রবিবার, ১৩ আগস্ট ২০১৭
Thursday, 16 Feb, 2017 04:09:32 pm
No icon No icon No icon

জাসদের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি কাজী আরেফ আহম্মেদ এর মৃত্যু বার্ষিকী উপলক্ষে সমাধিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন

জাসদের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি কাজী আরেফ আহম্মেদ এর মৃত্যু বার্ষিকী উপলক্ষে সমাধিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন


টাইমস ২৪ ডটনেট, ঢাকা: মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জাসদের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি কাজী আরেফ আহম্মেদ এর১৮ত্ম মৃত্যু বার্ষিকী উপলক্ষে আজ ১৬ ফেব্রুয়ারি সকাল ৮:০০ মি এ মিরপুর বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে তার সমাধিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন জাসদের কার্যকরী সভাপতি মঈন উদ্দিন খান বাদল এম,পি  সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক প্রধান এম,পি স্থায়ী কমিটির সদস্য ডা: মুশতাক হোসেন। এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক ইউনুসুর,গনমমাধ্যম সম্পাদক অহেদুজ্জামান খান রিপন, পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক হাসান আলী বাবু,  রহমান,  আব্দুল কুদ্দুস মহানগর পশ্চিম সভাপতি আ:নওয়াব, সহ সভাপতি টুটুল সরকার, চঞ্চল, আশফাকুর রহমান সবুজ, ইমন চৌধুরী, যুবজোট আহবায়ক রফিকুল ইসলাম রুবেল, যুগ্ম আহবায়ক সাইদুর রহমান, রোকসানা খাতুন, আবুল কালাম আজাদ সহ কেন্দ্রীয় ও মহানগর নেতৃবৃন্দ।

 

উল্লেখ্য, ১৯৯৯ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার আড়িয়া ইউনিয়নের কালিদাসপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে সন্ত্রাসবিরোধী এক জনসভায় জাসদ কেন্দ্রীয় সভাপতি জাতীয় নেতা কাজী আরেফ আহমেদ, জেলা জাসদের সভাপতি লোকমান হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক ইয়াকুব আলী, স্থানীয় জাসদ নেতা ইসরাইল হোসেন ও শমসের মন্ডল একদল সন্ত্রাসীর গুলিতে ঘটনাস্থলেই নিহত হন। ঘটনার দিনই পুলিশ বাদী হয়ে মামলা দায়ের করা হয়। মামলাটি পরদিন সিআইডিতে হস্তান্তর করা হয়। দীর্ঘ তদন্ত শেষে চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকান্ডের সাড়ে পাঁচ বছর পর ২০০৪ সালের ৩০ আগষ্ট কুষ্টিয়ার জেলা ও দায়রা জজ আদালত ১০ আসামীর ফাঁসি ও ১২ জনের যাবজ্জীবন কারাদন্ডের রায় দেন।
রায়ের বিরুদ্ধে আসামীপক্ষ আপিল করলে ২০০৮ সালের ৫ আগষ্ট হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ নিম্ন আদালতের মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ১০ আসামির মধ্যে ৯ জনের ফাঁসির আদেশ বহাল রাখেন। অপর আসামি এলাজ উদ্দিন হাইকোর্টে মামলা চলাকালে মৃত্যুবরণ করেন। একইসঙ্গে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত ১২ আসামীর সাজা মওকুফ করে মহামান্য হাইকোর্ট। এরপর হাইকোর্টের ওই রায়ের বিরুদ্ধে ফাঁসির তিন আসামী রাশেদুল ইসলাম ঝন্টু, আনোয়ার হোসেন ও হাবিবুর রহমান হাবি সুপ্রিম কোর্টে আপিল করেন। ২০১১ সালের ৭ আগস্ট প্রধান বিচারপতির বেঞ্চে শুনানি শেষে আপিলকারী ফাঁসির ৩ আসামীসহ ৯ জনের সাজা বহাল রাখেন।
মামলায় ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত ৫ আসামী পলাতক রয়েছে। তারা হলেন, মান্নান মোল্ল্যা, জালাল ওরফে বাশার, রওশন আলী, বাকের আলী ও জাহান আলী। হাইকোর্ট থেকে জামিন নিয়ে ৫ জন গা ঢাকা দেন। এর মধ্যে মান্নান মোল্লা, জাহান ও জালাল ভারতে অবস্থান করছে বলে জানা গেছে।

 

সেদিন যা ঘটেছিলঃ

সেদিন ১৯৯৯ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি। জনসভা পরিচালনাকারী হত্যাকাণ্ডের প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, তখন বিকেল সাড়ে ৪টা থেকে ৫টা। আরেফ ভাই বক্তব্য শুরু করেন। বক্তব্য দুই থেকে তিন মিনিট দেয়ার পর হামলা শুরু হয়। জনসভা মঞ্চের পূর্ব পাশ থেকে এসে গুলি চালানো হয়। হামলায় ৯ জন অংশ নেয়। সবার হাতে ছিল ভারি অস্ত্র। তৎকালিন কুষ্টিয়া জেলা জাসদ সভাপতি লোকমান হোসেনকে উদ্দেশ্য করে প্রথম গুলি চালায় তারা। পরে জেলা জাসদের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট ইয়াকুব আলীও গুলিবিদ্ধ হন। এ সময় কাজী আরেফ আহমেদ সন্ত্রাসীদের নিবৃত করার চেষ্টা করেন। সন্ত্রাসীরা ওই সময় কাজী আরেফকে মঞ্চ থেকে নেমে আসার জন্য বারবার অনুরোধ করেন। এক পর্যায়ে কাজী আরেফকে প্রচণ্ড গালমন্দ করেন তারা। কাজী আরেফ খুনিদের অনুরোধ করে বলেন, তোমরা আমাকে মার। কোথায় যেতে হবে বল আমি যাচ্ছি। কিন্তু অন্যদের মেনো না। পরে সন্ত্রাসীরা কাজী আরেফকে লক্ষ্য করে ব্রাশফায়ার করে। তিনটি বুলেট লাগে তার শরীরে। মঞ্চের ওপর পড়ে যান তিনি। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
মুক্তিযুদ্ধে কাজী আরেফের অবদানঃ

 

মুক্তিযোদ্ধা কাজী আরেফ আহমেদ মুলত একজন জন দরদী, আত্মমর্যাদাশীল, নির্লোভ মানুষ ছিলেন। রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিলের প্রশ্নে তিনি ছিলেন একরোখা ও জেদী। আইয়ুবের সামরিক শাসনবিরোধী আন্দোলন কাজী আরেফ আহমেদকে রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে গড়ে তোলে। ১৯৬২ এর নভেম্বর এ সিরাজুল আলম খান, আব্দুর রাজ্জাক ও কাজী আরেফ আহমেদ বাংলাদেশে স্বাধীন করার সিদ্ধান্তে এক মতে পৌছান। এটাই ৬২ এর নিউক্লিয়াস নামে পরিচিত। যার নেতৃত্বে স্বাধীন বাংলা বিপ্লবী পরিষদ নামে যুদ্ধের লক্ষে একটি গোপন সংগঠন গড়ে উঠেছিলো। সারাদেশব্যাপী এ সংগঠনের তৎপরতা ছিলো।
মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় ১৯৬৬ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৬ দফা কর্মসূচি ঘোষিত হলে, ঢাকা মহানগর ছাত্রলীগ সভাপতি হিসেবে কাজী আরেফ আহমেদ প্রথম সমর্থন জানিয়ে বিবৃতি দেন। বাংলাদেশের সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের প্রস্তুতি হিসেবে ১৯৭০ সালে গঠিত ‘জয় বাংলা বাহিনীর’ অন্যতম সংগঠকও ছিলেন তিনি।

মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জাসদের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি কাজী আরেফ আহম্মেদ এর১৮ত্ম  মৃত্যু বার্ষিকী উপলক্ষে আজ ১৬ ফেব্রুয়ারি সকাল ৮:০০ মি এ মিরপুর বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে তার সমাধিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন জাসদের কার্যকরী সভাপতি মঈন উদ্দিন খান বাদল এম,পি  সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক প্রধান এম,পি স্থায়ী কমিটির সদস্য ডা: মুশতাক হোসেন। এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক করিম সিকদার,  দপ্তর সম্পাদক ইউনুসুর,গনমমাধ্যম সম্পাদক অহেদুজ্জামান খান রিপন, পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক হাসান আলী বাবু,  রহমান,  আব্দুল কুদ্দুস মহানগর পশ্চিম সভাপতি আ:নওয়াব, সহ সভাপতি টুটুল সরকার, চঞ্চল, আশফাকুর রহমান সবুজ, ইমন চৌধুরী, যুবজোট আহবায়ক রফিকুল ইসলাম রুবেল, যুগ্ম আহবায়ক সাইদুর রহমান, রোকসানা খাতুন, আবুল কালাম আজাদ সহ কেন্দ্রীয় ও মহানগর নেতৃবৃন্দ।

 

 

উল্লেখ্য, ১৯৯৯ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার আড়িয়া ইউনিয়নের কালিদাসপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে সন্ত্রাসবিরোধী এক জনসভায় জাসদ কেন্দ্রীয় সভাপতি জাতীয় নেতা কাজী আরেফ আহমেদ, জেলা জাসদের সভাপতি লোকমান হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক ইয়াকুব আলী, স্থানীয় জাসদ নেতা ইসরাইল হোসেন ও শমসের মন্ডল একদল সন্ত্রাসীর গুলিতে ঘটনাস্থলেই নিহত হন। ঘটনার দিনই পুলিশ বাদী হয়ে মামলা দায়ের করা হয়। মামলাটি পরদিন সিআইডিতে হস্তান্তর করা হয়। দীর্ঘ তদন্ত শেষে চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকান্ডের সাড়ে পাঁচ বছর পর ২০০৪ সালের ৩০ আগষ্ট কুষ্টিয়ার জেলা ও দায়রা জজ আদালত ১০ আসামীর ফাঁসি ও ১২ জনের যাবজ্জীবন কারাদন্ডের রায় দেন।
রায়ের বিরুদ্ধে আসামীপক্ষ আপিল করলে ২০০৮ সালের ৫ আগষ্ট হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ নিম্ন আদালতের মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ১০ আসামির মধ্যে ৯ জনের ফাঁসির আদেশ বহাল রাখেন। অপর আসামি এলাজ উদ্দিন হাইকোর্টে মামলা চলাকালে মৃত্যুবরণ করেন। একইসঙ্গে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত ১২ আসামীর সাজা মওকুফ করে মহামান্য হাইকোর্ট। এরপর হাইকোর্টের ওই রায়ের বিরুদ্ধে ফাঁসির তিন আসামী রাশেদুল ইসলাম ঝন্টু, আনোয়ার হোসেন ও হাবিবুর রহমান হাবি সুপ্রিম কোর্টে আপিল করেন। ২০১১ সালের ৭ আগস্ট প্রধান বিচারপতির বেঞ্চে শুনানি শেষে আপিলকারী ফাঁসির ৩ আসামীসহ ৯ জনের সাজা বহাল রাখেন।
মামলায় ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত ৫ আসামী পলাতক রয়েছে। তারা হলেন, মান্নান মোল্ল্যা, জালাল ওরফে বাশার, রওশন আলী, বাকের আলী ও জাহান আলী। হাইকোর্ট থেকে জামিন নিয়ে ৫ জন গা ঢাকা দেন। এর মধ্যে মান্নান মোল্লা, জাহান ও জালাল ভারতে অবস্থান করছে বলে জানা গেছে।

সেদিন যা ঘটেছিলঃ

সেদিন ১৯৯৯ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি। জনসভা পরিচালনাকারী হত্যাকাণ্ডের প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, তখন বিকেল সাড়ে ৪টা থেকে ৫টা। আরেফ ভাই বক্তব্য শুরু করেন। বক্তব্য দুই থেকে তিন মিনিট দেয়ার পর হামলা শুরু হয়। জনসভা মঞ্চের পূর্ব পাশ থেকে এসে গুলি চালানো হয়। হামলায় ৯ জন অংশ নেয়। সবার হাতে ছিল ভারি অস্ত্র। তৎকালিন কুষ্টিয়া জেলা জাসদ সভাপতি লোকমান হোসেনকে উদ্দেশ্য করে প্রথম গুলি চালায় তারা। পরে জেলা জাসদের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট ইয়াকুব আলীও গুলিবিদ্ধ হন। এ সময় কাজী আরেফ আহমেদ সন্ত্রাসীদের নিবৃত করার চেষ্টা করেন। সন্ত্রাসীরা ওই সময় কাজী আরেফকে মঞ্চ থেকে নেমে আসার জন্য বারবার অনুরোধ করেন। এক পর্যায়ে কাজী আরেফকে প্রচণ্ড গালমন্দ করেন তারা। কাজী আরেফ খুনিদের অনুরোধ করে বলেন, তোমরা আমাকে মার। কোথায় যেতে হবে বল আমি যাচ্ছি। কিন্তু অন্যদের মেনো না। পরে সন্ত্রাসীরা কাজী আরেফকে লক্ষ্য করে ব্রাশফায়ার করে। তিনটি বুলেট লাগে তার শরীরে। মঞ্চের ওপর পড়ে যান তিনি। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
মুক্তিযুদ্ধে কাজী আরেফের অবদানঃ

মুক্তিযোদ্ধা কাজী আরেফ আহমেদ মুলত একজন জন দরদী, আত্মমর্যাদাশীল, নির্লোভ মানুষ ছিলেন। রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিলের প্রশ্নে তিনি ছিলেন একরোখা ও জেদী। আইয়ুবের সামরিক শাসনবিরোধী আন্দোলন কাজী আরেফ আহমেদকে রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে গড়ে তোলে। ১৯৬২ এর নভেম্বর এ সিরাজুল আলম খান, আব্দুর রাজ্জাক ও কাজী আরেফ আহমেদ বাংলাদেশে স্বাধীন করার সিদ্ধান্তে এক মতে পৌছান। এটাই ৬২ এর নিউক্লিয়াস নামে পরিচিত। যার নেতৃত্বে স্বাধীন বাংলা বিপ্লবী পরিষদ নামে যুদ্ধের লক্ষে একটি গোপন সংগঠন গড়ে উঠেছিলো। সারাদেশব্যাপী এ সংগঠনের তৎপরতা ছিলো।
মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় ১৯৬৬ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৬ দফা কর্মসূচি ঘোষিত হলে, ঢাকা মহানগর ছাত্রলীগ সভাপতি হিসেবে কাজী আরেফ আহমেদ প্রথম সমর্থন জানিয়ে বিবৃতি দেন। বাংলাদেশের সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের প্রস্তুতি হিসেবে ১৯৭০ সালে গঠিত ‘জয় বাংলা বাহিনীর’ অন্যতম সংগঠকও ছিলেন তিনি।


টাইমস ২৪ ডটনেট/দুনিয়া/৩৫৯০/১৭

এই রকম আরও খবর




Editor: Habibur Rahman
Dhaka Office : 11 Banga Bandhu Avenue (2nd Floor), Dhaka-1000
Email: [email protected], Cell : 01733135505
[email protected] by BDTASK