রবিবার, ১০ ডিসেম্বর ২০১৭
Thursday, 07 Dec, 2017 10:47:31 am
No icon No icon No icon

চুরি ও লুটপাটের স্বর্গরাজ্য বিমানের কার্গো বিভাগ


চুরি ও লুটপাটের স্বর্গরাজ্য বিমানের কার্গো বিভাগ


কাউসার আকন্দ, টাইমস ২৪ ডটনেট, ঢাকা: বিমান বাংলাদেশ এয়ার লাইন্স এর কার্গো বিভাগ চুরি আর লুটপাটের স্বর্গরাজ্যে পরিণত হয়েছে। আমদানিকৃত পণ্য চালান চোরাই পথে খালাস করে নিচ্ছে অপরাধীরা। এতে করে সরকার প্রতিবছর শতকোটি টাকার শুল্ক রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। আমদানিকৃত পণ্য চালানের বিষয়ে তদন্তে নেমেছে শুল্ক গোয়েন্দারা। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বিমানের কার্গো আমদানি ভবনটি চুরি আর লুটপাটের স্বর্গরাজ্যে পরিণত হয়েছে। এখানে পণ্য ডেলিভারিতে কোনো ধরনের নিয়ম-শৃঙ্খলা নেই। সিকিউরিটি গার্ড থেকে শুরু করে বিমানের কিছু স্টাফ, কাস্টমস কর্মকর্তা-কর্মচারী, সিএন্ডএফ এজেন্ট যে যেভাবে পারছে লুটপাট করছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, কাগজে-কলমে সংরক্ষিত বলা হলেও কার্গো গুদামের পুরোটাই অরক্ষিত। গার্মেন্ট এঙ্সেরিস, মোবাইল ফোনসেট, স্বর্ণালঙ্কার, হীরা, মূল্যবান কেমিক্যাল, ওষুধের কাঁচামাল, অস্ত্র-এমন কোনো পণ্য নেই এখান থেকে চুরি হচ্ছে না। সিভিল এভিয়েশন, বিমান, কার্গো টার্মিনালের কর্মকর্তা-কর্মচারী, থানা পুলিশ, বিমান সিকিউরিটি, কাস্টমসসহ গোয়েন্দা সংস্থার লোকজনও এর সঙ্গে জড়িত রয়েছে। চোরাই সিন্ডিকেটের সদস্যরা সব গেটই ব্যবহার করছে। তারা গাড়ি নিয়ে বিভিন্ন গেট দিয়ে অবাধে ভেতরে যাচ্ছে, আবার নির্বিঘ্নে বেরিয়ে আসছে।

কাস্টমস গুদামের একজন কর্মকর্তা দৈনিক জনতাকে জানান, প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতির অভাবে সময়মতো মালামাল ডেলিভারি দেয়া সম্ভব হয় না। পাশাপাশি মালামাল রাখার জায়গারও অভাব রয়েছে। সিভিল এভিয়েশনের কাছে মালামাল রাখার জন্য আরও জায়গা বরাদ্দের আবেদন করা হয়েছে। তাছাড়া বিমানবন্দরে শুধু বিমান নয়, কাস্টমসসহ বিভিন্ন সরকারি সংস্থা কাজ করছে। তারা যদি যথাসময়ে মালামাল ডেলিভারির ক্লিয়ারেন্স ও শুল্কায়ন না করেন তাহলে মালামালের চাপ বেড়ে যায়। প্রতিদিন বিমানবন্দর দিয়ে যে পরিমাণ মালামাল আসে তার পুরোটা খালাস করা যাচ্ছে না। এ কারণে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ পণ্য চুরি বা নষ্ট হচ্ছে।

কাস্টমস সূত্রে জানা গেছে, জালিয়াতি ও শুল্ক ফাঁকি দেয়ার অভিযোগে তিনটি সিএন্ডএফ ও কুরিয়ার সার্ভিসকে চিহ্নিত করেছে কাস্টমস কর্মকর্তারা। প্রতিষ্ঠানগুলো হলো-রয়েল এশিয়া, এওয়াইজেড এবং এফএমআই ওয়ার্ল্ড ওয়াইড এঙ্েেপ্রস। ইতোমধ্যে এদের কারণ দর্শানোর নোটিস দেয়া হয়েছে। ভুক্তভোগী সালওয়া করপোরেশনের মালিক আমিনুল ইসলাম বলেন, পণ্য গায়েব হওয়ার ঘটনায় বিমানবন্দর থানায় জিডি করি। হংকং থেকে থাই এয়ারওয়েজের ফ্লাইটে পণ্য আসে, যার এয়ার ওয়ে বিল নম্বর ২১৭-৪৬৪৭-১২৯৪। যথারীতি আমাদের সিএন্ডএফ এজেন্ট হলি কার্গো এঙ্েেপ্রসের কর্মচারীরা কার্গো হাউসে মালামাল খালাস করতে যায়। তখন তাদের জানানো হয়, এসব মালামাল নিয়ে গেছে এনএইচ ইন্টারন্যাশনাল নামের একটি সিএন্ডএফ প্রতিষ্ঠান। আমিনুল ইসলাম অভিযোগ করেন, মোজাম্মেল, জসিম ও মুন্না নামের তিনজন এসব মালামাল জালিয়াতি ও প্রভাব খাটিয়ে নিয়ে গেছে। আমি নিজ হাতে কার্গো হাউসের বিমান কর্মচারী (এফটি) আনোয়ারের কাছে এয়ারওয়ে বিল জমা দিয়ে আসি। পুলিশ ও র‌্যাবকে এ ঘটনা জানানো হয়। কিন্তু এখনো এর সুরাহা হয়নি।

সূত্র আরো জানায়, বিমানবন্দরের কাস্টমস গোডাউনের দায়িত্বপ্রাপ্তদের সমন্বয়ে গঠিত একটি সংঘবদ্ধ জালিয়াতচক্র গোডাউন থেকে কয়েক বছর আগে ১০ কেজি স্বর্ণও গায়েব করে দিয়েছিল। এর পর প্রায় ৪০০ কোটি টাকা দামের ১০৫ কেজি হেরোইন ও মাদক গায়েব করা হয়। ঐ ঘটনায় বিমানবন্দরে ব্যাপক আলোচনা হয়। বেরিয়ে আসে চাঞ্চল্যকর অনেক তথ্য। সরকারি কোটি কোটি টাকার মালামাল গায়েবের ঘটনার সঙ্গে কাস্টমসের ১১ কর্মকর্তা-কর্মচারীর একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট জড়িত ছিল বলে গোয়েন্দারা জানতে পারেন। তবে এর পরও অপরাধী চক্রের সদস্য ও দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের এ সিন্ডিকেট কোটি কোটি টাকার পণ্য গায়েব করে দিচ্ছে।

অপর একটি সূত্র জানায়, কাস্টমস গোডাউনের রয়েছে শক্তিশালী সংঘবদ্ধ জালিয়াত চক্র। বছরের পর বছর ধরে এ ধরনের দুর্বৃত্তপনা করেও পার পেয়ে যাচ্ছে। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে গেলে উল্টো কাস্টম হাউস অচল করে দেয়ার হুমকি পর্যন্ত দিয়ে আসছে দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
সূত্র: দৈনিক জনতা।

এই রকম আরও খবর




Editor: Habibur Rahman
Dhaka Office : 149/A Dit Extension Road, Dhaka-1000
Email: [email protected], Cell : 01733135505
[email protected] by BDTASK