শনিবার, ২৪ আগস্ট ২০১৯
Saturday, 12 Jan, 2019 09:23:37 pm
No icon No icon No icon

কমলাপুর স্টেশন ঘিরে বেপরোয়া চাঁদাবাজি

//

কমলাপুর স্টেশন ঘিরে বেপরোয়া চাঁদাবাজি


কাউসার আকন্দ, টাইমস ২৪ ডটনেট, ঢাকা: রাজধানীর কমলাপুর স্টেশনকে ঘিরে চাঁদাবাজরা বেপরোয়াভাবে চাঁদাবাজি করছে বলে একাধিক অভিয়োগ পাওয়া গেছে। চাঁদাবাজদের বেতনভুক্ত লাইনম্যানরা লাঠি হাতে 'ডিউটি' করছে। তারাই গাড়ি থামিয়ে চাঁদা আদায় করছে। এছাড়াও কমলাপুর স্টেশনে ও ওভারব্রিজের উপর দোকান বসিয়ে প্রতিদিন চাঁদা আদায় করা হয়েছে। কতিপয় চাঁদাবাজ টিকেট কালোবাজারি করছে। কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন ও এর আশপাশের বিশাল এলাকা ঘিরে চলছে এ অরাজকতা।

জানা গেছে, রাজধানীর কমলাপুর রেলস্টেশনে ওভারব্রিজের উপর ৭০টি দোকান বসিয়ে চাঁদা আদায় করছে নবী ও তাজুল ইসলাম। প্রত্যেক দোকান থেকে ১২০, ১৫০ ও ২০০ টাকা করে চাঁদা নিচ্ছে। ৭০টি দোকান থেকে প্রতিদিন ১১ হাজার ৪০০ টাকা চাঁদা আদায় করছে। প্রতি মাসে ৩ লাখ ৪২ হাজার টাকা চাঁদা তোলা হচ্ছে। লাইনম্যান নবী ও তাজুল ইসলামকে চাঁদা তুলতে সহযোগিতা করছে জিআরপি পুলিশের কন্সটেবল কালাম।

চাঁদাবাজ নবী জানায়, প্রতি মাসে জিআরপি থানার ওসি, আরএনবি'র ভারপ্রাপ্ত এসি শহিদুল্লাহ, স্টেশন ম্যানেজার, স্টেশন মাস্টার ও ডিআরএমকে চাঁদার টাকার ভাগ দেয়া হয়। স্টেশনে চাঁদা নেয়ার ব্যাপারে সবাই জানেন।

সরেজমিনে দেখা গেছে, কমলাপুর ও এর আশপাশের এলাকায় সিএনজি অটোরিকশা বা যাত্রীবাহী বাস এসে থামলেই লাঠি হাতে এগিয়ে যাচ্ছে চাঁদাবাজদের নিয়োগকৃত লাইনম্যানরা। স্টেশন থেকে যাত্রী নিয়ে কোনো অটোরিকশা বের হলেও চাঁদা দিতে হচ্ছে। চাঁদাবাজদের একজন লাইনম্যান নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, তাদের এ এলাকা থেকে দৈনিক ৮ হাজার টাকা তোলার জন্য টার্গেট দেয়া হয়েছে। চাঁদা আদায়ের জন্য ৫-৬ জন লাইনম্যান এখানে দিনরাত ২৪ ঘণ্টা কাজ করে। এক লাইনম্যান বলে, এ এলাকায় কোনো অটোরিকশা ঢুকলেই ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়। এছাড়া ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটে চলাচলকারী কয়েকটি পরিবহণের বাস থেকে দৈনিক ১শ টাকা করে আদায় করে তারা।

জানা গেছে, কমলাপুর রেলস্টেশনের সামনের একটি ফাঁকা জায়গা সিএনজি অটোরিকশা স্ট্যান্ড হিসেবে ইজারা দিয়েছে রেল কর্তৃপক্ষ। ইজারার শর্ত অনুযায়ী এই স্ট্যান্ডে সিএনজি অটোরিকশা পার্কিং করলে ২৪ ঘণ্টার জন্য ৫ টাকা হারে দিতে হয়। দু'বছরের জন্য জায়গাটি ইজারা পেয়েছেন শাজাহানপুর থানা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক ইব্রাহিম খলিল মনির। কিন্তু এই ইজারার বিষয়টি অনুসন্ধান করতে গিয়ে ভয়ঙ্কর জালিয়াতির চিত্র পাওয়া গেছে। ইজারা কখন কীভাবে দেয়া হয়েছে তা জানতে চাইলে রেলের ঢাকা বিভাগীয় সম্পত্তি কর্মকর্তা একেএম নূরুন্নবী কবির প্রথমে ইজারা দেয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেন। পরে, একপর্যায়ে তার অধীনস্থ একজন কর্মচারী ইজারার ফাইল বের করে দেন। নথি অনুযায়ী ২০১৩ সালের ৭ জানুয়ারি থেকে পরবর্তী দু'বছরের জন্য ৫ লাখ ২৬ হাজার ৫শ টাকায় সিএনজি অটোরিকশা স্ট্যান্ডটি ইজারা দেয়া হয়েছে। জামানাত রাখা হয়েছে ১ লাখ ৭১ হাজার ৫শ টাকা। নথিতে সিএনজি অটোরিকশা স্ট্যান্ড ইজারা-সংক্রান্ত ২০১৩ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর দৈনিক জনকণ্ঠ পত্রিকার টেন্ডার বিজ্ঞপ্তির একটি কাটিং রাখা হয়েছে। কিন্তু অনুসন্ধান করে দেখা যায়, ১৭ সেপ্টেম্বর জনকণ্ঠ পত্রিকায় এ সংক্রান্ত কোনো টেন্ডার বিজ্ঞপ্তি ছাপা হয়নি। অর্থাৎ ঘুপছি বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে সরকারদলীয় লোককে ইজারা পাইয়ে দেয়া হয়েছে।
সূত্র: দৈনিক জনতা।

এই রকম আরও খবর




Editor: Habibur Rahman
Dhaka Office : 149/A Dit Extension Road, Dhaka-1000
Email: [email protected], Cell : 01733135505
[email protected] by BDTASK