শনিবার, ১৮ মে ২০১৯
Sunday, 21 Apr, 2019 10:56:11 am
No icon No icon No icon

এশিয়ার সেরা আটে বাংলাদেশ : বাফুফে সভাপতি

//

এশিয়ার সেরা আটে বাংলাদেশ : বাফুফে সভাপতি


টাইমস ২৪ ডটনেট, ঢাকা: ফুটবলই শুধু নয়, এ দেশের ক্রীড়াঙ্গনেরও মেগাস্টার তিনি। সেই কবে খেলা ছেড়েছেন তবু কাজী সালাউদ্দিন নাম ঠিকই বেরোয় তারকাদ্যুতি। এখন তিনি তৃতীয় মেয়াদে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি। স্বপ্ন দেখছেন মেয়েদের ফুটবলকে ঘিরে।
প্রশ্ন : এ দেশে প্রথমবারের মতো মেয়েদের একটা ফুটবল টুর্নামেন্ট আয়োজন করতে যাচ্ছে বাফুফে। এর পেছনে কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ আছে?
কাজী সালাউদ্দিন : অবশ্যই কিছু কারণ আছে। প্রথমটি হলো, ছেলেদের জন্য বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ নিয়মিত আয়োজন করি। এখন বঙ্গমাতাকেও শ্রদ্ধা জানাতে চাই মেয়েদের ফুটবল টুর্নামেন্ট করে। জাতির জনকের পুরো পরিবারের ক্রীড়া ঐতিহ্য আছে, ক্রীড়াঙ্গনে তাঁদের অনেক অবদান আছে। আরেকটি কারণ হলো, আমাদের নারী ফুটবল অনেকখানি এগিয়েছে। সিনিয়র জাতীয় দল এখনো ঠিকঠাক তৈরি না হওয়ায় আমরা অনূর্ধ্ব-১৯ আন্তর্জাতিক মহিলা ফুটবল আয়োজনের মাধ্যমে স্পটলাইটে আনতে চাই মেয়ে ফুটবলারদের। তাদের পারফরম্যান্স দেখে দেশের মানুষও বুঝবে, আমাদের নারী ফুটবল এখন কোন জায়গায় আছে। এ টুর্নামেন্টের মাধ্যমে মেয়েরাও বুঝতে পারবে, তারা কোন জায়গায় আছে।
প্রশ্ন : এশিয়ার শীর্ষ পর্যায়ের সঙ্গে তুলনা করলে বাংলাদেশের নারী ফুটবল এখন কোন জায়গায় দাঁড়িয়ে বলে মনে করছেন?
কাজী সালাউদ্দিন : তুলনামূলক অবস্থানকে দুইভাবে ব্যাখ্যা করতে হবে। একটি হলো বয়সভিত্তিক পর্যায়ে, অন্যটি সিনিয়র জাতীয় দলের পারফরম্যান্সে। বয়সভিত্তিক পর্যায়ে বাংলাদেশ এখন এশিয়ার সেরা আটের মধ্যে আছে। প্রথমবার তারা এএফসি অনূর্ধ্ব-১৬ ফুটবলের চূড়ান্ত পর্ব খেলেছে ২০১৭ সালে। গত মার্চে আবার সেই টুর্নামেন্টের চূড়ান্ত পর্বে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে। টানা দ্বিতীয়বারের মতো তারা চূড়ান্ত পর্ব খেলবে, যেখানে কোরিয়া, জাপান, চীন, অস্ট্রেলিয়ার মতো এশিয়ার সেরা দলগুলো খেলে। বিশ্ব নারী ফুটবলে এই দলগুলো আধিপত্য করে। সুতরাং ওই প্ল্যাটফর্মে পৌঁছানো মানে বয়সভিত্তিক পর্যায়ে আমরা খুব ভালো জায়গায় আছি। কিন্তু আমাদের সিনিয়র দল এখনো তৈরি হয়নি, সেটি হাঁটি হাঁটি পা পা করেই এগোচ্ছে। বিভিন্ন বয়সভিত্তিক দলে খেলা এই মেয়েদের বয়স ২৪-২৫ হলেই আমাদের জাতীয় দলটা শক্তিশালী হবে। তাতে এই দল তৈরি এবং তার কাছ থেকে ফল পেতে আরো চার-পাঁচ বছর অপেক্ষা করতে হবে।
প্রশ্ন : কিন্তু ২৪-২৫ বছর হয়ে গেলেই মেয়েদের বিয়ে হয়ে যাচ্ছে। ক্যারিয়ারে যখন পিক ফর্মে থাকার কথা তখন তাদের বিয়ে হয়ে যায়। মেয়েদের শেষ পর্যন্ত ফুটবলে ধরে রাখা ফেডারেশনের জন্য বেশ কঠিন...
কাজী সালাউদ্দিন : এটা খুব কঠিন। কারো ব্যক্তিগত ও পারিবারিক মতামতকে আমরা নিশ্চয় উপেক্ষা করতে পারি না। তাদের বলতে পারি, ভালো-মন্দ বোঝাতে পারি—এর চেয়ে বেশি কি সম্ভব? এমন বাধা-বিপত্তি থাকবেই, সেগুলো থেকে বের হওয়ার পথও আমাদের তৈরি করতে হবে। এখন যারা ফুটবল খেলছে তাদের পারিবারিক সামর্থ্য-সীমাবদ্ধতার কথা আমি জানি। তাই তাদের বেতনের অধীনে নিয়ে এসেছি, যেন ফুটবলের কারণে তাদের পরিবার কিছুটা উপকৃত হয়। পৃথিবীটাই এমন, যেখানে কিছু পাওয়া যায় মানুষ সেদিকেই ছোটে। আমাদেরও চেষ্টা করে যেতে হবে। দশজনকে নিয়ে কাজ করলে শেষ পর্যন্ত যদি ছয়জনকে ধরে রাখতে পারি!
প্রশ্ন : শহরের মেয়েদের ফুটবলে অনুপ্রাণিত করা গেলে কি একটা উপায় হতো?
কাজী সালাউদ্দিন : শহুরে মেয়েরা এলে দৃশ্যপট বদলে যাবে, এটা বলা কঠিন। কারণ ফুটবল গরিব মানুষের খেলা, এটা আমি বিশ্বাস করি। বড়লোকের মেয়েদের করার অনেক কিছু আছে, তারা ফুটবল খেলার পরিশ্রম করবে কি না আমার সন্দেহ আছে। একজন ফুটবলারের উত্থানের পেছনে থাকে অনেক ত্যাগ ও পরিশ্রমের গল্প। মানুষ শুধু ৯০ মিনিটের খেলাটাই দেখে। এর জন্য যে ফুটবলারের রোজ হাড়ভাঙা খাটুনি খাটতে হয়, সেটা কেউ দেখতে পায় না। নিজের কথাই বলি। কাকভোরে চোখেমুখে পানি দিয়েই বিএএফ শাহীন স্কুলের মাঠে প্র্যাকটিসে ছুটতাম, এর অনেক পরে দেখতাম আমার বন্ধুরা কী সুন্দর পারিপাটি হয়ে মা-বাবার হাত ধরে স্কুলে আসছে। আবাহনী মাঠে ঘণ্টার পর ঘণ্টা প্র্যাকটিস করেছি আর বাইরে হাত ধরাধরি করে ছেলে-মেয়েদের ঘুরতে দেখেছি। সেই লোভ কি আমার হতো না? হতো, কিন্তু ফুটবলার হব বলে সব কিছু ত্যাগ করেছিলাম। মূল ব্যাপার হলো পরিশ্রম। বছর তিনেক আগের ঘটনা বলি। মেয়েদের আমার বাসায় দাওয়াত করেছিলাম। খাওয়া-দাওয়া শেষে তারা প্রেসিডেন্টের সঙ্গে কথা বলতে মরিয়া। সাত-আটজন মিলে আমাকে বলল, কোচ তাদের খুব চাপ দেয়, প্র্যাকটিসে খুব খাটায়। শুনে আমি হতবাক! এরপর বলেছিলাম, ভালো খেলোয়াড় হতে গেলে এই পরিশ্রম করতেই হবে। সামনে পরিশ্রম আরো বেশি করতে হবে, নইলে জীবনে কিছুই মিলবে না। এবার পাঁচ-ছয়দিন আগে সেই মেয়েরা বলছে, ওই চাপ-পরিশ্রম তাদের সয়ে গেছে। শহুরে মেয়েদেরও ফুটবলমুখী করতে চাইছি। কিছুদিন আগে ‘উইমেন্স ফুটবল ডে’ হয়েছে একাডেমি মাঠে। ১৮টি স্কুলকে দাওয়াত দিয়ে ছয়টি স্কুলের মেয়েদের পেয়েছি। তারা ফুটবল খেলেছে, আনন্দ-ফুর্তি করেছে। এভাবে যদি তাদের মধ্যে ফুটবলের মোহ তৈরি করা যায়।
প্রশ্ন : সিনিয়র সাফে ভালো ফলের জন্য কত বছর অপেক্ষা করতে হবে?
কাজী সালাউদ্দিন : আমি মনে করি, আর চার বছর পর আমরা সাফের সিনিয়র লেভেলেও আধিপত্য করব। ভারত-নেপালের সঙ্গে এখন যে লড়াই হচ্ছে, সেটা বয়সের দিক থেকে অসম। আমাদের যে মেয়েরা এখন বয়সভিত্তিক পর্যায়ে এশিয়ার সেরা আটে আছে তারাই চার বছর পর সিনিয়র সাফ নিয়ন্ত্রণ করবে। তবে লক্ষ্য পূরণে এখনকার চেয়ে অনেক বেশি শ্রম এবং অর্থ লগ্নি করতে হবে আমাদের।
প্রশ্ন : পাশাপাশি ঘরোয়া ফুটবল শুরু করাও তো জরুরি। নারী ফুটবল চলছে মাত্র ৫৫ জন ফুটবলারের ওপর ভর করে!
কাজী সালাউদ্দিন : এটা আমি ভালোভাবে বুঝি যে, ৫৫ জন ফুটবলার দিয়ে কোনো দেশের ফুটবল চলতে পারে না। কিন্তু উপায়ও নেই। সব দায়িত্ব কি আমার? কোনো এক জায়গা থেকে শুরু করতে হবে, সেটা করেছে বাফুফে। এখন ক্লাবগুলো যদি এগিয়ে আসে, যেমন ছয়টি ক্লাবে ২৫ জন করে মেয়ে ট্রেনিংয়ে থাকলে আরো দেড় শ মেয়ে ফুটবলার তৈরি হয়ে যায়। ফুটবল ফেডারেশনেরও সীমাদ্ধতা আছে, জায়গা-জনবল-অর্থ সবই সীমিত। তাই সবার সহযোগিতা দরকার। সবাই এগিয়ে এলে আমরা নারী ফুটবলের সম্ভাবনাকে আরো উজ্জ্বল করে তুলতে পারি, সামনের দিকে এগিয়ে নিতে পারি।
প্রশ্ন : টুর্নামেন্টে আপনার প্রত্যাশা কী?
কাজী সালাউদ্দিন : আমি সর্বোচ্চ ভালোটাই আশা করি। মাঠে খেলবে মেয়েরা, তাদের ওপরই সব নির্ভর করছে।

সূত্র: যুগান্তর অনলাইন।

এই রকম আরও খবর




Editor: Habibur Rahman
Dhaka Office : 149/A Dit Extension Road, Dhaka-1000
Email: [email protected], Cell : 01733135505
[email protected] by BDTASK