বুধবার, ১৭ অক্টোবর ২০১৮
Friday, 10 Aug, 2018 08:27:38 pm
No icon No icon No icon

নাইক্ষ্যংছড়িতে শিক্ষকের উপর সন্ত্রাসী কায়দায় হামলা


নাইক্ষ্যংছড়িতে শিক্ষকের উপর সন্ত্রাসী কায়দায় হামলা


বিশেষ প্রতিনিধি, কক্সবাজার থেকে: নাইক্ষ্যংছড়িতে একই বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক কে সহকারি শিক্ষক পরিকল্পিত  হামলা চালিয়ে গুরুতর আহত করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। পার্বত্য বান্দরবনের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার  সদর ইউনিয়নের ভালুক খাইয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এই ঘটনা ঘটে। ঘটনার বিবরনে জানা যায়, ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নুরুল ইসলাম ও মোঃ রফিক উদ্দীন সহকারি শিক্ষক। গত বছর একটি ঘটনা কে কেন্দ্র করে প্রধান শিক্ষক নুরুল ইসলাম কে লান্ঞিত করেন আলোচিত সহকারি শিক্ষক মোঃ রফিক উদ্দীন।এ নিয়ে নাইক্ষ্যংছড়ি শিক্ষা কর্মকর্তা শালিসী বৈঠকে বসে দু,জনের বিরোধ মিমাংসা করে দেন।সমাধানের পর ও সহকারি শিক্ষক মোঃ রফিক উদ্দীন বিভিন্ন সময় 
প্রধান শিক্ষক নুরুল ইসলাম কে ভয়ভীতি সহ হত্যার হুমকি দিতেন।এরই মধ্যে গত ৯ আগস্ট সকাল ১১ ঘটিকার সময় ঘটেছে লস্কাকান্ড।
ঘটনা অনুসন্ধান কালে জানা যায়,ভালুক খাইয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ডেপুটেশনে থাকা সহকারি শিক্ষিকা  আলমাস আক্তারের ডেপুটেশন বাতিল চেয়ে দৌছড়ি ইউনিয়নের বাকঁখালী মৌজার পশ্চিম ছাগল খাইয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদ পার্বত্য বান্দরবন জেলা পরিষদ বরাবরে আবেদন করেন।সেই আবেদনের প্রেক্ষিতে পার্বত্য বান্দরবন জেলা পরিষদ ডেপুটেশন বাতিল করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্হা নেওয়ার জন্য পার্বত্য বান্দরবন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা কে লিখিত নির্দেশ দেন।এ সংক্রান্ত বান্দরবন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের লিখিত আদেশ আসে নাইক্ষ্যংছড়ি  উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার দপ্তরে।সেই লিখিত চিঠির আলোকে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা শিক্ষা অফিসার স্বাক্ষরিত একটি চিঠি প্রধান শিক্ষক বরাবর ভালুকিয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আসে।ওই চিঠিতে ভালুকিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ডেপোটেশনে থাকা সহকারি শিক্ষকা আলমাস আক্তার কে তার পূর্বের কর্মস্হল পশ্চিম ছাগল খাইয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যোগদানের নির্দেশ রয়েছে। এমন নির্দেশনা পেয়ে প্রধান নুরুল ইসলাম তা শিক্ষিকা আলমাস আক্তার কে অবহিত করেন ও হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর না করার অনুরোধ জানান।নিষেধ করায় প্রধান শিক্ষক নুরুল ইসলামের উপর ক্ষেপে যান সহকারি শিক্ষকা আলমাস আক্তার।অকথ্য ভাষায় উচ্চস্বরে গালিগালাজ করার এক পর্যায়ে ভালুক খাইয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের আলোচিত সহকারি শিক্ষক মোঃ রফিক উদ্দীন বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষে এসে শিক্ষিকা আলমাস আক্তারের পক্ষ নিয়ে প্রধান শিক্ষক নুরুল ইসলামের উপর  হামলে পড়েন। পরিকল্পনা মোতাবেক হাত ও পা দিয়ে কিল,ঘুষি দিয়ে  আঘাত করার এক পর্যায়ে প্রধান শিক্ষক নুরুল ইসলাম জ্ঞান হারিয়ে অফিস কক্ষের ভেতরেই মাটিতে লুটে পড়েন।শিক্ষার্থীদের চিৎকারে আশপাশের লোক জন এগিয়ে আসেন।তারা প্রধান শিক্ষক নুরুল ইসলাম কে মুমুর্ষ অবস্হায় উদ্ধার করে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে মাষ্টার নুরুল ইসলামের অবস্হা আশংকাজনক দেখে চিকিৎসকরা কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে হস্তান্তর করেন।কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডাঃ পুচনু জানানঃ মাষ্টার নুরুল ইসলামের অবস্হা এখনো আশংকাজনক। তার গোটা শরীরে ফুলা জখমের চিহ্ন রয়েছে।
ভালুক খাইয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পরিচালনা পর্ষদের একাধিক সদস্য জানান, শিক্ষকের উপর বর্বরোচিত হামলায় তারা হতবাক।তারা প্রশ্ন রাখেন - মোঃ রফিক উদ্দীন শিক্ষক নাকি মাস্তান! পরিচালনা পরিষদ তীব্র নিন্দা ও দৃষ্টান্তমুলক শাস্তির ও দাবি জানান।
অনুসন্ধানে আরো জানা যায়,রামু উপজেলার কচ্ছপিয়া ইউনিয়নের শুকমনিয়া গ্রামের মৃত শফিকুর রহমানের পুত্র মোঃ রফিক উদ্দীন।ছাত্র জীবনে সরাসরি শিবিরের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন।তখনো তার বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী কার্যক্রমের বিস্তর অভিযোগ এলাকাবাসীর।সরকারি চাকরিতে (শিক্ষকতায়)এসে ও পুর্বে স্বভাব বদলাতে পারেনি মোঃ রফিক উদ্দীন।চাকরির সুবাদে বর্তমানে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা সদরে বসতবাড়ি করে বসবাস করছেন।মোঃ রফিক উদ্দীন  নাইক্ষ্যংছড়ি সদরের ভালুক খাইয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারি শিক্ষক হিসাবে যোগদানের পর থেকে একের পর এক শিক্ষাঅফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শিক্ষকদের মারধর ও লান্ঞিত করার ঘটনা রীতিমতো  ওপেন সিক্রেট।সহকারি শিক্ষক মোঃ রফিক উদ্দীনের হাতে মারধরের শিকার হন তৎকালীন ভালুকখাইয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও বর্তমানে নাইক্ষ্যংছড়ি সদর মড়েল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের পদে দায়িত্বে নিয়োজিত মংশৈঅং মারমা।নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা শিক্ষা অফিসের সাবেক অফিস সহকারি আব্দুস সাত্তার কে মারধর করেন আলোচিত শিক্ষক মোঃ রফিক উদ্দীন।তাছাড়া তৎকালীন উপজেলা শিক্ষা অফিসার(ভারপ্রাপ্ত)
শুভাশীষ বড়ুয়া ও বর্তমান নাইক্ষ্যংছড়ি শিক্ষা অফিসার আবু আহমেদের সাথে অসৌজন্যমুলক আচরনের অভিযোগ রয়েছে আলোচিত শিক্ষক মোঃ রফিক উদ্দীনের বিরুদ্ধে।এসব ঘটনার পেক্ষিতে তৎকালীন পার্বত্য বান্দরবন জেলা পরিষদ সদস্য ক্যউচিং চাক,নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা শিক্ষা অফিসার,শিক্ষক সমিতির নেতৃবৃন্দ ও নাইক্ষ্যংছড়ি থানার অফিসার ইনচার্জ সহ সংশ্লিষ্টদের নিয়ে শালীশি বৈঠক হয়েছিল।
এব্যাপারে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আবু আহমেদ জানান, অভিযুক্ত শিক্ষক মোঃরফিক উদ্দীনের বিরুদ্ধে অতীতের অনেক অভিযোগ শুনেছি।প্রধান শিক্ষক নুরুল ইসলামের উপর হামলার বিষয়ে তিনি জানান,অভিযোগ পেলে তদন্ত করে শাস্তিমুলক ব্যবস্হা নেবেন।
নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাদিয়া আফরিন কচি জানান,অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে তদন্ত করে শাস্তিমুলক ব্যবস্হা নেবেন।
বান্দরবন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার রিটন কুমার বড়ুয়ার মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও ফোন রিসিভ না করায় বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।

 

এই রকম আরও খবর




Editor: Habibur Rahman
Dhaka Office : 149/A Dit Extension Road, Dhaka-1000
Email: [email protected], Cell : 01733135505
[email protected] by BDTASK