ছায়াযুদ্ধের জটিল ভয়াবহ রূপ নিয়েছে এবং মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-রাশিয়া-হিজবুল্লাহ আর যুক্তরাষ্ট্র-পশ্চিমাজোট-ইসরাইলের মধ্যকার আঞ্চলিক-আন্তর্জাতিক আধিপত্য বিস্তার-প্রতিষ্ঠার অন্তহীন মরণপণ লড়াইয়ে পরিণত হয়েছে। একদিকে সিরিয়ার বাশারবাহিনীর পক্ষে এবং বাশার বিরোধী বিদ্রোহী, তাদের মিত্র যুক্তরাষ্ট্র, পশ্চিমাজোট, ইসরাইল, সৌদি আরবের বিরুদ্ধে সিরিয়া-ইরান-রাশিয়া-হিজবুল্লাহর সম্মিলিত সামরিক মিত্রজোট শক্তি। অপরদিকে বাশার বিরোধী বিদ্রোহীদের পক্ষে এবং বাশারবাহিনী, তার মিত্র ইরান-রাশিয়া-হিজবুল্লাহর বিপক্ষে যুক্তরাষ্ট্র-ব্রিটিশ-ফ্রান্স-ইসরাইল-সৌদি আরবের মিলিত অক্ষজোট শক্তি। সিরিয়ার যুদ্ধে বাশার বাহিনী এবং বিদ্রোহীদের পক্ষেবিপক্ষের এই পরস্পরবিরোধী সামরিক জোটের সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন রাষ্ট্রেও বিস্তৃত হতে পারে, সিরিয়া-রাশিয়া-ইরান-হিজবুল্লাহর সাথে যুক্তরাষ্ট্র-ব্রিটেন-ফ্রান্স-ইসরালের বিভিন্নমুখী সংঘাত/যুদ্ধ সৃষ্টি হতে পারে। এরফলে মানব বিধবংসী তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের সূচনা হতে পারে বলে অনেক আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকের অভিমত। তাই সিরিয়ার আভ্যন্তরীণ সকল বিবাদমান সরকারপন্থী ও বিদ্রোহীপক্ষকে এবং তাদের পক্ষেবিপক্ষে থাকা সকল আঞ্চলিক-আন্তর্জাতিক বিদেশী মিত্রদের সংযত হতে/থাকতে হবে। ধৈর্য্য, সহিষ্ণুতা, বিচক্ষণতা, কৌশলের পরিচয় দিতে হবে। তাদের সবদিক ভেবেই যেকোন ব্যাপারে স্থির কার্যকর সিদ্ধান্ত নিতে হবে। সিরিয়ায় গৃহযুদ্ধের অবসান, শান্তি-স্থিতিশীলতা স্থাপন, জঙ্গী/সন্ত্রাসবাদীদের নির্মূলে একযোগে কাজ করতে হবে। নিজেদের মধ্যে নতুন করে সংঘাতে জড়িয়ে পড়ার ব্যাপার থেকে সদা সতর্ক ও বিরত থাকতে হবে। তবেই সম্ভাব্য তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের যুদ্ধের নির্মম করাল গ্রাস থেকে রক্ষা পাবে মধ্যপ্রাচ্য এবং বিশ্ব।

এই রকম আরও খবর




Editor: Habibur Rahman
Dhaka Office : 149/A Dit Extension Road, Dhaka-1000
Email: [email protected], Cell : 01733135505
[email protected] by BDTASK