সোমবার, ১৯ নভেম্বর ২০১৮
Thursday, 16 Aug, 2018 06:28:03 pm
No icon No icon No icon

ইলেকট্রনিক্স পণ্যে লুকিয়ে কুরিয়ারে অানা হতো ইয়াবা


ইলেকট্রনিক্স পণ্যে লুকিয়ে কুরিয়ারে অানা হতো ইয়াবা


টাইমস ২৪ ডটনেট, ঢাকা: ইলেকট্রনিক্স পণ্যের ভেতরে লুকিয়ে কুরিয়ারের মাধ্যমে টেকনাফ থেকে ঢাকায় আনা হচ্ছিল ইয়াবা। সব সময় একই পন্থা অবলম্বন করা হতো না। কখনো ফ্যানের ভেতরে, কখনো ওয়াসিং মেশিন বা এয়ারকন্ডিশনের ভেতরে করে আনা হতো এই মাদক। আর ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যেতেন চক্রের হোতারা। সম্প্রতি এ চক্রের ছয় সদস্যকে গ্রেফতার করেছে র‍্যাব-২। বৃহস্পতিবার রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র‍্যাবের মিডিয়া সেন্টারে এ তথ্য জানান র‍্যাবের মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক মুফতি মাহমুদ খান। সংবাদ সম্মেলনের জানানো হয়, গ্রেফতারকৃত ছয় মাদক ব্যবসায়ীকে রাজধানীর এলিফেন্ট রোডের দুটি বাসায় অভিযান চালিয়ে ২ লাখ ৭ হাজার ১০০টি ইয়াবাসহ গ্রেফতার করা হয়। ইয়াবাগুলোর আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৭ কোটি ২৪ লাখ ৮৫ হাজার টাকা। একই সঙ্গে তাদের কাছে থাকা ১৬ লাখ ৬৪ হাজার টাকা জব্দ করা হয়। গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন- বগুড়ার কাহালু উপজেলার মালঞ্চা গ্রামের ফয়সাল অাহাম্মেদ ( ৩১), কক্সবাজার সদরের বাহারছড়ার মিরাজ উদ্দিন নিশান (২১), একই জেলার টেকনাফ চৌধুরীপাড়ার জহির অাহাম্মেদ ওরফে মৌলভী জহির (৬০), টেকনাফের কেকেপাড়ার মমিনুল অালম ওরফে মমিন, শরীয়তপুরের ডামুড্যার তৌফিকুল ইসলাম সানি এবং একই উপজেলার বিষাকুড়ি গ্রামের সঞ্জয় চন্দ্র হালদার।
মুফতি মাহমুদ জানান, গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে জহির হলেন মূল হোতা। তিনি রোজিনা এন্টারপ্রাইজ নামের একটি সিঅ্যান্ডএফ ব্যবসার অাড়ালে এ ব্যবসা চালাতেন। এ ব্যবসা করতে গিয়ে সাইফুল নামের এক ব্যক্তির সঙ্গে তার পরিচয় হয়। পরে তার প্রলোভনে তিনি ইয়াবা ব্যবসায় জড়িয়ে পড়েন। সাইফুলের ওষুধের ব্যবসা থাকলেও তার অাড়ালে তিনি ইয়াবার ব্যবসা করতেন। এর সঙ্গে তার স্ত্রীও জড়িত। সাইফুলের সঙ্গে টেকনাফের বড় একজন চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ীর সখ্যতা রয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনের জানানো হয়, জহির ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় নিজে ও ছেলের মাধ্যমে বাসা ভাড়া করে ইয়াবা মজুদ করতেন এবং সেগুলো সময় সুযোগমতো বিক্রি করতেন। কলাবাগান ও ধানামন্ডি এলাকায় তিনি ছেলেকে দিয়ে বাসা ভাড়া করে ব্যবসা চালাতেন। কোনো বাসায় এক বছরের ওপরে থাকতেন না। সর্বশেষ এলিফেন্ট রোডের বাসাটি ভাড়া নেন জহির।
মুফতি মাহমুদ অারও জানান, জহির টেকনাফ থেকে বার্মাইয়া অালম নামের একজন ব্যক্তির কাছ থেকে এসব ইয়াবা সংগ্রহ করতেন। এই বার্মাইয়া অালম মায়ানমারস্থ প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করেন। তিনি মূলত মংডুতেই থাকেন। তবে প্রয়োজনে কক্সবাজারের টেকনাফে যাতায়াত করেন। টেকনাফের বিভিন্ন এলাকা দিয়ে অালম ইয়াবাগুলো কক্সবাজারে অানেন। তারপর জালিয়াপাড়া, নজিরপাড়াসহ বিভিন্ন এলাকায় মজুদ করেন। পরে সময়মতো সেগুলো কুরিয়ারে করে ঢাকায় পাঠানো হতো। কুরিয়ারে করে বিভিন্ন ইলেকট্রনিক্স পণ্যের ভেতরে ঢুকিয়ে ঢাকায় অানতেন। এ কাজে সহায়তা করতেন গ্রেফতারকৃত মমিন ও অাবদুল মমিন নামে দুজন। এর মধ্যে অাবদুল মমিন হলেন জহিরের জামাতা।
যেভাকে ইয়াবাগুলো ঢাকায় আনা হতো এ বিষয়ে বলতে গিয়ে মুফতি মাহমুদ জানান, টেকনাফে ইয়াবাগুলো কুরিয়ারে বুঝিয়ে দিয়ে পরে অাকাশপথে ঢাকায় চলে অাসতেন তারা। অাসার পর সেগুলো কুরিয়া থেকে বুঝে নিয়ে জহিরের ভাড়া বাসায় তারা পৌঁছে দিতেন। তারপর তারা অাবারও টেকনাফে ফিরে যেতেন। তারা ইয়াবা কেনার জন্য টেকনাফে ব্যাংক, মোবাইল ব্যাংকিং ও হুন্ডির মাধ্যমে টাকা পাঠাতেন।
গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিরা র‍্যাবকে জানিয়েছে, মমিন প্রায় বিমানযোগে ঢাকায় অাসতেন। কিন্তু ইয়াবা সরবরাহ করতেন জহির একাই। নিয়মিত ঢাকার পাঁচ ব্যক্তির কাছে ইয়াবা সরবরাহ করতেন। তবে তারা কারা, সে ব্যাপারে র‍্যাব কিছুই জানায়নি।
গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অাইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন বলে জানান মুফতি মাহমুদ।
মুফতি মাহমুদ বলেন, ‘চক্রটির সদস্য জহির দামি ফ্লাট ভাড়া নিয়ে চালাতেন এ ব্যবসা। তার ছেলে ছিল ব্যবসার সহকারী। কিন্তু সে সম্প্রতি ধরা পড়ায় কারাগারে অাছেন। জহির যে বাসাগুলো ভাড়া নিতেন, সেগুলোর ভাড়া ছিল লাখ টাকার কাছাকাছি।’

 

এই রকম আরও খবর




Editor: Habibur Rahman
Dhaka Office : 149/A Dit Extension Road, Dhaka-1000
Email: [email protected], Cell : 01733135505
[email protected] by BDTASK