বুধবার, ২০ জুন ২০১৮
Friday, 18 May, 2018 10:05:07 pm
No icon No icon No icon

চাঁপাইনবাবগঞ্জ কারাগারে অনিয়ম ও দুর্নীতির আখড়া


চাঁপাইনবাবগঞ্জ কারাগারে অনিয়ম ও দুর্নীতির আখড়া


ফয়সাল আজম অপু, বিশেষ প্রতিনিধি, চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে: বেড বিক্রি, সরকারি বরাদ্দকৃত খাবার চুরি, পিসিতে পণ্যের অতিরিক্ত মূল্য, নিম্নমানের ঔষধ, জামিনপ্রাপ্ত আসামীদের কাছ থেকে বিভিন্ন কৌশলে অর্থ আদায়সহ নানান অনিয়ম চলছে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা কারাগারে। এ কারাগারে ৩টি হাজতি, ১টি কয়েদী ও ১টি হাসপাতাল ওয়ার্ড রয়েছে। ১৫৩ জন আসামীর ধারণ ক্ষমতা সম্পন্ন এ কারাগারে বর্তমানে ৫ গুণ বেশী কারাবন্দী রয়েছে। একদিকে ধারণ ক্ষমতার অতিরিক্ত বন্দী, অন্যদিকে জেলারের নেতৃত্বে কারা কর্তৃপক্ষের বেড বাণিজ্যের কারণে মানবেতন জীবন-যাপন করছে কারাবন্দীরা। টাকার বিনিময়ে কিছু বন্দী বিলাসীভাবে রাত যাপন করলেও প্রায় প্রতিটি ওয়ার্ডে বন্দীদের বসে থেকে রাত যাপন করতে হয়। হাসপাতাল ওয়ার্ডে রোগীদের জায়গা হয়না অথছ টাকার বিনিময়ে বিক্রি করা হয় বেড। হাসপাতাল ওয়ার্ডে প্রতিটি বেড মাসিক ৬ হাজার টাকায় ভাড়া পাওয়া যায়। হাসপাতাল ওয়ার্ডেও রয়েছে অতিরিক্ত কারাবন্দী। কারাগারের বাইরে থেকে খাবার প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা থাকায় কারাগারের ভেতরে বাধ্য করা হয় খাবার ক্রয় করতে। কারাগারে ও বাইরের ক্যান্টিনে সিগারেট, কলা, বিস্কুট, আপেল, কমলা প্রতিটি পণ্য অতিরিক্ত মূল্যে বিক্রয় হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে বন্দীদের পিসিতে ১ হাজার পাঠালে ২০ টাকা অতিরিক্ত দিতে হয়। অথচ রশিদে লেখা হয় ১ হাজার টাকা। প্রতিদিন সন্ধ্যায় কারা ফটকের সামনে জামিনপ্রাপ্ত আসামীর স্বজনদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে দেখা যায়। জামিনপ্রাপ্ত আসামীদের স্বজনের নিকট হতে বিভিন্ন কৌশলে হাজার হাজার টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে কতিপয় কারা কর্তৃপক্ষ। কারাবন্দীদের দেখতে আসা স্বজনদের নিকট থেকে ৮০০ থেকে ১ হাজার টাকা বা অধিক টাকা নেওয়ারও অভিযোগ রয়েছে। অনুসন্ধানে জানা যায়, বিভিন্ন অনিয়ম আর দূর্নীতির মাধ্যমে প্রতিমাসে প্রায় ১৫ লক্ষ টাকা ঘুষ বাণিজ্য করছেন কারা কর্তৃপক্ষ। নিভ্যরযোগ্য সূত্র ও জামিনে বেরিয়ে আসা বন্দিরা জানিয়েছেন, কারাগারের প্রতিটি ওয়ার্ড ইজারা দেয়া হয়। ম্যাট, সিও ম্যাট, সিআইডি ম্যাট, পাহারাদার ও ওয়ার্ড রাইটার এসব ওয়ার্ড বরাদ্দ নিয়ে নির্দিষ্ট ইজারা মূল্য কারা কর্তৃপক্ষকে পরিশোধ করতে বাধ্য করেন। জেল সুপার শফিকুল ইসলামের অজ্ঞাতেই জেলার শরিফুল ইসলামের নেতৃত্বে গড়ে উঠেছে এই অনিয়ম ও দূর্নীতির সিন্ডিকেট। অন্তত ৫শ বন্দীদের কাছে মাসে সর্বনিম্ন ২ হাজার হতে ৬ হাজার টাকা পর্যন্ত বেড ভাড়া উত্তোলন করা হয়। অবৈধভাবে উত্তোলনকৃত বেড ভাড়ার নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা জেলারের পকেটে যায়। বাকি টাকা কতিপয় কারা সদস্য, ম্যাট, পাহারাদার ও ওয়ার্ড রাইটারদের মধ্যে ভাগাভাগি হয়। চাঁপাইনবাবগঞ্জ আদালতের একজন আইনজীবি জানান, জুবায়ের নামের এক জামিনপ্রাপ্ত আসামীর নিকট থেকে ৫ হাজার টাকা দাবি করে কারা কর্তৃপক্ষ। জামিনাদেশ পাওয়ার চার দিন পর ৫ হাজার টাকা নিয়ে মুক্তি দেয় তাকে। মাসুদ রানা নামে রাজশাহী আদালতের এক আইনজীবি সহকারি জানান- আদালত থেকে আসামীর জামিনাদেশ পাওয়ার পরও কারা কর্তৃপক্ষ ইচ্ছাকৃতভাবে কালক্ষেপন করে থাকে। বিভিন্ন সময় দাড়ি কমা ভুল দেখিয়ে নানান অযুহাতে আসামী প্রতি ২ থেকে ৩ হাজার টাকা দাবি করে। ঘুষের টাকা না দিলে মুক্তি দিতে টালবাহানা করে। এ বিষয়ে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) চাঁপাইনবাবগঞ্জ শাখার সভাপতি এ্যাড. সৈয়দ শাহজামাল জানান, কারাগারে বন্দীদের মানবাধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে এ অভিযোগ করেছে ভুক্তভোগিরা। আদালত থেকে দোষী প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত কারাবন্দীরা রাষ্ট্রীয় মেহমান। রাষ্ট্রীয় মেহমানদের তদারকির দায়িত্ব কারা কর্তৃপক্ষের। অথচ বন্দীর স্বজনরা তাদের সাথে দেখা করার অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। তারা ঠিকমত খাবার পাচ্ছে না, ঘুমাতে পারছেনা। এ সুযোগ কারা কর্তৃপক্ষ বন্দীদের জিম্মি করে তাদের পরিবারের কাছে থেকে হাতিয়ে নিচ্ছেন লাখ লাখ টাকা। কারা কর্তৃপক্ষের অনৈতিক চাহিদা পূরণ করতে গিয়ে কারাবন্দিদের পরিবার স্বর্বশান্ত হয়ে পড়ছে। বেড় ভাড়া দিতে অপারগ বন্দীদের প্রতি যে অবিচার করা হয়, তা মানবতার  একটি জঘন্য উদাহরণ। এছাড়াও আদালতের জামিনাদেশ পাওয়ার পরও তারা টাকার জন্য আসামী ছাড়তে বিলম্ব করে। প্রতিনিয়ত এ ধরণের ধৃষ্টতা দেখিয়ে থাকে কারা কর্তৃপক্ষ। এ বিষয়ে জেলার শরিফুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করতে তার ব্যবহৃত ০১৭৬৯৯৭০৫২১ নম্বর মোবাইল ফোনে একাধিকবার ফোন দিলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

 

এই রকম আরও খবর




Editor: Habibur Rahman
Dhaka Office : 149/A Dit Extension Road, Dhaka-1000
Email: [email protected], Cell : 01733135505
[email protected] by BDTASK