মঙ্গলবার, ১৫ অক্টোবর ২০১৯
Thursday, 19 Sep, 2019 12:16:58 pm
No icon No icon No icon

‘আমি এখন সত্যিকারের হিরো’

//

‘আমি এখন সত্যিকারের হিরো’


টাইমস ২৪ ডটনেট, ঢাকা: একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনের রেখে রাজনীতি দলগুলো প্রার্থী বাছাইয়ে চমক দেখাতে ব্যস্ত। এ দৌড়ে এবার সবচেয়ে আলোচনায় দেশের শোবিজ অঙ্গনের তারকারা। আওয়ামী লীগ ও বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল থেকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করতে দেখা গেছে অনেক জনপ্রিয় তারকাকেই। তবে তারকাদের নির্বাচন করার বিষয়ে সবার আগে আলোচনায় আসেন বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের ওয়ানডে অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তোজা। শেষ পর্যন্ত নৌকায় চড়তে নড়াইলে নিজের নির্বাচনী আসন থেকে মনোনয়ন নিয়েছেন তিনি। কিন্তু সবাইকে ছাড়িয়ে ছাপিয়ে এ মুহূর্তে যাকে ঘিরে নির্বাচনী আলোচনা সবচেয়ে বেশি তিনি হিরো আলম। পুরো নাম আশরাফুল আলম সাঈদ। যিনি হিরো আলম নামে অধিক পরিচিত। একজন অপেশাদার বাংলাদেশি মিউজিক ভিডিও মডেল, অভিনেতা এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বিস্ময় এই হিরো আলম। ২০১৮ সালে একাদশ সংসদ নির্বাচনে জাতীয় পার্টির মনোনায়ন সংগ্রহ করে আবারও ‘টক অব দ্য কান্ট্রি’ হিরো আলম।
 
বগুড়া-৪ আসনে থেকে লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশ নিতে ইতিমধ্যেই মনোনয়ন সংগ্রহ করেন ও জমা দিয়েছেন তিনি।
 
হিরো আলম লাঙ্গল প্রতীকে জাতীয় নির্বাচনে প্রতিদ্বন্ধিতা করার ঘোষণা দেয়ার পর থেকেই সারা দেশে তাকে নিয়ে চলছে আলোচনা ও সমালোচনা। সোস্যাল মিডিয়ায় হচ্ছে ট্রল। চায়ের দোকান থেকে অফিসপাড়ায়ও গড়াচ্ছে এর রেশ। এমনকি মূলধারার গণমাধ্যমেও তাকে নিয়ে ঝড় বইছে। কেউ পক্ষ নিচ্ছে, আবার কেউ বিপক্ষেও।
 
তবে যে যাই বলুক- হিরো আলম নিজে জানিয়েছেন তার উঠে আসার গল্প এত সহজ ছিল না। বাড়ি বাড়ি ফেরী করা এক দরিদ্র পরিবারের ছেলে সিডি ব্যবসা, ডিস অ্যান্টেনার ব্যবসা মাড়িয়ে এখন দেশের আলোচিত শোবিজ তারকা। সম্প্রতি তার উঠে আসার অজানা কথাগুলো ও নির্বাচনে অংশ নেয়ার বিষয়ে তিনি মুখোমুখি হন। অজপাড়াগায়ের আশরাফুল আলম থেকে হিরো আলম হয়ে ওঠা এবং রাজনীতিতে আসা নিয়ে তার সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন ব্রেকিংনিউজের স্টাফ করেসপন্ডেন্ট রাহাত হুসাইন। 
 
প্রশ্ন: হঠাৎ করে নির্বাচনে আসলেন? 
হিরো আলম : হঠাৎ করে নয়। আমি আগেও ইউনিয়ন পরিষদে মেম্বার পদে নির্বাচন করেছি। একবার হেরেছি ১৬ ভোটে। আরেকবার ৭০ ভোটে। ২০১৬ সালের একটি জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় সাক্ষাৎকারে বলেছিলাম- এলাকার মানুষের ভালোবাসার জন্য আমি আরেকবার নির্বাচন করবো। তাই এবার জাতীয় নির্বাচনে দাঁড়াচ্ছি। আমি এলাকাবাসীকে বলেছিলাম- পরে যখন নির্বাচন করবো, বড় কোনও নির্বাচন করবো। তাই এবার সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছি। এখন আমাকে দেশ-বিদেশের মানুষও চেনে।
 
প্রশ্ন: আপনি জাতীয় পার্টি বা মহাজোটের মনোনয়ন পেলে জয়ের ব্যাপারে কতটুকু আশাবাদী? 
 
হিরো আলম :  আমি জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী। এলাকার জনগণ আমাকে ভালোবাসে। আমি নির্বাচনে আসায় তারা অনেকেই খুশি। নির্বাচনে জিততে সাহস ও জনপ্রিয়তা লাগে। দলের চেয়ারম্যান হুসেইন মুহাম্মাদ এরশাদের জনপ্রিয়তা আছে। আমারও জনপ্রিয়তা আছে। দুই জনের জনপ্রিয়তা কাজে লাগিয়ে আমি জয়ী হবো। আমি যে জনপ্রিয়তা অর্জন করেছি তাই এবার পরখ করতে চাই। এলাকার মানুষ ও দেশের মানুষের ভলোবাসায় আমি জিরো থেকে হিরো হলাম। আশা করছি তাদের ভালোবাসা নিয়ে আমি এমপি নির্বাচিত হবো। জনগণই তো আমার মূলশক্তি।
 
প্রশ্ন: আওয়ামী লীগ-বিএনপির মতো বৃহৎ দুটি রাজনৈতিক দল থাকতে জাতীয় পার্টি থেকে মনোনয়ন কেন নিলেন?
 
হিরো আলম : জাতীয় পার্টি আমার পছন্দের দল। আমি ছোটবেলায় শুনেছি পল্লীবন্ধু হুসেইন মোহাম্মদ এরশাদের আমলে দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য, কলকারখানার খুবই উন্নয়ন হয়েছে।  আমি আগে থেকেই সিদ্ধান্ত নিয়েছি, কোনদিন নির্বাচন করলে জাতীয় পার্টি থেকে করবো।  জাতীয় পার্টিকে আমি খুব ভালোবাসি। আমার অনেক আস্থা দলের প্রতি। আর রাজনীতি করলে তো প্রতিপক্ষ থাকবেই। এলাকাবাসীর ভালোবাসা ও সহযোগিতা নিয়েই আমি এগিয়ে যাবো।’
 
প্রশ্ন: জাতীয় নির্বাচনের অংশ নেয়ার ঘোষণা দেয়ার পর থেকে আপনাকে নিয়ে দেশজুড়ে আলোচনা-সমালোচনা, ট্রল হচ্ছে। বিষয়টা কীভাবে মূল্যায়ন করছেন? 
 
হিরো আলম : আলোচনা-সমালোচনা আমাকে সত্যিকারের হিরো বানিয়েছে। এখন আমি সত্যিকারের হিরো। কত মানুষ নির্বাচন করবে তাদের নিয়ে তো আমার মত আলোচনা- সমালোচনা ট্রল হচ্ছে না। জনপ্রিয় বলেই সবাই আমায় নিয়ে কথা বলেছে। আলোচনা-সমালোচনাকারী সবাইকে বিশেষ ধন্যবাদ দেই। তারাই তো আমায় অন্যদের কাছে পরিচয় করিয়ে দিচ্ছে। অতীতে নির্বাচন না করেও অনেকে নির্বাচনে আসছে। আমার অল্প হলেও নির্বাচনের অভিজ্ঞতা রয়েছে। আমি এর আগে দুবার মেম্বার নির্বাচন করেছি। যাদের নির্বাচনের অভিজ্ঞতা নেই তাদের তো সমালোচনা হয় না। হিরো আলম কিছু করলেই মানুষের মাথাব্যথা শুরু হয়। 
 
প্রশ্ন: পরিবারের সঙ্গে আপনার সম্পর্ক ভালো নয় বলে একটি অনলাইন গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশ পেয়েছে। বিষয়টি কতটুকু সত্যি?
 
হিরো আলম : সম্পূর্ণ মিথ্যা সংবাদ। ভুল নিউজ। আমার পরিবারের সঙ্গে সব সময় যোগাযোগ আছে। ব্যস্ততার কারণে হয়তো সবসময় কাছে থাকতে পারি না। সময় দিতে পারি না। নির্বাচনে আসার ঘোষণা দেয়ার পর থেকেই ব্যস্ততা বেড়ে গেছে। আমার স্ত্রী-সন্তান নিয়ে আল্লাহর রহমতে সুখেই আছি। এর বেশি কিছু না।
 
গণমাধ্যম কোনও ব্যক্তিকে হিরো বানাতে পারে আবার জিরোও বানাতে পারে। সাংবাদিক ভাইদের অনুরোধ করবো- আমার বিরুদ্ধে কোনও অপপ্রচার চালাবেন না। আপনাদের (সাংবাদিক) ভালোবাসায় আমি এখানে এসেছি। মিডিয়াতে প্রচার না হলে আমি হিরো হতে পারতাম না। এর আগেও মনোনয়ন হারিয়ে ফেলেছি বলে একটি খবর প্রচার হয়েছিল, যা সম্পূর্ণ মিথ্যা-বানোয়াট।
 
প্রশ্ন: এমপি নির্বাচিত হলে এলাকার জন্য কি করবেন, কোনও পরিকল্পনা আছে কি?
 
হিরো আলম : এমপি নির্বাচিত হলে এলাকার ছোট-ছোট সমস্যাগুলোর সমাধান আগে করব। যেগুলো নেতারা দেখেও দেখেন না। এগুলোর সমাধান আগে করবো। নির্বাচনে আসার ঘোষণা দেওয়ার পর থেকেই এলাকার লোকজন ও দেশের বাইরে যারা আমাকে ভালোবাসে তারা আমাকে সহযোগিতা করার আশ্বাস দিয়েছেন।
 ৫০০ মিউজিক ভিডিও করে আলোচনায় আসে হিরো আলম। এরপর পূর্ণদৈর্ঘ্য সিনেমা ‘মার ছক্কা’য় কাজ করেন। এখানেই শেষ নয় বলিউডের ‘বিজু দ্য হিরো’ নামে একটি সিনেমায় অভিনয়ের জন্য চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন তিনি। ভবিষ্যতে ‘চরিত্র’ নামে একটি সিনেমা তৈরি করার পরিকল্পনা রয়েছে তার। যেখানে মানুষের বিভিন্ন চরিত্রকে ফুটিয়ে তোলা হবে বলেও জানিয়েছেন হিরো আলম।
 বগুড়ার এরুলিয়া গ্রামে জন্ম নেয়া হিরো আলম শৈশব থেকেই লড়াই করেছেন জীবন ও বাস্তবতার সঙ্গে। সংসারে অভাব থাকায় শৈশবেই পরিবার বিচ্ছিন্ন হন। বাবা দ্বিতীয় বিয়ে করার পর মাকে নিয়ে নানা বাড়িতে উঠেন। পালক পিতা আব্দুর রাজ্জাকের সংসারে বেড়ে ওঠেন তিনি। সেখানেও অভাবেই কেটেছে তার শৈশব-কৈশোর। সপ্তম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ালেখা করে জীবিকার তাগিদে একাধিক কর্ম বেছে নেন। কখনও চানাচুর কখনও সিডি ক্যাসেট ফেরী করে বিক্রি করেছেন। তবে জীবন আর সময়ের কাছে হার মানতে শেখেননি। ২০০৯ সালে পাশের গ্রামের এসএসপি পাস সুমি নামের এক তরুণীকে বিয়ে করেন হিরো আলম।
 
সূত্র: ব্রেকিংনিউজ।

এই রকম আরও খবর




Editor: Habibur Rahman
Dhaka Office : 149/A Dit Extension Road, Dhaka-1000
Email: [email protected], Cell : 01733135505
[email protected] by BDTASK