শুক্রবার, ১৯ অক্টোবর ২০১৮
Sunday, 31 Dec, 2017 11:09:29 am
No icon No icon No icon

রাজধানী‌তে ফা‌র্মেসী, ক্লাব, বার ও আবা‌সিক হো‌টেল ব্যবসায় নিরাপদ মাদক ব্যবসা


রাজধানী‌তে ফা‌র্মেসী, ক্লাব, বার ও আবা‌সিক হো‌টেল ব্যবসায় নিরাপদ মাদক ব্যবসা


এমএ‌বি সুজন, বিশেষ প্রতিনিধি, টাইমস ২৪ ডটনেট, ঢাকা: রাজধানীসহ মাদকের ভয়াল থাবায় ধ্বংস হচ্ছে গোটা দেশ। শিশু কিশোর থেকে সব বয়সীরাই এখন আসক্ত হচ্ছে মাদকের নেশায়। পুরুষের পাশাপাশি এ নেশায় যুক্ত হয়েছে নারীরাও। অনেকের কাছেই এখন পার্টি মানেই সেখানে মাদক থাকা চাই। বিভিন্ন ক্লাবে চলছে মাদকের পার্টি। রাত হলেই রাজধানীর বিভিন্ন হোটেল ও রেস্টুরেন্টে জমে উঠছে এসব পার্টি। আর এসব পার্টির আড়ালে চলছে মাদক গ্রহণ। হোটেল ও রেস্টুরেন্ট ছাড়াও এখন খোলামেলা জায়গায় বসে জমিয়ে আড্ডা দিচ্ছে মাদকাসক্তরা। হাতের নাগালে মাদক চলে আসায় সেবনকারীর সংখ্যা দিন দিন বেড়ে চলেছে। রাস্তাঘাটে, উন্মুক্তস্থানে, পার্কে এখন গাঁজার গন্ধে চলাফেরা করা দায় হয়ে পড়েছে। সিগারেটের মতো এখন গাঁজা সেবন শুরু করেছে সেবনকারীরা। রিকশাচালক, সিএনজি অটোরিকশা চালক এমনকি পেশাজীবীরাও রয়েছেন মাদকসেবীদের তালিকায়। তারা নির্দ্বিধায় সড়কের পাশে উন্মুক্ত স্থানে, পার্কে মাদক নিচ্ছে। এ সমস্ত জায়গা দিয়ে চলাচল করতে গিয়ে সাধারণ পথচারীদের পড়তে হয় বিপাকে। সন্তানদের নিয়ে স্কুলে যাওয়ার সময় এসব জায়গায় বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়তে হচ্ছে লোকজনকে। রাতের আঁধার নেমে এলেই মাদকদ্রব্য বিক্রেতারা সেবনকারীদের চাহিদামতো মাদক চালান করছে। মাদক বিক্রেতারা এখন কখনও ভিক্ষুক, কখনও হকার আবার কখনও পাগল সেজে এমনকি বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে এক এলাকা থেকে অন্য এলাকায় মাদকদ্রব্য সরবরাহ করছে। এছাড়া বিভিন্ন বৈধ ব্যবসার আঁড়ালে চালাচ্ছে এসব অবৈধ মাদক ব্যবসা। বিভিন্ন ওষুধসহ ফার্মেসিতে এখন মাদকদ্রব্য বিক্রির অভিযোগ পাওয়া যায়।
আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা যাতে সন্দেহ না করে, খুব সহজেই যাতে তাদের চোখ এড়িয়ে মাদক ব্যবসা চালানো যায় সেজন্য মাদক ব্যবসায়ীরা এখন ফার্মেসির আঁড়ালে চালাচ্ছে এসব মাদক ব্যবসা। ফার্মেসিতে ওষুধ রাখার পাশাপাশি মাদক সেবনকারীদের চাহিদা অনুযায়ী তারা মাদকদ্রব্য রাখছে। বিভিন্ন ফার্মেসিতে ফেন্সিডিল ও ইয়াবা রাখছে এসব ব্যবসায়ীরা।
মাদক ব্যবসা ছাড়াও ফার্মেসির আড়ালে চলছে অজ্ঞান পার্টির কাজ। মানুষকে অচেতন করার বিভিন্ন ধরণের ওষুধ বিক্রি হচ্ছে ফার্মেসিতে। এসব নিষিদ্ধ ওষুধ অবৈধভাবে দেশে এনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে ফার্মেসির আড়ালে বিক্রি করছে কিছু চক্র।
এদিকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরাও তৎপর হয়ে উঠেছে। তাদের নিয়মিত অভিযানে বিভিন্ন সময় মাদকদ্রব্য ধরা পড়ছে। সম্প্রতি রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ভারতীয় ফেনসিডিল, হেরোইন, গাজা ও ইয়াবা ট্যাবলেট এবং বিভন্ন মাদকদ্রব্য জব্দ করেছে পুলিশ-র‌্যাব-বিজিবি। ডিবি দক্ষিণের সহকারী পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানান, সন্ধ্যায় রাজধানীর চকবাজার এলাকায় এক হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ দুইজন ওষুধ ও মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করে ডিবি পুলিশ। গ্রেফতারকৃত ওষুধীরা জিজ্ঞাসাবাদে মাদক ব্যবসার সঙ্গে ২-৩ বছর জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। তাদের সঙ্গে আরো ২-৩ জন জড়িত রয়েছে বলে তারা জানিয়েছে। র‌্যাবের লিগ্যাল এন্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক মুফতি মাহমুদ খান জানান, মাদক দ্রব্যের বিরুদ্ধে আমাদের নিয়মিত অভিযান চালু রয়েছে। দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে বিভিন্ন ধরনের মাদক দ্রব্য প্রায়ই উদ্ধার করছে র‌্যাব। দেশকে মাদকমুক্ত করতে এ ধরণের অভিযান অব্যাহত থাকবে। ডিবি দক্ষিণের উপকমিশনার (ডিসি) মাশরুকুর রহমান খালেদ জানান, ফার্মেসির অভ্যন্তরে ওষুধ বিক্রির সঙ্গে মাদক বিক্রি করে আসছে বলে স্বীকার করে গ্রেফতারকৃতরা। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এছাড়া এখন মাদক ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন কৌশল নিচ্ছে, ফার্মেসির আঁড়ালে তারা মাদক ব্যবসা করছে। এ ধরনের ফার্মেসির আড়ালে মাদক বিক্রির বিষয়ে আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে। ইদা‌নিং দেশজুড়ে মাদক ব্যবসায় ব্যবহার করা হচ্ছে চোখ ধাঁধানো দামি দা‌মি গাড়ি ও নামীদামী সুন্দরী নারী। আইনশৃংখলা বাহিনীর সদস্যদেরকে ফাঁকি দিতেই ব্যবসার ধরন পাল্টে ফেলা হচ্ছে। নতুন নতুন উপায় ও পদ্ধতিও গ্রহণ করা হচ্ছে। এ ছাড়া অভিযোগ রয়েছে, মাদক ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আঁতাত করছে খোদ মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের কতিপয় কর্মকর্তা, স্থানীয় প্রশাসন ও সরকারি দলের ছোট-বড় বাহিনী। মাঝে-মধ্যে মাদকের বড় চালান ধরা পড়লেও আড়ালে থেকে যাচ্ছে মাদক সম্রাট-সম্রাজ্ঞীরা। অভিযানও চালানো হয় লোক দেখানো। হেরোইন, ফেনসিডিল, গাঁজা, মদ ও ইয়াবার অবৈধ ব্যবসা করছেন শীর্ষ পর্যায়ের এমন ব্যবসায়ীর সংখ্যা সারা দেশজুড়ে সহস্রাধিক। তবে সম্প্রতি মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর (ডিএনসি) ২৫টি উপ-অঞ্চলের মধ্যে ১৫টি অঞ্চলের মাদক ব্যবসায়ীদের তালিকা চূড়ান্ত করা হয়েছে। ওই তালিকায় উঠে এসেছে ১১০৮ জন মাদক বেপারী কারবারির নাম। এর মধ্যে রাজধানীতেই আছে ৩১২ জন। এসব তালিকায় মাদক ব্যবসায়ীদের নামের তালিকা থাকলেও নেই আশ্রয় প্রশ্রয়দাতাদের নাম। যে কারণে সব সময় তারা সবসময় থেকে যাচ্ছে ধরা ছোঁয়ার বাইরে। 
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের সাবেক এক কর্মকর্তা তার চাকরি জীবনের অভিজ্ঞতার প্রেক্ষিতে একটি উপমার বরাত দিয়ে জানান, ঘরের ইদুঁর বেড়া কাটলে সেই ঘরের বেড়া সব সময় কাটা থাকে। তিনি বলেন, রাজধানীর বস্তি, পানের দোকান, ফুটপাত থেকে শুরু করে অভিজাত এলাকার বাসা-বাড়ি, বিভিন্ন নাইট ক্লাব, এমনকি জেলখানায়ও সহজেই মিলছে মাদকের নানা উপকরণ। ইয়াবা ব্যসায়ীরা মোবাইল নেটওয়ার্কের মাধ্যমে সেবনকারীদের কাছে পৌঁছে দিচ্ছে ইয়াবা। তদন্ত করলে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণের উপ-অঞ্চলে নিয়োজিত থাকা পরিদর্শকরা অধিকাংশই ফেঁসে যাবে। তারা চেনেন না এমন কোনো মাদক ব্যবসায়ী নেই। 
এদিকে, পুলিশ সদর দফতরের নির্দেশে দুটি গোয়েন্দা সংস্থা ও ঢাকার সব থানা মিলে মাদক ব্যবসায়ীদের নতুন তালিকা করা হয়েছে। ওই তালিকায় ৪৮২ জন মাফিয়া রাজধানীর মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করছে বলে উল্লখ করা হয়েছে। তারা আড়াল থেকে মাদক ব্যবসায়ীদের মদদ দিচ্ছে। রাজধানীর রমনা, ওয়ারলেস গেট, মগবাজার, দিলু রোড, পিয়ারাবাগ, কারওয়ান বাজার বস্তি, তেজগাঁওয়ের রেললাইন বস্তি, মোহাম্মদপুরের জেনেভা ক্যাম্প, আগারগাঁওয়ের বিএনপি বস্তি, টাউন হলের কাচাঁবাজার সংলগ্ন সুইপার কলোনি, রায়ের বাজার বেড়িবাঁধ, হাজারীবাগ গণকটুলি, টিটিপাড়া, যাত্রাবাড়ি, কামরাঙ্গীরচর, গুলিস্তান, উত্তরা, গুলশানসহ বেশ ক’টি মাদক স্পটে এখনও রমরমা মাদক বাণিজ্যের খবর পাওয়া গেছে। এখন চলছে মোবাইল ফোন ব্যবহার করে সকল কারবার। মোবাইল ফোনে অর্ডার দেয়ার পর মাদকসেবীদের হাতে মাদকদ্রব্য পৌঁছে দিচ্ছে কারবারিরা। আর এ জন্য কারবারিরা বেছে নিয়েছে অভিনব সব পন্থা। রমনা মগবাজার পিয়ারাবাগের নাহিদ মোবাইল নেটওয়ার্কের মাধ্যমে ইয়াবা বিক্রি করে। তার শেল্টার দাতা হিসেবে রয়েছে রমনা জোনের পরিদর্শক। একইভাবে মিরাজ, দিলু, বেয়াদব রিপন, জুয়েলকেও শেল্টার দিচ্ছে ওই কর্মকর্তা। 
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের এক কর্মকর্তা জানান, গত দু‘সপ্তাহ আগের শুক্রবার ভোরে রমনা এলাকার আদদ্বীন হাসপাতাল সংলগ্ন একটি বাসা থেকে ৬শ’ বোতল ফেন্সিডিলসহ তিন মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করে গুলশান সাকের্লের পরিদর্শক লায়েকুজ্জামান। জানা গেছে, গ্রেফতার হওয়া আজাদ মিয়া, সজিব মিয়া ও রফিক শেখ দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসা করছেন রমনা সাকের্লের এক পরিদশর্কের আর্শীবাদে। ওই কর্মকর্তা কখনও তাদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেননি। অভিযোগ করা হলেও এসব বিষয়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের উর্ধ্বতনরা অজ্ঞাত কারণেই কোন তদন্ত করেন না। গুলশান সাকের্লের পরিদর্শক লায়েকুজ্জামান জানান, আমার কাছে সংবাদ ছিলো তাই আমি গ্রেফতার করেছি। আর রমনা সাকের্লের আজিজুলের কাছে সংবাদ ছিলো না তাই সে গ্রেফতার করতে পারেনি। অনুসন্ধানে জানা গেছে, পুরান ঢাকার মিটফোর্ড এলাকার মজনু অনেকের কাছে ওষুধ ব্যবসায়ী বলেই পরিচিত। তবে এর আড়ালে বিপুল পরিমাণ রেকটিফাইড স্পিরিট বা বাংলা মদ বাজারে ছাড়ছেন তিনি। তাকে পরোক্ষ সহযোগিতা করেন মাদকের প্রভাবশালী পরিদর্শক। মোহাম্মদপুরে ইয়াবার ডিলার জিপু গড়ে তুলেছেন ইয়াবার শক্তিশালী নেটওয়ার্ক। কাঁঠালবাগানের বাসিন্দা সবুজ কক্সবাজারের এক এমপির আত্মীয় বলে পরিচিত। তাঁর কাছে আসে ইয়াবার বড় বড় চালান। পল্লবীর গডফাদার বাচ্চু পুরো এলাকায় মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করছেন। কেরানীগঞ্জের জিঞ্জিরার বাসিন্দা ও আনন্দবাজার বস্তি এলাকার কোটিপতি হেরোইন বিক্রেতা সৈয়দ আলী এলাকায় ভ্যানচালক হিসেবেই পরিচিত। স্ত্রী তারা বানুও তাঁর হেরোইন ব্যবসার সহযোগী। আনন্দবাজার এলাকায় ভ্যানের গ্যারেজ ও একটি একতলা বাড়ি আছে তাঁদের। আর জিঞ্জিরার বাড়িটি পাঁচতলা ভবন। খিলক্ষেতের বরুয়া এলাকায় তিন কাঠা জমির ওপর সৈয়দ আলীর একটি টিনশেড কলোনি আছে।
আনন্দবাজার এলাকায় গোলাপী বেগম ওরফে ফালানী ওরফে ভাতওয়ালী ও তাঁর স্বামী নাসির হেরোইনের কারবার করে এখন দুইতলা বাড়ির মালিক। কোটিপতি হেরোইন কারবারি বিবি সাহারা ওরফে সায়রা রাজধানীর কড়াইল বস্তিতে বসবাস করলেও টঙ্গীতে একটি বহুতল ভবন আছে তাঁর। সূত্রাপুরে সাজেদা আক্তার বেবী ও তাঁর স্বামী আবদুল ওয়াদুদ ওরফে সাধন নামে এক দম্পতি হেরোইনের বড় কারবারি। তারা দীর্ঘদিন ধরে মাদক আজিজের শেল্টারে ইয়াবা, ফেন্সিডিল এবং হেরোইনের ব্যবসা চালিয়ে আসছে। তাঁরা চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তের গণি মিয়া নামে এক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে হেরোইনের চালান আনে। মাদক ব্যবসায়ীদের তালিকায় নাম আছে- আগারগাঁও বিএনপি বস্তির আফরোজা আক্তার হাসি, ফাতেমা, নুরজাহান, আবুল হোসেন লিটন, শামসুন্নাহার রনি, সখিনা, সীমা আক্তার, কবির হোসেন, জাকির, স্বপন, রাবিয়া বেগম ওরফে রাবি, লতিফা বেগম, রাজিয়া বেগম ওরফে রাজি, খাইরুল ইসলাম ও কুলসুম ওরফে কুলসি মাদক ব্যবসায়ী। এ ছাড়া মোহাম্মদপুরের বাঁশবাড়ী এলাকায় সখিনা, বিউটি, সুরাইয়া ওরফে লিপি আক্তার, সোহেল, জেনেভা ক্যাম্পের আসাদ, মোকছেদ, শাকিল, রিজিয়া, বছিলার নাছরিন, লতা বেগম, সুফিয়া, নসু মিয়া, বাঁশবাড়ীর জসিম ও কল্পনা বেগম, শেখেরটেকের স্বপন মিয়া, হাসু মিয়া, জসিম ওরফে কানা জসিম, আনজু বেগম, রেহানা বেগম, মিরপুর রোডের জবা, লালমাটিয়ার লিপি মাদক ব্যবসায়ী। মিরপুর ঝিলপাড় বস্তির নজরুল ওরফে নজু, মিল্লাত ক্যাম্পের রুস্তম, মিরপুর মাজার রোডের রাজা, কসাইটুলি বাগডাসার নাসির উদ্দীন, মোহাম্মদ আলী, স্বপন, হাসুমিয়া, জাহাঙ্গীর, আবুল কালাম ওরফে কালু মিয়া, দুলাল মিয়া, বাশার, মিন্টু, মিয়াবাড়ি হাজি রোড বস্তির মেহেরুন, মিরপুর-২ নম্বর সেকশনে ববি, মিরপুর মাজার রোডে রাজা, কাজীপাড়ায় হারুন মোল্লা, বাদশা মিয়া, বাবুল মিয়া, আল-আমিন, মাহমুদুর রহমান রিপন ওরফে ফেন্সি রিপন, সেলিম, কানা জাহাঙ্গীর, আবুল কালাম ওরফে কালু মিয়া, দুলাল মিয়া, বাশার, মিন্টু, মুসলিম বাজার ঢালের নুরু। উত্তরা এলাকায় গুলবাহার, নাদিয়া, মাহমুদা ওরফে মুক্তি, রীতা, নীলা, আশকোনার রসুলবাগে শরিফুল ইসলাম, কাইয়ুম, আমির হোসেন, দক্ষিণখানে আবিদুর রহিম, বোতল ভুট্টো, আবদু্ল্লাহপুরের আজাহার, খিলক্ষেত নিকুঞ্জ এলাকায় আনোয়ারুল হক ওরফে লাত্তু, সাইফুল ইসলাম, জহিরুল ইসলাম, তুরাগের আয়নাল মাদক ব্যবসায় জড়িত।
একজন মাদক বিক্রেতা গুলে গুলবাহার ওরফে গুলে (৫৬)। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের (ডিএনসি) তালিকাভুক্ত মাদক ব্যবসায়ী এই নারী। আশির দশকে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের সুইপার কলোনিতে সুইপারের কাজ করতেন তিনি। তখন স্বামী মীর হোসেনকে নিয়ে (বর্তমানে মৃত) সুইপার কলোনিতে বাংলা মদ বিক্রি করতেন গুলবাহার। এরপর নব্বইয়ের দশকে মোহাম্মদপুরের টাউন হল এলাকায় হেরোইন ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত হন। ওই সময় থেকেই গুলবাহার ও তাঁর স্বামী হয়ে ওঠেন ওই এলাকার শীর্ষ হেরোইন কারবারি। গোটা এলাকার মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করে এখন তাঁরা কোটিপতি। আদাবরের পিসিকালচার ১ নম্বর সড়কে গুলবাহারের চার কাঠা জমির ওপর ছয়তলা বাড়ি (নম্বর ৩/বি/খ)। দক্ষিণখানে আনোয়ারা মডেল ডিগ্রি কলেজের কাছে আট কাঠা জমির ওপর আছে চারতলা বাড়ি। রূপগঞ্জে আছে অন্তত ২৫ বিঘা জমি। কয়েকবার গ্রেফতার হলেও জামিনে ছাড়া পেয়ে গুলবাহার দমে জাননি, উল্টো এখন দিনে দিনে তাঁর মাদক ব্যবসা রমরমা। আরো একজনের উত্থান কাহিনী 
২০১০ সালের ৯ ডিসেম্বর আগারগাঁওয়ের মাদক সম্রাজ্ঞী রনি ও তার মা করিমুন্নেসাকে এক কেজি হেরোইনসহ গ্রেফতার করে ডিএনসি। এর কিছুদিন পরই রনির স্বামী লিটনকে সৌদি থেকে ফেরার পর বিমানবন্দরে গ্রেফতার করে ডিবি পুলিশ। এ পরিবারটিই ছিল আগারগাঁওয়ের সবচেয়ে বড় হেরোইন বিক্রেতা। মিরপুর, গাজীপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় তাদের আছে ছয়টি বাড়ি। করিমুন্নেছা ও তার মেয়ে রনি জামিনে ছাড়া পেয়ে গা-ঢাকা দিয়েছে। তবে থেমে নেই বাণিজ্য। স্থানীয় একাধিক সূত্র জানিয়েছে, সাভার, গাজীপুর ও মিরপুরে অবস্থান করে এই মাদক পরিবার। তাদের হেরোইন, ইয়াবা বাণিজ্য চলছে মোবাইল ফোনে। ক্ষমতাসীনদের প্রশ্রয়ে মাদক কারবার। পুলিশ ও ডিএনসির কয়েকজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ক্ষমতাধর ব্যক্তি এবং সরকারি দলের লোকজনের মদদে অনেক স্থানে মাদক ব্যবসা চলছে। এ কারণে অনেক সময় মাদক বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না বলে দাবি তাঁদের। এদিকে ক্ষমতাধর ব্যক্তি এবং মাদক সম্রাজ্ঞীদের দাবি মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের কতিপয় অসৎ কর্মকর্তা এবং পুলিশের অসাধু ব্যক্তিরা এর জন্য দায়ী। এদের মধ্যে এক নম্বর তালিকায় রয়েছেন রমনার এক প্রভাবশালী পরিদর্শক। তিনি সরকারি দলের নাম ভাঙ্গিয়ে মাদক ব্যবসায়ীদের নেপথ্যে কাজ করছেন। অভিযোগ উঠেছে, মতিঝিলের ক্লাবগুলোতে জুয়ার পাশাপাশি এখন মাদকের আখড়া বসছে এক যুবলীগ নেতা ও পরিদর্শকের প্রত্যক্ষ মদদে। রমনা ও বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় টুটুল ও মিঠু ইয়াবা ও ফেনসিডিলের ব্যবসা করে কেন্দ্রীয় এক ছাত্রলীগ নেতার সহযোগিতায়। আর তার নেপথ্যে রমনা সাকের্লের পরিদর্শক। সেগুনবাগিচায় ফরিদপুর ম্যানসনের ওপরে রিপন নামে কথিত ছাত্রলীগ নেতার মাদকের আসর বসে জমজমাট। গুলশানে সি-সেল বারের ওপর মিনিবার চলছে এক কথিত ছাত্রলীগ নেতার মাধ্যমে। গুলশানের ৪৩ নম্বর রোডসহ কয়েকটি এলকায় অনুমোদনহীন বার চলছে এক মন্ত্রীর ছেলের নামে। এসব বারের পরোক্ষ মদদ এবং দেখভালের দায়িত্বে রয়েছে মাদকের এক প্রভাবশালী কর্মকর্তা। এই কর্মকর্তার সার্বিক সহযোগিতায় রামপুরা থানা ছাত্রলীগের এক নেতা ওয়াপদা রোড এবং এর আশপাশের এলাকায় ফেনসিডিল ও ইয়াবা ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করছেন বলে অভিযোগ আছে। খিলগাঁও এলাকার একটি বড় অংশ জুড়ে ইয়াবার ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করছেন ছাত্রলীগের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের এক নেতা। সবুজবাগের বৌদ্ধ মন্দির এলাকায় ইয়াবা ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ করছেন স্থানীয় এক ছাত্রলীগ নেতা । মতিঝিল এলাকা নিয়ন্ত্রণ করছেন শ্রমিক লীগের এক নেতা। কিছুদিন আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস থেকে ২০০ পিস ইয়াবাসহ এক ছাত্রলীগ কর্মীকে গ্রেফতার করে পুলিশ। গত মে মাসে ধানমন্ডি থানা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি নাজিমউদ্দিন বাবুকে ৫৫টি ইয়াবা বড়িসহ এবং ১০ জুন বাসাবো এলাকা থেকে ৩৮টি ইয়াবাসহ শ্রমিক লীগ উত্তরা ব্যাংক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক ইমরান হক খানকে আটক করে সবুজবাগ থানা পুলিশ।
মিয়ানমারের সীমান্তবর্তী কক্সবাজার এলাকায় ইয়াবার কারবারে যুক্তদের তালিকায় সরকারি দলের এমপি আব্দুর রহমান বদি। তাঁর আপন দুই ভাই ও দুই সৎ ভাইয়ের নামও রয়েছে। ইয়াবা পাচারের অভিযোগে অভিযুক্ত টেকনাফ থানা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি ও আবদুর রহমান বদির এপিএস জাহেদ হোসেন জাকু গত ২৭ এপ্রিল ক্রসফায়ারে নিহত হন। সূত্র জানায়, এবার যশোরের সীমান্ত এলাকায় মাদক পাচারের সঙ্গে স্থানীয় এক এমপি এবং চৌগাছার এক শীর্ষ আওয়ামী লীগ নেতার নাম উঠে এসেছে। রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে হেরোইন কারবারে এগিয়ে আছে পৌর আওয়ামী লীগের এক নেতার ভাই ও ভাতিজার একটি গ্রুপ, ওমর আলী ও আব্দুল মালেক গ্রুপ এবং জহুরুল গ্রুপ। প্রতিক্রিয়া জানার জন্য মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের মহাপরিচালক (ডিজি) মো. বজলুর রহমানের কাছে মুঠোফোনে জানতে চাইলে তিনি বলেন, অভিযান পরিচালনায় প্রাতিষ্ঠানিক কার্যক্রম অব্যাহত আছে। অধিদফতর থেকে তিনটি টিম গঠন করা হয়েছে। মাদক ব্যবসায়ী এবং মদদদাতাদের ব্যাপারে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করা হয়েছে। কিছু কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসায়ী ও বারের মালিকদের সহযোগিতার অভিযোগ আছে! এ প্রশ্নের জবাবে ডিজি বলেন, আমি এখানে নতুন এসেছি। তবে আমিও এধরণের কিছু অভিযোগের কথা শুনেছি। পর্যায়ক্রমে সব বিষয়েই তদন্ত করে দেখা হবে এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। জানতে চাওয়া হলে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, মাদক সামাজিক ব্যাধিতে পরিণত হয়েছে। সবাই মিলে এর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ করতে হবে। তালিকাভুক্ত মাদক ব্যবসায়ীদের গ্রেফতার করতে পুলিশ ও র‌্যাবকে বিশেষ নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। রাজনৈতিক নেতা, মাদক কর্মকর্তা কিম্বা পুলিশ যেই হোক এদের বিরুদ্ধে যদি কোনো মাদক ব্যবসায়ীকে আশ্রয়-প্রশ্রয় দেয়ার অভিযোগ উঠে তাহলে তাদের কঠোর হস্তে দমন করা হবে। রাজধানীতে বৈধ বারের সংখ্যা ৫২ হলেও অবৈধ বারের সংখ্যা জানা নেই মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের। গুলশান বনানী এলাকায় বিভিন্ন ফাষ্টফুড ও আবাসিক হোটেলগুলোয় বারের মতই কেনাবেচা হয় দেশি-বিদেশি মদ। পাশাপাশি রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় হোম ডেলিভারী সার্ভিসে বিক্রি হচ্ছে দেশি-বিদেশি মদ। ইয়াবা, ফেনসিডিল আর হোরোইনের মতই মুঠোফোনে যোগাযোগ করে চলছে এ ব্যবসা। আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর গত ১৮ এপ্রিল কচুক্ষেতের নিউ ওয়েভ ক্লাবে চাঁদাবাজি করতে গিয়ে ডিবি পুলিশের সহকারী কমিশনার রুহুল আমিনসহ ১১ সদস্য মিলিটারি পুলিশের হাতে আটক হয়। এ ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই ২৩ এপ্রিল পরীবাগে পর্যটন করপোরেশন পরিচালিত সাকুরা বারে চাঁদাবাজির অভিযোগে যুবদল নেতা জনি ওরফে বাবা জনিকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। অভিযোগ রয়েছে বারের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তাকে পিটিয়ে হত্যা করে। পুলিশ বলছে, সাকুরা বার কর্তৃপক্ষ মাস্তানদের চাঁদা দিতে দিতে অতিষ্ঠ হয়ে গেছে। এরই জের ধরে জনি চাঁদাবাজি করার সময় প্রতিবাদ করলে এ ঘটনার সূত্রপাত হয়। মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, রাজধানীতে ৫২ টি বার সরকারের অনুমোদিত। এর পাশাপাশি আর কতটি বার চলছে সে সংখ্যা জানা নেই তাদের। এক সময় রাজধানীতে পুলিশের অবৈধ আয়ের বড় উৎস ছিল মাদক স্পট। কিন্তু গত পাঁচ বছরে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের মাদক স্পটের বিরুদ্ধে সাঁড়াশি অভিযান চালানোর কারণে স্পটগুলো বিক্ষিপ্তভাবে ছড়িয়ে যায়। আর এ কারণে পুলিশের অবৈধ আয়ের দৃষ্টি এখন বারগুলোর দিকে। শুধু পুলিশ নয়। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারাও অবৈধ বারগুলো তেকে নিয়মিত চাঁদা তুলে তাকে বলে অবিযোগ রয়েছে। আর বৈধ বার থেকে চাঁদাবাজী করা হয় অন্যভাবে। সন্ধ্যার পর রেইড দেয়ার কথা বলে পানশালার ভেতরে ওয়াকিটকি নিয়ে ক্রেতাদের লাইসেন্স আছে কি না জানতে চাওয়া হয়। এ দৃশ্য দেখে বারে আসা প্রায় সব গ্রাহকই পালানোর চেষ্টা করে। তবে বার কর্তৃপক্ষ অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে ম্যানেজ করে বার পরিচালনা স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রাজধানীর শেওড়াপাড়ায় সিউল নামের একটি অবৈধ বার গড়ে উঠেছে সম্প্রতি। কদিন আগে পুলিশ রেইড দিয়ে সেটা বন্ধ করে দিলেও আবারও শুরু হয়েছে বারটির বেচাকেনা। এছাড়া গুলশান ও ভাটারা এলাকায় প্রায় ২০টি মাদক স্পট রয়েছে। এসব স্পটে সাধারণত ইয়াবা, ফেনসিডিল বিক্রি হলেও বর্তমানে মদ বিক্রি বেড়েছে। রাজু ও তার স্ত্রী মেরি, হাড্ডি ফারুক, কালু, অঞ্জন ও জিতু, শুক্রবাদ এলাকায় নুরে আলম, বাহরি কালি, মিজু, টোকাই আনোয়ার, কাঁঠালবাগান এলাকায় বাবা সম্্রাট ভাবী, তেজতুরী বাজারে হুমায়ুন, তেজগাঁও রেলগেট এলাকায় আসমা, পারভীন, কলেজ গেট এলাকায় বিহারী পচিশ নামে পরিচিত ইস্তাক মুঠোফোনে যোগাযোগ করে দেশি-বিদেশি মদ বিক্রি করে। মাঝেমধ্যে পুলিশের ধরপাকড়ের শিকার হলেও মাসোহারা দিয়েই চলে সব। রাজধানীর ফাইভ স্টার ও ফোর স্টার হোটেলগুলোতে সরকার অনুমোদিত বারগুলোতে তেমন চাঁদাবাজির কোন অভিযোগ না থাকলেও পৃথকভাবে গড়ে ওঠা বারগুলোতে চাঁদাবাজি হয়। এদের মধ্যে পরীবাগে দুইটি, বাংলামোটরে দুইটি, মগবাজারে একটি, কাকরাইলে তিনটি, গুলশানে তিনটি ও তেজগাঁও এলাকায় দুটি বারে সবচেয়ে বেশি চাঁদাবাজি হয় মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রন অধিদফতরের সংশ্লিষ্ট সার্কেলের পরিদর্শকদের মাসে ১০ লাখ টাকা, স্থানীয় ছাত্রলীগ-যুবলীগ উঠতি নামধারী মাস্তান নেতাদের মাসে পাঁচ লাখ টাকা, সংশ্লিষ্ট ডিবি পুলিশ, স্থানীয় থানা পুলিশ ছাড়াও পুলিশের বিশেষ শাখাসহ অন্যান্য গোয়েন্দা সংস্থাকে অবস্থা ভেদে কয়েক লাখ টাকা গুনতে হয় বার কর্তৃপক্ষকে।
এসব চাঁদাবাজির ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট বার কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, চাঁদা না দিলে তো ব্যবসা করতে দিবে না। তার ওপর আছে বিভিন্ন প্রতিপক্ষ সন্ত্রাসী গ্রুপের চাঁদার হুমকি। ফ্রি খাওয়াতেও হয় অনেককে। একারণে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে রাখতে স্থানীয় থানা পুলিশকে বেশি ম্যানেজ করতে হয়।

এই রকম আরও খবর




Editor: Habibur Rahman
Dhaka Office : 149/A Dit Extension Road, Dhaka-1000
Email: [email protected], Cell : 01733135505
[email protected] by BDTASK