রবিবার, ২১ অক্টোবর ২০১৮
Tuesday, 26 Dec, 2017 12:26:44 am
No icon No icon No icon

'পার্পল ড্রিম'


'পার্পল ড্রিম'


টাইমস ২৪ ডটনেট, ঢাকা: এতো দিনে তো নিশ্চয়ই সবাই বুঝে গেছেন যে 'পার্পল ড্রিম' মানে কি? এই লেহ-লাদাখ ট্যুরটাই হল আমাদের 'পার্পল ড্রিম'। আমরা যারা এই ট্রিপের মেম্বার তারা সবাই এই 'পার্পল ড্রিম' টিমের অন্তর্ভুক্ত স্বাভাবিক ভাবেই। 'পার্পল ড্রিম' টিম যখন লেহ শহরে পৌছালো ততক্ষণে দুপুর গড়িয়ে গেছে। হুট করে লেহ শহরে ঢুকেই তেমন একটা মুগ্ধ হতে পারিনি চারদিকে, গলি-ঘুপচি আর ঘিঞ্জি রাস্তায় প্রচুর ধূলা দেখে। কিন্তু আমাদের কাছে থাকা একটি হোমষ্টের ঠিকানা খুঁজে নিয়ে সেদিকে যেতেই মুগ্ধতা শুরু হল। চারপাশের রুক্ষতার মাঝে সবুজ প্রকৃতি, বাড়ির গেটে বা আঙিনায় ঝুলে থাকা আপেল গাছ আর রঙ-বেরঙের ফুল দেখে।
আমাদের কাছে থাকা হোটেলের ঠিকানায় গিয়ে নিজেদের জন্য প্রয়োজনীয় রুম খুঁজে পেলাম না। তাই আর একটু সামনে গিয়ে অন্য বাড়িতে রুম খুঁজতে শুরু করলাম। ঠিক পরের বাড়িতেই আমরা আমাদের কাঙ্ক্ষিত ঠিকানা খুঁজে পেলাম যদিও প্রথম রাতের জন্য। জনপ্রতি ভাড়া মাত্র ৩০০ রুপী! পরের রাতের জন্য আগে থেকেই ওনাদের বুকিং ছিল। যে বাড়িটার তিনটি অপূর্ব রুমে আমরা শেষ দুপুরে নিজেদের আবাস বানিয়েছিলাম সেটাই সন্ধ্যা হতে না হতেই আমাদের মামা বাড়ি বানিয়ে ফেললাম নিজেরা ও বাড়ির লোকজনের সহযোগিতায়। শুধু সেই গল্পটাই এখন বলবো, যে কিভাবে ঢাকা থেকে বেড়াতে যাওয়া একটি দল সুদূর লেহ শহরে খুঁজে পেল তাদের মামাবাড়ি!
আসলে হয়েছে কি পুরো বাড়ির পরিবেশ, তাদের আন্তরিকতা, আতিথিয়তা, আপ্যায়নে, পুরো বাড়ির সব জায়গায় অবাধ যাতায়াতের স্বাধীনতা সবকিছু মিলে আমরা তাদেরকে মামাবাড়ি ভাবতে শুরু করেছিলাম! আর তারাও আমাদের সকল কিছু হাসি মুখে মেনে নিয়েই আন্তরিকভাবে সহযোগিতা করছিলেন। সেখানে ওয়াইফাই ছিল কিন্তু রুমে গেলে সেটা ঠিকমত কাজ না করাতে আমরা অতিথিদের জন্য ড্রইংরুমের সোফায় বসে নেট ইউজ করছিলাম। এদের মধ্যে দুই একজন আবার তাদের নিজেদের ড্রইং রুমের কাছে বসে বা দাঁড়িয়ে নেট ইউজ করছিলাম। এটা দেখে বাড়ির প্রধান কর্তা, নরগে বা আমাদের মামা আমাদেরকে তাদের ড্রইং রুমে গিয়ে বসতে বললেন! এই আহবান পেয়ে একে একে সবাই সেখানে গিয়ে আরামের সোফায় বসে কুশন কভারে ঠেস দিয়ে ইচ্ছামত নেট ব্যবহার করতে শুরু করলাম।
শেষ মেশ অবস্থা এমন হল যে কেউ আর রুমেই যাইনা! অন্য কোন কাজ থাকলে সেটা শেষ করে আবার মামাদের ড্রইং রুমে চলে আসি। এভাবে বিকেল, সন্ধ্যা রাত করে রাতের ডিনারের পরেও আমরা সেখান থেকে না উঠে কেউ কেউ রাতভর ওখানেই কাটিয়ে দিলাম, নরম কম্বলের নিচে শুয়ে আর তুলতুলে কুশন মাথায় আর পিঠের নিচে দিয়ে। এমনকি এই অবস্থা দেখে রাতে যদি ঠাণ্ডা লাগে তাই একফ্লাক্স গরম পানি পর্যন্ত পাশে রেখে গেলেন নরগে মামার মা বা আমাদের নানি! আর রাতের ডিনারে ছিল একেবারেই ঘরোয়া নিজেদের বাগানের সদ্য তোলা সবজি, ডিম ভুনা, ডাল, আর সাদা ভাত, পেয়াজ-শশা আর টমেটোর সালাদ! ১২০ রুপীতে যেটা আশাই করা যায়না! যেন নিজেদের বাড়িতে বা মামা বাড়িতেই খেতে বসেছি সবাই মিলে এমন পরিবেশন আর আপ্যায়ন তারা করেছে। রান্নার স্বাদও ছিল অসাধারণ। ঠিক যেন সবাই তার মামা বাড়িতেই রাতের ডিনার করছিলাম! 
পরদিন সকালে ঘুম ভাঙতে না ভাঙতেই দেখি আমাদের জন্য বেড টি রেডি করে নিয়ে এসেছেন বাইরে যাবার আগেই। বাহ কি অসাধারণ যে ছিল সেই মুহূর্তটুকু। আমরা এভাবেই চিন্তাই করিনি যে না চাইতেও কেউ কোন বাড়ির পেইং গেস্টকে ভোর ভোর গরম চায়ের গ্লাস তুলে দিতে পারে। অভাবিত ছিল সেই আপ্যায়ন। যে কারণে পরের রাত অন্য জায়গায় থাকতে হলেও তিনদিন পরে আবার যখন লেহ ফিরে আসবো ঠিক করেছিলাম তখনকার জন্য আমাদের মামাবাড়িতেই থাকবো বলে নিশ্চিত করে গিয়েছিলাম।
যেদিন আবার ফিরে আসি প্যাংগং ঘুরে, সেদিনও মামা বাড়িতে ঠিক একই রকম আপ্যায়ন আর আদর পেয়েছিলাম। এমনকি আমার তো মনে হল আগের দিনের চেয়ে আদর-আপ্যায়ন আর আতিথিয়তা অনেক বেশীই ছিল। যদিও সেদিন মামা বাসায় ছিলোনা, মামিই নিজ হাতে আমাদের রুমের সবকিছু গুছিয়ে রেখেছে রুমে ঢুকেই সেটা বোঝা গেছে! একদম টিপটপ করে গোছানো বিছানা, ধবধবে বালিশ, কি দারুণ করে খাটের উপরে সাজানো নরম কম্বল, বিশাল কাঁচের জানালায় ঝলমলে আর ঝকঝকে পর্দা। শুকনো ঝকঝকে বাথরুম আর গরম পানি। মোট কথা একদম মনের মতর চেয়েও বেশী বেশী ছিল সবকিছুর আয়োজন। দেখেই বোঝা গিয়েছে কোনটা ছেলেদের হাতের কাজ আর কোনটা মেয়েদের হাতের! মানে কোনটা মামার কাজ আর কোনটা আমাদের মামির কাজ! এতোটাই পরিপাটি ছিল সবকিছু।
আহ দারুণ দুটি রাত কাটিয়েছিলাম আমাদের 'পার্পল ড্রিম' টিম স্বপ্নের মত লেহ শহরের এক স্বর্গীয় বাড়িতে। যেটা আমাদের সবার সম্মতিক্রমেই হয়ে গিয়েছিল 'পার্পল ড্রিমে'র মামা বাড়ি! ইনশাল্লাহ একদিন আবারো যাবো লেহ শহরে আমাদের নতুন করে গড়ে ওঠা বা পাওয়া 'পার্পল ড্রিম' এর মামা বাড়ি।

'পার্পল ড্রিমের পূর্বের পর্বগুলি পড়ুন এখানে-

 'পার্পল ড্রিম' - পূর্বকথা (পর্ব ১)

 'পার্পল ড্রিম'- দুশ্চিন্তা নিয়ে যাত্রা শুরু (পর্ব ২)

 'পার্পল ড্রিম'- তিস্তা একপ্রেস ও দুধ কুমারীর হাড়ি ভাঙা (পর্ব ৩)

 'পার্পল ড্রিম'- কলকাতার আলুসেদ্ধ গরম ও এক পশলা বৃস্টি (পর্ব ৪)

'পার্পেল ড্রিম'- কালকা মেইলের দিন-রাত্রি (পর্ব ৫)

'পার্পল ড্রিম'- কেন কালকা মেইলে? (পর্ব ৬)

'পার্পল ড্রিম'- স্বপ্নের টয় ট্রেনে (পর্ব ৭)

'পার্পল ড্রিম'-একটি মানবিক গল্প (পর্ব ৮)

'পার্পল ড্রিম'- সুখের শহর সিমলা (পর্ব ৯) 

'পার্পল ড্রিম'- সিমলা-একহাতে সুখ যার অন্য হাতে দুঃখ! (পর্ব ১০)

 'পার্পল ড্রিম'- অলস শহর মানালিতে (পর্ব ১১)

 'পার্পল ড্রিম'- হোটেল ও আপেল বিভ্রাট (পর্ব ১২)

'পার্পল ড্রিম'- একটু বৃষ্টি, আর একটু মাতলামির গল্প (পর্ব ১৩)

'পার্পল ড্রিম'- বিয়াসের তীরে আলসেমিতে (পর্ব ১৪)

'পার্পল ড্রিম'-সেদিনও বৃষ্টি (পর্ব ১৫)

'পার্পল ড্রিম'- স্বপ্নের পথে যাত্রা শুরু (পর্ব ১৬)

'পার্পল ড্রিম' বিয়াসের উৎপত্তি স্থল ও রোথাং পাসের রোমাঞ্চ (পর্ব ১৭)

'পার্পল ড্রিম'-কেলং-জিসপা না সারচু? (পর্ব ১৮)

 'পার্পল ড্রিম'-সারচুর সোনা পাহাড় ও নির্ঘুম রাত (পর্ব ১৯)

'পার্পল ড্রিম'-পাঙ, একটি জনপদের গল্প (পর্ব ২০)

'পার্পল ড্রিম'- রুক্ষ ভালোবাসার শহর লেহ (পর্ব ২১)

এই রকম আরও খবর




Editor: Habibur Rahman
Dhaka Office : 149/A Dit Extension Road, Dhaka-1000
Email: [email protected], Cell : 01733135505
[email protected] by BDTASK