শনিবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৯
Friday, 05 Jul, 2019 09:58:01 pm
No icon No icon No icon

সাংবাদিক সাইফুল ইসলামের মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার ও মামলা বাজদের বিচারের আওতায় আনার দাবীতে মানবন্ধন

//

সাংবাদিক সাইফুল ইসলামের মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার ও মামলা বাজদের বিচারের আওতায় আনার দাবীতে মানবন্ধন

টাইমস ২৪ ডটনেট, ঢাকা : শুক্রবার সকাল ১১.০০ জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে গাজীপুর জেলার কাপাশিয়া উপজেলার দি ডেইলী নিউ নেশন ও দৈনিক জনতা পত্রিকার কাপাশিয়া প্রতিনিধি হাজী সাইফুল ইসলামের বিরুদ্ধে জয়দেবপুর থানায় যে মামলা দায়ের করা হয়েছে সেটি প্রত্যাহার ও মিথ্যা মামলাবাজদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবীতে বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরামের সাধারণ সম্পাদক আবু জাফর। আবু জাফর বলেন, জয়দেবপুর থানায় যে মামলাটি দায়ের করা হয়েছে সেটি মামলার অভিযোগ পত্র পড়লেই বোঝা যাবে যে, এটি একটি মিথ্যা, ভ‚ঁয়া ও বানোয়াট। মামলার অভিযোগকারী লিখিত অভিযোগে বলেছেন, তাকে ধর্ষণ করা হয়েছে গত ২২-০৪-২০১৯ইং তারিখে অথচ তিনি জয়দেবপুর থানায় মামলা করেছেন ১১-০৬-২০১৯ইং তারিখে। জয়দেবপুর থানার মামলা নং-৬, তারিখ:১১-০৬-২০১৯ইং, ধারা:- ২০০০সালের নারী ও শিশু নির্যাতন আইন সংশোধনী/০৩ এর ৯(১)/৩০। মজার বিষয় হলো: ধর্ষিতা ধর্ষিত হয়ে থানায় না গিয়ে গেলেন মেম্বার আবু সাইদ কাছে। কি কারণে তিনি থানায় গেলেন না ? অথবা কি কারণে তিনি হাসপাতালে গিয়ে পরীক্ষা করালেন না? সাংবাদিক নেতা আবু জাফর আরো বলেন, পুলিশ বা সরকারি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করতে হলে যেহেতু বাংলাদেশ সরকারের অনুমোদন লাগে ঠিক তেমনি কোন সাংবাদিকের নামে মামলা করতে গেলে প্রেস কাউন্সিলের কাছে অনুমোদন নেয়া প্রয়োজন। তিনি আরো বলেন, জয়দেবপুর থানার ওসি কি উদ্দেশ্যে এই মামলাটি নিলেন? এটি হয়রানি ছাড়া আর কিছুই না। তিনি গাজীপুর জেলার পুলিশ সুপারের নিকট আহŸান জানান যতদ্রæত সম্ভব এই মিথ্যা মামলাবাজদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য। তা না হলে, সাংবাদিক সমাজ দূর্বার আন্দোলনের মাধ্যমে তাদের দাবী আদায় করতে বাধ্য হবে। অনুষ্ঠানে দৈনিক রূপবানী পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক মোঃ ফারুক আহমেদ বলেন, শুধুমাত্র সাংবাদিকই নয়, কোন নিরিহ মানুষের বিরুদ্ধে মামলা করতে হলে অবশ্যই পুলিশ বাহিনীর উচিত যথাযথভাবে তদন্ত করে তারপর করা। টাকার বিনিময়ে কোন নিরিহ বা ভালো মানুষকে এইরকম মিথ্যা মামলার ফাদে ফেলানো উচিত না। তিনি হুশিয়ারি দিয়ে বলেন, এখনো সময় আছে, মিথ্যা মামলাবাজরা এই ভয়নক পথ থেকে ফিরে আসো। অনুষ্ঠানে সাপ্তাহিত বাংলার চোখ পত্রিকার সম্পাদক আবু হানিফ হৃদয় বলেন, আমরা আমাদের সাংবাদিক ও মালিকদের মধ্যে একত্মতাবোধ না থাকার কারণেই সমাজে অসাধু ব্যক্তিরা বিভিন্ন সময়ে সাংবাদিকদেরকে হত্যা, জখম ও বিভিন্ন মামলা দিয়ে নির্যাতন করে। তাই তিনি বলেন আজ সময় হয়েছে সকল সাংবাদিকদের এ কাতারে এসে দাড়ানো। তা না হলে এই হাজী সাইফুলের মতো একজন একজন করে বিপদে পড়বে ঐ দুবৃত্তদের হাতে। বাংলাদেশ ডেভোলপমেন্ট পার্টির পিডিপি এর চেয়ারম্যান মোঃ শরীফুল ইসলাম বলেন, বিভিন্ন রাজনীতিক পার্টির মতো সাংবাদিকদের মধ্যেও এখন হানাহানি হিংসা বিদ্বেষ দেখা যায়। যেমন একটি রাজনৈতিক দল বিপদে পরলে আরেকজন এগিয়ে আসে না। ঠিক তেমনি একজন সাংবাদিক বিপদে পড়লে আরেকজন সাংবাদিক এগিয়ে আসে না। এটি মোটেও ভালো লক্ষন নয়। অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন, সাংবাদিক মোসাদ্দেক বিল্লাল, সাংবাদিক রাজিব তালুকদার, সাংবাদিক খায়রুল ইসলাম, সাংবাদিক রুবেল মোল্লা। উল্লেখ্য যে, গত ১১-০৬-২০১৯ইং তারিখে মোসাঃ রিপা আক্তার (৩২), সাং- ভিটিপাড়া, পোষ্ট: সিংহশ্রী, থানা: কাপাশিয়া, জেলা: গাজীপুর মেম্বার আবু সাইদকে নিয়ে জয়দেবপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে রিপা আক্তার জানায়, বিবাদী (১) মোঃ সাইফুল (৪০), পিতা: অজ্ঞত, সাং- কাপাশিয়া কলেজের সাথে। (২) মোঃ সোহেল (৩৮), পিতা: অজ্ঞত’র (৩) মোঃ খোকন, পিতা: অজ্ঞত, সাং- লতাপাতা, থানা কাপাসিয়া, জেলা: গাজীপুর। গত ৫ বছর ৬মাস পূর্বে আমার স্বামী গাড়ী চাপায় পিষ্ট হয়ে মারা যায়। গাড়ী মালিকের নিকট ক্ষতিপূরণ বাবদ ১৫হাজার টাকা আমার শশুরের নিকট দেয়। আমার শশুরের কথা ছিলো আমার ছেলে রাফির নামে ব্যাংক একাউন্ট করে জমা রাখবে। কিন্তু শশুর তা না করে উক্ত টাকা আত্মসাৎ করেন। টাকা চাইতে গেলে আমার শশুর আমার ছেলের নামে একাউন্ট করে দিবে না বলে জানায়। তখন আমি কোন উপায় না পেয়ে আমার শশুরের বিরুদ্ধে স্থানীয় চেয়ারম্যানের নিকট লিখিত অভিযোগ করেও টাকা আদায় করতে ব্যর্থ হই। গত ১৩/০৩/২০১৯ইং তারিখে (৩)নং আসামীর সাথে পরিচয় হয় এবং তিনি আমার টাকা আদায় করে দিবে বলে ১নং বিবাদীর সাথে কথা বলে আমার টাকা উদ্ধার করে দিবে বলে জানায়। ১নং বিবাদী আমাকে ২২/০৪/২০১৯ইং তারিখে অত্র জয়দেবপুর থানাধীন হোতাপাড়া শ্যামলী রিসোর্টে আসতে বলে। আমি উক্ত স্থানটি চিনি না বলে জানালে (১)নং বিবাদী (৩)নং বিবাদীকে আমাকে নিয়ে আসতে বলে। ৩নং বিবাদী আমাকে হোতাপাড়া শ্যামলী রিসোর্টে নিয়ে আসেন। তখন সন্ধ্যা অনুমান ৬:৫০ঘটিকা। আমাকে (১)নং বিবাদী উক্ত শ্যামলী রিসোর্টের একটি ফাঁকা ঘরে নিয়ে শারীরিক সর্ম্পক করার কু প্রস্তাব দিলে আমি তা করতে অসম্মতি জানালে সে জোরপূর্বক আমার ইচ্ছার বিরুদ্ধে একাধিকবার ধর্ষণ করে। (৩)নং বিবাদী তখন উক্ত রুমের বাহিরে অবস্থান করে। (২) ও (৩)নং বিবাদী এর আগেও মোবাইলের মাধ্যমে বিভিন্ন সময়ে আমার সাথে মেলামেশার কথা বলতো। আমি যাতে উক্ত ধর্ষণের কথা কাউকে না বলি সেজন্য অজ্ঞত ব্যক্তি পরিচয়ে আমাকে বিভিন্ন সময় ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদান করে। আমি প্রাণনাশের ভয়ে কারো কাছে কিছু বলি ন্ইা। এমতাবস্থায় উক্ত বিষয়ে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও চেয়ারম্যান মেম্বারদের সাথে আলাপ আলোচনা করার কারণে মামলা দায়ের করতে দেরি হয়। এই হলো মামলাবাজ মোসাম্মৎ রিপা আক্তারের অভিযোগ। রিপা আক্তারের মোবাইল ০১৭৭৬৬০৯৭৮৩। রিপা আক্তার ধর্ষিত হলেন, ঘটনাস্থল থেকে থানা মাত্র ১মিনিটের রাস্তা। তিনি থানায় গেলেন না। একাধিকবার যেহেতু ধর্ষিত হয়েছেন তিনি নিশ্চিয় অসুস্থ ছিলেন, তিনি হাসপাতালেও গেলেন না। তিনি গেলেন মেম্বার আবু সাইদের কাছে। শ্যামলী রিসোর্ট হোতাপাড়ার একটি নামিদামী প্রতিষ্ঠান। সেখানে অনেক লোক কাজ করে। তিনি তাদেরকেও বললেন না। একদিনের পরিচয়ে তিনি রুমে এলেন? বিচার আপনাদের উপর। এ বিষয়ে মুঠোফোনে রিপা আক্তারের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, আমার সাথে ধর্ষণের কোন ঘটনা ঘটে নাই, হাজী সাইফুল আমাকে মাঝে মাঝে ফোনে ডির্স্টাব করতো। মেম্বার আবু সাইদ ও গাজীপুর জেলার পুলিশ সুপার আমাকে মামলা করতে বাধ্য করেছে। দুই মাস পরে থানায় ধর্ষণের ঘটনায় মামলা হয়, এটি আমার বোধগম্য নয়। বর্তমানে মামলা তুলে নিবে বলে বিভিন্ন লোক মারফত ৫লক্ষ টাকা দাবী করছে। ৫লক্ষ টাকা দিলে এ মামলা তুলে নিবে। এর আগেও এই চক্র বিভিন্ন ব্যবসায়ী, রাজনীতিবিদ এমনকি পুলিশও বাদ যায় না এদের হাত থেকে। এ বিষয়ে তদন্ত করলেই আসল চিত্র বেরিয়ে আসবে। 
মানববন্ধন অনুষ্ঠানে অন্যান্য বক্তরা বলেন, এটি একটি হাস্যকর মামলা, এটি একটি হয়রানি মামলা। এই মামলাটি যিনি রুজু করতে সহায়তা করেছেন তাকে ধিক্কার জানানো হয়। মানববন্ধন অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস্ এন্ড প্রেস সোসাইটির চেয়ারম্যান মোঃ আনোয়ার হোসেন আকাশ বলেন, মিথ্যা মামলাবাজ চক্ররা এতই বেপরোয়া যে, তারা বিভিন্ন থানার ওসি, এসি এবং উর্ধ্বতন পুলিশের বিরুদ্ধেও মিথ্যা মামলা করে আপোষরফার মাধ্যমে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেয়। এই চক্রের অন্যতম হোতা মেম্বার আবু সাইদ রিপা আক্তার গংদের বিরুদ্ধে যদি এখনই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না করা হয় তবে এদেশের সাধারণ মানুষের বসবাস করা কঠিন হয়ে পরবে। পুলিশের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ও গাজীপুর জেলা পুলিশ সুপারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে উনি বলেন, আপনারা অনেক বড় বড় অপরাধীদের ধরে সাফল্য দেখিয়েছেন। দয়া করে সমাজের এইসব কুলাঙ্গারদের বিরুদ্ধে কঠিন ব্যবস্থা গ্রহণ করুন। আজকে হাজী সাইফুলের বিরুদ্ধে যা হয়েছে কাল যে অন্যদের বিরুদ্ধে হবে না এই গ্যারান্টি কেউ দিতে পারবে না। তিনি হুশিয়ারী দিয়ে বলেন, সাংবাদিক সমাজের বিরুদ্ধে যদি একের পর এক মিথ্যা মামলা দেয়া হয় তবে সাংবাদিক সমাজ দূর্বার আন্দোলনের মাধ্যমে এদের বিষদাত ভেঙ্গে দেবে। 

 

এই রকম আরও খবর




Editor: Habibur Rahman
Dhaka Office : 149/A Dit Extension Road, Dhaka-1000
Email: [email protected], Cell : 01733135505
[email protected] by BDTASK