বুধবার, ১৪ নভেম্বর ২০১৮
Thursday, 12 Jul, 2018 05:33:25 pm
No icon No icon No icon

দেশের প্রতিটি গণতান্ত্রিক আন্দোলন সংগ্রামে অগ্রনী ভূমিকায় মেয়র প্রার্থী এ.কে আজাদ


দেশের প্রতিটি গণতান্ত্রিক আন্দোলন সংগ্রামে অগ্রনী ভূমিকায় মেয়র প্রার্থী এ.কে আজাদ


আহমেদ জালাল, বিশেষ প্রতিনিধি, বরিশাল থেকে : বরিশাল সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে জয়ী হলে নগরীর উন্নয়নে স্বচ্ছতা ও নগর ভবনকে জবাবদিহিমূলক এবং নাগরিকবান্ধব হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয়ে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি)'র মেয়র প্রার্থী প্রখ্যাত শ্রমিক নেতা এ্যাড. এ.কে আজাদ পথ বেয়ে চলছেন। মেহনতি মানুষের সংগ্রামী যোদ্ধা কমরেড এ.কে আজাদ জীবনবাজী রেখে মানুষের জন্য সারাটা জীবন কাজ করতে চান,কাজ করে চলছেন । মেহনতি মানুষের আকাঙ্খার পূরণে দৃর্বার গতিতে এগিয়ে চলছেন এই রাজনীতিক । দেশের প্রতিটি গণতান্ত্রিক আন্দোলন সংগ্রামের অগ্রনী ভূমিকায় থাকছেন তিনি। বৈষম্যহীন সাম্যের সমাজ গড়ার পথে জেলা কমিউনিস্ট পার্টির সভাপতি এ্যাড. এ.কে আজাদ বরিশালের রাজনীতিতে এক সংগ্রামী নাম । বলাবাহুল্য: সিপিবি,বাসদ ও গণতান্ত্রিক বামমোর্চার প্রার্থী এ্যাড. এ.কে আজাদ। বিষয়টি বরিশালে তফসিল ঘোষণার অনেক আগেই সম্বলিতভাবে লড়াই সংগ্রামে দিকপাল একে আজাদকে
 মেয়র পদে প্রতিদ্ব›িদ্বতায় সমর্থন দেয়। পাশাপাশি মহিলা পরিষদ,উদীচীসহ বিভিন্ন প্রগতিশীল সংগঠন একে আজাদকে সমর্থন দেয়। এছাড়া গণফোরাম এবং ঐক্য ন্যাপও কমরেড একে আজাদের পক্ষে নির্বাচনী প্রচারনা চালিয়ে আসছেন। কিন্তু বরিশালে বাসদ’র কখনই কোনো ধরণের কার্যক্রমতো দূরের কথা, কোনো কমিটিই ছিলো না। তফসিল ঘোষণার আগে হঠাৎ করে ছাত্রফন্ট্রের সভাপতি ইমরান হাবীব রুমনকে আহবায়ক এবং ছাত্রফন্ট্রের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক মনীষা চক্রবর্তীকে সদস্য সচিব করে নামকাওয়াস্তে এক আহবায়ক কমিটি’র চাউর ঘটায়। অত:পর মনীষা চক্রবর্তী নিজেই বাসদের প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা দেন। যেখানে সম্বলিতভাবে কমিউনিস্ট রাজনীতিতে ওৎপ্রোতভাবে জড়িত অভিজ্ঞ রাজনীতিকরা প্রখ্যাত শ্রমিক নেতা একে আজাদকে সমর্থন দিয়ে প্রচারনায় মাঠে নেমেছেন। সেই মুহুর্তে কমিউনিস্ট রাজনীতিকে ড্যাম কেয়ার করে মনীষা প্রার্থী বনে যান, তাঁর এই প্রার্থী হওয়ার নেপথ্যে যোগান দিচ্ছে বূর্জোয়া ঘরোনা কেউ কেউ, এরকম মন্তব্য এখানকার বামপন্থী রাজনীতিকদের। বিস্ময়কর বিষয় হলো-বূর্জোয়াদের একটি শক্তি নেপথ্যে থেকে মনীষাকে নির্বাচনী মাঠে ছেড়ে দেয়া হয়। সূত্রের ভাষ্যমতে বাসদের আহবায়ক যাকে করা হয়েছে তিনি ছাত্রফন্ট্রের কেন্দ্রীয় সভাপতি, রাজধানীতে রাজনীতি করতেন। রুমন বরিশালের বাসিন্দা নয়, তার বাড়ি বগুড়ায়। বেশ কয়েক মাস আগে রুমন বরিশালে আগমন ঘটে, এরপর বাসদ’র আহবায়ক কমিটি’র আহবায়ক হন। সবমিলিয়ে মনীষা’র এহেন নানা বিতর্কিত কর্মকাÐে কমিউনিস্ট রাজনীতির উল্টো পথে চলারই ইঙ্গিত বহন করে বলে মন্তব্য অভিজ্ঞদের।
এদিকে-আগামি ৩০ জুলাই অনুষ্ঠিতব্য বরিশাল সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন-২০১৮ উপলক্ষে ১১ জুলাই বুধবার  বেলা ১১টায় বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) বরিশাল জেলা কমিটির উদ্যোগে মেয়র প্রার্থী এ্যাড. এ.কে. আজাদের কাস্তে মার্কার পক্ষে নগরীর নাজিরমহল¬া এলাকা থেকে নির্বাচনী প্রচারণার কাজ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয় । এ সময় উপস্থিত ছিলেন- সিপিবি কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি মন্ডলীর সদস্য কমরেড রফিকুজ্জামান লায়েক, সিপিবি বরিশাল জেলা সভাপতি ও মেয়র প্রার্থী এ্যাড. এ কে আজাদ, সিপিবি বরিশাল জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ মিজানুর রহমান সেলিম, বরিশাল জেলা ইমারত নির্মাণ শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি শ্রমিক নেতা এম. এ. জলিল, জাতীয় নারী শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন বরিশাল জেলা সভাপতি খাদিজা বেগম বিনতা, বরিশাল বস্তিবাসী ইউনিয়নের আহŸায়ক নূর হোসেন হাওলাদার, বাংলাদেশ যুব ইউনিয়ন বরিশাল জেলা সভাপতি রেজাউল ইসলাম খোকন, বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন বরিশাল জেলা সংসদের সভাপতি দীপংকর কুন্ডু প্রমুখ । নির্বাচনী প্রচারণায় মেয়র প্রার্থী শ্রমিকনেতা কমরেড এ্যাড. এ.কে আজাদ সকলকে দুর্নীতি- লুটপাট-সন্ত্রাস-দখলদারিত্ব -জলাবদ্ধতা - মাদক ও অনিয়মমুক্ত জনগণের সেবক প্রতিষ্ঠান হিসেবে বরিশাল সিটি কর্পোরেশনকে গড়ে তুলতে কাস্তে মার্কায় ভোট দেয়ার আহবান জানান । ১২ জুলাই নগরীর ভাটিখানা, গণপূর্ত, পোর্টরোডসহ বিভিন্নস্থানে গণসংযোগ কাস্তে প্রতীকের গণসংযোগ করেন মেয়র প্রার্থী একে আজাদ। প্রসঙ্গত : মাত্র ১২ বছর বয়সে এ.কে আজাদ ন্যাপ- কমিউনিস্ট পার্টি-ছাত্র ইউনিয়নের গেরিলা বাহিনীতে যুক্ত থেকে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন । প্রগতিশীল রাজনীতিতে হাতেখড়ি দিয়ে তিনি বরিশালে সুলতানি বিড়ি শ্রমিকদের আন্দোলনে যুক্ত হন । ১৯৭৬ সালে তিনি বরিশাল জেলা প্রেস শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি নির্বাচিত হন । শোষণমুক্তির সাম্যের সমাজ প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে মনোরমা বসু মাসিমা, কমরেড মুকুল সেন, কমরেড নলিনী দাস, কমরেড নূরুল ইসলাম মুন্সীর মতো কিংবদন্তি কমিউনিস্ট নেতাদের সান্নিধ্যে পান তিনি । ১৯৭৭ সালে তিনি কমিউনিস্ট পার্টির সাথে যুক্ত হন । ৮০'র দশকে স্বৈরাচারী এরশাদ বিরোধী আন্দোলনে ৯টি শ্রমিক সংগঠনের সম্মিলিত জোট শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদের সমন্বয়কারী হিসেবে অগ্রনী ভূমিকা পালন করেন । ১৯৮৪- ৮৫ সালে হোল্ডিং কোম্পানি গঠনের বিরুদ্ধে আন্দোলন, বরিশাল টেক্সটাইল মিল বেসরকারিকরণ প্রতিরোধ আন্দোলন, বরিশাল সদর হাসপাতাল রক্ষা আন্দোলন, নার্সদের বেতন মর্যাদা বৃদ্ধির আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন প্রখ্যাত শ্রমিক নেতা এ.কে আজাদ । ১৯৮৮ এবং ১৯৯৮ সালে ভয়াবহ বন্যায় দিনরাত অক্লান্ত পরিশ্রম করে বন্যা দুর্গত মানুষের পাশে নিজেকে আত্মনিয়োগ করেন । ২০০২ সালে বরিশালে প্রগতিশীল রিকসা মজদুর শ্রমিক ইউনিয়নের দাবি আদায় করতে গিয়ে তৎকালীন সরকারের সন্ত্রাসীদের বর্বরোচিত হামলায় পা ভেঙে প্রায় তিন বছর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন । বিভিন্ন ধরণের দমন, পীড়ন, জেল-জুলুম,হামলা-মামলা, নির্যাতনের পরেও তিনি সার্বক্ষণিক মেহনতি মানুষের মুক্তির সংগ্রামে নিজেকে নিয়োজিত রেখেছেন ।২০০৭ সালে প্রলয়ঙ্কারী ঘূর্নিঝড় সিডরে দক্ষিণাঞ্চলে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে ত্রাণ সংগ্রহ, বিতরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন । ২০১৩ সালে সকল যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে গড়ে ওঠা গণজাগরণ মঞ্চের আন্দোলনে বরিশালে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন তিনি ।

 

এই রকম আরও খবর




Editor: Habibur Rahman
Dhaka Office : 149/A Dit Extension Road, Dhaka-1000
Email: [email protected], Cell : 01733135505
[email protected] by BDTASK