বৃহস্পতিবার, ০৬ ডিসেম্বর ২০১৮
Sunday, 18 Mar, 2018 12:21:36 pm
No icon No icon No icon
কো‌কিলা খু‌নের পর নতুন আধিপত্য বিস্তা‌রে হিজড়া গুরুদের চল‌ছে লড়াই

খুনসহ সকল সংকট ‌নেপ‌থ্যে ক‌চি ও স্বপ্না হিজড়া


খুনসহ সকল সংকট ‌নেপ‌থ্যে ক‌চি ও স্বপ্না হিজড়া


এমএবি সুজন, বিশেষ প্রতিনিধি, টাইমস ২৪ ডটনেট, ঢাকা: ঘুঙ্গুর, শ্যামবাজার ও মাচুয়া হিজড়া‌দের তিন‌টি প্রধান দল বা সম্প্রদায় রাজধানী‌তে তাবৎ হিজড়া সম্প্রদায়‌কে নিয়ন্ত্রণ ও সুনা‌মে কূনা‌মে প্রভাব বিস্তার ক‌রে চ‌লে‌ছে। ঘুঙ্গুর সম্প্রদায়ের হিজড়ারা অ‌ধিকাংশ নকল, সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ, ম‌াদক ও দেহব্যবসায় সক্রিয়ভা‌বে জ‌ড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া যায়। পর্যায়ক্র‌মে দীপালি, স্বপ্না, ক‌চি, কো‌কিলা, ময়ুরী ও নজরুলরা ঘুঙ্গুর দলপ‌তি এরা হা‌য়েনার মত নিদয় নির্মম হিজড়া গুরুমারা বিদ্যাপ‌তি। শ্যামবাজার গ্রু‌পের স্বনামধন্য ‌হিজড়া গুরু মা টঙ্গীর বকুল হাজী তার সা‌থে আছে প্রায় ২০/২৫ জন হিজড়া। এ দ‌লে যারা ধা‌র্মিক ও বে‌শির ভাগ হাজী। আর মাচুয়া সম্প্রদায় সন্ত্রাসী বাবার বেপারী ক‌চি ও স্বপ্না বা‌হিনীর অত্যাচা‌রে বিলীন হবার প‌থে। মিরপু‌রে কো‌কিলা হিজড়া খুন ও পরবর্তী আধিপত্য বিস্তা‌রে প্রত্যক্ষ ও প‌রোক্ষ ভূ‌মিকায় থে‌কে গু‌টি চা‌লে ঐ ক‌চি ও স্বপ্না নামধারী গুরুমা। যেমনঃ চাঁদার টাকার ভাগ না পাওয়ার ক্ষোভ থেকে ক‌চি ও স্বপ্নার যোগসাজ‌শে মিরপুরে হিজড়া গুরু কোকিলাকে (৪০) খুন করেন দলের অপর দুজন হিজড়া সদস্য। এ হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার হিজড়া মমতাজ এক জবানবন্দিতে এসব কথা বলেছেন। মামলার বিবর‌ণে জানা‌গে‌ছে, গত ২৫ জানুয়ারী বৃহস্পতিবার রাজধানীর মিরপুর এলাকার একটি বাসা থেকে কোকিলার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় নিহত কোকিলার পালিত কন্যা বীথি (১৮) বাদী হয়ে মিরপুর থানায় হত্যা মামলা করেন। পুলিশ বৃহস্পতিবারই দুজন হিজড়া মমতাজ ও পায়েলকে গ্রেপ্তার করে। এ মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া হিজড়া পায়েলও গতকাল শুক্রবার আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।প্রসঙ্গত তদন্ত কর্মকর্তা মিরপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আরিফ হোসেন বলেন, কোকিলা ছিলেন হিজড়া দলের প্রধান। দলের সদস্যরা চাঁদার টাকা তুলে তাঁর কাছে রাখতেন। খুনের দায় স্বীকারকারী হিজড়া মমতাজ ও পায়েল বলেছেন, হিজড়া কোকিলা দলের সদস্যদের ঠিকমতো চাঁদার টাকার ভাগ দিতেন না। এ নিয়ে দলের অপর সদস্যদের ক্ষোভ ছিল। এর আগেও তাঁদের মধ্যে গন্ডগোল হয়েছিল। ঘটনার দিনও টাকার ভাগ না দেওয়ার বিষয় নিয়ে তর্কাতর্কি হয়। একপর্যায়ে ক্ষিপ্ত হয়ে তাঁরা গুরু কোকিলাকে জবাই করে হত্যা করেন। কোকিলা যখন খুন হন তখন পাশের কক্ষে ছিলেন তাঁর মেয়ে বীথি। বী‌থি বলেন, তিনি পাশের কক্ষে ঘুমিয়ে ছিলেন। ঘুম থেকে ওঠার পর দেখেন মায়ের কক্ষের দরজা বন্ধ। পরে ঘরে ঢুকে দেখেন মায়ের লাশ। কেন হিজড়া মমতাজ ও পায়েল তাঁর মা কোকিলাকে খুন করেছেন, তা বীথি জানেন না। তবে তিনি বলছেন, হিজড়া পায়েল অন্য দলের বি‌শেষ ক‌রে ক‌চি ও স্বপ্না বা‌হিনীর হিজড়াদের তাঁর মায়ের দলে ভেড়ানোর চেষ্টা করেছিলেন। এ নিয়ে তাঁর মা হিজড়া পায়েলের ওপর ক্ষিপ্ত ছিলেন। কেবল তা-ই নয়, পায়েল ও মমতাজ বাজার থেকে যে চাঁদার টাকা তুলতেন, তা ক‌চি ও স্বপ্নার পরাম‌র্শে ঠিকমতো জমা দিতেন না। এ কারণে তাঁর মা কোকিলা তাঁদের (পায়েল ও মমতাজ) ঠিকমতো টাকা জমা দেওয়ার কথা বলতেন। মিরপুরের পীরেরবাগ এলাকার বাসায় দলের অন্য হিজড়ার সঙ্গে ভাড়া থাকতেন কোকিলা। বীথি যখন ছোট ছিলেন তখন তাঁকে নিয়ে আসেন গুরু কোকিলা। এরপর তাঁর কাছেই তিনি বড় হয়েছেন। বীথি বলেন, তাঁর মা অন্য হিজড়া দলের প্রধানদের মতো নন। কখনো তিনি দলের অন্য হিজড়াদের মারধর করতেন না। তিনি ভালো মানুষ ছিলেন। মা থাক‌তে ওরা (ক‌চি ও স্বপ্না) অন্যায় আবদার মেটা‌তে পার‌বেনা বিধায় ওরা গভীর ষড়য‌ন্ত্রে লিপ্ত ছিল। এখন ওরা ও‌দের বা‌হিনী দি‌য়ে মহড়া দেয়, ভয়ভী‌তি দেখায় চাঁদাবা‌জি ক‌রে। জ্ঞান হওয়ার পর হিজড়া কোকিলাকে মা বলে ডাকা বীথি বলেন, মা খুন হওয়ার পর আমার আপনজন আর কেউ রইল না। আমার মায়ের খুনিদের ফাঁসি চাই। খু‌নের প‌রিকল্পনাকারী ক‌চি ও স্বপ্না হিজড়া‌দেরও আইনের আওতায় আনার ‌জোর দাবী জানাই। জানা যায়, হায়দার হিজড়া‌ গুরুকে খুন, বাদী‌কে মামলা তু‌লে নি‌তে হুমকী প্রদান, সেজু‌তি‌কে গু‌লি করা, আপন হিজড়া সং‌ঘে রা‌তের আঁধা‌রে সশস্ত্র হামলা ও কো‌কিলা খু‌নসহ আরও ২২টি মামলার আসামী ক‌চি ও স্বপ্না প্রকা‌শ্যে ঘু‌রে বেড়ায় নামিদামী এসি গা‌ড়ি‌তে ত‌বে তা‌দের ধ‌রি‌তে ব্যর্থ কেন ঘটকরা?

 

এই রকম আরও খবর




Editor: Habibur Rahman
Dhaka Office : 149/A Dit Extension Road, Dhaka-1000
Email: [email protected], Cell : 01733135505
[email protected]veloped by BDTASK