শুক্রবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮
Thursday, 13 Sep, 2018 07:12:37 pm
No icon No icon No icon

দেশ উন্নয়নে সরকারের নীরব ভূমিকা


দেশ উন্নয়নে সরকারের নীরব ভূমিকা


রতন বালো, বিশেষ প্রতিনিধি, টাইমস ২৪ ডটকম, ঢাকা: টানা ১০ বছরের উন্নয়নমূলক কাজের একটি পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন প্রকাশ করতে যাচ্ছে মহাজোট সরকার। এ জন্য বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের চলমান  মেগা প্রকল্পগুলোর কাজের অগ্রগতির তথ্য পৃথকভাবে সংগ্রহ করা হচ্ছে। এসব কমসূচির কারণে সরকার উন্নয়ন মডেল হিসেবে নীরব ভূমিকা পালন করছে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সোনার বাংলা গড়ার স্বপ্ন বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ২০২১ সালের মধ্যে ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত করার জন্য এগিয়ে যাচ্ছে দেশ। আওয়ামী লীগ ২০০৯ সালে দ্বিতীয় মেয়াদে সরকার গঠনের পর ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়া ও রূপকল্প-২০২১ বাস্তবায়নের জন্য বিশেষ ১০টি উদ্যোগ নেয়া হয়। এসব প্রকল্প  দেশ উন্নয়নে বিশেষ মডেল হিসেবে কাজ করছে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। সরকারের অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত (ফাস্টট্র্যাকভুক্ত) এসব প্রকল্পের মধ্যে প্রথম হলো ‘একটি বাড়ি একটি খামার,আশ্রয়ণ প্রকল্প, ডিজিটাল বাংলাদেশ, শিক্ষা সহায়তা কর্মসূচী, নারীর ক্ষমতায়ন, ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ, কমিউনিটি ক্লিনিক ও মানসিক স্বাস্থ্য, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি, বিনিয়োগ বিকাশ ও পরিবেশ সুরক্ষা বিষয়ক প্রকল্পের কাজ সবচেয়ে বেশি এগিয়েছে। সবমিলিয়ে সরকারের বিভিন্ন সেক্টরে  এসব প্রকল্পের কাজের কারণে দেশ উন্নয়নে সরকার নীরব ভূমিকা পালন করছে।
২০১৪ সালে তৃতীয় মেয়াদে সরকার গঠনের পর দেশের সব মানুষের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করার জন্য দারিদ্র্য ও ক্ষুধামুক্তি, বাসস্থান, শিক্ষা, চিকিৎসা ও সামাজিক নিরাপত্তার বিষয়কে অগ্রাধিকার দেয়া হয়। একই সঙ্গে জনগণের দোরগোড়ায় ডিজিটাল সেবা পৌঁছানো, নারী ক্ষমতায়ন বাস্তবায়ন, ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছানো, পরিবেশ সুরক্ষা ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মোট দশটি বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করেন।
বিশ^ব্যাপী চরম অর্থনৈতিক মন্দা ভাব বিরাজমান  থাকা সত্তে¡ও সরকারের নিরন্তর প্রচেষ্টায় ২০১৬-১৭ অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি সাত শতাংশ অতিক্রম করেছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান। যা মাথাপিছু আয় ১৬০২ মার্কিন ডলারে উন্নীত হয়েছে। দারিদ্র্যের হার নেমে দাঁড়িয়েছে শতকরা ২২ ভাগে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩৩.৪০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে।
বঙ্গবন্ধু স্বপ্ন দেখেছিলেন ‘আমার দেশের প্রতিটি মানুষ খাদ্য পাবে, আশ্রয় পাবে, উন্নত জীবনের অধিকারী হবে। বঙ্গবন্ধুর সেই স্বপ্ন বাস্তবে রূপ দেয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেষ হাসিনা দারিদ্র্য বিমোচনে এসব প্রকল্পের উদ্যোগ গ্রহণ করেন। এই উদ্যোগসমূহ শতভাগ বাস্তবায়ন হলে ২০২১ সালের মধ্যে ক্ষুধামুক্ত মধ্যম আয়ের বাংলাদেশ ও ২০৪১-এর মধ্যে উন্নত বাংলাদেশ গড়ার জন্য দৃঢ় প্রত্যয়ে এগিয়ে যাচ্ছে সরকার।
 সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার (এমডিজি) সাফল্যের পর ২০১৬ সাল থেকে টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট (এসডিজি) বাস্তবায়নের পথে এগিয়ে চলেছে দেশ বলে জাতিসংঘের অভিমত। তাদের মতে এমডিজির লক্ষ্য অর্জনে বাংলাদেশ অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। এক অর্থ বাংলাদেশকে বলা হয় এডিজির রোল মডেল। এসডিজিতে সাফল্য অর্জনের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দশটি বিশেষ উদ্যোগ কার্যকরী ভূমিকা রাখবে এবং ২০২১ সালের মধ্যে ক্ষুধামুক্ত মধ্যম আয়ের বাংলাদেশ গড়তে সহায়তা করবে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।
এছাড়াও ১০টি উদ্যোগের  সবচেয়ে  বেশি এগিয়েছে পদ্মা  সেতুর কাজ। পদ্মা নদীতে তিনটি স্প্যান বসানো হয়েছে। ফলে এ প্রকল্পের প্রায় এক কিলোমিটার এখন দৃশ্যমান। অন্যদিকে রাজধানী ঢাকার যানজট নিয়ন্ত্রণে  মেট্রোরেলের কাজও এগোচ্ছে ক্ষিপ্র গতিতে। বাস্তবায়নাধীন এ প্রকল্পের দিয়াবাড়ী-আগারগাঁও পর্যন্ত প্রথম অংশ আগামী বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে সম্পন্ন হবে বলে আশা করা হচ্ছে। কাজের অগ্রগতির এ চিত্র বাস্তবতায়ও  দেখা যাচ্ছে। এমনকি  মেট্রোরেলের  কোচ  তৈরির কাজও শুরু হয়েছে জাপানে। এ ছাড়া পদ্মা  সেতুতে  যেদিন  থেকে গাড়ি চলবে  সেদিন  থেকে  রেল চলাচল ব্যবস্থাও খুলে  দেয়ার পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে বাস্তবায়নকারী সংস্থা। এ কাজের জন্য ইতোমধ্যে চীনের সঙ্গে চুক্তিও হয়েছে।  রেলের ইঞ্জিন এবং বগি  তৈরির কাজও শুরু করেছে চীন। 
এ ছাড়াও এসব উদ্যোগের বাইরে ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের কাজ এগোচ্ছে দ্রæতগতিতে। এ প্রকল্পের কাজ ইতোমধ্যে ৩০ শতাংশের  বেশি এগিয়েছে। এ এক্সপ্রেসওয়ের প্রথম অংশের ৭ দশমিক ৪৫ কিলোমিটার অংশে  মোট ২৩৩টি পিলার হবে। এরই মধ্যে ৪০টি পিলারের কাজ প্রায় সম্পন্ন হয়েছে। আংশিক কাজ হয়েছে আরো ৪০টি পিলারের। নির্মাণ কাজের জন্য আনা হয়েছে ভারি যন্ত্রপাতি। বিমানবন্দরের সামনে প্রি-কাস্ট ইয়ার্ড তৈরি করা হয়েছে। ওই ইয়ার্ডে এক্সপ্রেসওয়ের গাডার  তৈরি করা হচ্ছে। পরে তা নিয়ে মূল কাঠামোর সঙ্গে  জোড়া  দেয়া হচ্ছে। এ ছাড়াও ঢাকা-চট্টগ্রাম হাইস্পিড  রেলপথ নির্মাণ প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনও করা হবে এ  মেয়াদেই। যার প্রস্তুতি নিচ্ছে রেলপথ মন্ত্রণালয়।
পদ্মা  সেতু : জানা  গেছে, পদ্মা  সেতুর পঞ্চম স্প্যান বসানো হয়েছে। পুরো প্রকল্পের কাজ এগিয়েছে ৫৮ শতাংশ। পঞ্চম স্প্যান স্থাপনের মধ্য দিয়ে  সেতুর কাজ আরেক ধাপ এগিয়েছে। যার ফলে  সেতুটির ৭৫০ মিটার দৃশ্যমান হয়েছে। ৪২টি পিলারের মধ্যে ১১টি পিলার উঠেছে। নকশা বাকি রয়েছে সাতটি পিলারের। নদীতে ৪০টি পিলারে ২৬২টি পাইল ড্রাইভ করতে হচ্ছে পদ্মা  সেতুতে। এখন পর্যন্ত পাইল ড্রাইভ  শেষ হয়েছে ১৬৫টির।
 সেতু বিভাগের সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম জানান, পদ্মা  সেতুর কাজ  মোটামুটি দ্রæতই এগোচ্ছে। পরিকল্পনামাফিক বাস্তবায়ন কাজ এগিয়ে নিতে পারলে  ঘোষিত সময়ের মধ্যেই কাজ  শেষ করা সম্ভব হতো। নদীর  স্রোত ও গতিপথসহ প্রতিকূল পরিবেশ মাঝে মাঝেই প্রল্পের কাজে বাধার সৃষ্টি করেছে। ফলে বাস্তবায়নের সময় কিছুটা বাড়বে। তিন বছর আগে ২০১৫ সালের ডিসেম্বরে পদ্মা বহুমুখী  সেতুর কাজ শুরু হয়। ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার  দৈর্ঘের এ  সেতুর কাজ চলতি বছরের ডিসেম্বরে  শেষ হওয়ার কথা থাকলেও নির্ধারিত সময়  শেষ হচ্ছে না। 
২০১৯-এ এটি চালু করা যাবে বলে জানিয়েছেন  সেতুর প্রকল্প পরিচালক শফিকুল ইসলাম। প্রায় ৩০ হাজার ১৯৩  কোটি ৩৮ লাখ টাকা ব্যয়ে চলছে  সেতুর নির্মঠু কাজ।
পদ্মা  সেতুতে  রেলসংযোগ : পদ্মা  সেতুতে  রেলসংযোগ প্রকল্পের কাজের জন্য ইতোমধ্যে চীনের সঙ্গে চুক্তি হয়েছে।  সেতুটি  যেদিন খুলে  দেয়া হবে  সেদিনই  সেতুর উভয় অংশ  রেল চলাচলের জন্য প্রস্তুত থাকবে। তবে  সে সময়ের মধ্যে  সেতুর উভয় প্রান্তে  রেললাইন প্রস্তাবিত হওয়া নিয়ে অনিয়শ্চতা  দেখা দিয়েছে। ফলে এ প্রকল্পের  মেয়াদও বাড়াতে হবে সরকারকে। এখন পর্যন্ত এ প্রকল্পের সার্বিক অগ্রগতি হয়েছে ১৩ শতাংশ। নদীর উপরিভাগের বাইরে নদীর উভয় পাশের প্রকল্প এলাকার  মোট ৯টি  জেলায় জমি অধিগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। বাকি তিন  জেলায় এ প্রকল্পের জন্য জমি অধিগ্রহণের কাজ চলছে।
 মেট্রোরেল : রাজধানীর উত্তরার দিয়াবাড়ীতে দুটি পিলার যুক্ত করে  মেট্রোরেলের একটি স্প্যান বসানো হয়েছে। এর মাধ্যমেই দৃশ্যমান হয়েছে  মেট্রোরেলের লাইনের কাজ। এ ছাড়া চলতি মাসেই আগারগাঁও এলাকায় বসানো হতে পারে আরেকটি স্প্যান। এ এলাকায় পিলার নির্মাণের কাজ চলছে। ২০১৯ সালের ডিসেম্বরের আগেই  মেট্রোরেলের উত্তরা-আগারগাঁও অংশ  ট্রেন চলাচলের জন্য প্রস্তুত হবে বলে আশা করছেন প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা। 
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ  কেন্দ্র : জানা গেছে, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ  কেন্দ্রের মূল কাজ ইতোমধ্যে শুরু। প্রকল্প এলাকার এক, দুই উভয় ইউনিটে টারবাইন ও  জেনারেটর বসানো হচ্ছে। পুরো প্রকল্পের কাজ প্রায় ২০ শতাংশ এগিয়েছে। গত ১৮ আগস্ট এ বিদ্যুৎ  কেন্দ্রের এক নম্বর ইউনিটে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘কোর ক্যাচার’ বা ‘মেল্ট ট্র্যাপ’ স্থাপনের কাজ শুরু হয়েছে। বিদ্যুৎ  কেন্দ্র  থেকে উৎপাদন হবে ২ হাজার ৪০০  মেগাওয়াট বিদ্যুৎ। দ্বিতীয় ইউনিটের কাজ নির্ধারিত ২০২৪ সালে এবং প্রথম ইউনিটের কাজ ২০২৩ সালের মধ্যে  শেষ হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

 

এই রকম আরও খবর




Editor: Habibur Rahman
Dhaka Office : 149/A Dit Extension Road, Dhaka-1000
Email: [email protected], Cell : 01733135505
[email protected] by BDTASK