সোমবার, ২০ আগস্ট ২০১৮
Tuesday, 01 May, 2018 12:41:59 am
No icon No icon No icon

সড়ক দূর্ঘটনার ভয়াল চিত্র: ৪ মাসে সড়ক দূঘটনায় নিহত ২১২৩


সড়ক দূর্ঘটনার ভয়াল চিত্র: ৪ মাসে সড়ক দূঘটনায় নিহত ২১২৩


এস.এম.নাহিদ, টাইমস ২৪ ডটনেট, ঢাকা : দেশে সড়ক দূঘর্টনায় প্রাণহানি প্রতিদিন বেড়েই চলেছে। আর এর সঙ্গে অঙ্গহানি নিত্যদিনের ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিতুমীর কলেজের মেধাবী শিক্ষার্থী রাজীব হোসেনের মৃত্যুর পর বাসের চাপায় পা হারানো গৃহকর্মী রোজিনার মৃত্যুর সংবাদ আলোড়ন তুলেছে। এভাবে ঝরে যাচ্ছে অসংখ্য তাজা প্রাণ। চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত চার মাসে ১৮৭১টি সড়ক দুর্ঘটনায় ২১২৩ জন নিহত ও ৫৫৫৮ জন আহত হয়েছেন। ৩০ এপ্রিল, সোমবার বিকেলে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি এই পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিগত বছরের একই সময়ের তুলনায় দুর্ঘটনা ১.০৬ শতাংশ, নিহত ১.৪৪ শতাংশ, আহত ৮.৩১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, দেশের ছয়টি বিভাগীয় হাসপাতালে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত চার মাসে মারা গেছেন ২০৬ জন। গত বছরের একই সময়ে ছোট-বড় ১৭৬৫টি সড়ক দুর্ঘটনায় ১৯৭৯ জন নিহত ও ৪৭২৭ জন আহত হয়েছিলেন। এতে দেখা গেছে, ২০১৭ সালের তুলনায় ২০১৮ সালে মোট দুর্ঘটনা ১.০৬ শতাংশ, নিহত ১.৪৪ শতাংশ, আহত ৮.৩১ শতাংশ বেড়েছে।
পরিসংখ্যানে আরও দেখা গেছে, জানুয়ারি মাসে ৪৯৯টি সড়ক দুর্ঘটনায় ১৩৫৩ জন আহত ও ৫১৪ জন নিহত হন। একই মাসে ১৪০টি বাস, ২০৪টি ট্রাক-লরি ও কাভার্ডভ্যান, ৯টি হিউম্যান হলার, ৪১টি কার ও মাইক্রোবাস, ৫২টি অটোরিকশা, ৯৮টি মোটরসাইকেল, ৩২টি ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ইজিবাইক, ৫৩টি নছিমন-করিমন-ট্রাক্টর সড়ক দুর্ঘটনার কবলে পড়েছে। এসব দুর্ঘটনার ১৭৭টি মুখোমুখি সংঘর্ষ, ৮০টি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে যাওয়া, আটটি ট্রেন-যানবাহন সংঘর্ষের ঘটনায় ঘটেছে। এ ছাড়া চাকায় ওড়না পেঁচিয়ে ছয়জন, গাড়িচাপায় ২০৫ জন পথচারী নিহত হয়েছেন।
ফেব্রুয়ারি মাসে ৪৩৯টি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে। এতে ১৫২১ জন আহত ও ৪৫৯ জন নিহত হন। এই মাসে ১১৩টি বাস, ১৮৯টি ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান, ৯টি হিউম্যান হলার, ৬৩টি অটোরিকশা, ৩২টি কার ও মাইক্রোবাস, ৯৩টি মোটরসাইকেল, ২৩টি ব্যাটারিচালিত রিকশা, ৩৫টি নছিমন-করিমন সড়ক দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। এসব দুর্ঘটনার ১৫৪টি মুখোমুখি সংঘর্ষ ও ৮৭টি খাদে পড়ে, ছয়টি ট্রেন-যানবাহন সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ছাড়াও ১৭০টি গাড়িচাপার ঘটনায় পথচারী নিহত হয়েছেন।
মার্চ মাসের পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ৪৯১টি সড়ক দুর্ঘটনায় ১৫০৬ জন আহত ও ৪৮৩ জন নিহত হয়েছেন। এ মাসে ১৩২টি বাস ২৩৬টি ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান সাতটি হিউম্যান হলার, ৬১টি অটোরিকশা, ২৭টি কার ও মাইক্রোবাস, ৯০টি মোটরসাইকেল, ১৪টি ব্যাটারিচালিত রিকশা, ২৬টি নছিমন-করিমন দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। এসব দুর্ঘটনার ১৫৬টি মুখোমুখি সংঘর্ষ, ৮৭টি খাদে পড়ে ও ৩টি ট্রেন-যানবাহনের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ছাড়াও ২২২টি গাড়িচাপার ঘটনায় পথচারী ও যাত্রী নিহত হন।
ওই পরিসংখ্যান অনুযায়ী চলতি এপ্রিল মাসে ৪৪২টি সড়ক দুর্ঘটনায় ১১৭৮ জন আহত ও ৪৬১ জন নিহত হয়েছেন। এই মাসে ১১৪টি বাস, ১৮৪টি ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান, ছয়টি হিউম্যান হলার, ৬১টি অটোরিকশা, ২৭টি কার ও মাইক্রোবাস, ৮২টি মোটরসাইকেল, ১৪টি ব্যাটারিচালিত রিকশা, ৩৬টি নছিমন-করিমন-ট্রাক্টর সড়ক দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। এসব ঘটনার ১১৮টি মুখোমুখি সংঘর্ষ, ৮৯টি খাদে পড়ে, একটি বাস-ট্রেন-যানবাহন সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ছাড়াও ২১১টি গাড়িচাপার ঘটনায় পথচারী ও যাত্রী নিহত হন।
উপরে উল্লিখিত ঘটনার প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, ‘আমরা ইতোমধ্যে ১০টি সুপারিশমালা তুলে ধরেছি। এই সুপারিশগুলো হলো—সড়ক দুর্ঘটনাকে জাতীয় সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করে জরুরি ভিত্তিতে এইসব দুর্ঘটনার প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি কমাতে উদ্যোগ গ্রহণ। মালিক-শ্রমিক-যাত্রী-সরকার মিলে সম্মিলিতভাবে এই সমস্যা সমাধানে উদ্যোগ গ্রহণ। ফিটনেসবিহীন মেয়াদোত্তীর্ণ লক্কড়-ঝক্কড় যানবাহন উচ্ছেদ করে মানসম্মত যানবাহনের ব্যবস্থা করা। চালকদের আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা। চালকদের হাতে দৈনিক চুক্তিভিক্তিক বাস, ট্রাক, হিউম্যান হলারসহ অন্যান্য যানবাহন ইজারা দেওয়া বন্ধ করা। দেশের সকল বেহাল সড়ক-মহাসড়ক সংস্কার করা। ট্রাফিক আইনের যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করা বিআরটিএকে শক্তিশালী করা। পরিবহন খাতকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত করা ও ফুটপাথ নির্মাণ, সংস্কার, বেদখলমুক্ত করে হাঁটার পরিবেশ নিশ্চিত করা।
গত বছর প্রাণ গেছে পাঁচ হাজার ৩৯৭ জনের।অপরদিকে ২০১৭ সালের ‘নিরাপদ সড়ক চাই’র (নিসচার) এক হিসেব অনুযায়ী, সড়কপথে দুর্ঘটনার শিকার হয়ে নিহত হয়েছেন পাঁচ হাজার ৩৯৭ জন। রেলপথে দুর্ঘটনার শিকার হয়ে নিহত হন ২০১ জন। নৌপথে দুর্ঘটনার শিকার হয়ে নিহত হন ৪৭ জন।
নিসচা’র ১২ মাসের হিসাব অনুযায়ী—জানুয়ারি মাসে নিহত ২৮১, ফেব্রুয়ারি মাসে নিহত ৩৫৯ জন, মার্চ মাসে নিহত ৩৭৭ জন,  এপ্রিল মাসে নিহত ৩৭১, মে মাসে নিহত ৪১৬ জন, জুন মাসে নিহত ৪৩৫ জন, জুলাই মাসে নিহত ৩২২ জন, আগস্ট মাসে নিহত ২৯৭ জন, সেপ্টেম্বর মাসে নিহত ৩৬৮ জন, অক্টোবর মাসে নিহত ৩১৫ জন, নভেম্বর মাসে নিহত ৩০১ জন ও ডিসেম্বর মাসে নিহত হন ৩০২ জন। 
রাজধানীর কারওয়ান বাজারে বাসের চাপায় তিতুমীর কলেজের ছাত্র রাজিবের হাত বিচ্ছিন্ন হয়ে মৃত্যুর পর একই ধরনের ঘটনা ঘটেছে  যাত্রাবাড়ীতে। সেখানকার হানিফ ফ্লাইওভারের ঢালে গ্রিনলাইন বাসের চাপায় পা হারিয়েছেন মো. রাসেল মিয়া (২৫) নামের প্রাইভেটকারের এক চালক। তার বাম পা থেকে হাঁটু পর্যন্ত বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। গত ২৮ এপ্রিল, শনিবার বিকেল সোয়া ৩টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
শাহবাগ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মিজানুর রহমান গনমাধ্যমকে জানান, রাসেলকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে স্কয়ার হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে তাকে অ্যাপোলো হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।  এখন তিনি সেখানেই চিকিৎসাধীন। আর ঘটনার পরে গ্রিনলাইন বাসের চালক কবির হোসেনকে আটক করা হয়েছে।’এর আগে, গত ৩ এপ্রিল দুই বাসের চাপায় হাত হারান সরকারি তিতুমীর কলেজের ছাত্র রাজীব হোসেন। হাত হারানোর ১৩ দিন পরে তার মৃত্যু হয়। ঘটনাটি সারা দেশে আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল।

এই রকম আরও খবর




Editor: Habibur Rahman
Dhaka Office : 149/A Dit Extension Road, Dhaka-1000
Email: [email protected], Cell : 01733135505
[email protected] by BDTASK