রবিবার, ০৯ ডিসেম্বর ২০১৮
Friday, 13 Apr, 2018 10:56:15 am
No icon No icon No icon

দেশে-বিদেশে ভ্রমন করার সময় সতর্কতা অবলম্বন প্রসঙ্গ


দেশে-বিদেশে ভ্রমন করার সময় সতর্কতা অবলম্বন প্রসঙ্গ


আশিফুল ইসলাম জিন্নাহ: কোথাও যাবার আগে/পরে সব কিছু ধীরস্থির ভাবে, মাথা ঠান্ডা রেখে সুন্দর, সুশৃংখল, পরিকল্পিতভাবে করার জন্য সব কিছু লিস্ট করে সিরিয়াল করে লিখে সাজাতে হবে এবং সেই অনুসারে করলে/করতে পারলে সবক্ষেত্রে অনেক ভাল, সুবিধা হয়/হবে। যেমন কি কি প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, জিনিসপত্র সাথে নিবেন/গুছাবেন? কোথায় থাকবেন? কোথায় কোথায় যাবেন/বেড়াবেন?সেখানে কি কি প্রয়োজনীয়/গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো করবেন?/জিনিসপত্র কিনবেন/আনবেন?/ 
সেই অনুসারে প্রতিদিনের পরিকল্পনাগুলো করবেন এবং সেই অনুসারে সব কিছু সম্পন্ন করবেন/করার চেষ্টা করবেন। এখানে একটি বেসিক ধারনা দেয়া হয়েছে মাত্র। প্রত্যেকের আর্থ-সামাজিক অবস্থান, জেন্ডার, বয়স, সমস্যা/অসুখ, অভিরুচি, প্রয়োজন ভেদে বিভিন্ন জিনিস ব্যবহার করেন/করতে পছন্দ করেন। তাই প্রত্যেকেই যে যার প্রয়োজন অনুযায়ী সাথে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র লাগেজে/সাথে নিবেন।

কোথাও যাবার আগে সব কিছু ঠিকমত আছে কিনা ভালভাবে চেক করে নিবেন/রাখবেন।

সেই অনুসারে বিদেশে যাবার আগে বাসার ইলেক্ট্রিক, ওয়াসা, গ্যাস, টেলিফোন বিল, কাজের লোকদের বেতন আংশিক/পুরোপুরি ক্লিয়ার করে যাবেন।

বাসার ও রুমের সব ইলেক্ট্রিক সুইচ, মান্টিবোর্ড, যন্ত্রপাতি বন্ধ ও চেক করে যাবেন। আলমারী, ড্রয়ার, রুমের দরজা ও মেইন দরজায় ভালভাবে লক ও তালা দিয়ে যাবেন।

বাসার বিভিন্ন ক্ষেত্রের কাজের লোকদের সাথে কথা বলে যাবেন/বাসায় থাকা লোকদের তাদের দায়িত্ব ভালভাবে ব্রিফিং করে(বুঝিয়ে দিয়ে)যাবেন।

যাবার/ফিরে আসার দিন ঘড়িতে অবশ্যই এলার্ম দিয়ে রাখবেন। ঘুম থেকে উঠার জন্য এবং কাপড় পড়ে প্রস্তুত হয়ে সময় মত বের হবার জন্য। 
লাগেজগুলোতে ভালভাবে তালা মেরে চেক করবেন এবং তার চাবি হ্যান্ড ব্যাগে রাখবেন।

ব্যাগ ও লাগেজে মালের ওয়েটের ব্যাপার বিবেচনা করে একান্ত প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সাথে নিবেন, কিনবেন, আনবেন। ওয়েটের ব্যাপারটি ওয়েট দিয়ে ভালভাবে নিশ্চিত হবেন।

ঘুম থেকে উঠা, প্রস্তুত হওয়া, সকালে নাস্তা সাড়া, বাইরে বেড়ানো, শপিং, অন্যান্য সকল নিত্য প্রয়োজনীয় ও গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো করবেন/সেরে নিবেন। বেড়ানোর/ভ্রমনের জন্য নির্ধারিত দিনগুলোর ভেতর/সে সবের ফাঁকে পর্যায়ক্রমে কাজগুলো শেষ করবেন/করার চেষ্টা করবেন।

চশমা/গগোজ, হাত ঘড়ি, রুমাল, এয়ার মেশিন, হাত ছড়ি, সিগারেট-লাইটার নিবেন যদি সব সময় ব্যবহার করেন।

প্যান্টের পকেট/পার্সে মানিব্যাগ, মোবাইল, মানিব্যাগে/পার্সে নিজের আইডি/ভিজিটিং কার্ড, ডমিস্টিক/রোমিং ডেবিট/ক্রেডিট কার্ড নিবেন।

আপনি দেশ/বিদেশের কোন সরকারী/বেসরকারী প্রতিষ্ঠানে চাকুরী/কাজ করলে, 
আপনি দেশ/বিদেশের কোন সরকারী/বেসরকারী প্রতিষ্ঠানে পড়ালেখা করলে/করালে, 
নিজস্ব প্রতিষ্ঠান/অফিস/দোকান থাকলে তার আইডি ও ভিজিটিং কার্ড এবং আইডি কার্ডের ফটোকপি সাথে রাখবেন।

গলায় ঝুলানোর জন্য মাঝারি আকারের ট্রাভেল ব্যাগ কিনবেন এবং সাথে নিবেন। 
তাতে টাকা/ডলার/অন্যান্য বিদেশি মুদ্রা,
পাসপোর্ট ও এর প্রথম পেইজের ফটোকপি,
রানিং ভিসা ও এর ফটোকপি,
এনআইডি কার্ড ও এর ফটোকপি,
ডলার ইন্ডুসমেন্ট ও এর ফটোকপি,
ব্যাংক এস্টেটমেন্টের ফটোকপি, 
স্থল/আকাশ/নৌপথের যানবাহনের টিকিট ও বোডিং পাস,
লাগেজের তালা-চাবি, 
কোন কিছু লেখার জন্য পেন-প্যাড হ্যান্ড ব্যাগে রাখবেন।

এইগুলোর ফটোকপির আরো একসেট অন্য লাগেজের নিরাপদ স্থানে রাখবেন। দুর্ঘটনাবশত কোন কারণে আপনার কাছ থেকে মূল কাগজপত্রের ব্যাগটি পড়ে/হাড়িয়ে গেলে/চুরি/ছিনতাই হয়ে গেলে তখন সেই চরম বিপদকালে সেই ফটোকপিগুলো আপনার অনেক কাজে আসবে প্রামাণ্য দলিলের মত এবং তখন আপনার অনেক কাজ অনেকটা সহজ হবে।

সাথে থাকা হাতের একটি ব্যাগে পানি, ড্রিংক্স বোতল, বিস্কিট, চিফস, চকলেটের মত হালকা কিছু খাবার সাথে নিতে/রাখতে পারেন প্রয়োজনবোধ মনে করলে। যাত্রাপথে কখনো কোথাও/কোন কারণে পানি/খাবারের সমস্যা হলে তা থেকে রেহাই পাওয়া যাবে। সব সময় সাথে কিছু টিস্যু, ওয়েট টিস্যু, প্লাস্টিক ব্যাগ রাখবেন। বিভিন্ন সময় প্রয়োজনে কাজে আসবে এগুলো। যেমন, বমি ভাব লাগলে/মাথা ঘুরলে/কিছু খেলে/পড়নের কাপড়ে কিছু পড়ে গেলে।

কেউ কোন বিশেষ অসুখ/রোগের রোগী/আক্রান্ত হলে তাকে অবশ্যই তার ডাক্তারের প্রেসকিপসনের নিয়মিত খাবার ঔষধগুলো সাথে নিতে হবে।

সাথে শিশু/ছোট বাচ্চা থাকলে তাদের জন্য তরল/হালকা খাবার, ২/৩টি প্যাম্পার, পড়ার জন্য ১/২সেট কাপড় হ্যান্ড ব্যাগে রাখবেন।

বেড়াবার সময় সব সময় আরামদায়ক কাপড়/সু/সেন্ডেল পড়ে যাবেন, তা পড়ে ঘুরবেন এবং ঘুমাবেন।যার যার পড়ার কাপড়, ঘড়ি, চিরুনী, ব্রাস, জুতা, সেন্ডেল, টাওয়াল, বডি স্প্রে সাথে নিবেন।

মেয়েরা তাদের প্রয়োজনীয় ব্যাগ/পার্সে মেকাপ, কসমেটিক, অর্নামেন্ট সামগ্রী, ছোট মিরর, ব্যান্ড/ক্লিপ, রুমাল, স্যানিয়ারী প্যাড সাথে নিবেন।

ছেলেরা বেল্ট, রেজার, সেভিং জেল সাথে নিবেন।

ছুড়ি, দড়ি, টর্চ, পানি/চায়ের জন্য ছোট এসএস/থার্মোস ফ্লাক্স, ছোট ওয়াটার বোটল, টুথপিক, কটনবাট, পেস্ট, লিকুইড সপ, স্যাম্পু, চিকন-মোটা কস্টেপ, সু-কালার/সাইনার নিবেন।

মোবাইল, এয়ারফোন, পাওয়ার ব্যাংক, ল্যাপটপ, আইপ্যাড, ডিজিটাল ক্যামেরা এবং সকল প্রকার ইলেক্ট্রনিক্স জিনিসের চার্জার, কানেক্টর, ব্যাটারী সাথে নিবেন।

শীতের সময় দেশে/বিদেশের কোথাও গেলে/বিদেশে কোন শীতপ্রধান অঞ্চলে যাবার সময় অবশ্যই শীতের কাপড় সাথে নিবেন।

যারা হোটেল/রিসোর্ট/থিম পার্কে সুইমিং করতে চান/করবেন তারা সুইমিং ক্যাপ, গগজ, হাফপেন্ট/পোষাক সাথে নিবেন।

শিশু/ছোট বাচ্চাদের সকল প্রকার তরল/হালকা খাবার, আরামদায়ক, ভাল পড়ার কাপড়, সু/সেন্ডেল, পেম্পারস, পাউডার, লোশন, কাজল, খেলনাসহ সকল প্রয়োজনীয় জিনিস সাথে নিবেন।

একটু বড়/টিনেজ বাচ্চা সাথে থাকলে তার সকল প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র, কাপড়, সু/সেন্ডেল, ঔষুধ, কিছু হালকা খেলনা, পিএসপি, মোবাইল, আইপড, কিছু খাবার সাথে নিবেন/রাখবেন সর্বদা।

কেউ কোন বিশেষ অসুখ/রোগের রোগী/আক্রান্ত হলে তাকে অবশ্যই তার ডাক্তারের প্রেসকিপসনের নিয়মিত খাবার ঔষধগুলো সাথে নিতে হবে।

যার যার প্রয়োজনীয় প্রেসকিপশন, পরিমান মত রেগুলার খাবার ঔষুধ, ডাক্তারী টেস্ট ও তার রিপোর্ট, এক্সেরে ও এর রিপোর্ট সাথে নিবেন।

কারণ সেখানে যাতে আপনি নিয়মিত ঔষধ খেতে পারেন। আর যদি সেখানে কোন ডাক্তার দেখান/কোন কারণে দেখাতে হয়? টেস্ট-এক্সেরে করতে হয়? তখন এগুলো সাথে নিলে/থাকলে আরো ভালো হবে।

গ্যাস্টিক, জ্বর, বমি, পাতলা পায়খানা, ব্যাথার টেবলেট, ক্যাপ্সুল নিতে হবে। যে যেটা খান/ব্যবহার করেন।

ফাস্ট এইড কিড সাথে নিয়ে যাবেন। তাতে তুলা, ব্যান্ডেজ, ব্যান্ডেজ কসটেপ, স্যাভলন, বার্নার ক্রিম, কিছু ওয়ান টাইম টেপ নিবেন। যদি সেখানে কারো কোন সমস্যা হয়?/কেউ কোন ছোটখাট ব্যাথা পায়? তখন এগুলো অনেক কাজে আসবে।

যাদের ঘাড়/শরীর/হাড়ে/বাতের ব্যাথার সমস্যা আছে তারা অবশ্যই সাথে ঘাড়ের/কোমরের বেল্ট, ইলেক্ট্রিক হট ব্যাগ সাথে নিবেন।

কোথাও যাবার কয়েকদিন পূর্ব থেকে যার যার সকল প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র লাগেজের সামনে পর্যায়ক্রমে রাখবেন এবং এরপর যাবার দুই/একদিন পূর্বে এগুলো সুন্দরভাবে থাক থাক করে ভরে পেক করবেন।

চাইলে কিছু পুরাতন কাপড়, ব্যবহারের জিনিস নিতে পারেন। যাতে আসার সময় সেগুলো ফেলে আসতে পারেন। তাহলে লাগেজে কিছুটা জায়গা বাড়বে, কেনাকাটা কিছুটা বেশি করতে পারবেন এবং কিছুটা বেশি মালামাল আনতে পারবেন।

বিদেশে গিয়ে প্রথমেই নতুন সিম কিনে মোবাইলে লাগিয়ে নিবেন এবং পর্যাপ্ত টাকা/প্যাকেজ রিচার্জ করে নিবেন। আর মোবাইল থেকে খোলা পুরানো অন্য দেশি/বিদেশি সিমগুলো আলাদা একটি ছোট বক্সে ভরে সেটি লাগেজ/ব্যাগের ভেতর রেখে দিবেন।

যে হোটেলে থাকছেন সেই হোটেলের কন্টাক্ট নাম্বার প্রথমেই মোবাইলে ইন্সটল করে রাখবেন এবং মানিব্যাগ/পার্সে হোটেলের ভিজিটিং কার্ড, রিসিট সাথে রাখবেন।

বিদেশে গেলে নতুন সিমের নাম্বারগুলো প্রথমেই/অবশ্যই পরস্পরের মোবাইলে ইন্সটল করে নিবেন। তাহলে নিজেদের/পরস্পরের মধ্যে যোগাযোগ ও কাজ করা সহজ হবে।

এছাড়া কিছু গুরুত্বপূর্ণ নাম্বার কোন প্যাড/কার্ডে লিখে লাগেজের নিরাপদ স্থানে রেখে দিবেন। তাহলে কোন কারণে মোবাইল নষ্ট হয়ে/হারিয়ে গেলে/চুরি/ছিনতাই হলে তখন সেই প্যাড/কার্ডে লেখা নিজেদের এবং অন্যের গুরুত্বপূর্ণ নাম্বারগুলো অনেক কাজে আসবে।
যেকোন কিছু প্রয়োজনবোধ মনে করলে মোবাইলে পিক তুলে রাখবেন বুঝানোর জন্য/প্রমাণ স্বরূপ।

কোথাও বেড়াতে যাবার/যাত্রার পূর্বে, বেড়ানোর সময়কালে উল্টাপাল্টা/রাস্তার কমদামী জিনিস খাবেন না। কারণ এতে পেট খারাপ হতে পারে এবং আপনার জার্ণি ও বেড়ানোর আনন্দ নষ্ট হতে পারে।

বেড়ানোর সময় ভাল দোকানের হালকা ফাস্টফুড/ভারী খাবার, ফ্রেস জুস/লিকুইড বেশি খাবেন বেশি। 
প্রচলিত খাবার ছাড়াও বিভিন্ন হোটেল/রাস্তার ধারে ঐ রাষ্ট্রের জনপ্রিয় ও বিখ্যাত লোকাল ও স্ট্রিট ফুডগুলো খাবেন।

যতটুকু সম্ভব নিজে ও নিজের পরিবারের সদস্যদের নিরাপদ রাখার চেষ্টা করবেন। অতিরিক্ত সাহসীপনা, এডভেঞ্চারনেস এবং খামখেয়ালীপনার কারণে অনেকে নিজে ও নিজের পরিবারকে নিয়ে নানাবিধ বিপদে/দুর্ঘটনার কবলে পড়ে যান/তার নির্মম শিকার হন।

নিরালা রাস্তা/এলাকা/রিসোর্টতে বুঝেশুনে ঘুরতে/থাকতে যাবেন/সেই স্থান দ্রুত ত্যাগের চেষ্টা করবেন,
সমুদ্র সৈকতের বেশি গভীরে গিয়ে গোসল করবেন না,
যারা ভালভাবে সাতার পারেন না তারা কখনো সুইমিং পুলের ডিপ/ঢালু/গভীর অংশে নামবেন/যাবেন না।
খোলা গ্লাসের গাড়ি থেকে/রাস্তায়/বিপদজনক কোন জায়গায় ছবি/সেল্ফি তুলবেন না। গাড়ির জানালার বাইরে হাত রেখে চলাচল করবেন না। বেশি/গভীর রাতে কোথাও একা নিরালা রাস্তা/স্থানে বেড়াবেন না(অবশ্য স্থান, সেখানকার পরিস্থিতি ও নিরাপত্তার ব্যাপার ভালভাবে বুঝে যেতে পারেন)।

ভ্রমনকালে প্রচন্ড সূর্যের তাপ/গরম/বৃষ্টি/ঘূর্ণ ঝড়/ধুলা ঝড়/মরু ঝড়/টর্নেডো/শীত/শৈত্যপ্রবাহ/তুষারপাত/বন্যা/জলোচ্ছাসসহ যেকোন প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময়/বিভিন্ন ধরনের রাজনৈতিক অস্থিরতা/গোলযোগ/সংঘাত/গৃহযুদ্ধ/যুদ্ধাবস্থাকালে নিজে/নিজেদের সেসব থেকে রক্ষা করার নানাবিধ ব্যবস্থা/কৌশল অবলম্বন করতে হবে। যাতে নিজে/সবাই শারীরিকভাবে সুস্থ্য/নিরাপদ থাকেন।

বেড়াবার সময় সাথে থাকা সব দেশি/বিদেশি টাকা কখনো একসাথে এক ব্যাগ/লাগেজে রাখবেন না। এবং সাথে নিয়ে কোথাও যাবেন না/সাথে নিয়ে ঘুরবেন না। কারণ কখনো কোন কারণে, কোন স্থানে মানিব্যাগ, হ্যান্ডব্যাগ, লাগেজ হাড়িয়ে গেলে/পকেট থেকে টাকা পড়ে গেলে/তা চুরি/পকেটমার/ছিনতাই হলে তখন বিশাল সমস্যার মধ্যে পড়ে যাবেন।

এজন্য সব সময় সাথে থাকা দেশি/বিদেশি টাকা কয়েকভাগে রাখবেন, প্রয়োজন অনুসারে টাকা নিয়ে বের হবেন, খরচ করবেন। আর সামান্য কিছু টাকা যেকোন অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির জন্য মানিব্যাগ ও লাগেজের নিরাপদ স্থানে আলাদাভাবে সংরক্ষণ করবেন/লুকিয়ে রাখবেন।

ইমিগ্রেশনের/বোর্ডিং পাসের কাগজপত্র ভাল ও সঠিকভাবে পূরণ করবেন এবং চেক করে জমা দিবেন।

দেশে/বিদেশে যাবার/আসার/ঘুরার সময়/যেকোন ধরনের যানবাহনে উঠা/নামার সময় থেকে ইমিগ্রেস চেকিংয়ের সময়/পর আপনার পকেটে মানিব্যাগ, মোবাইল, গলায় ঝুলানোর ব্যাগ, হ্যান্ড ব্যাগ/লাগেজ গুলো সব ঠিকঠাক আছে কিনা? সব লাগেজ নিয়ে উঠেছেন/নেমেছেন/সাথে আছে কিনা? এইসব ব্যাপারে সর্বদা ভালভাবে লক্ষ্য রাখবেন/চেক করবেন।

ভ্রমনকালে প্রায় সবার সাথেই একটা নির্দিষ্ট পরিমান টাকা নেয়া থাকে এবং তাই বিভিন্নক্ষেত্রে পরিকল্পনা মত বাজেটের ভেতর খরচ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়/ব্যাপার। কারণ দেশের কোন স্থান/কোন দেশে/বিদেশে ভ্রমনকালে যেতে-আসার, থাকার, খাওয়ার, বেড়ানোর, শপিং, মেডিকেল টিটমেন্ট করার এবং অন্যান্য খরচের একটি সামগ্রিক ধারনা নিয়েই সেই অনুসারে একটি নির্দিষ্ট পরিমান এমাউন্ট ঠিক করে/সাথে নিয়েই সবাই নির্দিষ্ট কিছুদিন দেশ/বিদেশের বিভিন্ন স্থানে ভ্রমনের জন্য প্লান করে। সেই অনুযায়ী বেড়াতে যায় এবং বেড়ায়ে আসে।

তাই বেড়াতে যাওয়া-আসা, সেখানে হোটেলে থাকার, হোটেল-রেস্টুরেন্টে খাবার খাওয়ার, বিভিন্ন বিনোদন স্থলে, রিসোর্ট/পর্যটন অঞ্চলে বেড়াবার, আভ্যন্তরীণ ট্রান্সপোর্টে, বিভিন্ন প্রয়োজনীয় ও শখের জিনিসপত্র শপিং, ট্রিটমেন্টসহ অন্যান্য সকলক্ষেত্রে খরচের বিষয়গুলো সবাইকে অবশ্যই নিজেদের নির্দিষ্ট বাজেটের টাকার ভেতর/সাথে সমন্বয় ও পরিকল্পনা করে নিতে এবং সেই অনুসারে চলতে হয়/ হবে। ধনাঢ্য/উচ্চ মধ্যবিত্ত শ্রেনির মানুষের জন্য টাকা/বাজেট কোন সমস্যা হয়/থাকে না(কারণ তাদের কাছে পর্যাপ্ত/আনলিমিটেড নগদ টাকা/ইন্টারন্যাশনাল রোমিং ডেবিট/ক্রেডিট কার্ড/বিভিন্নভাবে টাকার ব্যবস্থা থাকে)। বিশেষ করে সাধারণ মধ্যবিত্ত/নিম্ন মধ্যবিত্ত শ্রেনির মানুষের জন্য দেশ/বিদেশ যেখানেই হোক স্বল্প টাকা/তার আলোকে বাজেট/খরচ সর্বদাই একটি/সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার/সমস্যা(কারণ তাদের কাছে সব সময়ই একটি নির্দিষ্ট/সীমিত পরিমানের টাকা থাকে এবং তাই তাদের সর্বদা সবক্ষেত্রেই বুঝেশুনে নির্দিষ্ট বাজেটের ভেতর ঘুরতে, খরচ, কেনাকাটা করতে হয়)।

সার্বিকভাবে দেশ/বিদেশ ভ্রমনকালে এইসব একান্ত প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, জিনিসপত্র সাথে নিলে/থাকলে, পরিকল্পনা মত চললে, সাবধানে থাকলে/বেড়ালে, বিভিন্ন স্থানে ফরমালেটিগুলো ঠিকমত মেইনটেন করলে এবং সবক্ষেত্রে বুঝেশুনে বাজেট ও পরিকল্পনা অনুসারে টাকা বরাদ্ধ/খরচ করলে, শখ/সাধ্যের ভেতর সব কিছু মনে করে সাথে রাখলে/নিয়ে আসলে আপনার/আপনাদের দেশ/বিদেশের যেকোন স্থানে যেকোন সময় ভ্রমন মোটামোটি পরিকল্পিত, নির্বিঘ্ন নিরাপদ, চিন্তামুক্ত আনন্দদায়ক, সুন্দর, সফল হবে সুনিশ্চিত/মোটামোটিভাবে আশা করা যায়। আল্লাহ হাফিজ। সকলে ভাল ও সুস্থ্য থাকুন।

বিঃ দ্রঃ আমার লেখা এই পোস্টটি যে কেউ চাইলে অবিকৃতভাবে শেয়ার করতে পারেন। তবে মূল লেখকের নাম বাদ দিয়ে অন্য কোন ব্যক্তি তার বা অন্যের নামে অবিকৃতভাবে বা সংশোধিতরূপে কপি পেস্ট করে পোস্ট, শেয়ার, প্রচারণা এবং প্রপাগান্ডা করবেন না প্লিজ।

অসীম সাহসী পৃথুলাকে বীরের মর্যাদা দেয়া হোক

লেখক:আশিফুল ইসলাম জিন্নাহ, সিনিয়র সাংবাদিক, টাইমস ২৪ ডটনেট, ঢাকা:
যোগাযোগের জন্য[email protected] gmail.

এই রকম আরও খবর




Editor: Habibur Rahman
Dhaka Office : 149/A Dit Extension Road, Dhaka-1000
Email: [email protected], Cell : 01733135505
[email protected] by BDTASK