বুধবার, ১৫ আগস্ট ২০১৮
Wednesday, 21 Feb, 2018 12:53:29 am
No icon No icon No icon

অমর একুশে ফেব্রুয়ারী: তারকাদের অনুভূতি


অমর একুশে ফেব্রুয়ারী: তারকাদের অনুভূতি


জিয়াউদ্দীন চৌধুরী (জেড সেলিম), বিশেষ প্রতিনিধি, টাইমস ২৪ ডটনেট, ঢাকা : একুশে ফেব্রুয়ারী, উনিশ শ বায়ান্নোর বাঙ্গালী রক্ত দিয়েছিল। বাংলাভাষাকে রাষ্ট্রভাষার মর্যাদা দানের জন্যে কিন্তু বাংলাদেশের স্বাধীনতার আগে যে সারি পূরন হয়নি তাই ১৯৭১ সালের ১৫ই ফেব্রুয়ারী বাংলা একাডেমীতে অমর একুশে অনুষ্ঠান মালা উদ্বোধন করতে এসে বঙ্গবন্ধু এক ঐতিহাসিক ঘোষনা দিয়েছিলেন। আমি ঘোষনা করছি আমাদের হাতে যেদিন ক্ষমতা আসবে সেইদিন থেকেই দেশের সর্বস্তরে বাংলাভাষা চালু হবে। পরিভাষা নিজেরা যত বেশী গবেষনা করুন, আমরা ক্ষমতা হাতে নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বাংলাভাষা চালু করে দেবো, সে বাংলা যদি ভুল হয়, তবে ভুলই চালু হবে, পরে তা সংশোধন করা হবে।বঙ্গবন্ধু তার কথা রেখেছিলেন, বাংলাদেশের সংবিধানের রাষ্ট্রভাষা সংক্রান্ত ধারা, প্রজাতন্ত্রর রাষ্ট্রভাষা বাংলা। সর্বোপরি বঙ্গবন্দু ১৯৭৪ সালে জাতিসংঘের সাধারন পরিষদের অধিবেশনে সর্বপ্রথম বাংলায় ভাষন দিয়ে বাংলা ভাষাকে আন্তজাতিক পর্যায়ে স্থাপন করে গিয়েছেন।১৯৯৯ সালের ১৭ই নভেম্বর ইউনেস্কো ২১ শে ফেব্রুয়ারীকে আন্তজাতিক মাতৃভাষা দিবস রূপে ঘোষনা করেছে , যার ফলে প্রতি বছর বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ২১শে ফেব্রুয়ারী মাতৃভাষা দিবস রূপে পালিত হচ্ছে। ১৯৫২ সালের ২১ শে ফেব্রুয়ারী বাঙালী তার মাতৃভাষা বাংলার মান রক্ষার জন্যে প্রথম রক্ত দেয়, সে ঘটনার সাতচল্লিশ বছর পরে দিবসটি আন্তজাতিক স্বীকৃতি পায়। এ জন্যে আমরা গৌরবান্নিত। কারন আমাদের উপেক্ষিত মাতৃভাষা আমাদেও প্রিয় বাংলাভাষা দিবস একুশে ফেব্রুয়ারী আজ আন্তজাতিক মাতৃভাষা দিবস। ভাষার জন্য একমাত্র বাঙালিকেই রক্ত দিতে হয়েছে। তাই এ দিনটি বাঙালির সবচেয়ে গর্ব ও অহঙ্কারের। তারকাদের অনুভূতি নিয়ে আজকের এ বিশেষ আয়োজনটি সাজানো হয়েছে। 
আজরা মাহমুদ(মডেল, কোরিওওগ্রাফার,অভিনেএী): একুশে ফেব্রুয়ারি আগে যেখানে ছিল, সেটার পরিবর্তন হয়েছে। স্বাধীনতার পর অনেক বদলেছে। একুশ এখন অনেকের কাছে আনন্দের বিষয়। এখন শহীদ মিনারে অনেকেই যায় আনন্দ করতে। এটা আমার কাছে অবাক লাগে। আগে চেতনাটা ছিল প্রবল। বাঙালিত্বের চেতনা ছিল, ছিল ভাষার চেতনা। আগে যেটা ছিল সেটা হল কালজয়ী চেতনা। একুশের ওপর জহির রায়হান জীবন থেকে নেয়া ছবি বানিয়েছেন। যতদিন বাংলাদেশ থাকবে, সেই সিনেমার কথা সবাই মনে রাখবেন বলে আমি বিশ্বাস করি। একুশ নিয়ে এরকম সিনেমা আর কখনও হবে না বা কেউ করেওনি।একুশের চেতনার কথা বলি-সেটা জহির রায়হানের ওই সিনেমার মধ্যেই আছে।একুশ কাকে বলে? এবং কেন? একুশের ওই সিনেমাটি মুক্তিযুদ্ধকেও ত্বরান্বিত করেছে। আমরা কথায় কথায় বলি-মিডিয়া সাংঘাতিক শক্তিশালী মাধ্যম।সেই সিনেমা দেখলেই বোঝা যায় আসলে মিডিয়া কত শক্তিশালী মাধ্যম।

বুলবুল টুমম্পা(মডেল,কোরিওগ্রাফার):একুশে ফেব্রুয়ারি প্রত্যেক বাঙালির জন্য গর্বের। আমার মতে এর চেয়ে গর্ব করার মতো কিছু নেই। যারা রক্ত দিয়ে আমাদেরকে দেশ এবং ভাষা দিয়ে গেছেন তাদের শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছি। তাদের আত্মাহুতির প্রতিদান আমাদের পক্ষে দেওয়া সম্ভব নয়। একটা দেশের ভাষা, সংস্কৃতি জাতির সবচেয়ে বড় পরিচয়। আমরা সুন্দর ভাষা পেয়েছি, স্বাধীনতা পেয়েছি, একটা সুন্দর পতাকা পেয়েছি। এটাই আমাদের শেকড়। নতুন প্রজন্মের একটাই চাওয়া—তারা যেন আমাদের এই শেকড়কে কোনোভাবেই ধ্বংস হতে না দেয়। একুশে ফ্রেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। একজন বাঙালি হিসেবে এর চেয়ে পরম পাওয়া আর কী থাকতে পারে। ভাষা আন্দোলন এবং মুক্তিযুদ্ধের সময় সংগীত এক বিশেষ ভূমিকা পালন করেছে। বাংলা ভাষা যখন ভিনদেশিদের মুখে শুনি তখন গর্বে বুকটা ভরে যায়।

শাকিলা ((কন্ঠ শিল্পী):একুশে ফেব্রুয়ারি একটা সময় আন্দোলন বা শোকের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। এখন একুশে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। অন্য ভাষাভাষি মানুষও আমাদের ভাষা নিয়ে গবেষণা করছে। তারা বাংলা ভাষা শেখার চেষ্টা করছে। বাংলা গান করছে। এটা আমাদের জন্য সুখবর।একুশ আমাদের অহঙ্কার, গর্বের এবং বড় অর্জন। একুশ আর এখন শোকের নয়। একুশ এখন উদযাপনের। কারণ যেকোনো শোকই একটা সময় গিয়ে অর্জনের মাধ্যমে অহঙ্কার বা গৌরবের হয়। সংগীতের সঙ্গে ভাষার ব্যবহার ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে। আমাদের ভাষা শতভাগ সমৃদ্ধ। তবে আমাদের ভাষাকে আমাদেরকেই যত্ন করে বাঁচিয়ে রাখতে হবে। তাই কথা বলার সময় শুদ্ধ উচ্চারণের কথা খেয়াল রাখা উচিত। আরও বেশি করে আমাদের দেশের গান করা উচিত। ভিনদেশি গানের প্রতি আমরা অনেক দুর্বল। সেটা থেকে বেরিয়ে আসা দরকার। আমাদের গান আমাদের সংস্কৃতিকে আমাদেরকেই বিশ্বের কাছে তুলে ধরতে হবে।

শাবনাজ ছাদিয়া ইমি(মডেল,কোরিওগ্রাফার):একুশে ফেব্রুয়ারি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি দিন। এদিন তিনি ভাষা শহীদদের শ্রদ্ধাভরে সকলেই স্মরণ করেন। একুশ এলেই তার মনের মধ্যে অন্য ধরনের অনুভূতি কাজ করে। আর বাঙালি হিসেবে বাংলা ভাষার জন্য নিজেকে নিয়ে সব সময় গর্ববোধ করেন।

অন্জনা সুলতানা(চলচ্চিএ অভিনেএী):বাঙালি হিসেবে আমি গর্বিত একুশ এখন আর আমাদের নয়, এটা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত।  কোনো দেশে ভাষার জন্য এত মানুষ প্রাণ হারায়নি। তাই বাঙালি হিসেবে আমি গর্বিত। আসলে আমারা কোনো কিছুতে যখন ঐক্যবদ্ধ হই তখন যে অনেক বড় অর্জন আমরা করতে পারি একুশই তার প্রমাণ।ভবিষ্যতে যখনই আমাদের কোনো ক্রান্তিকাল আসে আর আমরা যদি এভাবে সংগঠিত হতে পারি তাহলে অবশ্যই সেই ক্রান্তিকাল অতিক্রম করতে পারব বলে আমার বিশ্বাস। একুশে ফেব্রুয়ারি ছোটবেলায় অন্যভাবে পালন করা হতো। আমার স্পষ্ট মনে আছে, একুশে ফেব্রুয়ারি আগের রাতে ফুল যোগাড় করতাম। সেই ভোর বেলা রেডি হয়ে বসে থাকতাম কখন শহীদ মিনারে যাব। ফুল দিয়ে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করব।কোনো বিশেষ দিবস অর্থাত্ ২৬ মার্চ হোক কিংবা ১৬ ডিসেম্বর হোক-এ রকম কোনো বিশেষ দিবসে যদি কোনো ছবির প্রস্তাব পাই এবং কাজ করার সুযোগ পাই— তখন ভালো লাগে। অভিনয়  অভিনয়ের মাধ্যমেই দর্শকদের যদি কিছুটা হলেও উদ্বুদ্ধ করতে পারি তাহলে ভালো লাগে।

বেবী নাজনিন(কণ্ঠশিল্পী):কণ্ঠশিল্পী বেবী নাজনিনের কাছে একুশে ফেব্রুয়ারি খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি দিন। বুঝতে শেখার পর থেকেই তিনি ভাষা শহীদদের স্মরণে বিনম্র শ্রদ্ধা নিবেদন করে আসছেন। তার মতে, ভাষা শহীদদের রক্তের বিনিময়ে আমাদের মুখের ভাষা বাংলাকে পেয়েছি। গর্বের বিষয় হচ্ছে_ এই দিনটি এখন আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে পালিত হচ্ছে। আমাদের জন্য এর চেয়ে আনন্দের আর কি হতে পারে! বাংলা ভাষার জন্য সালাম, রফিক, জব্বার, বরকতের মতো নাম না জানা সবার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করছি।

লিয়াকত আলী লাকী(নাট্যকার):২১ ফেব্রুয়ারি নিয়ে বলেন, মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষায় বাঙালি মানবজাতির ইতিহাসে সর্বোচ্চ ত্যাগের নজির সৃষ্টি করেছে। বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের জন্ম হয়েছে বাংলা ভাষার মর্যাদা রক্ষার আন্দোলনের মাধ্যমে। তাছাড়া ৫২'র ভাষা আন্দোলনের ভেতর একাত্তরের স্বাধীনতা সংগ্রামের বীজমন্ত্র নিহিত ছিল। আমাদের স্বাধিকার থেকে স্বাধীনতায় উত্তরণের যে দীর্ঘ পথ পরিক্রমা, তার সূচনা আমাদের ভাষা চেতনায় এবং উপসংহার মহান মুক্তিযুদ্ধোত্তর বিজয়ে। বাঙালি জাতির ইতিহাসে ৫২ এসেছিল ৭১-এর রক্তক্ষয়ী সংগ্রামে বিজয় প্রতীক হিসেবে। তাই ভাষা শহীদদের সবার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করছি।একটি জাতিসত্তার মূল বিষয় হচ্ছে 'ভাষা'। আর আমাদের এই মূলসত্তাকে রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের মাধ্যমে অর্জন করতে হয়েছে। এককথায় পৃথিবীর ইতিহাসে আমরাই একমাত্র জাতি, যারা ভাষার জন্য জীবন দিয়েছি। ভাষার জন্য জীবন দেয়া প্রত্যেক শহীদের প্রতি আজকের এই দিনে গভীর শ্রদ্ধা প্রদর্শন করছি।

 ঝুনা চৌধূরী(অভিনেতা):একুশে ফেব্রুয়ারি প্রতি বছরই শ্রদ্ধার সঙ্গে পালন করেন। তিনি মনে করেন, ভাষার জন্য যারা জীবন দিয়েছেন, তাদের ঋণ কোনো দিন শোধ হওয়ার নয়। তাদের কারণেই বাঙালি হিসেবে বিশ্বের বুকে আমরা মাথা উঁচু করে আছি। একুশে ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষার স্বীকৃতি পেয়েছে। বাঙালি হিসেবে এটিও আমাদের বড় পাওয়া।

এই রকম আরও খবর




Editor: Habibur Rahman
Dhaka Office : 149/A Dit Extension Road, Dhaka-1000
Email: [email protected], Cell : 01733135505
[email protected] by BDTASK