সোমবার, ২২ জুলাই ২০১৯
Sunday, 26 Aug, 2018 11:46:52 am
No icon No icon No icon

ঘুড়ে এলাম দিদি-দাদাদের দেশ

//

ঘুড়ে এলাম দিদি-দাদাদের দেশ


লেখক : মো: জাহাঙ্গীর হোসেন (সাবেক সেনা কর্মকর্তা): এখন রাত আটটা, ২০ শে ফেব্রু’ ১৮, ভারতের (কোলকাতা) উদ্দেশ্যে সোহাগ কাউন্টার, চাষাড়া, নারায়নগঞ্জ, এসে পৌছলাম। বাস ছাড়বে রাত নয়টায় , বেশ কিছু বছর, চাকুরীর সুবাদে, নিজ বাড়ী মিরপুর ফেলে, নারায়নগঞ্জসংলগ্ন রূপায়ন টাউনে বসবাস করি, বেশ গোছান আমাদের হাউজিং সোসাইটি টি , মক্কার মানুষ হজ্জ পায়না, এই কথাটির সাথে আমি কখনওই সহমত নই, যে কোন জায়গায়, যে কোন প্রয়োজনে, আমি সব সময় যথাসময়ের আগেই পৌছার চেষ্টা করি- এটা আমার সেনাবাহিনীর প্রশিক্ষনের সময়ই যেন রক্তের সাথে মিশে গেছে, সময় জ্ঞান আসলে সবারই থাকা উচিত এবং প্রত্যেকেরই সময়ের কাজ সময় মত করা উচিত, কখনো আজকের কাজ আগামির জন্য ফেলে রাখা যাবে না। গাড়ি ছাড়ল রাত ৯.১০ মি. এ , রাত প্রায় ১১.৩০ মি. এ গাবতলী পার হলাম, সাভার পর্যন্ত কিছুটা জ্যাম ছিল। ঢাকা শহরটার যে কি হবে, একটা জাতিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হলে যানযটমুক্ত পথ দিতে হবে, মাঝে মাঝে পথঘাট দেখে আশার সঞ্চার হয়, ঝকঝকে তকতকে রাস্তা হবার পর আবার যখনই দেখি খোড়াখুড়ি, তখেই মুর্শে পরি, জ্ঞানীগুনীজন কি দেশেনেই, নেই কি কোন পরিকল্পনা , বিদেশে বিভূই কত দেশেই গেলাম, কোথাওতো এমন মর্মভেদী দৃশ্য চোখে পড়েনি, এতকিছু আমরা পারি, দুর্নিতীর কলঙ্কের অভিযোগকে মিথ্যা প্রমান করে, পদ্মাসেতু করতে পারি, ফ্লাইওভার করতে পারি, সেই আমরা কেন পরিকল্পিত রাস্তা বানাতে পারব না, দেশাত্মবোধ বাঙালী জাতীর আছে, সকলের আছে, শুধু প্রয়োজন, একটু অবারিত প্রজ্জলন, হবে, আমি নিশ্চিত, হয়ত একটু সময় নিচ্ছে। গাড়ী ধামরাইয়ের পথে, এ্যারোপ্লেনের গতিতে চলছে গাড়ি। প্রথম প্রথম সবার মত আমার ও ভাল লাগল, কিন্তু অস্বাভাবিক এ গতি যে মানুষের জীবনের জন্য বড়ই হুমকি স্বরূপ, চিৎকার করে উঠলাম, রাতের আধারে আলো জ্বালোনোর জন্য, অন্ধকার বাসের ভিতর, সব আলো জ্বলে উঠল, আমার সাথে, সাথে, অন্যরাও, প্রতিবাদ করল। প্রথমে ড্রাইভার গড়িমসি করলেও পরবর্তীতে সে কিছুটা গতি নিয়ন্ত্রন করে গাড়ি চালাতে লাগল। ভাল লাগে না আমার, আমার মত, আরো অনেকেরই জানি ভাল লাগে না, যখন দেখি প্রতিদিন শতশত মানুষ সড়ক দুর্ঘটনায় আহত বা নিহত হচ্ছে, আসলেই তো একটি দুর্ঘটনা সারাজীবনের কান্না, যে মারা যায় তারতো আর এ জগতের প্রতি দায়বদ্ধতা থাকে না, কিন্তু তার জন্য যে কত দুঃখ কষ্ট ও ক্ষতি হয়ে যায় তাতো আর অনুধাবন করার সুযোগ থাকে না, সুতরাং যানবাহন পরিচালনা ও সামগ্রিক বিষয়ের উপরে সকলকেই বিশেষ দৃষ্টি দিতে হবে এবং সকলকেই উদ্দোগী হতে হবে সড়ক দুর্ঘটনা হ্রাস করার ক্ষেত্রে। রাত ১.৩০ মি এর দিকে পাটুরিয়া ফেরীঘাটে এসে পৌছলো, বিশাল লাইন, ফেরী স্বল্পতার কারনে, প্রায় ৪ ঘন্টা লাগল ফেরী পেতে, দূর্নীতির একটা রন্ধও দেখলাম এখানে, দেড়হাজার টাকা দিরে অগ্রাধিকার ভিত্তিতেহ ফেরী পাওয়া যাবে, এ অন্যায়ের দেখলাম আামাদের ড্রাইভার সাহেব সমঝোতা করলেন না, ফেরীতে উঠতে এখনো বেশ দেরী, প্রকৃতির ডাকে সারা দেবার চাপ অনুভব করলাম, রাস্তার উপরই পাবলিক টয়লেট পেয়ে গেলাম, এত সুন্দর পরিস্কার পরিচ্ছন্ন , জোতা পড়েও প্রবেশ নিষেধ, দশ টাকার বিনিমযে যেন দশ লক্ষ টাকার মোনাফা হাসিল করলাম। ফেরী পেরিয়ে এবার বেনাপোলের উদ্দেশ্যে যাত্রাসঙ্গী আমার স্ত্রী, বাসের প্রায় শেষের সীটে বসেছি, গতি আবার বেড়ে গেছে, যাত্রা পথে যেন রোলার কোষ্টারে উঠেছি- মাঝে মাঝে ঘুম থেকে উঠে প্রতিবাদ করার চেষ্টা করেছি, মনে হচ্ছেনা এখন আর কাজ হচ্ছে, যাহোক এবার ভারতে প্রবেশের অপেক্ষায়, বেনাপোল বন্দরে, কাষ্টম চেকিং এ অপেক্ষায় আছি, ২১শে ফেব্রু, শুক্রবার , শনিবার বন্ধ থাকায় অসংখ্য ভ্রমন পিয়াসী মানুষ সকলে যাত্রার উদ্দেশ্যে এসেছে, নানাজনের নানা মন্তব্য। ইমিগ্রেশন পার হবার জায়গা ও রাস্তাঘাট, বসার স্থান ইত্যাদি অবশ্যই পরিস্কার পরিচ্ছন্ন থাকা উচিত, আর একটা বিষয় প্রত্যেক দেশকে মাথায় রাখা উচিত সেটা হল ইুমগ্রেশন সংক্রান্ত সকল ব্যক্তিবর্গের আচার – আচরন, ব্যবহার, অতি উন্নত হওয়া উচিত। কেননা দেশের প্রবেশদ্বারে তারাই কিন্তু দেশের মুখপাত্র হিসাবে দেশের আয়না হিসাবে কাজ করে। অনেক কষ্ট, সর্পাকৃতি, নয়টি লাইন প্রায় ৫ ঘন্টা ব্যায় করে ইমিগ্রেশন পার করে, ভারতের মাটিতে পা দিলাম, দেশের জন্য কেমন একটু খারাপও লাগছে, যশোর রোডের সেই মোটা মোটা গাছের সারিগুলো দেখলাম, এখঅনেও, একই সারি ধরে, এদেশের রাস্তার পাশ ধরেও এগিয়ে গেছে, এ গাছগুলোই কাটার পরিকল্পনা চলছে , ভারতের দিকে মুখ করলে , বাম পাশের সাড়ির গাছগুলো কেটে বা সড়িয়ে অন্য কোথাও লাগালে মন্দ হয় না, নাগরিক সুবিধা বান্ধব কার্যক্রমতো নাগরিকদের জন্যই নেয়া, স্মৃতির মনিকোঠায় তো অন্য সারির হাজার হাজার গাছ থাকছেই, পশ্চিম বঙ্গের মাননীয মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যনার্জিও দেখলাম এমনটিই বলেছেন। যাহোক এপারে এসে যাত্রা শুরু করলাম , আশে পাশের যাত্রীদের সাথে মাঝে মধ্যে গল্প করতে করতে নউমার্কেটে ( কোলকাতা) এসে পৌছলাম, রুম আগেই বুক করা ছিল। ছোটখাট রুম – ভাড়া ১৬০০ রুপি। হাজার, হাজার বাংলাদেশের মানুষ, বৈশ্বয়িক অর্থনৈতিক টানাপোড়েনের রেশ বোধহয় বাংলাদেশে তেমন একটা লাগেনি। পৃথিবীর সব মানুষই বলে যে, আমেরিকাতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আসার পর নাকি, বৈদেশিক অর্থনৈতিক চাপে, সারাপৃথিবীর অর্থনৈতিক ধ্বস নেমেছে, যাহোক বাংলাদেশের মানুষদের দেখে ভাল লাগল, মি: ট্রাম্প, আমাদের কোপকাত করতে পারেননি। রুমে লাগেজ নিয়ে নিচে নেমে এলাম, কিছু খাবার ও ঔষধ কেনা দরকার – সচারচর যা হয় , ৪৫/৫০ বয়সের এক হতদরিদ্র দূর্বল , ভিক্ষুক শ্রেনীর লোক খাবারের জন্য, ক্ষুধা লেগেছে ইশারা, ইঙ্গিতে বুঝাতে লাগল, এটা আল্লাহরই একটা রহমত যে, তিনি আমাকে মাঝে মাঝে এ সুযোগটা করে দেন- একজন অনাহারী মানুষকে খাবার খাওয়ানোটাও আমি নিজেকে অনেক গর্বের মনেকরি, হাজার হাজার মানুষও দেখি এখন আমার ইনবস্কে বা টেলিফোন করে জানায় তারাও ক্ষুধার্ত অসহায় মানুষদের সাহায্য করেছেন- শুনে বেশ ভাল লাগে- এটাই তো মানুষত্ব এখানেই তো মানবতার জয়। ক্ষুধার্ত অসহায় মানুষটিকে খাওয়াবো জেনে, দোকানী রুটি ও সব্জি দিতে চাইলো, আমি বারন করলাম , অসহায় মানুষটিকে জিজ্ঞেস করতেই সে ভাত এর দিকে ইঙ্গিত দিল, দোকানীকে বললাম, ভর্তা, ভাত, মাংস ও ডাল দিয়ে দিতে। অবাক হযে দেখলাম, খেলা এলাকায়, খোলা বড় কড়াইতে, গরুর মাংসের তরকারী ও অন্যান্য খোলা তরকারীর সাথে গরম করছে, যা দেখে অবাকই হলাম, যে দেশে গরুর মাংশ খেলে মানুষ, মানুষ কে নিসংশভাবে হত্যা করতে পারে, সে দেশে এভাবে গরুর রান্না করা মাংশ বিক্রি করা হচ্ছে, ব্যপারটা দেখে মনে হল, সাম্প্রদায়িক বিভৎস যে চিত্র আমরা মিডিয়ার মাধ্যমে জানতে পারি , তা পুরোপুরি সত্যি নয়, ভ্রাতৃত্ববোধের, মনুষত্বের সোপানটা সবদেশে সব জায়গাতেই আছে, কোথাও কোথাও, হয়ত সেটা কিছুটা স্খলন হয়। খাবারের ব্যপারটা, জাতি, বর্ণ , ধর্মের নিজস্ব মূল্যবোধ ও মননের উপর নির্ভর করে এবং এব্যপারে প্রত্যেক নাগরিক প্রত্যেক নাগরিককে তার, তার, মত করে সন্মান দেখানো উচিত। হোটেলবয় ক্ষুধার্ত লোকটিকে জিজ্ঞেস করছে, ভাত ভর্তা, ডাল ও গরুর মাংশ দিয়ে দিচ্ছি, লোকটা ভাবলেশহীন, ক্ষুধার কাছে গরু, খাসি, মুরগী আর সব্জীর কি তফাৎ একটা কিছু দিয়া দিলেই হয়- এমনটাই যেন উত্তরে বলতে চাচ্ছিল, আমি থামিয়ে দিয়ে ভাত, ভর্তা ডাল ও মুরগীর মাংস দিতে বল্লাম, অসহায়ত্বের কাছে তো সন্দেহজনক কোন সাহায্য করা উচিত নয়। লোকটা খাবারটা না খেয়ে পলিথিনে করে নিয়ে হাটা শুরু করল, কি জানী , কত রকমের মানুষ- আমাকে তো আবার বোকা বানাল না, সে যা করার করুক, সে আমার কাছে সাহায়তা চেয়েছে, আমি করেছি, বাকিটা স্রষ্টা দেখবেন। কিছু ওষুধ কিনে ফার্মেসি থেকে ফিরছি, কিছুটা অন্ধকারে দু পা রাস্তায় ছড়িয়ে , পলিথিনের ভিতর থেকে ঐ লোকটি খাবার খাচ্ছে, এই তৃপ্তিময় মুহূর্ত কি মানুষের জীবনে দুটি হয় । রুমে ফেরার পালা , পানির বোতল নিলাম, একটা ওই লোকটার জন্যও, ফিরে এসে ফুটপাতের রেলিং এর ফাঁক দিয়ে যখন পানির বোতলটা তার দিকে এগিয়ে দিলাম কেমন অথর্ব মানুষটাও যে কি সুন্দর করে হাসতে পারে, না দেখলে বুঝাতে পারব না। লিফ্ট এ করে চলে এলাম রুমে, ”আচ্ছা তোমার আক্কেল জ্ঞান কিছু নেই, এত দেরী করে মানুষ, ক্ষুধায় জান যাচ্ছে”। ওকে (স্ত্রী) খাবার দিয়ে নিজেও খেতে বসলাম, আমাদের বিয়ে ২০০৫ সালের ২৬শে মার্চ বিয়ের পর পড়াশুনার জন্য বেশকিছুবছর আমার স্ত্রী ইউরোপে পড়াশুনার জন্য আসা- যাওয়ার মধ্যে ছিল, প্রথম প্রথম আমার কার্যকলাপ ওর একটু ব্যতিক্রমই লাগত, আস্তে আস্তে এখন দেখি ওই আমার চেয়ে বেশি আগ্রহী হয়ে উঠে মানুষের দুঃখ কষ্ট দেখলে। বিয়ের পর আমি প্রায়ই ভাল খাবার হলে, বেশী বেশী খাব বলে রান্না করতে বলতাম, যাতে খাবার বেশী থাকে এবং তা কাজের লোক ও সিকউরিটি গার্ডদের খাওয়াতে পারি , এখনতো আমাদের অভ্যাসই হয়ে গেছে, ভাল খাবার ওদের না দিয়ে খাই ই না। এতে আমার স্ত্রীর অবদান অনেকখানি। বেড়াতে এসেছি কোলকাতায়, সাথে ডাক্তারও দেখাব, বেহালা নামক স্থানে প্রায় ২৫০ রূপি ভাড়া নিউমার্কেট থেকে, দু’দিন আসা যাওয়ার পর, বাসা ভাড়া নিয়ে এলাম বেহালায়, অভিজাত এলাকা সব দোতলা বাড়ি, দামি বাড়ীওয়ালাও বাসার ভিতর সাবলেট ভাড়া দেয়, মাত্র ৪০০ রুপি করে, বাকি ৪ দিন থাকলাম, ভাল লাগল। পকেটের টাকা যেহেতু কমতে শুরু করেছিল তাই আসার দু’দিন আগে, বাসে চলাচল করলাম, বেশ ভাল, এদের আচার-ব্যবহার, দুর থেকে আসলে অনেক কিছুই আবছা মনে হয়, ভাল-মন্দ মিলেই আসলে মানুষ।

বয়স্ক মানুষ বাসে উঠতেই, দেখি অল্প বয়স্ক ছেলেমেয়ে গুলো সিট ছেড়ে দিয়ে দাড়িয়ে যাচ্ছে, অদ্ভূত ব্যপার, বাসে করে বেশ কয়েক যায়গায় ঘুরলাম-বেহালা, গড়িহাটি , নিউমার্কেট, হাওড়া, টালিগঞ্জ ইত্যাদি।

রাস্তার পাশে চায়ের দোকানে এক দাদার সাথেতো জমিয়ে আড্ডা দিলাম, ওনাদের বাড়ি নাকি ফরিদদুর ছিল, দাদার আমল থেকে নাকি এখানে চলে এসচে, টানা টানা কথা, তবুওতো বাংলা কথা , মনে এসে লাগে, ভাল লাগে। চায়ের দোকানেই দাদার এক বন্ধু এসে ধুমপান শুরু করল, দাদা বলছে ছেড়ে দে-এ নেশা, দেখ তোর ওপর কতজন ভরসা করে আছে রে, একবার চিন্তা কর – ভাল লাগেনা বলেন, এসব কথা শুনলে। সায়েন্স সিটিতে ঘুরতে গেলাম, ঢুকার আগে পানিপুড়ি (আহা ! মজা) , আলুদম ও ফুসকা খেলাম, বাইরের দোকানী দিদির সাথেও খুব খাতির হয়ে গেল, শেষ ফুসকাটা ওনি ফ্রি ই খাইয়ে দিল – ভাললাগা ও ভালবাসার একটা অনুভূতিতো মানুষের ভিতরই থাকে এবং সেটা মানুষই মানুষের প্রতি দেখায়। এবার ফিরে আসার পালা, ডাক্তার দেখিযে বাংলাদেশের উদ্দেশ্যে রওনা হব- দাদা, আবার কবে আসবা, মুন্নি আপার গলা – আসার আগে তিনদিন ওনার বাসায় ঘরোয়া ভাবে আমরা খাওয়া – দাওয়া করেছি, অল্প দামে, দোতলা ছাদে আরো অনেক বায়লাদেশী ভাইবোনেরা একসাথে খাওয়া দাওয়া করেছি, একটা পিকনিক পিকনিক ভাব ছিল, মুসলিমদের জন্য, অন্যদের জন্যও, সে বেশ আন্তরিকতার সাথে খাবার দিয়ে থাকে, পুরো পরিবার সকাল, দুপুর ও রাতের খাবারের আয়োজন করে থাকেন, কেউ না আসতে পারলে বা অসুস্থ্য থাকলে নির্দিষ্ট ঠিকানায় বাসায় খাবার পৌছে যায়। এরকম বেশকিছু দিদিও দেখলাম যারা এরকম ঘরোয়া খাবারের আয়োজন করে থাকেন। সব চেয়ে ভাল লেগেছে বাসে করে চলাচল, মেয়েরা অনেক স্বাধীন ও প্রফেসনাল মনে হল, ঘরের আটপৌরে বধূও কি সুন্দর, সকালে সাইকেল নিয়ে বেরিয়ে পড়ছে কাজে, ছেলেরাও কম নয়, সদাচঞ্চল সকলের কর্মচঞ্চল পদচারনা যা আমাদের দেশেও পরিলক্ষিত হচ্ছে, গর্বের সাথে সবাই এগিয়ে যাচ্ছে।

মানুষ মানুষে দ্বন্ধ, মানুষ মানুষে যুদ্ধ, ভাল লাগেনা। পৃথিবীর মানুষ ভাল থাকতে চায়, ভালবাসতে চায়, পৃথিবীর কোথাও যুদ্ধ ও হাঙ্গামা দেখতে চায় না, এসি বাসের মোলায়েম দোল ও ভাললাগার আবেশে, ভারত ইমিগ্রেশন পার হয়ে বাংলাদেশের মাটির বুক ঘেষে কখন যে আরামবাগ, বাংলাদেশ চলে এসেছি মনেই করতে পারিনি।

বড় ভালবাসি পৃথিবীর মানুষকে, বড় ভালবাসি বাংলাদেশকে, সন্মান করি অন্য দেশের সকল নাগরিককে, সন্মান করি সন্মানের যোগ্য পৃথিবীর যে কোন দেশকে।

****************************

লেখক : মো: জাহাঙ্গীর হোসেন, সাবেক সেনা কর্মকর্তা, কবি, সাহিত্যিক ও সাংবাদিক।

এই রকম আরও খবর




Editor: Habibur Rahman
Dhaka Office : 149/A Dit Extension Road, Dhaka-1000
Email: [email protected], Cell : 01733135505
[email protected] by BDTASK