শনিবার, ১৯ মে ২০১৮
Monday, 12 Feb, 2018 11:48:11 am
No icon No icon No icon

টাঙ্গাইলে কলেজছাত্রী রূপা ধর্ষণ ও হত্যা মামলার রায়ে চারজনের ফাঁসি


টাঙ্গাইলে কলেজছাত্রী রূপা ধর্ষণ ও হত্যা মামলার রায়ে চারজনের ফাঁসি


টাইমস ২৪ ডটনেট, টাঙ্গাইল থেকে : টাঙ্গাইলের মধুপুরে চলন্ত বাসে ধর্ষণ করে হত্যার শিকার জাকিয়া সুলতানা রুপা খাতুন ধর্ষণ ও হত্যা মামলার রায়ে চারজনের ফাঁসি ও একজনের সাত বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। অভিযোগ গঠন থেকে রায় ঘোষণা পর্যন্ত এই মামলার পেছনে ব্যয় হয়েছে মাত্র ১৪ কর্মদিবস।সোমবার টাঙ্গাইলের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের ভারপ্রাপ্ত দায়িত্বে থাকা প্রথম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আবুল মনসুর মিয়ার আদালতে চাঞ্চল্যকর এই মামলার রায় ঘোষণা করেন।টাঙ্গাইলের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিশেষ পিপি এ কে এম নাছিমুল আখতার বিষয়টি গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন। টাঙ্গাইলের আইন অঙ্গনের ইতিহাসে এই প্রথম এ ধরনের একটি মামলার নিষ্পত্তি দ্রুত সময়ের মধ্যে হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।আদালত সূত্র জানায়, গত ২৯ নভেম্বর এই মামলার পাঁচ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন আদালত। এরপর গত ৩ জানুয়ারি মামলার বাদী মধুপুরের অরণখোলা ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) আমিনুল ইসলামের সাক্ষীর মধ্য দিয়ে সাক্ষ্য গ্রহণ পর্ব শুরু হয়। পরে আট কর্মদিবসে বিচারিক হাকিম, চিকিৎসক, তদন্তকারী কর্মকর্তাসহ ২৭ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে চার কর্মদিবসে আসামিদের পরীক্ষা এবং উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক অনুষ্ঠিত হয়।
টাঙ্গাইল নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিশেষ সরকারি কৌঁসুলি এ কে এম নাছিমুল আক্তার বলেন, মামলায় সাক্ষীরা ঘটনা আদালতে প্রমাণ করতে পেরেছেন। রাষ্ট্রপক্ষ থেকে আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড দাবি করা হয়েছে।আসামিপক্ষের আইনজীবী শামীম চৌধুরী বলেন, রাষ্ট্রপক্ষ আসামিদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ প্রমাণ করতে পারেনি। আশা করি, আসামিরা নির্দোষ প্রমাণিত হবেন।
রুপা শিক্ষক হতে চেয়েছিলো বলে জানিয়েছেন তার মামা ফরিদুল ইসলাম। গত ২৫ আগস্ট নির্মমতার শিকার রুপা কর্মস্থল শেরপুর থেকে বগুড়া গিয়েছিলেন শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা দিতে। বগুড়া থেকে ময়মনসিংহ যাওয়ার পথে বহুজাতিক কোম্পানির কর্মী রূপা খাতুনকে চলন্ত বাসে ধর্ষণের পর হত্যা করে পরে মধুপুর ময়মনসিংহ সড়কের মধুপুর বনের পঁচিশ মাইল এলাকায় জঙ্গলের মধ্যে তার লাশ ফেলে রেখে যায় হত্যাকারীরা।
ঘটনার দিন শুক্রবার রাতে বগুড়া থেকে ফিরছিলেন মময়নসিংহ ছোঁয়া পরিবহনের একটি বাসে। বাসটি টাঙ্গাইলের এলেঙ্গা অতিক্রম করলে নেমে যায় সকল যাত্রী। আর এই সুযোগ নিয়ে বাসটি কালিহাতী এলাকায় পৌঁছালে গাড়ীর হেলপার ও অন্যরা তাকে গাড়ির পিছনের সিটে নিয়ে জোড় করে মধুপুর পর্যন্ত পালাক্রমে ধর্ষণ করে। মধুপুর পৌঁছালে নিহত রুপা আলো দেখতে পেয়ে চিৎকার চেচামেচি করলে তার ঘাড় মটকে তার মৃত্যু নিশ্চিত করে খুনীরা।
অভিযোগ রয়েছে, কয়েকজন পরিবহন শ্রমিক এ অপরাধের সঙ্গে জড়িত। পুলিশ ওই রাতেই তার লাশ উদ্ধার করে। ময়নাতদন্ত শেষে পরদিন বেওয়ারিশ লাশ হিসেবে টাঙ্গাইল কেন্দ্রীয় কবরস্থানে রূপার মরদেহ দাফন করা হয়। এ ঘটনায় অরণখোলা পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) আমিনুল ইসলাম বাদী হয়ে মধুপুর থানায় মামলা করেন। রূপার ভাই ২৮ আগস্ট মধুপুর থানায় এসে লাশের ছবি দেখে রূপাকে শনাক্ত করেন। পরে পুলিশ ছোঁয়া পরিবহনের চালক হাবিবুর (৪৫), সুপার ভাইজার সফর আলী (৫৫) এবং চালকের সহকারী শামীম (২৬), আকরাম (৩৫) ও জাহাঙ্গীরকে (১৯) গ্রেপ্তার করে। এরা পাঁচজনই ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন বলে জানা যায়। এই ঘটনার পর সারা দেশে নিন্দার ঝড় বয়ে যায়। এরপর রুপার ছোট বোন পপিকে সরকারি ঔষধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান এসেনশিয়াল ড্রাগে চাকরি দেয়া হয়েছে। বগুড়াস্থ এসেনশিয়াল ড্রাগের কার্যালয়ে তাকে অফিস সহকারী পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

এই রকম আরও খবর




Editor: Habibur Rahman
Dhaka Office : 149/A Dit Extension Road, Dhaka-1000
Email: [email protected], Cell : 01733135505
[email protected] by BDTASK