শুক্রবার, ১৮ অক্টোবর ২০১৯
Friday, 27 Sep, 2019 12:53:15 am
No icon No icon No icon

পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী ও বৃহত্তম শহর ও সংস্কৃতিক রাজধানী আনন্দনগরী কোলকাতা

//

পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী ও বৃহত্তম শহর ও সংস্কৃতিক রাজধানী আনন্দনগরী কোলকাতা


জিয়াউদ্দীন চৌধুরী (জেড সেলিম), বিশেষ প্রতিনিধি, টাইমস ২৪ ডটনেট, ঢাকা : মহিনের ঘোড়াগুলি যেমন গেয়ে গেছেন, ‘…স্মৃতির ভিতর ট্রামের ধ্বনি বিবাগী সুর গড়ে….’’, কলকাতা যেন ঠিক তেমনি। চার অক্ষরের নামটা মনে আসলেই ভেসে ওঠে টানা রিক্সা, ট্রামের শব্দ কিংবা হলদে ট্যাক্সি। দীর্ঘ দিনের পথচলায় এই শহরটা হয়ে যেন হয়ে উঠেছে একটা বিশেষ ঐতিহ্যের ধারক। বাঙালি সংস্কৃতির অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু এই কলকাতা যেন শুধু একটা শহরই না, একটা জীবনধারা, একটা আবেগ যা প্রায় জীবন্তই বলা চলে!
কোলকাতা ( ইংরেজিঃ Kolkata, আদিনামঃ কলিকাতা, পুরনো ইংরেজি নামঃ Calcutta) হল ভারতের পূর্ব দিকে অবস্থিত একটি রাজ্য, পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী ও বৃহত্তম শহর ও সংস্কৃতিক রাজধানী। হুগলী নদীর পূর্বপাড়ে অবস্থিত এই শহরটি হল পূর্ব ভারতের শিক্ষা, সংস্কৃতি ও অর্থনীতির প্রধান কেন্দ্র। ভারতের প্রাচীনতম ও সচল বন্দর হল এই কোলকাতা। জনসংখ্যার নিরিখে এটি ভারতের ৭ তম সর্বাধিক জনবহুল পৌরএলাকা এবং ২০১১ এর জনগণনা অনুযায়ী জনসংখ্যা ছিল ৪,৪৯৬,৬৯৪। কোলকাতার সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক সূচক( আনুমানিক) ৬০-১৫০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা ভারতের মুম্বাই ও নতুন দিল্লীর পরে।

মূল কোলকাতা গড়ে উঠেছে সুতানটি, গোবিন্দপুর, ও ডিহি কোলকাতা এই তিনটি গ্রাম নিয়ে। ১৭ শ শতাব্দীর শেষভাগ পর্যন্ত কোলকাতায় আধিপত্য বিস্তার করে ছিল নবাবরা, ১৯৬০ সালে ব্রিটিশ ইষ্ট ইণ্ডিয়া কোম্পানি নবাবের কাছ থেকে বাংলার বাণিজ্য সনদ লাভ কোড়ে।১৭৬৫ সালে নবাব সিরাজদ্দৌল্লা কোলকাতা দখল করে কিন্তু পরের বছরই ব্রিটিশরা আবার কোলকাতা দখল করে এবং ১৭৯৩ সালে ” নিজামৎ” বা স্থানীয় শাসনের অবলুপ্তি ঘটিয়ে কোম্পানি পুরোপুরিভাবে জাঁকিয়ে বসে। যদিয়ও ব্রিটিশ শাসনের প্রথমদিকে কোলকাতা ছিল ভারতের রাজধানী কিন্তু ১৯ শ শতাব্দীর শেষভাগ থেকে কোলকাতা হল স্বাধীনতা আন্দোলনের অন্যতম কেন্দ্র। সেই কারণে এবং ভারতের মতো এতোবড় একটা রাষ্ট্র শাসনের অসুবিধার জন্য কোলকাতা থেকে রাজধানী নতুন দিল্লীতে স্থানান্তরিত হয়।স্বাধীনতার পর কোলকাতা শুধু ভারতের রাজধানীর প্রানকেন্দ্রই নয়, এর সাথে সাথে শিক্ষাব্যবস্থা, বিজ্ঞানচর্চা, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক আন্দোলনের প্রধান কেন্দ্র হয়ে উঠেছিল।

১৯ শে ও ২০ শে শতাব্দীর প্রথমভাগে বাংলার নবজাগরণের কেন্দ্রস্থল ছিল কোলকাতা। ধর্মীয় ও জাতিগত বৈচিত্রের পাশাপাশি সাহিত্ত,থিয়েটার, শিল্পকলা ও চলচ্চিত্রের একটি স্বতন্ত্র ঐতিহ্য বহন করে আসছে। এখানকার অনেক বিশেষ ব্যেক্তিত্ব সাহিত্য, সঙ্গিত, সিনেমা, শিল্প, বিজ্ঞান, অন্যান্য অনেকক্ষেত্রে অনন্য সম্মানে ভূষিত হয়েছে। তার মধ্যে রয়েছে নোবেল ও অনেক আন্তর্জাতিক পুরস্কার। পশ্চিমবঙ্গের বাংলা  চলচ্চিত্রের কেন্দ্রস্থলও হল এই কোলকাতা।এখানে রয়েছে খ্যাতনামা সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান যেমন, অ্যাকাডেমি অফ ফাইন আর্টস, নন্দন, এগ্রি-হার্টিকালচার সোসাইটি অফ ইন্ডিয়া, এশিয়াটিক সোসাইটি, ভিক্তরিয়া মেমোরিয়াল, কোলকাতা ন্যাশনাল লাইব্রেরি, কোলকাতা জাদুঘর, জিওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়া, ইত্যাদি আরও কত। কোলকাতায় রয়েছে একাধিক ক্রিকেট মাঠ তবে কলকাতার মানুষ হল ভারতবর্ষের ফুটবলের রাজধানী।

কলকাতা না গেলেও এর আবহাওয়া সম্পর্কে অনেকেই ধারণা করতে পারেন এ ভৌগলিক অবস্থান থেকে। কলকাতার আবহাওয়া বেশ গরমই বলা চলে। এখানে প্রধানত তিনটি ঋতু বিরাজ করে – গ্রীষ্ম, বর্ষা এবং শীত। গ্রীষ্ম কাল শুরু হয় এপ্রিল এবং শেষ হয় জুন মাসে। গরমে তাপমাত্রা প্রায় ৩৫-৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস এর কাছাকাছি চলে যায়। তাই এ সময়ে ভ্রমণ করাটা বেশ কঠিনই হয়ে যায়। তাই এই ঋতু এড়িয়ে চলাই ভাল। কলকাতা ভ্রমণের জন্য সবচেয়ে ভাল সময় হল বর্ষাকাল (জুলাই – সেপ্টেম্বর) এবং শীতকাল (অক্টোবর – ফেব্রুয়ারি)। বর্ষাকালে তাপমাত্রা থাকে ২০-২৫ ডিগ্রি যা খুবই আরামদায়ক। শীতকালে তাপমাত্রা নেমে যায় ৯-১১ ডিগ্রিতে। তারমানে একেবারে হাড় কাঁপানো শীতও পরবে না। অক্টোবর থেকে ফেব্রুয়ারির মধ্যে গেলে বেশ আরামদায়ক পরিবেশেই কলকাতা ভ্রমণ করতে পারবেন।

Kalighat Temple, 1887

কলকাতা ভ্রমণের ক্ষেত্রে কিছু টিপস:

•কলকাতায় ভ্রমণের ক্ষেত্রে অবশ্যই পাসপোর্ট ও ভিসা আগে থেকেই প্রস্তত করে রাখতে হবে

•আকাশ বা স্থল পথ, যে মাধ্যমেই যাতায়াত করুন না কেন যাতায়াতের বিভিন্ন রুটগুলো আগে থেকে জেনে রাখবেন

•ডলার এয়ার পোর্টে ভাংগাবেন না, পরিচিত কারো মাধ্যমে ডলার ভাঙাবেন। এজন্য আগে থেকেই কিছু ডলার নিয়ে যাবেন।

•হোটেলে আগে থেকেই অন লাইনে বুকিং দিলে খরচ কিছুটা কম হবে।

•কি কিনবেন তার উপর নির্ভর করে শপিং এ যাবেন তাতে কেনাকাটায় সুবিধা হবে।

•একদিনের জন্য ট্যাক্সি ভাড়া করে শহরের ভিতরের টুরিস্ট স্পট গুলো ঘুরতে সুবিধা হবে।

•দার্জিলিং, জয়পুর, কেরালা যাবার নানা ধরনের প্যাকেজ ট্যুর আছে যেকোনোটা বেছে নিলে খরচ ও ঝামেলা দুটোই কম হবে

•আর যেকোনো ভ্রমনে নিজের আচার ব্যবহার সংযত ও মার্জিত রাখার চেষ্টা করবেন, মনে রাখবেন বাইরের দেশে আপনি বাংলাদেশের প্রতিনিধি। তাই দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট হয় এমন কিছু করা থেকে বিরত থাকবেন। 

যান-বাহনঃ
প্রথমত আপনি যেতে পারেন স্থলপথে। অর্থাৎ, বাসে। যদি বাসে করে সরাসরি কলকাতায় যেতে চান তাহলে আপনি ঢাকা থেকে শ্যামলী, গ্রিন লাইন, সৌহার্দ্য, সোহাগে যেতে পারেন। বাসগুলো নামাবে একেবারে কলকাতা নিউমার্কেট সংলগ্ন মারকুইস স্ট্রিটে। যদি শীততাপ নিয়ন্ত্রিত এই বাসগুলিতে রাতে বেনাপোল স্থল বন্দরের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হন, তাহলে প্রায় সতেরো ঘণ্টার জার্নি করে (মাঝে ইমিগ্রেশনে লাগবে কয়েক ঘণ্টা) বনগাঁ হয়ে আপনি পৌঁছে যাবেন মধ্য কলকাতার পার্ক স্ট্রিটে। ভাড়া পড়বে ১৪-১৭শ টাকার মতো।

চাইলে ট্রেনে চেপেও আসতে পারেন কলকাতায়। বিশেষ যারা রেলভ্রমণ করতে পছন্দ করেন। সেক্ষেত্রে ভারত ও বাংলাদেশ সরকারের উদ্যোগে চলা ‘মৈত্রী’ এক্সপ্রেসে চড়ে বসতে পারেন। মৈত্রী এক্সপ্রেস নামাবে সরাসরি কলকাতায়। গন্তব্য স্টেশনের নামও ‘কলকাতা স্টেশন’। এটি উত্তর কলকাতার চিৎপুরে অবস্থিত। ৩শ ৯২ কিলোমিটার রাস্তা পেরোতে মোট সময় লাগবে কমবেশি ১২ ঘণ্টা। এর মধ্যে দুই বর্ডারে ইমিগ্রেশন করতে দুই দুই চার ঘণ্টা সময় লাগে। এখানে আপনি এসি- নন এসি দু’ধরনের টিকিট পাবেন। ভাড়া আপনার সাধ্যের মধ্যে। জেনে রাখার ভালো, ট্রেনের ভাড়া বাস ভাড়ার থেকে কম। ননএসিতে ভাড়া পড়বে ৬৬০ টাকা। আর এসি-চেয়ার ১১শ ৩৩ টাকা এবং বাথ ১৬শ ৫০ টাকা।

বাকি রইলো আকাশপথ। বাংলাদেশ বিমান, রিজেন্ট, ইউনাইটেড ছাড়াও আসতে পারেন জেট এয়ার ওয়েজ, এয়ার ইন্ডিয়ার প্লেনে। সময় লাগবে কমবেশি ৪৫ মিনিট। নামবেন নেতাজী সুভাষ ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট। ভাড়া ৪ হাজার থেকে ৮ হাজার টাকার মধ্যে। বিমানে যাওয়া ভালো সময় কম লাগে, ভাড়াও বেশি না। আর বিদেশ যাবার ফিলিংটাও থাকবে।

এয়ারপোর্ট ও ট্যাক্সিঃ
নেতাজি সুভাষ চন্দ্র ঢাকার চেয়ে ভাল, এখানেই ট্যাক্সি পাবেন। লাইন দিয়ে কাউন্টারে দাঁড়ালে গন্তব্য অনুযায়ী ভাড়া নিয়ে রশীদ দিয়ে আপনাকে ট্যাক্সিতে উঠিয়ে দেবে। আপনার আর তেমন কোন চিন্তা নেই। ডলার এয়ারপোর্টে ভাঙ্গাবেন না। সে জন্য অন্ততঃ শ’পাচেক রুপি আগে থেকেই নিয়ে যাবেন। টাকা ভাঙ্গানোর জন্যে আমি সবচেয় সুবিধের দোকান পেয়েছিলাম মির্জা গালিব স্ট্রিটে, নাম সোহাগ মানি এক্সচেঞ্জ। সোনা ভাই নামের একলোক থাকতেন দোকানে বাংলাদেশি হাজার টাকার নোটে ভালো রেট দিতেন, ডলারেও তাই।

হোটেলঃ
কলকাতায় থাকার জন্যে রয়েছে অনেক হোটেল ও গেস্ট হাউজ। কলকাতার নিউমার্কেট, মারকুইস স্ট্রিট, পার্ক স্ট্রিট, সদর স্ট্রিট, রফি আহমেদ রোডে রয়েছে অনেক হোটেল। আপনি আপনার বাজেট ও আপনার পছন্দ মত কোন হোটেলে থাকতে পারবেন। সাধারণত মোটামুটি মানের নন এসি রুমের ভাড়া ৮০০-১২০০ টাকার মধ্যে এবং এসি হোটেলের ভাড়া ১৪০০ রুপির উপরে। তবে ঘোরাঘুরির সিজনে বা বিশেষ উৎসবের দিন গুলোতে পর্যটকদের চাপ বেশি থাকে বলে তখন ভাড়াও বেশি হয়ে থাকে।

কম খরচের হোটেল : যদি একান্তই বাজেটের মধ্যে হোটেলে থাকতে চান এবং খুব কম খরচে থাকতে চান তাহলে মারকুইস স্ট্রিট ও মির্জা গালিব স্ট্রেটে বেশ কিছু হোটেল আছে তুলনামূলক কম খরচে থাকতে পারবেন। এছাড়া বিভিন্ন গেস্ট হাউজ ও ডর্ম গুলোতে বাজেটের মধ্যে থাকার ব্যবস্থা করে নিতে পারবেন। এছাড়া খরচ কমাতে শেয়ার করে রুম ভাড়া নিলে থাকার খরচ অনেক কমে যাবে। কম খরচের কিছু হোটেল যেমন মারকুইস স্ট্রিটের হোটেল আফরা, হোটেল প্যারাডাইস গেস্ট হাউজ, গুলশান লজ এবং মির্জা গালিব রোডের হোটেল পুষ্পক, সেন্ট্রাল গেস্ট হাউজ, হোটেল গ্রিন স্টার ইত্যাদি। তবে হোটেল বুকিং করার আগে নিজে যাচাই করে নিবেন।

খাওয়া দাওয়া:
বাংলাদেশিরা কস্তুরিতে বেশি যায় এটি মির্জাগালিবের কাছেই। সকালের নাস্তা আপনি রাস্তা থেকেও কিনতে পারেন। বেশির ভাগ হোটেলেই সকালে নাস্তা দেয়। কলকাতায় সাবওয়ে, পিজা হাট, কে এফসি আছে।
গরুর মাংস পাওয়া যায় মির্জা গালিবস্ট্রিটের ইসলামি ইয়াদ্গার হোটেলে। দই চিড়া খেতে পারেন, আরেকটি মজার ব্যপার হচ্ছে, মিষ্টির দোকান থেকে আপনি একটি মাত্র মিষ্টিও কিনতে পারবেন নিঃসংকোচে। কাচ্চি বিরিয়ানি পাওয়া যায় বড় বাজারের কাছে।

কেনাকাটা

নিউ মার্কেট কলকাতার সবচেয়ে পুরনো ও বিখ্যাত বাজার যা “হগস মার্কেট”নামেও পরিচিত। শপিং প্রেমীদের জন্য এই মার্কেট একটি অন্যতম আকর্ষণ। ব্রান্ডের কিছু কেনার জন্য সবার পছন্দের একটি মার্কেট হলো কোয়েস্ট শপিং মল।

কলেজ স্ট্রীট, পার্ক স্ট্রীট ও বড় বাজার ঘুরে শপিং করবেন। তাছাড়াও সাউথ সিটি মল, আদি ঢাকেশ্বরি বস্ত্রালয়, প্রিয় গোপাল বিষয়ী, সি পালের ছাতা, আদি মোহিনী মহন কাঞ্জিলাল, শ্রী ল্যাদার এইগুলোতে অবশ্যই যাবেন শপিং এর জন্য।

ঘোরাঘুরি:

কলকাতা বাসীদের  কাছে “শহরের রানী” নামে খ্যাত কাছে এই শহর আর সকলের কাছে পরিচিত “আনন্দ নগর” হিসেবে। কি নেই এই শহরে! চারপাশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে ভ্রমন পিপাসুদের দেখার নানা উপকরন। কখনো বাসে কখনো পায়ে হেঁটে বা কখনো মেট্রো রেলে চড়ে ঘুরে দেখতে পারবেন শহরের নানা দর্শনীয় স্থান।

ইন্ডিয়ান মিউজিয়াম : এশিয়াটিক সোসাইটি দ্বারা প্রতিষ্ঠিত দ্যা ইন্ডিয়ান মিউজিয়াম হল এশিয়ার মধ্যে অন্যতম ও তাৎপর্যময় এক প্রাচীন জাদুঘর। মিশরীয় মমি, ডাইনোসর বা জীবাশ্ম কঙ্কালের যদি প্রত্যক্ষ দর্শন করতে চান তাহলে ঘুরে আসতে হবে কলকাতার এই ইন্ডিয়ান মিউজিয়াম থেকে।

বিড়লা ইন্ডাস্ট্রিয়াল মিউজিইয়্যাম :দক্ষিন কলকাতার ১৯ এ গুরুসদয় রোডে বিড়লা ইন্ডাস্ট্রিয়াল মিউজিয়াম অবস্থিত। বিজ্ঞানের অজানা জানা ও বোঝার জন্য ছোট থেকে বড় সকলের ভালো লাগবে এই মিউজিয়াম।

রবীন্দ্র ভারতী মিউজিয়াম : গিরিশ  পার্কের কাছে চিত্তরঞ্জন এভিন্যিউ এ অবস্থিত বিখ্যাত রবীন্দ্র ভারতী মিউজিয়্যাম “ জোড়াসাকো ঠাকুরবাড়ি” নামেও পরিচিত যা মূলত রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বাড়ি। কলকাতার  রবীন্দ্র ভারতী মিউজিইয়্যাম বিশ্ববিদ্যালয়ের এক আবিচ্ছেদ্য অংশ এবং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সকল কাজকর্মের এক সংরক্ষণাগার,যা যেকারো ভালো লাগবে।

মাদার ওয়াক্স মিউজিয়াম :কলকাতার নিউ টাউনে অবস্থিত ২০১৪ সালে প্রতিষ্ঠিত মাদাম তুসো জাদুঘরের আদলে নির্মিত ভারতের প্রথম মোম শিল্পকর্মের জাদুঘর। এখানে ৫০টির ও বেশি খ্যাতনামা ব্যাক্তিদের মোমের মূর্তি আছে এই জাদুঘরে।

নেহেরু চিলড্রেন্স জাদুঘর : শিশুদের নিয়ে যাওয়ার জন্য সবচেয়ে ভালো একটি জায়গা হল নেহেরু চিলড্রেন্স জাদুঘর।  রয়েছে নানা ধরনের গ্যালারি যেখানে আছে পুতুলের গ্যালারি, খেলনার গ্যালারি, রামায়ন ও মহাভারত গ্যালারি।  মূলত শিশুদের বিনোদনের সাথে সাথে শেখার নানা উপকরনের দেখা মিলবে এই জাদুঘরে।  

আশুতোষ মিউজিয়াম :কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনস্ত ১৯৩৭ সালে প্রতিষ্ঠিত ভারতের শীর্ষস্থানীয় জাদুঘরগুলোর মধ্যে অন্যতম যেখানে ভারতের শিল্প কলা ও পুরাতত্ত্বের নানা কিছু সংরক্ষিত আছে।

কলকাতার ঐতিহাসিক কিছু স্থান
কলকাতা মার্বেল প্যালেস : বাংলার শৌখিন জমিদার রাজা রাজেন্দ্র মল্লিক বাহাদূর ১৮৩৫ সালে নির্মাণ করেছিলেন প্রাসাদের মত বিরাট এক অট্টালিকা যা দেখলে পর্যটকদের নিঃসন্দেহে ভালো লাগবে।

ভিক্টোরিয়া মেমরিয়াল :রানী ভিক্টোরিয়ার স্মরণে তাজমহলের ধাঁচে গড়ে তোলা সাদা মার্বেলের এক অনন্য ইমারত যার কারুকার্য যে কোনো পর্যটকদের চিন্তা শক্তি কে আবার নতুন ভাবে জাগ্রত করবে।

হাওড়া ব্রিজ :“রবীন্দ্র সেতু” নামে পরিচিত কলকাতা বাসীদের কাছে প্রসিদ্ধ চমৎকার শৈল্পিক কারুকার্যময় একটি ব্রিজ। হুগলি নদীর উপর অবস্থিত কলকাতা ও হাওড়া শহরের মধ্যে সংযোগ রক্ষাকারী সেতুগুলির মধ্যে অন্যতম।

প্রিন্সেস ঘাট : ১৮৮১ সালে জেমস প্রিন্সেপ এর স্মরণে হুগলী নদীর তীরে নির্মিত এই ঘাট যা ভ্রমণকারীদের কাছে জনপ্রিয়। কলকাতার সবচেয়ে পুরনো দর্শনীয় স্থানগুলির এটি একটি।

ফোর্ট উইলিয়াম : কলকাতা শহরের হুগলী নদীর তীরে অবস্থিত ফোর্ট উইলিয়াম একটি দুর্গ। প্রাচ্যে ব্রিটিশরাজের সামরিক শক্তির সবচেয়ে বড় নিদর্শন এই বিশাল অট্টালিকা কলকাতার একটি আকর্ষণীয় জায়গা।

রবীন্দ্র সদন : বাংলা থিয়েটার ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রমের এক অনন্য মিলনমেলা হল রবীন্দ্র সদন। বাঙ্গালি সমাজের এক প্রধান বিনোদনের উৎস এই রবীন্দ্র সদন যেখানে নাটক, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও নানা ধরনের বিনোদনমূলক প্রদর্শনী দেখতে পারা যায়। 

কলকাতা রেসকোর্স : ১৮২০ সালে নির্মিত ভারতের সবচেয়ে বড় রেসকোর্স যা বিখ্যাত ঘোড়াদৌড়ের  ক্ষেত্র। এখানে ভারতের সবচেয়ে গৌরবমণ্ডিত ঘোড়া দৌড় যেমন ক্যালকাটা ডার্বি ও রানী এলিজাবেথ কাপ নিয়মিত আয়োজিত হয়। 

পার্ক
নিকো পার্ক বিশ্বের সর্বসেরা চিত্তবিনোদনমূলক পার্ক হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে। 
সায়্যন্স সিটি পার্ক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির নানা বিষয় জানতে দু মারতে পারেন এই সায়্যন্স সিটি থেকে যা ভালো লাগবে নিঃসন্দেহে।
নলবল বোটিং কমপ্লেক্স সবচেয়ে সুন্দর পিকনিকের জায়গা তবে নানা ধরনের নৌকায় চরে ভ্রমনের আনন্দ অনুভব করারও সুযোগ আছে।
ক্লাউন টাউন শিশুদের পছন্দ মাথায় রেখে তৈরি করা  শিশুদের ভালো লাগার মত একটি বিনোদন কেন্দ্র।  এটি কলকাতার সর্বপ্রথম শিশু উদ্যান।
অ্যাকোয়াটিকা রাজারহাটের কোচপুকুরে অবস্থিত একটি জলজ উদ্যান বা ওয়াটার পার্ক নামে পরিচিত।
ফান সিটি দুর্দান্ত সব রাইডের সমন্বয়ে গড়ে উঠা এই অ্যামিউজমেন্ট পার্ক ভালো লাগবে যেকারো।
কলকাতায় বাগান ও পশু পাখির সমাহার
বোটানিক্যাল গার্ডেন : শিবপুরে হুগলী নদীর তীরে পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষার উদ্দেশ্যে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারের উদ্দ্যোগে গড়ে উঠেছে এক নয়নাভিরাম পুস্প শোভিত বোটানিক্যাল গার্ডেন।

জুওলোজিক্যাল গার্ডেন : বিশাল প্রানি ভাণ্ডার নিয়ে গড়ে উঠা কলকাতার  জুওলোজিক্যাল গার্ডেন যা এশিয়ার মধ্যে সর্বপ্রথম। বিশাল এলাকা ঘুরে ঘুরে প্রানিদের সমারোহ দেখতে ভালো লাগবে যেকারো।

আলিপুর চিড়িয়াখানা : আলিপুরে গড়ে উঠা এই চিড়িয়াখানায় আছে নানা ধরনের পশু পাখির অবস্থান।

এগ্রি- হর্টিকালচ্যার গার্ডেন : এটি মূলত উদ্দ্যান পালন সংক্রান্ত বাগান। এখানে রয়েছে গাছ গাছালি ও নানা উদ্ভিদের একটি বিশাল সংগ্রহশালা।

শহরের মধ্যে অন্যান্য স্থান
ইডেন গার্ডেন : ক্রিকেট দুনিয়ার এক বিখ্যাত স্টেডিয়াম। আরো আছেএকটি বার্মিস প্যাগোডা । পুরো ইডেন গার্ডেন ঘুরে দেখতে পছন্দ করবে সবাই।

কলেজ স্ট্রিট : বইপড়ুয়াদের জন্য একটি তীর্থস্থান। পাঠ্যবই থেকে শুরু করে বেষ্ট সেলার ও যাবতীয় নতুন পুরাতন  বইয়ের দেখা মিলবে এখানে।

ন্যাশনাল লাইব্রেরি : শুধু কলকাতা না পুরো ভারত (India) বর্ষের মধ্যে সবচেয়ে বড় গ্রন্থাগার হল এই ন্যাশনাল লাইব্রেরি।

বেলুর মঠ : হুগলী নদীর তীরে অবস্থিত এই বেলুর মঠে রয়েছে স্বামী বিবেকান্দের বাড়ি ও নানা সাধকের সমাধি।  এছাড়াও একটি প্রদর্শন শালা আছে যেখানে কিভাবে রামকৃষ্ণ মিশন তৈরি হয়ে সারা বিশ্বে সুনাম কুড়িয়েছে তা দেখা যায়।

হংসেশ্বরী মন্দির :  কলকাতা হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের জন্য এক তীর্থস্থান। হংসেশ্বরী মন্দির রাজকীয় আবহে গড়ে উঠা এক অপূর্ব সুন্দর মন্দির। এটি কলকাতা শহরের সবচেয়ে কাছের ও জনপ্রিয় মন্দির।

কফি হাউজ : মান্না দের গানের স্মৃতি বিজারিত কফি হাউজ।

ট্রাম মিউজিয়াম ও ট্রামে ভ্রমন : কলকাতায় ট্রাম শুরু হবার দিনের ইতিহাস ও তার খুঁটিনাটি নিয়ে এই মিজিয়াম। দেশের একমাত্র ট্রাম মিজিয়াম। রয়েছে ট্রামে করে ভ্রমণের মজার অভিজ্ঞতা যা কলকাতায় বেড়াতে এলে কেউ হাতছাড়া করতে চায় না।

এছাড়াও আছে বাংলা একাডেমি, সেন্ট পউল চার্চসহ আরও নানা মন্দির ও দেখার মতো অনেক কিছু।

পরিশেষে বলছি স্বাছন্দ্যে ৪/৫ দিনের ট্যুরে বেড়িয়ে আসতে পারেন কলকাতা। প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী নগরীটি আপনাকে হতাশ করবে না। বরং ফিরে আসবেন।

এই রকম আরও খবর




Editor: Habibur Rahman
Dhaka Office : 149/A Dit Extension Road, Dhaka-1000
Email: [email protected], Cell : 01733135505
[email protected] by BDTASK