রবিবার, ২০ অক্টোবর ২০১৯
Saturday, 12 Jan, 2019 12:34:32 am
No icon No icon No icon

তরুণ উদ্যোক্তা সৃষ্টিতে আমি কাজ করছি : সৈয়দ রুম্মান আহমদ

//

তরুণ উদ্যোক্তা সৃষ্টিতে আমি কাজ করছি : সৈয়দ রুম্মান আহমদ


টাইমস ২৪ ডটনেট, ঢাকা: দেশের একজন তরুণ ব্যবসায়ী-উদ্যোক্তা।  তিনি হ্যামার স্ট্রেংথ ফিটনেস অ্যান্ড ট্রেনিং সেন্টার এর চেয়ারম্যান। হাবিব তাজকিরা (বিউটি সেলুন) তিনি নিজ উদ্যোগে প্রতিষ্ঠা করেছেন ‘হাবিব তাজকিরা নামের বিউটি সেলুন, ‘হ্যামার স্ট্রেংথ ফিটনেস অ্যান্ড ট্রেনিং সেন্টার’ নামের জিম, হাইজেনিক মিট সেলস সেন্টার, দেশের সর্বাধুনিক মাংস প্রক্রিয়াজাতক ও বাজারজাতকরণ প্রতিষ্ঠান ‘বেঙ্গল মিট’ চট্টগ্রাম বাজারে সম্প্রসারণ এবং গ্রেভিডাউন’ নামের রেস্টুরেন্ট। ঈর্ষণীয় মেধা ও ব্যক্তিত্বের অধিকারী তিনি। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ফরেস্ট্রি অ্যান্ড এনভায়রনমেন্ট সাইন্স থেকে সর্বোচ্চ ডিগ্রি অর্জনকারী প্রতিভাবন এই তরুণ উদ্যোক্তা চট্টগ্রামে ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণে সাফল্যজনক ভূমিকা রেখে চলেছেন। শিক্ষাজীবন শেষে তিনি চাকুরির পেছনে ছুটেননি; এরপর ধাপে ধাপে ব্যবসা-বাণিজ্যে শুধুই এগিয়ে চলেছেন। মিডিয়া জগতেও রয়েছে তার পদচারণা। দেশের বিভিন্ন স্যাটেলাইট চ্যানেলে ব্যবসা-বাণিজ্য সংক্রান্ত টক শোতে অংশগ্রহণের পাশাপাশি তিনি অভিনয় করেছেন একাধিক টিভি নাটকেও। ব্যবসা ও ব্যক্তিগত প্রয়োজনে তিনি বিশ্বের অসংখ্য দেশ সফর করেছেন; তিনি সফর করেছেন- জাপান, চায়না, সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, ইন্ডিয়াসহ বিভিন্ন দেশ। তিনি ১ কন্যা ও ১ পুত্র সন্তানের জনক। তার সহধর্মিণী ড. শারমিন সুলতানা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মাইক্রোবায়োলজী বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক। তার প্রথম কন্যা তাজকিরা তাজরিন চট্টগ্রাম গ্রামার স্কুলের প্রথম শ্রেণির ছাত্রীও পুত্র তাসদিক ৯ মাস বয়স । রুম্মান আহমদের পিতা সৈয়দ জামাল আহামেদ দেশের অন্যতম আরামিট গ্রুপের চেয়ারম্যান এবং চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি’র ভাইস প্রেসিডেন্ট। তরুণ ব্যবসায়ী জনাব রুম্মান আহাম্মেদ সম্প্রতি তরুণদের উদ্যোক্তা হয়ে অর্থনৈতিক স্বাবলম্বী হওয়ার করণীয় প্রসঙ্গে টাইমওয়াচ প্রতিনিধি’র কাছে গুরুত্বপূর্ণ মতামত ব্যক্ত করেন। এখানে তা উপস্থাপন করা হলো। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন বিপ্লব বিজয়
 
প্রশ্ন : আপনি দেশের একজন তরুণ ব্যবসায়ী ও আইকন ব্যক্তিত্ব; আপনার ব্যবসায়িক কার্যক্রম শুরু সম্পর্কে বলবেন কী?
সৈয়দ রুম্মান আহাম্মেদ : আমার বাবা ব্যবসায়ী; তাই আমিও ব্যবসায়ী হওয়ার স্বপ্ন দেখেছি। আমি ভেবেছিলাম, লেখাপড়া শেষ করে চাকরি করবো; কিন্তু লক্ষ্য করলাম চাকুরির বাজার খুব খারাপ। ফলে আমি যেহেতু ব্যবসায়ী পরিবারের সন্তান তাই ব্যবসাই শুরু করলাম। ২০০০ সাল থেকে ২০০৫ সালে ভাবলাম, ব্যবসায় নতুনত্ব আনতে হবে। মানুষ সব সময় নতুন কিছু চায়। আর এভাবেই ব্যবসার মাধ্যমে মানুষের কাছে যাওয়ার স্বপ্ন বুকে ধারণ করে নিজেকে ব্যবসায় সম্পৃক্ত করি।
 
তরুণ উদ্যোক্তা সৃষ্টিতে আমি কাজ করছি : সৈয়দ রুম্মান আহমদ
প্রশ্ন : নিজেকে ব্যবসায় সম্পৃক্ত করার উৎসাহ কীভাবে পেয়েছেন বলবেন কী?
সৈয়দ রুম্মান আহাম্মেদ : এটি আমি আমার পরিবার থেকে পেয়েছি। আমার বাবা একজন ব্যবসায়ী। আমার সবচেয়ে বড় আইডল হচ্ছে আমার বাবা। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ফরেস্ট্রি অ্যান্ড এনভায়রনমেন্ট সাইন্স থেকে আমি পড়াশোনা শেষ করেছি। এই বিষয়ে এক সময় বিসিএস কোঠা ছিলো, তা এখন খর্ব করা হয়েছে। আপনি দেখবেন, আমাদের দেশে লেখাপড়া বিষয় কর্মজীবনের খুবই অমিল। শুধুমাত্র ডাক্তার/ইঞ্জিনিয়ার ছাড়া অন্য বিষয়ে চাকরি জীবনে কোনো মিল থাকে না। চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি’র অধীনে প্রতি বছরই চট্টগ্রাম আর্ন্তজাতিক বাণিজ্য মেলা অনুষ্ঠিত হয়। এই আর্ন্তজাতিক বাণিজ্য মেলাতে আমি দোকান বরাদ্দ নিয়ে ফাস্ট ফুডের ব্যবসা করতাম। তখন আমি ছাত্র ছিলাম। এই ফুড ব্যবসাগুলো আমাকে বেশি আকৃষ্ট করে। সেই অভিজ্ঞতা থেকে আমি রেস্টুরেন্ট ব্যবসা শুরু করি। তাছাড়া আমার সেলুন ব্যবসা (নাম হাবিব তাজকিরা), বিউটি সেলুন, হ্যামার স্ট্রেংথ ফিটনেজ অ্যান্ড ট্রেনিং সেন্টার নামের জিম, হাইজেনিক মিট সেলস সেন্টার (বেঙ্গল মিট), গ্রেভিডাউন নামের রেস্টুরেন্ট, আইস বার্গ, আইসক্রিম পার্লার ব্যবসা রয়েছে।
 
প্রশ্ন : তরুণ প্রজন্মের উদ্দেশ্যে আপনার অভিমত কী?
সৈয়দ রুম্মান আহাম্মেদ : সম্প্রতি আমি সাউদার্ন ইউনিভার্সিটিতে একটি সেমিনারে গিয়েছিলাম। এই সেমিনারের মূল বক্তব্য ছিল ‘চাকুরি নেব না, চাকুরি দেব’। চট্টগ্রাম হচ্ছে বন্দরকেন্দ্রিক জায়গা। এখানে অলি-গলিতে ব্যবসা। চট্টগ্রামের মানুষ ব্যবসাকেন্দ্রিক। তরুণ প্রজন্মদেরকে আমি বলবো উদ্যোক্তা হোন। তরুণ উদ্যোক্তা সৃষ্টিতে আমি কাজ করছি : সৈয়দ রুম্মান আহমদ
চট্টগ্রামে অনেক রকমের ব্যবসা করার সুযোগ আছে। চট্টগ্রামের বেসরকারি-সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে মাঝে মাঝে উদ্যোক্তা হওয়ার জন্য সেমিনার হয়। আপনারা ওই সেমিনারে অংশগ্রহণ করবেন। আমিও সেমিনারে অংশগ্রহণ করি। এই সেমিনারে ব্যবসার নতুন নতুন তথ্য জানা যায়। আমি তরুণদের বলবো- চোখ কান খোলা রাখেন। মানুষের চাহিদার উপর নজর দেন। আপনার ক্রেতা হচ্ছেÑ মানুষ। মানুষের চাহিদার উপর নির্ভর করে আপনি ব্যবসায় আসেন। আপনি উদ্যোক্তা হোন। তাহলে অনেক মানুষের কর্ম সৃষ্টি করতে পারবেন। নিজে সাবলম্বী হবেন। দেশও এগিয়ে যাবে।
 
প্রশ্ন : বর্তমান সময়ে যে সকল যুবক চাকুরির বাজারে প্রবেশ করছে তাদের উদ্দেশ্যে কিছু বলুন?
সৈয়দ রুম্মান আহাম্মেদ : চাকুরির বাজার ভালো খারাপ জানি না, অনেকে ভালো বলে চাকুরি করছেন। অনেক তরুণ-তরুণী তাদের আশা অনুযায়ী চাকুরি পাচ্ছে না। তাদের কিছু একটা করতে হবে। তারা যে সকল চাকুরি করছে দেখা যাচ্ছে যে, তাদের মেধা মনন অনুযায়ী চাকুরি কঠিন বলে মনে হচ্ছে। চাকুরিকে কঠিন মনে করা ঠিক নয়। আমার জানা মতে, চট্টগ্রামের অনেক বড় বড় প্রতিষ্ঠিত ব্যক্তি আছেন, তারা জীবনের কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে পার করে আজ সমাজ ও বহির্বিশ্বে সুপ্রতিষ্ঠিত। কঠিন জীবনের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে তারা আজ সফল হয়েছে। আমি এক সময় বিদেশে ছিলাম। আমি দেখেছি, বিদেশে বাংলাদেশের অনেক ছেলে-মেয়েরা পার্টটাইম চাকুরি করছে। আসল কথা হলোÑ কোনো চাকুরি ছোট নয়। আপনি যেখানে চাকুরি করছেন সেখানে মনোযোগ দিয়ে কাজ করুন; দেখবেন সফলতা আপনার পিছনে ছুঁটবে।
 
তরুণ উদ্যোক্তা সৃষ্টিতে আমি কাজ করছি : সৈয়দ রুম্মান আহমদ
প্রশ্ন : মাননীয় প্রধানমন্ত্রী’র ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্নকে আপনি কীভাবে মূল্যায়ন করছেন?
সৈয়দ রুম্মান আহাম্মেদ : আপনার এই প্রশ্নটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গ্লোবালাইজেশনের কারণে আমাদের দেশ অনেক দূর এগিয়ে গেছে। ডিজিটাল হওয়ায় আমাদের দেশে যে পরিবর্তন হয়েছে সত্যি অবাক হওয়ার মতো। বর্তমান শেখ হাসিনা সরকার ডিজিটালের উপর বেশি কাজ করে যাচ্ছে। এজন্য আমরা চমকটা বেশি দেখছি। ডিজিটালের কারণে এখন দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে যোগাযোগ সহজ হয়ে গেছে। হাতের কাছে ইন্টারনেটের মাধ্যমে সারা বিশ্বের সাথে যোগাযোগ করতে পারছে, নতুন নতুন তথ্য সংগ্রহ করতে পারছে। আইটি নির্ভর নতুন নতুন ব্যবসার সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে। আমাদের তরুণ প্রজন্মরা দেশেও দেশের বাইরের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ডিজিটাল পদ্ধতির মাধ্যমে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পাচ্ছে। এই সুযোগ-সুবিধাগুলো আগে ছিল না। একজন ব্যবসায়ী গ্লোবালাইজেশনের মাধ্যমে ব্যবসা-বাণিজ্য পরিচালনা করতে পারছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী’র তথ্যবিষয়ক উপদেষ্টা সজিব ওয়াজেদ জয় ডিজিটাল নিয়ে অনেক বেশি কাজ করে যাচ্ছেন। দেশের বিভিন্ন জায়গায় আইটি মেলা হচ্ছে। তিনি দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে তরুণ-তরুণীদের নিয়ে আইটির উপর প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন। সম্প্রতি চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি’র অধীনে চট্টগ্রামে আইটি মেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই মেলায় আমি অংশগ্রহণ করেছিলাম। এই আইটি মেলা আগে অন্য কোনো সরকারের আমলে হয়নি। গ্লোবালাইজেশনের কারণে আমাদের দেশ আগের চেয়ে অর্থনৈতিকভাবে এগিয়ে যাচ্ছে। এক সময় মোবাইল নেটওয়ার্ক পেতে অনেক কষ্ট হতো, এখন ঘরে বসেও মোবাইল নেটওয়ার্ক পাচ্ছি। আমি চাই- এই গ্লোবালাইজেশনের মাধ্যমে আমাদের দেশ আরো দ্রুত এগিয়ে যাক।
 
প্রশ্ন : ভবিষ্যতে রাজনীতিতে আসার ইচ্ছে আছে কী-না?
সৈয়দ রুম্মান আহাম্মেদ : আমি মনে করি, প্রতিটি মানুষ রাজনীতি বিষয়ে সচেতন। টিভি খুললে প্রথমে আপনি রাজনীতির খবরটা আগে দেখেন; পরে হয়তো অন্য চ্যানেলে যান। আমি মনে করি, একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে আমিও রাজনীতির বাইরে নই। আমার মধ্যেও রাজনীতি কাজ করে। আমি যেদিন ভোট তরুণ উদ্যোক্তা সৃষ্টিতে আমি কাজ করছি : সৈয়দ রুম্মান আহমদ
দিতে যাবো আমার মধ্যেও ভালো-মন্দ কাজ করে। রাজনীতিকে আমাদের তরুণ প্রজন্মরা অপছন্দ করে কেনো আমি তা জানি না। আমি একদিন একজন উচ্চ শিক্ষিত তরুণকে জিজ্ঞেস করেছিলাম তুমি ভোট দিবে না? সে আমাকে বললো না ভাই। সে জানে না যে, তার নির্বাচনী এলাকাতে কোন কোন প্রার্থী দাঁড়িয়েছে। সে এই যে গদবাঁধা কথাগুলো বলে‘ ভোট দিব না’ যোগ্যপ্রার্থী নেই। এই মনের ক্ষোভ থেকে তরুণদের বেরিয়ে আসতে হবে। আপনার মূল্যবান ভোট আপনার যোগ্য প্রার্থীকে দিতে হবে। আপনি যদি মনে করেন এই প্রার্থীকে নির্বাচিত করলে সমাজের কল্যাণ, দেশের কল্যাণে কাজ করবে। রাজনীতিকে আমি ওভাবে দেখেছি। যদি কোনো দিন সুযোগ হয় আমি অবশ্যই রাজনীতিতে আসবো।
 
প্রশ্ন : আপনার শিক্ষার বিষয় ফরেস্ট্রি অ্যান্ড এনভায়রনমেন্ট সাইন্স। ওই বিষয়ের একজন শিক্ষার্থী হিসেবে আপনার কাছে জানতে চাইছি বাংলাদেশের জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা করার জন্য কী ধরনের প্রস্তুত থাকতে হবে।
সৈয়দ রুম্মান আহাম্মেদ : বাংলাদেশ এখন বিশ্বের ষষ্ঠ ঝুঁকিপূর্ণ দেশ। জলবায়ুর প্রভাবের কারণে বাংলাদেশ বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এখন দেখছেন, বাংলাদেশে দীর্ঘমেয়াদি বর্ষাকাল। গত বছর অক্টোবরে মাঝামাঝি সময়ে শীতের আগমন হয়েছে, এই বছর এখনো শীতের দেখা নেই। এই বছর বর্ষার মৌসুমে নগরীতে জলাবদ্ধতা হয়েছে। অনেক জায়গায় পাহাড় ধস, বজ্রপাত, অকাল বন্যা হয়েছে। এই পাহাড় ধস, বজ্রপাত, অকাল বন্যার কারণে অনেক মানুষের মৃত্যু হয়েছে। রাস্তা-ঘাট, বসতবাড়ি ব্যাপক ক্ষয়-ক্ষতি হয়েছে। এই জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে আন্তর্জাতিকভাবে বিশ্বের অনেক দেশে সেমিনার, গোল-টেবিল বৈঠক হয়েছে। আমাদের বাংলাদেশ জলবায়ুর প্রভাবের কারণে আন্তর্জাতিকভাবে দাবি-দাওয়া আদায় করতে হবে। আমাদের দেশে বৈষ্যয়িক উষ্ণতা বাড়ছে। ধীরে ধীরে আমাদের দেশে আরও বেশি প্রাকৃতিক দুর্যোগ বৃদ্ধি পাবে। কিছুদিন আগে ইরাক ও ইরানের সীমান্তে মধ্যস্থলে ভূমিকম্প হয়েছে। আমাদের দেশে যদি এই ভূমিকম্প হতো তাহলে আমরা কতটুকু নিজেদেরকে রক্ষা করতে পারতাম। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে আমরা বিশ্বের বেশি ভিকটিম। সেজন্য আমাদের আরও বেশি পরিমাণ গাছ রোপন হবে। আমাদের পাহাড়গুলো রক্ষা করতে হবে। একটি গাছ কাটলে আমাদের আরো দশটি গাছ রোপণ করতে হবে। ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য একটি সবুজ পৃথিবী সৃষ্টি করতে হবে; এর বিকল্প কিছু নেই।
 
প্রশ্ন : দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য উন্নয়নে সরকারের কাছ থেকে কি ধরনের সহযোগিতা কামনা করেন?
সৈয়দ রুম্মান আহাম্মেদ : সবচেয়ে বড় সহযোগিতা হচ্ছে দেশের স্থীতিশীলতা। জানি না আগামীতে দেশে যারা সরকার পরিচালনা করবেন তাদের কাছে একজন ব্যবসায়ী হিসেবে আমি অনুরোধ করবো আমরা হরতাল-অবরোধ চাই না, কোনো ধরনের নৈরাজ্য যেনো না হয়। এই হরতাল, অবরোধ, নৈরাজ্যের জন্য আমরা বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হই। আপনি খেয়াল করবেন, হরতাল এখন যাদুঘরে চলে গেছে। কেউ হরতাল ডাকলেও জনগণ তা সমর্থন করে না। এই ব্যাপারগুলোকে তরুণ উদ্যোক্তা সৃষ্টিতে আমি কাজ করছি : সৈয়দ রুম্মান আহমদ
নির্দ্দিষ্ট জায়গায় নিয়ে আসতে হবে। মনে রাখতে হবে, দাবি আদায়ের জন্য জনগণের যেনো ক্ষতি না হয়। আগামীতে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে; ওই নির্বাচনকে ঘিরে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হলে ব্যবসায়ীরা ক্ষতির সম্মুখীন হবেন। নির্বাচন আসলে আমরা ব্যবসায়ীরা সব সময় ভয় পাই। দেশ যাতে অস্থিতিশীলতা না হয় সেটি লক্ষ্য রাখতে হবে। ব্যবসায়ীরা যদি ক্ষতির সম্মুখীন হয়, দেশের উন্নয়ন-অগ্রযাত্রা বাধাগ্রস্থ হবে। দেশের উন্নয়নের জন্য আগামীতে যারা সরকার গঠন করবে তাদের পাশে আমরা থাকবো।
 
প্রশ্ন : সম্প্রতি সারা বাংলাদেশে আয়কর মেলা হলো; এই বিষয়টি কীভাবে দেখছেন?
সৈয়দ রুম্মান আহাম্মেদ : সবাই মিলে দেব কর, দেশ হবে স্বনির্ভর; এই স্লোগানের সাথে আমিও একমত। আমি যেহেতু দেশের নাগরিক আমাকে অবশ্যই কর দিতে হবে। এই আয় দিয়ে সরকার পরিচালিত হয়, দেশের উন্নয়নের কাজ করে। আমরা এখন অনেক সচেতন। আগে আয়কর মেলা হত না, এখন আয়কর দেওয়ার জন্য জনগণকে উৎসাহিত করা হচ্ছে। এটা জনগণের জন্য সুফল বয়ে আনবে। তবে জনগণ আয়কর দিতে গিয়ে যেনো হয়রানির শিকার না হয় সেদিকে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারিদের নজর রাখতে হবে। আমি মনে করি, দেশের ৭০ শতাংশ মানুষ যদি আয়কর দেয়; তাহলে দেশ এগিয়ে যাবে।
 
প্রশ্ন : সবশেষে আপনার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে বলবেন কী?
সৈয়দ রুম্মান আহাম্মেদ : আমি তরুণদের উদ্যোক্তা হওয়ার জন্য অনেক পরিকল্পনা হাতে নিয়েছি। আমার স্বপ্ন আমার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে দেশের অসংখ্য তরুণ-তরুণী পার্ট টাইম চাকুরি করে অভিজ্ঞতা নিয়ে তারা যেনো নিজেরাই স্বাবলম্বী হতে পারে। পাশাফঅীম পরিবার ও সমাজে অর্থনৈতিক মুক্তি দিতে পারে। আমি ব্যবসা করছি, অন্যরা দেখে যেনো ব্যবসায় এগিয়ে আসে; এটিই আমার প্রত্যাশা।

সূত্র: টাইমওয়াচ।

এই রকম আরও খবর




Editor: Habibur Rahman
Dhaka Office : 149/A Dit Extension Road, Dhaka-1000
Email: [email protected], Cell : 01733135505
[email protected] by BDTASK