শনিবার, ১০ নভেম্বর ২০১৮
Friday, 18 May, 2018 04:13:31 pm
No icon No icon No icon
অপরাধী ও হঠাৎ রাজারা তার ভক্ত ও গুণগ্রাহক

সহজ ‌সরল অ‌তি বিশ্ব‌াসী‌দের ভাগ্য বিধাতা লিটন দেওয়ান


সহজ ‌সরল অ‌তি বিশ্ব‌াসী‌দের ভাগ্য বিধাতা লিটন দেওয়ান


এমএবি সুজন, বিশেষ প্রতিনিধি, টাইমস ২৪ ডটনেট, ঢাকা: ইদা‌নিং টে‌লি‌ভিশ‌নে দীর্ঘ বিজ্ঞাপন প্রচা‌রের ফাঁ‌কে ফাঁ‌কে অন্যান্য অনুষ্ঠানমালা সাজা‌নো হয় যেমন চাঞ্চল্যকর জ্যো‌তি‌ষি ‌লিটন দেওয়ান প‌রিচা‌লিত দে‌শের ‌সি‌নেমা, নাটক ও ক্রীড়াঙ্গ‌নের সা‌বেক বর্তমান প্রায় ৩ ডজন তারকা‌দের নি‌য়ে নি‌র্মিত মিথ্যা ও বা‌নোয়াট অ‌ভিনয় সমৃদ্ধ ২৩ মি‌নি‌টের এক‌টি দীর্ঘ ধারাবা‌হিক টে‌লি‌ভিশন বিজ্ঞাপন ভি‌ডিও দেখলাম বাংলা টি‌ভি‌তে। আস‌ছে লিটন দেওয়ান টে‌লি‌ভিশন বা এল‌ডি টি‌ভি ত‌বে তা‌তে লিটন দেওয়া‌নের বিজ্ঞাপন ছাড়া অন্য‌কিছু দেখা‌বে কি? মি‌ডিয়া চ‌লে লিটন দেওয়া‌নের টাকায় টি‌ভি চ্যা‌নেল চ‌লে। এমন অ‌নেক জ্যো‌তিষী ফুটপাত ছে‌ড়ে আশ্রয় আস্তানা গ‌ড়ে তু‌লে‌ছে দে‌শের নামকরা প্রাসাদএ আর এমন ভাগ্য দেবতা‌দের দখ‌লে দে‌শের বে‌শিরভাগ টি‌ভি চ্যা‌নেলগু‌লো। রাজধানীর বসুন্ধরা সিটির লেভেল-১, ব্লক ডি এর ৭০ ও ৭১ নম্বর দোকান নিয়ে ২০০৯ সাল থেকে আলিশান আস্তানা তৈরি করেছেন লিটন দেওয়ান চিশতী। নিজেকে তিনি জ্যোতিষরাজ ও পীরে কামেল হিসেবে দাবি করেন। তিনি পাথর বিক্রি করে কয়েক কোটি টাকার মালিক বনে গেছেন। চড়েন পাজেরো গাড়িতে। তার শ্লোগান- আর হতাশা নয় সফলতার জন্য আসুন। তিনিও একাধিকবার আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার হয়েছেন। লিটন দেওয়ানের দাবি, যে কোন মুশকিলের আসান তিনি করে দিতে পারেন মুহূর্তেই। এ জন্য তিনি রাশি গণনা করে পাথর দেন। এছাড়া মন্ত্রের মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করে থাকেন। তিনি ৯০ সাল থেকে এ পেশায় আছেন। বংশগতভাবে তাঁর এ পেশায় আসা। তবে তিনি নিজেই বলেছেন, তার শিাগত যোগ্যতা এসএসসি পাস। যে পেশায় তিনি আছেন সে পেশায় শিাগত যোগ্যতার কোন প্রয়োজন নেই। তার আস্তানায় গেলে দেখা যায়, অনেক মন্ত্রী-এমপির সঙ্গে তার ছবি। অনেকের কাছ থেকে তিনি পুরস্কার নিচ্ছেন। তার দাবি মন্ত্রী, এমপি থেকে শুরু করে অনেক ভিআইপি তার কায়েন্ট। তিনি বলেন, যে কোন মানুষের মুখ দেখেই আমি তার অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ বলে দিতে পারবো। লিটন দেওয়ানের সঙ্গে সাাতের ভিজিট ৫ শ টাকা। তিনি ৫ শ থেকে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত বিভিন্ন দামে পাথর বিক্রি করে থাকেন। কোরয়ান ও বিজ্ঞান সম্মত উপায়ে তার পাথর বিক্রির ব্যবসা। পাথরের ধর্মীয় গুরত্ব স¤পর্কে তিনি বলেন, নবী (সা.) আক্বিক পাথর পরতেন আর আমরা যখন হজে যাই তখনও আমরা একটি পাথরে চুম্বন করি। অনুসন্ধান করতে গিয়ে রাজধানীতে এরকম শতাধিক জ্যোতিষীর সন্ধান পাওয়া যায়। নিউমার্কেট গাউছিয়া মার্কেটের দোতলায় বসেন জ্যোতিষী প্রফেসর হাওলাদার, নারায়ণগঞ্জে বসেন জ্যোতিষী পঞ্জিকা লেখক শ্রী সুকুমার আচার্য্য, মালিবাগ রেল গেটের পাশে বসেন জ্যোতিষী শিকর রায়, মা‌লিবাগ মো‌ড়ে জীবন চৌধুরী, বসুন্ধরা সিটিতে বসেন মঞ্জু, লিটন দেওয়ান চিশতী, এস শামসুদ্দিন, শফিকুল ইসলাম সাদাত, উজ্জল আরেফীন, এ কে রায়, হাসান সেলিম, জ্যোতিষী কাউছার আহমেদ চৌধুরী, ৩১১ সি আর দত্ত রোডে পাশাপাশি বসছেন গুরুসম্রাট সাধন বাবু ও জাহাঙ্গীর শাহ চিশতী, মিরপুর শাহ আলী মহিলা কলেজ মার্কেটের দোকান নং ই/৪ দোতলায় আস্তানা গেড়েছেন এনায়েত শাহ নামের এক জ্যোতিষী বাবা। রাজধানীর শান্তিনগর প্লাজার ১২৪/৪ নম্বর হোল্ডিংয়ে আস্তানা খুলেছেন জ্যোতিষী বাবা গোলাম মওলা। তার আস্তানার নাম দরবারে নূরানী। ১৪ মোহাম্মদপুর রিং রোডে আরেকটি আস্তানার নাম রাবেয়া চিশতীর চ্যালেঞ্জ, ৮৯/১ কাকরাইলে আস্তানা খুলেছেন জ্যোতিষী দীননাথসহ আরো অনেকে। দেশ জুড়েই চলছে এমন ভাগ্য ফেরানো পাথর ব্যবসায়ী বাবাদের আস্তানা। প্রকাশ্যে প্রতারণা চালিয়ে যাচ্ছেন তারা। প্রতারণা করতে গিয়ে কেউ কেউ আইন-শৃঙ্খলা রাকারী বাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার হলেও জামিনে বেরিয়ে আবার নামছেন এ ব্যবসায়। জ্যোতিষী আর ভণ্ড বাবাদের নিয়ে সরেজমিন অনুসন্ধান করতে গিয়ে জানা গেছে প্রতারণার নানা কৌশল। গাবতলীতে দেখা মিললো মিথুন নামের এক জ্যোতিষীর সাথে। তিনি টিয়ে পাখির মাধ্যমে মানুষের ভাগ্য পরীা করে তার প্রয়োজনীয় পাথর দিয়ে থাকেন। তার নিজের ভাগ্য বদলাতে পেরেছে কিনা জানতে চাইলে কোন উত্তর দিতে পারেননি। বসুন্ধরা সিটিতে বর্তমান ২৪টি ভাগ্য গণনার দোকান রয়েছে। তার মধ্যে প্রথম সারির একটি দোকান "শেষ দর্শন আজমেরী জেমস হাউজ"। মালিক লিটন দেওয়া‌নের সাথে দেখা করতে পাঁচশত টাকা ফি দিয়ে দেখা করতে হলো। তার রুমে প্রবেশ করা মাত্রই দেখা গেল তার চার দিকে ক্রেস আর বিভিন্ন মন্ত্রী-এমপি ও বিশেষ ব্যাক্তির সাথে ওঠা তার ছবি। যে কেউ প্রথমে গেলে এগুলো দেখেই তাকে বিশ্বাস করতে হবে। এরপর তাকে পরিচয় দিলে নিজেকে নিরোপরাধ দাবি করে বলেন, একমাত্র সে এখানে কাউকে না ঠকিয়ে ব্যবসা করছে। তবে অন্য আরো যারা এখানে ব্যবসা করছে তাদেরকে ধরার জন্য এই প্রতিবেদকের সাথে তাদের একজন লোক পাঠিয়ে দেয়। তিনি এই প্রতিবেদককে সবগুলো ভাগ্য গণনা পাথর ব্যবসায়ীর সাথে পরিচিত হয়ে তাদের বিরুদ্ধে লিখতে অনুরোধ করেন। তবে তার ছবি তুলতে চাইলে বলেন, আমার অনেক ছবি পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে, নতুন করে ছবি প্রকাশ না করায় ভালো। পাবনার ছেলে মো: আরিফুল ইসলাম পড়াশোনা করেন একটি প্রাইভেট ইউনিভার্সিটিতে। পারিবারিক কারণে তিনি একটি বড় বিপদের মুখোমুখি হন। সে বিপদ কেটেও যায়। ‌টি‌ভি‌তে বিজ্ঞাপন দে‌খে তারকা‌দের কথায় বিশ্বাস ক‌রে তার মনে হয়েছিল লিট‌নের কাছে গেলে সামনের আগাম বিপদ থেকে মুক্তি পাওয়া যাবে। সে আশায় তিনি লিট‌নের কাছে হাত দেখান। তার হাত দেখে বললো তার ৩টি বড় বিপদ কেটে গেছে সামনে তার জীবনে একটি বড় ফারা (বিপদ) আছে। তাই এখনই রাহুর কবল থেকে বাচতে হলে একটি রুবি পাথরের অংকটি ব্যবহার করতে হবে। তিনি ৩০ হাজার টাকা খরচ করে পাথর ও অংকটি কিনে ব্যবহার শুরু করেন। তার কিছু দিন পরেই গত ৩১ জানুয়ারি একটি ঘটনায় তেজগাঁও থানার পুলিশের কাছে গ্রেফতার হয়ে ২৫ দিন জেল খাটেন। তিনি এই প্রতিবেদককে জানান, এই ঘটনার পর থেকে আমি পাথরকে আর বিশ্বাস করি না। ঢাকা ইউনিভার্সিটির ছাত্র মোল্লা মো: কফিল উদ্দিন বলেন, রা মূলত ভয় দেখিয়ে টাকা উপর্জন করে তাই একবার তাদের কাছে যাওয়ার পর থেকে আর কখনও রদের কাছে যায়নি। তানভীর খন্দকার নামের এক সংবাদকর্মী বলেন, জ্যোতিষীরা এতো কিছু অগ্রীম জানলে এবং সকল সমস্যার সমাধান করতে পারলে কর্পোরেট হাউজগুলো তাদের বড় পদে দের নিয়োগ দিচ্ছে না কেন? ভণ্ডপীর, বাবা ও জ্যোতিষীদের প্রতারণার বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে গোয়েন্দা পুলিশের উপ-কমিশনার মনিরুল ইসলাম বলেন, প্রতারকদের অনেককে বিভিন্ন সময় গ্রেপ্তার করা হয়। কিন্তু তারা আবার জেল থেকে বেরিয়ে এসে পুরনো পেশায় ফিরে যাচ্ছে। এসব প্রতারকের বিষয়ে গোয়েন্দা নজরদারি চলছে। অবিলম্বে তাদের গ্রেপ্তার করা হবে। র‌্যাবের গোয়েন্দা শাখার পরিচালক কর্নেল জিয়াউল আহসান বলেন, এ সংক্রান্ত আইন আরও শক্তিশালী করতে হবে। তা না হলে তাদের শুধু গ্রেপ্তার করে লাভ হবে না। তিনি বলেন, একজন প্রতারককে আমি তিনবার গ্রেপ্তার করেছি। কিন্তু সে প্রত্যেকবারই বেরিয়ে এসেছে। জানা যায়, জ্যো‌তিষী‌দের বিপদ আপদ জেল মামলা সাময়িক ত‌বে তারা আজীবন সাধারণ সহজ সরল মানু‌ষের সা‌থে প্রতারণা ক‌রে যায়।

এই রকম আরও খবর




Editor: Habibur Rahman
Dhaka Office : 149/A Dit Extension Road, Dhaka-1000
Email: [email protected], Cell : 01733135505
[email protected] by BDTASK