বুধবার, ১৮ জুলাই ২০১৮
Sunday, 14 Jan, 2018 04:01:46 pm
No icon No icon No icon
বিষবা‌ষ্পে বিষাক্ত বি‌স্তীর্ণ অঞ্চল প্রকৃ‌তি ও প‌রি‌বেশ

ব্যাটা‌রি পু‌ড়ে সীসা তৈ‌রিতে স্থানীয় মানুষসহ গবা‌দি পশুপা‌খি বিপন্ন প‌থে


ব্যাটা‌রি পু‌ড়ে সীসা তৈ‌রিতে স্থানীয় মানুষসহ গবা‌দি পশুপা‌খি বিপন্ন প‌থে


এমএবি সুজন ও না‌ছির উদ্দিন, বিশেষ প্রতিনিধি, টাইমস ২৪ ডটনেট, ঢাকা: ঢাকা জেলার ধামরাই থানার বাইশকান্দা ইউনিয়ন প‌রিষ‌দের গোলাকান্দা গ্রা‌মে মোঃ ফরহাদ হো‌সেন এর পুরাতন ব্যাটা‌রি পু‌ড়ে সীসা তৈ‌রি ও এসিড উৎপাদন কারখানার বিষাক্ত কা‌লো ধুঁয়ার বিষবা‌ষ্পে আচ্ছন্ন গোলাকান্দা ও আনা‌লিয়াসহ পার্শ্ববর্তী গ্রামসমূ‌হে জনজীবন ও গবা‌দি পশুপা‌খির স্বাভা‌বিক চলাচল বিস্তার বিচরণ বাঁধাগ্রস্ত হ‌চ্ছে। ঐ কারখানার দূ‌ষিত বর্জ্য ও তীব্র ঝাঁঝা‌লো বিষাক্ত গ‌ন্ধে বিস্তীর্ণএলাকার পা‌নি, বায়ু ও মা‌টিসহ দূ‌ষিত প্রকৃ‌তি প‌রি‌বে‌শে স্থানীয় মানুষসহ গবা‌দি পশুপা‌খি আজ প‌রি‌বেশ বিপর্যয় ও বিপন্ন প‌থের যাত্রী বলা যায়। জানা যায়, প‌রি‌বেশ দুশমন ও সামা‌জিক ক্ষ‌তিকারক অ‌বৈধ কারখানা‌টির মা‌লিক ফরহাদ একজন সা‌বেক ইউপি মেম্বার। তার কারখানার বিষাক্ত আক্রম‌নে প‌রি‌বেশ দূষ‌ণে এযাবৎ মারা গে‌ছে ১০০টি গরু, ৬০টি ছাগল ও অসংখ্য হাঁস মুর‌গি ও কবুতর। অনুসন্ধা‌নে জানা‌গে‌ছে যে, এলাকার প্রভাবশালী সা‌বেক মেম্বার ফরহাদ একজন ভয়ংকর সন্ত্রা‌সি প্রকৃ‌তির মানুষ সে সরকার দলীয় ক্ষমতার অপব্যবহার ক‌রে কোন প্রকার অনু‌মোদন ছাড়াই বর্তমান বাইশকান্দা ইউপি চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান মিজা‌নের প্রত্যক্ষ ও প‌রোক্ষ যোগসাজ‌শে তার নি‌জের ভাড়া করা জ‌মি‌তেই কারখানা‌টি চলমান র‌য়ে‌ছে। ফরহাদ বি‌ভিন্ন অঞ্চল থে‌কে পুরাতন ব্যাটা‌রি সংগ্রহ ক‌রে ব্যাটা‌রি আগু‌নে পু‌ড়ি‌য়ে গ‌লি‌য়ে সীসা তৈ‌রি ক‌রে। পুরাতন ব্যাটা‌রি পোড়া বিষাক্ত ‌মরণ ঘাতক ধোঁয়ায় যা‌দের গরু মারা গে‌ছে তা‌দের ম‌ধ্যে যগাই মন্ডল, সু‌ধির মন্ডল, ডাঃ সাধন সরকার, তারা মোল্লা, সামাদ, হেলাল, স‌মোন আলী, আবজল, জা‌হের আলী, রু‌বেল ও মা‌নিক মন্ডল উল্লেখ‌যোগ্য। ইতিম‌ধ্যে আরও অ‌নেক গরুবাছুর, ছাগল, বয়স্ক নারী পুরুষ, শিশু ও গর্ভব‌তি ম‌হিলা অসুস্থ্য এবং অস্ব‌স্তি‌তে আছে। ফরহা‌দের বিরু‌দ্ধে আনীত অ‌ভি‌যোগপ‌ত্রে ২০০ এর উপ‌রে ক্ষ‌তিগ্রস্ত মানুষ স্বাক্ষর ক‌রে প্র‌তিকার চে‌য়ে ধামরাই উপ‌জেলা নির্বাহী অ‌ফিসার, জেলা প্রশাসক ঢাকা, সহকারী পু‌লিশ সুপার সাভার সা‌র্কেল, উপপ‌রিচালক প‌রি‌বেশ অ‌ধিদপ্তর ঢাকা ও ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ধামরাই থানা বরাবর আবেদন ক‌রেও কোন প্রকার প্র‌তিকার পা‌চ্ছেনা ব‌লে দাবী ক‌রেন এলাকাবাসী। এদি‌কে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও উপজেলার ইসলামপুরে চীনা মালিকানাধীন কারখানায় পরিবেশ অধিদপ্তরের অনুমতি ছাড়াই ব্যাটারি উৎপাদনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। দিনের পর দিন ব্যাটারি উৎপাদন করায় এলাকার পরিবেশ দূষিত হয়ে পড়েছে। সেখানে লোকজনের বসবাস করাই এখন কঠিন হয়ে পড়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা পরিবেশ রক্ষায় একাধিকবার কারখানা বন্ধের দাবি করার পরও কোনো ব্যবস্থা নেয়নি প্রশাসন। জানা গেছে, সোনারগাঁও উপজেলার মেঘনা শিল্পাঞ্চলের ইসলামপুর এলাকায় জংইয়াং নামে ব্যাটারি কারখানাটি দুই বছর ধরে আনন্দ শিপইয়ার্ডের জায়গা ভাড়া নিয়ে তাদের সাইনবোর্ড ব্যবহার করে

Image may contain: dog

নিয়মবহির্ভূতভাবে ব্যাটারি উৎপাদন করে চলেছে। স্থানীয় বাসিন্দা আসাদ মিয়া জানান, বাইরে থেকে পুরনো ব্যাটারি সংগ্রহ করে কারখানার ভেতরে সেগুলো পোড়ানো হয়। কারখানা থেকে নির্গত বিষাক্ত ধোঁয়ায় আশপাশের পরিবেশ দূষিত হচ্ছে এবং লোকজন অসুস্থ হয়ে পড়ছে। এলাকাবাসী বেশ কয়েকবার কারখানা স্থাপনের প্রতিবাদে বিক্ষোভ করেছেন। কিন্তু কোনো ব্যবস্থা নেয়নি যথাযথ প্রশাসন। তিনি আরও জানান, পুরনো ব্যাটারি ও সীসা কারখানার অভ্যন্তরে খোলা জায়গায় গলানোর ফলে ঝাঁঝালো গন্ধ এবং বিষাক্ত ও কালো ধোঁয়ায় স্থানীয় বাসিন্দারা মাথা ঘোরা, শ্বাসকষ্ট, বমিসহ নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। পরিবেশ দূষণের ফলে অনেক গরু, ছাগল, পোলট্রি ফার্মের মুরগিসহ পশুপাখি মারা যাচ্ছে। জসিম মিয়া জানান, কারখানার ভেতরে পোড়ানো এসিড ও সীসার ঝাঁঝালো গন্ধে আশপাশের বাতাস দূষিত হয়ে পড়েছে। যার ফলে মানুষের শ্বাসকষ্ট, পেটে ব্যথা হচ্ছে। এমনকি এ পরিবেশে বেশিক্ষণ থাকলে চোখে ঝাপসা দেখা যায়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হাজী আলী আকবর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক শিক্ষক জানান, সপ্তাহখানেক আগে পঞ্চম শ্রেণির বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী ও একজন শিক্ষক একই সময়ে বমি করতে শুরু করেন। সূচনা আক্তার নামে এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক বিদ্যালয়ে এসে অভিযোগ করেছেন তার মেয়ে বাসায় সুস্থ্য থাকে এবং বিদ্যালয়ে অবস্থান করলে অসুস্থ্য হয়ে পড়ে। ইসলামপুর এলাকার সেলিম মিয়া বলেন, পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র ছাড়াই নিয়ম না মেনে কারখানার ভেতরে সীসা গলানো হয়। এতে পরিবেশ দূষিত হয়ে এলাকার গাছপালাও মরে যাচ্ছে। এসব ব্যাপারে কারখানা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলতে চাইলে কেউ কথা বলতে চাননি। উল্লেখ্য, কারখানায় কর্মরতরা সবাই চীনের অধিবাসী। জংইয়াং ব্যাটারি কারখানার পরিচালক সাচিব (উইলি) জানান, পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্রের জন্য আবেদন করা হয়েছে। আমরা শিগগরিই শ্রমিকদের সেফটির ব্যবস্থা করব। এবিষ‌য়ে পরিবেশ অধিদপ্তরের নারায়ণগঞ্জের উপপরিচালক মোজাহিদুর রহমান বলেন, কারখানাটি পরিবেশগত কোনো ছাড়পত্র নেয়নি। তবে কারখানা কর্তৃপক্ষ ছাড়পত্রের জন্য আবেদন করেছে। এলাকাবাসীর কাছ থেকে কারখানার বিরূপ প্রভাব নিয়ে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ কারণেই পরিবেশ ছাড়পত্র আটকে আছে। সোনারগাঁও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহীনুর ইসলাম বলেন, কারখানাটির ব্যাপারে এলাকাবাসীর অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মাদারীপুরের বিসিক, ঘটকচর এবং শ্রীনদী’র এসব সিসা ঢালাই কারখানার জন্য বিভিন্ন এলাকা থেকে আনা হয় পুরনো ড্রাইসেল ব্যাটারি ও সিসাযুক্ত দ্রব্য। এগুলো পুড়িয়ে প্রথমে সিসা বের করা হয়। পরে চুল্লিতে ঢালাই করে করা হয় নতুন ব্যাটারিতে ব্যবহার উপযোগী। স্থানীয়দের অভিযোগ, সিসা ঢালাই শুরু হলে বিষাক্ত গ্যাসে স্বাভাবিক শ্বাস নিতে কষ্ট হয়। কারখানার কেমিক্যালে এলাকার মাটি, পানি দূষিত হয়ে পড়ছে। আক্রান্ত হচ্ছে গবাদি পশুপা‌খি ও পুকুর, খাল বিলসহ নদীর মাছ। এসব কারখানা মালিকরা প্রভাবশালী হওয়ায় প্রতিবাদ করার সাহস নেই স্থানীয়দের। তবে, ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন পরিবেশবাদীরা। পরিবেশ বিপর্যয় ঠেকাতে দ্রুত এসব কারখানা বন্ধ করে দেয়ার কথা বলছেন জেলা প্রশাসক মো. ওয়াহিদুল ইসলাম। পরিবেশ দূষণকারী অবৈধ সিসা ঢালাই কারখানা দ্রুত বন্ধ করা না গেলে এলাকা মানুষের বসবাসের অনুপযোগী হয়ে যাবে, আশঙ্কা স্থানীয়দের। গাজীপুরের শ্রীপুরে অবৈধ ব্যাটারি কারখানার পোড়ানো এসিডের বিষক্রিয়ায় এলাকার অন্তত সাতটি গবাদী পশুর মৃত্যু হয়েছে গত ক‌য়েক‌দিনে। আরও বেশ কয়েকটি গরু অসুস্থ্য হয়ে পড়েছে। গত কয়েকদিনে উপজেলার গোসিংগা ইউনিয়নের হায়াত্খারচালা এলাকায় গবাদী পশুর মৃত্যুর এসব ঘটনা ঘটে। জানা যায়, প্রায় দুই মাস আগে হায়াত্খারচালা এলাকায় জনৈক সবুজ মিয়ার মালিকানাধীন জমি ভাড়া নিয়ে গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জের বাবু মিয়ার পুত্র শাকিল অবৈধভাবে ব্যাটারির সীসা পোড়ানোর কাজ শুরু করে। দিনভর বিভিন্ন স্থান থেকে পুরাতন ও নষ্ট ব্যাটারি ওই কারখানায় এনে গভীর রাতে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে সীসা বের করা হয়। এতে পোড়ানো এসিডে আশেপাশের মাটি বিষাক্ত হয়ে পড়ায় সেই বিষমিশ্রিত ঘাষ খেয়ে গ্রামের বেশ কয়েকজন কৃষকের গরু-ছাগল অসুস্থ হয়ে পড়ে এবং গত কয়েকদিনে সাতটি গবাদী পশু মারা যায়। গত বৃহস্পতিবার ভোরে এলাকার আলমাছ খানের একটি সাত মাসের গর্ভবতী গাভী মারা যায়। এর আগে একই এলাকার গোলাম মোস্তফা খানের একটি গাভী, শরীয়ত হোসেন খানের দুইটি গাভী, ছফুরা খাতুনের একটি গাভী, ফুলেছা খাতুনের একটি ছাগল এবং ইদ্রিস আলীর দুইটি গাভী অসুস্থ হয়ে মারা গেছে। কৃষক আলমাছ খান জানান, গভীর রাতে বিপুল পরিমাণ ব্যাটারি পুড়িয়ে এলাকার পরিবেশ বিনষ্ট করা হচ্ছে।
এ ব্যাপারে ব্যাটারি কারখানার জমির মালিক সবুজ মিয়া জানান, ব্যাটারি পোড়ানোর ফলে গরু-ছাগল মারা যাবে জানলে কারখানার জন্য জমি ভাড়া দিতাম না। কারখানার মালিক শাকিল মিয়া জানান, জনবসতিপূর্ণ এলাকা থেকে কারখানা সরিয়ে নিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার চেষ্টা করবো। শ্রীপুর উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ আব্দুল জলিল বলেন, গবাদী পশুর চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করার জন্য বিশেষ টিম গঠন করে ওই এলাকায় পাঠানো হয়েছে। পাবনার বেড়ায় অবৈধভাবে ব্যাটারি পুড়িয়ে সীসা তৈরি করা বিষে ধুঁকছে এলাকার ২০ হাজার মানুষ। সীসা তৈরির অর্ধ শতাধিক চুল্লি থেকে নির্গত বিষাক্ত ধোঁয়ায় দুর্বিষহ হয়ে পড়েছে ১০ গ্রামের মানুষের জীবন। দেখা দিয়েছে পরিবেশ বিপর্যয়। গত ৬ মাসে অর্ধশতাধিক গবাদিপশু মারা গেছে। মানুষ আক্রান্ত হচ্ছে বিভিন্ন রোগে। সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার নতুনভারেঙ্গা ইউনিয়নের মরিচাপাড়া, চরবক্তারপুর ও আগবাগশোয়া গ্রামে গড়ে উঠেছে এসব অবৈধ সীসা তৈরির কারখানা। এসব কারখানা থেকে নির্গত ধোঁয়ায় বৃক্ষ যেমন ফলশূন্য হয়ে পড়েছে, তেমনি ফসল চাষেও দেখা দিয়েছে মারাত্মক বিপর্যয়। এলাকাবাসী জানান, বছরপাঁচেক আগে উপজেলার বাগশোয়াপাড়া গ্রামের উত্তরপাশে যমুনাপাড়ে প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় গড়ে ওঠে ব্যাটারি (যানবাহন ও ভারি কাজে ব্যবহৃত) পুড়িয়ে সীসা তৈরির কারখানা। লাভজনক হওয়ায় বর্তমানে এ কারখানা ছড়িয়ে পড়েছে ৩টি গ্রামে। সীসা তৈরির জন্য এসব কারখানায় পুরনো ব্যাটারি ভেঙে এর ভেতরের এ্যাসিড মিশ্রিত ছাই ও গাদ তীব্র তাপ সৃষ্টিকারী চুল্লিতে পোড়ানো হয়। আর এই পোড়ানোর কাজটি সন্ধ্যার পর শুরু হয়ে সারারাত ধরে চলে। এ সময় আশপাশের এলাকায় ব্যাপক আকারে ছড়িয়ে পড়ে ঝাঁজালো দুর্গন্ধযুক্ত ধোঁয়া। এতে দুর্বিষহ অবস্থায় রাত পার করতে হয় মরিচাপাড়া, চরবক্তারপুর ও আগবাগশোয়াসহ এর পার্শ্ববর্তী রাকশা, নেওলাইপাড়া, বাগশোয়াপাড়া, নতুনভারেঙ্গা, সোনাপদ্মা প্রভৃতি গ্রামের মানুষদের। এলাকাবাসী জানান, কারখানার চুল্লিগুলো থেকে নির্গত ধোঁয়ার কারণে আশপাশের জমির ফসল ও ঘাসের ওপর এক ধরনের সাদা আবরণ পড়ে যায়। কোন গরু এসব জমির ঘাস খেলে কিছুক্ষণের মধ্যে অসুস্থ হয়ে পড়ে। কারখানাসংলগ্ন জমির ঘাস খেয়ে গত ৬ মাসে অর্ধশতাধিক গরু মারা গেছে বলে এলাকাবাসী জানান। এলাকাবাসী আরও জানান, আগবাগশোয়া গ্রামে সীসা পোড়ানোর চুল্লি বেশি বলে ওই গ্রামে গত ৩ মাসে ৩০টি গরু মারা গেছে। সীসা তৈরির সঙ্গে জড়িতরা বেছে বেছে কিছু গরুর মালিককে ক্ষতিপূরণ দিলেও নিরীহদের কোন ক্ষতিপূরণ দেননি। চরবক্তারপুর গ্রামের হোসেন আলী ও আব্দুল আওয়ালসহ অনেকে জানান, সীসা তৈরির কারখানার পার্শ্ববর্তী ধান ও গমের খেতে চারা গজালেও ধোঁয়ার কারণে কিছুদিনের মধ্যে সেগুলোর পুড়ে যাওয়ার মতো অবস্থা হয়। পাবনা সরকারী এডওয়ার্ড বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের রসায়ন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক বিদ্যুৎ কুমার রায় জানান, প্রাণী ও উদ্ভিদ জগতের পুষ্টির জন্য সীসার কোন ভূমিকা তো নেই-ই বরং একে গণ্য করা হয় ‘প্রোপোপাজমিক বিষ’ হিসেবে। সীসাযুক্ত পেট্রোলিয়াম জাতীয় পদার্থের দহনে নির্গত সীসার কারণে দূষিত হয় পরিবেশ। সীসার দূষণ ঘটতে পারে ধাতু নিষ্কাশন, সঞ্চয় ব্যাটারি, সীসার রঞ্জক এবং শিল্পবর্জ্য থেকেও। গাড়ির ইঞ্জিনে লেডযুক্ত তেল পোড়ানো হলে তা থেকে উৎপন্ন হয় লেড হ্যালাইড। এর বিষ মানুষ, পশুপাখি ও গাছপালার জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। সীসা তৈরির কারখানার অন্যতম পৃষ্ঠপোষক ও মালিক আলম খাঁ ও সাদেকুল ইসলাম জানান, ব্যাটারিগুলো লোকালয়ে ভাঙা হলেও সীসা পোড়ানোর কাজ করা হয় লোকালয় থেকে অনেক দূরে যমুনার চরে। ফলে সীসা পোড়ানোর চুল্লিগুলো মানুষের জন্য তেমন ক্ষতিকর নয়। তারা দাবি করেন সীসা কারখানার জন্য কোন গরু মারা যায়নি। এ ব্যাপারে বেড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সামসুন নাহার সুমী বলেন, আমি নতুন এসেছি, তাই এ সংক্রান্ত কোন অভিযোগ পাইনি। তবে শীঘ্রই আমি ওই এলাকা পরিদর্শনে যাব। সীসা কারখানা পরিবেশের ক্ষতি করলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে। আস‌লে ‌কোন দরবা‌রেই আজকাল এসব অস্বাস্থ্যকর প‌রি‌বে‌শগত ক্ষ‌তিকারক অবস্থার নাই কোন প্র‌তিকার বি‌ধিবি‌হিত ও সুব্যবস্থা।

এই রকম আরও খবর




Editor: Habibur Rahman
Dhaka Office : 149/A Dit Extension Road, Dhaka-1000
Email: [email protected], Cell : 01733135505
[email protected] by BDTASK