বৃহস্পতিবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০১৮
Monday, 17 Sep, 2018 12:34:31 am
No icon No icon No icon

বান্দরবানের আলীকদম-থানচি উপভোগ


বান্দরবানের আলীকদম-থানচি উপভোগ


টাইমস ২৪ ডটনেট, ঢাকা: বান্দরবানের আলীকদমে বসবাসকারী টিপরা (ত্রিপুরা) সম্প্রদায়ের মধ্যে ডিম পাহাড় নিয়ে একটি উপকথা প্রচলিত আছে। উপকথাটা এই রকম- উশে প্রু খুব মা ভক্ত ছেলে। মাকে সে খুবই ভালোবাসে। ছোটবেলায় বাবা মারা যাওয়ার পর থেকে মা-ই তার একমাত্র সম্বল। সেই মা একদিন খুব অসুস্থ হয়ে পড়লেন। প্রাণ যায় যায় অবস্থা। গ্রাম্য ওঝা উশের মাকে দেখে জানালেন, এই রোগ নিরাময়যোগ্য নয়। ধুঁকে ধুঁকে তার মাকে মরতে হবে। তবে মাকে বাঁচানোর একটা উপায় আছে। কিন্তু সেই উপায় অত্যন্ত ভয়ঙ্কর। প্রাণাধিক প্রিয় মাকে বাঁচানোর জন্য উশে যেকোনো ঝুঁকি নিতে রাজি। সে জানতে চাইল কী করতে হবে।

আলীকদম-থানচি সড়কে বর্ষা উপভোগ
উশের সম্প্রদায় যেখানে বসবাস করে সেখান থেকে তিন দিনের হাঁটা দূরত্বে ডিম পাহাড়ের অবস্থান। পাহাড়চূড়ার ডিমের মতো আকৃতির জন্যই এমন নামকরণ। প্রতি পূর্ণিমা রাত্রিতে ডিম পাহাড়ের চূড়ায় এক অদ্ভুত ফুল ফোটে। আবার সকাল বেলায় সেই ফুল ঝরে পড়ে। সেই ফুলের রস যদি খাওয়ানো যায় তবেই উশের মা সুস্থ হবে।

প্রচলিত ছিল, ডিম পাহাড়ে কেউই পৌঁছাতে পারেনি। যারাই চেষ্টা করেছে তারাই নিরুদ্দেশ হয়েছে। অনেকে বলে সেই পাহাড়ে এক দানব থাকে যে কিনা ফুলগুলোকে পাহারা দেয়। কেউ পাহাড়ে উঠলেই দানবটা তাকে মেরে ফেলে। এতোসব জানা সত্ত্বেও উশে সিদ্ধান্ত নিলে সে যাবেই। একা যেতে সাহস না পাওয়ায় বন্ধু থুই প্রুকে সাথে নিয়ে রওনা দিল ডিম পাহাড়ের উদ্দেশে।

পাহাড়ি পথে তিন দিন তিন রাত হাঁটবার পর অবশেষে তারা পৌঁছাল ডিম পাহাড়ের চূড়ার কাছাকাছি। থুই প্রুকে রেখে উশে একাই পাহাড়ের চূড়ার দিকে চলল। প্রয়োজন তার, ঝুঁকি সে একাই নিবে। থুই প্রু দেখল তার বন্ধু ধীরে ধীরে পাহাড়ের চূড়ার দিকে উঠে যাচ্ছে। ঠিক মাঝরাতে আকাশ যখন পূর্ণিমার আলোয় উদ্ভাসিত, তখন উশেকে আবারও দেখতে পেল থুই। থুইকে উদ্দেশ করে উশে কিছু একটা ছুঁড়ে মারল। সেটা গড়াতে গড়াতে থুইয়ের কাছাকাছি এসে থামল। থুই দেখে একটা থলে যার ভিতরে পাথর আর তাদের অতি আকাঙ্ক্ষিত পাহাড়ি ফুল। উশেকে ইশারা দিয়ে থুই জানাল যে সে ফুলগুলো পেয়েছে। উত্তরে উশে জানাল সে নিচে নামবে, থুই যেন তার জন্য অপেক্ষা করে। উশের সাথে থুইয়ের সেই শেষ দেখা। আর কোনদিন তার খোঁজ পাওয়া যায় নি। পুরো একদিন একরাত থুই উশের জন্য অপেক্ষা করে ফেরত আসে। মা ভালো হয়ে গেলেও উশে চিরদিনের জন্য হারিয়ে যায়। কিন্তু মায়ের জন্য তার এই আত্মত্যাগ টিপরাদের মনে স্থায়ী হয়ে যায়।

কতটুকু সত্য আর কতটুকু মিথ্যা সেটি না জানলেও ডিম পাহাড়ে যাওয়ার আগ্রহ তৈরির জন্য পর্যাপ্ত উপাদান যে এই উপকথায় আছে সেটি অস্বীকার করা যাবে না।

ডিম পাহাড়ের অবস্থান আলীকদম এবং থানচি থানার ঠিক মাঝখানে। এই পাহাড় দিয়েই দুই থানার সীমানা নির্ধারিত হয়েছে। খুব দুর্গম এই পাহাড়ে যাওয়ার কোনো উপায় এতোদিন ছিল না। খুশির খবর হচ্ছে- বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে আলীকদম থেকে থানচি পর্যন্ত সড়ক নির্মাণ করা হয়েছে। ৩৩ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সড়ক নির্মাণে সময় লেগেছে ১০ বছর এবং নির্মাণকালীন বিভিন্ন দুর্ঘটনায় সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ারিং কোরের তিন সদস্য মৃত্যুবরণ করেছেন। তার মানে বুঝতেই পারছেন ডিম পাহাড়ের রাস্তা কতখানি দুর্গম।

ডিম পাহাড়ে যাওয়ার আগ্রহ বাড়িয়ে দেয়ার জন্য আরেকটা তথ্য যোগ করে দেয়া দরকার। আলীকদম-থানচি আঞ্চলিক সড়ক এই মুহূর্তে বাংলাদেশের সবচেয়ে উঁচু রাস্তা। আলীকদম থেকে এই রাস্তা উপরের দিকে উঠেছে এবং ডিম পাহাড়ের কাছাকাছি রাস্তার উচ্চতা দাঁড়িয়েছে ২,৫০০ ফুট। সেখান থেকে আবার নিচের দিকে নেমে থানচিতে গিয়ে শেষ হয়েছে।

যেভাবে যাবেন
আলী কদম উপজেলা থেকে ৩০ কিলোমিটারের দুরের থানচি-আলীকদমে ডিম পাহাড়ের পুরোটাই পাহাড়ি পথ। চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের চকরিয়া বাস টার্মিনাল থেকে আলীকদমের বাস অথবা চাঁদের গাড়িতে যেতে হবে আলীকদম। সেখান থেকে চাঁদের গাড়ি অথবা মোটরসাইকেলে যেতে হয় ডিম পাহাড়। পুরোটা পথজুড়ে সবুজ পাহাড় আর মেঘের কোল ঘেঁষে থাকায় প্রায় এক ঘণ্টার রোমাঞ্চকর ভ্রমণে ক্লান্তি স্পর্শ করতে পারে না পর্যটকদের। এখানে নিরাপত্তায় নিয়োজিত আছেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সেনাবাহিনী কয়েক দফা তল্লাশি ও জিজ্ঞাসাবাদ করেন আগতদের।

এই রকম আরও খবর




Editor: Habibur Rahman
Dhaka Office : 149/A Dit Extension Road, Dhaka-1000
Email: [email protected], Cell : 01733135505
[email protected] by BDTASK