সোমবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮
Tuesday, 10 Jul, 2018 11:24:25 am
No icon No icon No icon

রামু-নাইক্ষ্যংছড়িতে বন্যার পানিতে যোগাযোগ ব্যবস্থা লন্ডবন্ড


রামু-নাইক্ষ্যংছড়িতে বন্যার পানিতে যোগাযোগ ব্যবস্থা লন্ডবন্ড


এস,এম হুমায়ুন কবির, বিশেষ প্রতিনিধি, টাইমস ২৪ ডটনেট, কক্সবাজার থেকে: চলতি বর্ষা মৌসুমে উজানী ঢলের পানিতে রামু ও নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার জনগুরুত্বপুর্ণ সেতু,রাস্তা ও সড়ক ভেঙ্গে পড়ায় জনদুর্ভোগ বৃদ্ধি পেয়েছে।স্কুল,কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থীরা যথা সময়ে স্কুল /কলেজে যথা সময়ে পৌছতে না পারায় লেখা পড়ায় টাইম সিডিউল ঠিক রাখা যাচ্ছে না।এতে করে শিক্ষা সেক্টরে শিক্ষক/ শিক্ষার্থীদের মাঝে বিরাজ করছে চাপা ক্ষোভ ও হতাশা। অপর দিকে যোগাযোগ ব্যবস্হা ভেঙ্গে পড়ায় নাগরিক জীবনে যেমন ভোগান্তি পৌহাতে হচ্ছে।তেমনি ব্যবসাবানিজ্যে নেমে এসেছে স্হবিরতা।গত সাপ্তাহে অতি বৃষ্টির কারনে উজানী পাহাড়ী ঢলে রামু ও নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার অধিকাংশ রাস্তা,ঘাট,ব্রিজ,কালভার্ট ভেঙ্গে যায়।সারা দেশ তথা জেলা শহর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে রামু উপজেলার গর্জনিয়া ইউনিয়নের ক্যাজরবিল,জুমছড়ি,নজু মাতব্বর পাড়া,বড়বিল,মাঝির কাটা,পোয়াংগের খিল,নাপিত পাডা,থিমছড়ি,জাউচ পাড়া,থোয়াঙ্গা কাটা সহ অন্তত ২০ টি গ্রাম।মাঝির কাটা ৬ নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সভাপতি শাহ আলম জানান,চলতি বর্ষা মৌসুমে গর্জনিয়া ইউনিয়নের বেলতলী ঝর্নার ঘাট থেকে মাঝির কাটা গ্রাম হয়ে হিন্দু পাড়া পর্যন্ত প্রায় ১০ কিলোমিটার এলাকায় বাকঁখালীর ভাঙ্গন ব্যাপক আকার ধারন করেছে।প্রতিনিয়ত হু হু করে ভাঙ্গছে ঘরবাডী, মসজিদ,গোরস্তান সহ নানা স্হাপনা।৬ নং ওয়ার্ড ইউপি সদস্য কামাল হোসেন জানান, বাকঁখালী নদীর ভাঙ্গনে শত বছরের গ্রাম বিলীন হয়ে যাচ্ছে।মানুষ প্রতিদিন হারাচ্ছে মাথা গুজার ঠাঁই।প্রতিনিয়ত মানুষ বাস্তুহারা হচ্ছে।গর্জনিয়ার এটি মহা সমস্যায় পরিনত হয়েছে।ইতোপুর্বে সরকারের দায়িত্বশীল কর্মকর্তা- রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ সরেজমিন পরিদর্শন করে নদী ভাঙ্গন প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্হা গ্রহনের আশ্বাস দিলে ও এখনো পর্যন্ত কার্যকর পদক্ষেপ দৃশ্যমান হয়নি।মাঝির কাটা এলাকার প্রবীন শিক্ষক মৌলানা মোঃ শফি জানান, বাকঁখালী নদীর ভাঙ্গন প্রতিরোধে যদি সহসা কার্যকর ব্যবস্হা গ্রহন করা না হয় তাহলে অদুর ভবিষ্যতে ভাঙ্গনের কারনে গর্জনিয়া ইউনিয়নের মানচিত্র থেকে হারিয়ে যাবে প্রাচীন বহু গ্রাম।গর্জনিয়া ইউনিয়নের জুমছড়ি এলাকায় বর্ষার পাহাড়ী ঢলে প্রতিনিয়ত গিলে খাচ্ছে বহু রাস্তা,ঘাট।শত শত মানুষের ঘরবাড়ী ভাঙ্গনের কবলে পড়েছে।২ নং ওয়ার্ড় ইউপি সদস্য এহসান উল্লাহ ও জুমছডি বদিউল আলম স্মৃতি বিদ্যাপিঠের প্রতিষ্টাতা আজিজ মৌলা জানান,যে ভাবে জুমছড়ি গ্রাম গর্জই নদীর ভাঙ্গনের কবলে পড়েছে ভাঙ্গন প্রতিরোধে ব্যবস্হা গ্রহন করা না হয় তা হলে চলতি বর্ষা মৌসুমে কয়েক শত ঘরবাড়ী নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যাবে। সরেজমিন পরিদর্শন কালে জানা যায়,গর্জনিয়া বাজার থেকে বেলতলী বাজার সংযোগ সড়কের  বাকঁখালী নদীর উপর নির্মিত বাখখালী সেতুর দক্ষিন পার্শ্বে এপ্রোচ ভেঙ্গে গেলে যোগাযোগ ব্যবস্হা সম্পুর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।এমন উদ্ভট পরিস্হিতিতে দ্রুত পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্হা নেন রামু উপজেলা চেয়ারম্যান রিয়াজ-উল আলম, নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ লুৎফর রহমান।গর্জনিয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আলহাজ্ব সৈয়দ নজরুল ইসলাম তড়িৎ কার্যকরী কর্যক্রম শুরু করেছেন। এ প্রসংঙ্গে গর্জনিয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান সৈয়দ নজরুল ইসলাম এ প্রতিবেদক কে জানান,মাননীয় সাংসদ, রামু উপজেলা চেয়ারম্যান ও রামু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার আন্তরিকতার কারনে গর্জনিয়া ব্রিজের এপ্রোচের কাজ সহসা শুরু করতে পারায় জনদুর্ভোগ থেকে গর্জনিয়াবাসী পরিত্রান পেয়েছেন।কচ্ছপিয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আবু ইসমাইল মোহাম্মদ নোমান জানান,মৌলভী কাটা,হাজির পাড়া,দৌছড়ি,কচ্ছপিয়া,দৌছড়ি দক্ষিন কুল, ফাক্রির কাটা,চাকমার কাটা সহ বেশ কিছু গ্রামীন সড়ক - জনপদ সম্প্রতি অতি বৃষ্টির কারনে  সৃষ্ট পাহাড়ি ঢলে বিনষ্ট হয়ে গেছে।এসব রাস্তা ঘাট জরুরী মেরামতের দাবী জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট এলাকাবাসী।চেয়ারম্যান ইসমাইল মোঃ নোমান আরো জানান,সরকার অগ্রাধিকার দিয়ে যেন পাহাড়ি ঢলে নষ্ট হওয়া রাস্তা গুলো মেরামতের উদ্যোগ নেন কচ্ছপিয়া ইউনিয়নবাসীর পক্ষ থেকে সরকারের কাছে আকুল আবেদন জানাচ্ছি।সরেজমিনে দেখা যায়,গর্জনিয়া ব্রিজের এপ্রোচ মেরামতের কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে যাচ্ছে।শত শত শ্রমিক কাজ করছে।কাজের অগ্রগতি তদারকি করছে স্বয়ং গর্জনিয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান সৈয়দ নজরুল ইসলাম।শুধু গর্জনিয়া যোগাযোগ ব্যবস্হা বিপযস্ত হয়েছে তা নয়।কচ্ছপিয়া ইউনিয়নের দৌছড়ি নারিকেল বাগান এলাকায় গর্জনিয়া বাজার- লেমুছড়ি সড়কের বিশাল অংশ বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে।এছাড়া বন্যার কবলে পড়ে কচ্ছপিয়া ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি সড়কের মারাত্নক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে।এসব সড়কের উল্লেখযোগ্য সড়কগুলো হচ্ছে কচ্ছপিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সামনে গর্জনিয়া বাজার সড়ক- দৌছড়ি নারিকেল বাগান সড়ক,ডাক বাংলো সড়ক - মৌলভী কাটা সড়ক,গর্জনিয়া বাজার- হাইস্কুল সড়ক, ফাক্রির কাটা - নাইক্ষ্যংছড়ি সড়কের অংশ বিশেষ ক্ষতির সম্মোখীন হয়েছে।তাছাড়া কাউয়ার খোপ,মিঠাছড়ি,রাজারকুল,চাকমারকুল,খুনিয়াপালং,ফতোখারকুল ইউনিয়নে অবস্হিত গুরুত্বপূর্ণ সড়ক বিলীন হয়ে গেছে।রামু উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান রিয়াজ উল আলম জানান,বন্যায় ক্ষতির সম্মোখীন হয়েছে তা নিহ্নিত করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কে ব্যবস্হা গ্রহনের অনুরোধ জানানো হয়েছে।
রামু উপজেলা নির্বাহী অফিসার লুৎফর রহমান জানান, রামুতে বন্যায় ক্ষতির পরিমান অনেক বেশি।তৎমধ্যে সড়কের ক্ষয়ক্ষতি প্রচুর।এসব ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক চিহ্নিত করে মেরামতের ব্যবস্হা গ্রহন করা হবে।এদিকে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার দৌছড়ি,বাইশারী,নাইক্ষ্যংছড়ি সদর এলাকার গুরুত্পুর্ন সড়কের ক্ষতি হয়েছে বলে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা আওয়ামীলীগ সাধারন সম্পাদক জানান।
নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাদিয়া আফরিন কচি জানান,ইতোমধ্যে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত সড়কের ক্ষয়ক্ষতি চিহ্নিত করে এসব সড়ক ও ব্রিজ,কালভার্ট মেরামতের ব্যবস্হা গ্রহনের জন্য এলজিইডি ও সড়ক - জনপদ বিভাগে চিঠি পাঠানো হয়েছে।

এই রকম আরও খবর




Editor: Habibur Rahman
Dhaka Office : 149/A Dit Extension Road, Dhaka-1000
Email: [email protected], Cell : 01733135505
[email protected] by BDTASK