সোমবার, ১৫ অক্টোবর ২০১৮
Wednesday, 10 Jan, 2018 07:13:47 pm
No icon No icon No icon
সাংবাদিক নেসারুল হক খোকন ও আব্দুল্লাহ তুহিনকে হত্যার হুমকি : ক্র্যাব’র নিন্দা

ডিআইজি মিজানের অনৈতিক কর্মকাণ্ডে বিব্রত পুলিশ


ডিআইজি মিজানের অনৈতিক কর্মকাণ্ডে বিব্রত পুলিশ


টাইমস ২৪ ডটনেট, ঢাকা: ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার-ডিআইজি মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে নানারকম অপরাধ ও অপকর্মে জড়িয়ে থাকার অভিযোগ নিয়ে একাধিক জাতীয় দৈনিক, অনলাইন নিউজ পোর্টাল ও টিভি চ্যানেলে সংবাদ প্রকাশের পর দেশজুড়ে সমালোচনার ঝড় উঠেছে। দেশজুড়ে তোলপাড় শুরু হওয়ার পর ডিআইজি মিজানুর রহমানকে প্রত্যাহার করে পুলিশ সদর দপ্তরে সংযুক্ত করা হয়। এছাড়া মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে পুলিশ সদর দপ্তর থেকে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। উক্ত ঘটনায় ডিআইজি মিজানুর রহমান হত্যার হুমকি দিয়েছে দৈনিক যুগান্তর’র সিনিয়র রিপোর্টার নেসারুল হক খোকন এবং যমুনা টেলিভিশনের বিশেষ প্রতিনিধি আব্দুল্লাহ তুহিনকে। বর্তমানে তারা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
জানা গেছে, ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার-ডিআইজি মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে এক নারীকে জোর করে বিয়ে ও তার উপর নির্মম নির্যাতনের সংবাদ প্রকাশ ও প্রচারের জের ধরে বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স এসোসিয়েশন (ক্র্যাব) এর সদস্য ও দৈনিক যুগান্তর’র সিনিয়র রিপোর্টার নেসারুল হক খোকন এবং যমুনা টেলিভিশনের বিশেষ প্রতিনিধি আব্দুল্লাহ তুহিনকে প্রাণনাশের হুমকি দেয়ার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে সংগঠনটি। ক্র্যাব নেতৃবৃন্দ হুমকিদাতা ডিআইজি মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণেরও দাবি জানিয়েছেন। বুধবার এক যুগ্ম বিবৃতিতে ক্র্যাব সভাপতি আবু সালেহ আকন ও সাধারণ সম্পাদক সরোয়ার আলম বলেন, সংবাদ প্রচার করায় পুলিশের উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মিজানুর রহমান গত মঙ্গলবার রাতে দুই সাংবাদিককে ফোন করে হত্যার যে হুমকি দিয়েছেন তা শুধু অপেশাদার আচরণই নয়, রীতিমতো সীমা লংঘনের সামিল। তারা আরও বলেন, এমন হুমকি প্রচলিত আইনে ফৌজদারি অপরাধ। পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিকরা যে পুলিশি হয়রানির শিকার হচ্ছেন-এ ঘটনা তার আরেকটি জ্বলন্ত প্রমাণ। দুই সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে ডিআইজি মিজানুর রহমানের লাইসেন্সকৃত ব্যক্তিগত পিস্তলটি পুলিশের হেফাজতে নেওয়ারও দাবি জানিয়েছেন নেতৃবৃন্দ।
অতিরিক্ত উপকমিশনার পদমর্যাদার এক কর্মকর্তা বলেন, গত শনিবার রাতেও বলছিলাম, এবার পুলিশ সপ্তাহ শুরু হওয়ার আগে পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ সংক্রান্ত কোনো নিউজ নেই, ভালোই হল। তখন একজন কনস্টেবল বলেছিল, স্যার এখনও ২৪ ঘণ্টা বাকি আছে। কিন্তু ২৪ ঘণ্টা না যেতেই সকালে দেখি এই খবর। 
ডিএমপি সদর দপ্তরের কয়েকজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, গত রোববার সকালে সংবাদটি প্রকাশের পর অতিরিক্ত কমিশনার মিজানকে বেশ অস্থির মনে হয়েছে। মিজান বলেন, তার বিরুদ্ধে তোলা অভিযোগ পুরোপুরি মিথ্যা। আমার স্ত্রীর সঙ্গে আমার ভালো বোঝাপড়া। আমরা পারিবারিক জীবনে সুখী। আমাকে সমাজে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য স্বামী বানিয়ে মিথ্যা প্রচার চালানো হচ্ছে। অভিযোগকারী নারীকে ‘প্রতারক’ আখ্যায়িত করে তিনি বলেন, ওই নারী ২০১৫ সালে প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের একজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে একটি জিডি করেছিলেন। সেই সূত্রে তার সঙ্গে পরিচয়। 
ওই নারীর বিরুদ্ধে রমনা থানায় ভাংচুরের মামলার বিষয়ে মিজান বলেন, গত বছরের ১৬ জুলাই এই নারী বেইলী রোডের তার ভাইয়ের বাসায় জোর করে ঢোকার চেষ্টা করেছিল। তখন থানায় একটি মামলা হয়। অভিযোগপত্র দেওয়ার পর এটি এখন বিচারাধীন। ওই নারী কেন ওই বাসায় ঢোকার চেষ্টা করেছিলেন, সে বিষয়ে স্পষ্ট কিছু বলেননি পুলিশ কর্মকর্তা মিজান। তিনি দাবি করেন, ওই নারী সেসব অভিযোগ করেছিলেন, তা ইতোমধ্যে প্রত্যাহারও করে নিয়েছেন। তবে মিজানের এই বক্তব্য নিশ্চিত হতে ওই নারীর সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়নি।   
অনেকে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বলেছেন, সিনিয়র পর্যায়ের পুলিশ কর্মকর্তা এমন বেপরোয়া হলে সাধারণ মানুষ যাবে কোথায়? এ রকম একজন উচ্চপদস্থ পুলিশ কর্মকর্তার চরিত্র ও ক্ষমতার অপব্যবহারের চিত্র যদি জঘন্য পর্যায়ে চলে আসে তাহলে ধরে নিতে হবে তার নিয়ন্ত্রণকারী কেউ নেই। অস্ত্রের মুখে এক তরুণীকে তুলে নিয়ে বিয়ে করার অভিযোগ উঠেছে ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ডিআইজি) মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে। ভাড়া করা ফ্ল্যাটে ৪ মাস সংসার করার পর পুলিশ কর্মকর্তার সাজানো মামলায় জেলও খাটতে হয় ওই তরুণীকে। এমনকি অপহরণপূর্বক বিয়ে আর নির্যাতনের খবর প্রকাশ করায় ওই তরুণীকে হত্যার হুমকিও দেন ডিআইজি মিজান। তরুণীর নাম মরিয়ম আক্তার ইকো। 
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান বলেছেন, তুলে নিয়ে বিয়ে করার অভিযোগে আলোচিত পুলিশ কর্মকর্তা ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মিজানুর রহমানের বিষয়ে পুলিশের অভ্যন্তরীণ তদন্ত চলছে। তার অপরাধ প্রমাণিত হলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 
উল্লেখ্য, স¤প্রতি ডিআইজি মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে এক নারীকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে জোর করে বিয়ে এবং ওই নারীর উপর নির্মম নির্যাতন করার বিষয়ে দৈনিক যুগান্তর ও যমুনা টেলিভিশনে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ডিআইজি দুই সাংবাদিককে প্রাণনাশের হুমকি দেন এবং তাদের অকথ্য ভাষায় গালাগাল করেন। এ ব্যাপারে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানকে জানানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন দৈনিক যুগান্তর’র সিনিয়র রিপোর্টার নেসারুল হক খোকন।

 

এই রকম আরও খবর




Editor: Habibur Rahman
Dhaka Office : 149/A Dit Extension Road, Dhaka-1000
Email: [email protected], Cell : 01733135505
[email protected] by BDTASK