বৃহস্পতিবার, ২১ নভেম্বর ২০১৯
Thursday, 23 May, 2019 09:07:57 am
No icon No icon No icon

ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযানচলাকালে পুলিশের বিরুদ্ধে টাকা নেয়ার অভিযোগ

//

ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযানচলাকালে পুলিশের বিরুদ্ধে টাকা নেয়ার অভিযোগ


 টাইমস ২৪ ডটনেট, ফুলবাড়িয়া (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি :  ফুলবাড়িয়ায়া উপজেলার শিবগঞ্জ বাজার, কেশরগঞ্জ বাজার ও আছিম বাজারে ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযান পরিচালনার সময় সহযোগীতার জন্য দায়িত্বরত পুলিশ দোকানদারদের কাছ থেকে অবৈধ ভাবে টাকা নেয়ার অভিযোগ উঠেছে। দায়িত্বরত পুলিশের এমন ধান্ধাবাজির ঘটনায় বিব্রতরকর অবস্থায় পরেছেন ভ্রাম্যমান আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার ভূমি কামরুন্নাহার সেফা। ঘটনার বিষয়টি ফুলবাড়িয়া থানার ওসিকে জানিয়েছেন ভ্রাম্যমান আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট।
গত মঙ্গলবার (২১ মে) উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ তিনটি বাজারের বিভিন্ন দোকানে পুলিশের সহযোগীতা নিয়ে ভোক্তা অধিকার আইনে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করেন উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি। এসময় ৬ টি দোকানে মেয়াদ উত্তীর্ণ পণ্য, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ থাকায় ১৩ হাজার টাকা জরিমানা করেন। কেশরগঞ্জ বাজারে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনাকালে দায়িত্বে নিয়োজিত পুলিশ বাজারের দোকদারদের কাছ থেকে অবৈধ ভাবে ৬ শ থেকে ১ হাজার করে টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ উঠে। ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা শেষে ফিরে আসার পথে সংশ্লিষ্ট নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কামরুন্নাহার শেফাকে কেশরগঞ্জ বাজার ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, মোবাইল কোট পরিচালনাকালে দায়িত্বে থাকা পুলিশ তাদের কাছ থেকে জেল জরিমানা আদায়ের ভয় দেখিয়ে টাকা হাতিয়ে নেয়।
জানাগেছে, ভ্র্যাম্যমান আদালত পরিচালনা কাজে সহযোগীতা করার জন্য ফুলবাড়িয়া থানার পুলিশের এ্স আই ফেরদৌস আলমের নেতৃত্বে পুলিশ দায়িত্ব পালন করেছে। দায়িত্বে থাকা পুলিশের বিরুদ্ধে হোটেল, মনোহারী দোকানে গিয়ে জেল জরিমানার ভয় দেখিয়ে টাকা নেয়ার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন খোদ ভ্রাম্যমান আদালতের ম্যাজিস্ট্রেট কামরুন্নাহার শেফা।
কেশরগঞ্জ বাজারের মনোহারী দোকানদার শফিকুল ইসলাম জানায়, এসিল্যান্ড স্যারের আড়ালে এসে পুলিশ জেল জরিমানার ভয় দেখিয়ে আমার কাছ থেকে ১ হাজার টাকা নিয়ে দোকান বন্ধ করে চলে যেতে বলেছে। একই অভিযোগ করেন, হোটেল ব্যবসায়ী আব্দুল খালেক। তার কাছ থেকেও পুলিশ ৬ শ টাকা হাতিয়ে নেয়। উভয় দোকানদার বলতে পারছেন না যে টাকাটা পুলিশের কনষ্টেবল না অফিসার নিয়েছেন তবে ভ্রাম্যমান আদালতে দায়িত্বে থাকা পোশাক পরিহিত পুলিশ টাকা নিয়েছেন। মোবাইল কোর্ট চলাকালে পুলিশের টাকা নেয়ার অভিযোগ উঠার পরে মঙ্গলবার ( ২১ মে ) এস আই ফেরদৌস আলম পুলিশের গাড়ীর ড্রাইভার কনস্টেবল রিপন ও কনস্টেবল কামরুল ইসলামের বিরুদ্ধে থানায় সাধারন ডায়রী করেছেন বলে জানাগেছে।
অভিযুক্ত কনস্টেবল কামরুল ইসলাম বলেন, ম্যাজিস্ট্রেট স্যার দোকান মালিকদের জরিমানার আদায়কৃত টাকা নিয়েছি। অবৈধ ভাবে কোন টাকা নেইনি। তাঁর বিরুদ্ধে এসআইয়ের করা জিডি’র বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না বলে জানিয়েছেন। অভিযুক্ত পুলিশের আরেক গাড়ি চালককে থানায় গিয়ে পাওয়া যানি।
অভিযোগের বিষয়ে এস আই ফেরদৌস আলম বলেন, ভ্রাম্যমান আদালত চলাকালে আমাদের ভেতর কে বা কাহারা দোকানদারদের কাছ থেকে টাকা নিয়েছে আমি নিশ্চিত না। আমি সব সময় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেডের সাথে ছিলাম। বিষয়টি নিয়ে সার্কেল স্যার ও ওসি স্যার আমাকে অনেক কথা বলেছেন। তিনি আরও বলেন, যতটুকু জানতে পেরেছি গাড়ীর ড্রাইভারসহ ২ পুলিশ কনস্টেবল জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে থানায় জিডি করেছি। জিডি নং-৮৫২।
এ বিষয়ে ওসি মোঃ ফিরোজ তালুকদার পিপিএম (বার) সাথে কথা বলতে থানায় গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি। সরকারী নাম্বারে একাধিক বার ফোন করা হলে তিনি ফোন রিসির্ভ করেননি।
ত্রিশাল ও ফুলবাড়িয়া থানার এ,এস,পি সার্কেল রাকিব খান বলেন, আমি ছুটিতে রয়েছি, বিষয়টি আমি আপনার কাছ থেকে জানলাম, এ বিষয়ে দারোগার সাথে কোন কথা হয়নি আমার।
ভ্রাম্যমান আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার ভূমি কামরুন্নাহার সেফা বলেন, আমি কেশরগঞ্জ বাজারে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা শেষ করে অফিসে আসার পথে স্থানীয় কয়েকজন ব্যবসায়ী পুলিশের টাকা নেয়ার বিষয়টি আমাকে জানিয়েছেন। ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক ও বিব্রতকর। বিষয়টি আমি ইউএনও স্যার ও ওসি সাহেবকে জানিয়েছি।

এই রকম আরও খবর




Editor: Habibur Rahman
Dhaka Office : 149/A Dit Extension Road, Dhaka-1000
Email: [email protected], Cell : 01733135505
[email protected] by BDTASK