বুধবার, ১৭ অক্টোবর ২০১৮
Saturday, 13 Jan, 2018 07:11:36 pm
No icon No icon No icon

ফুলবাড়ীয়ার ২৫৯তম ঐতিহ্যবাহী হুমগুটি খেলা অনুষ্ঠিত


ফুলবাড়ীয়ার ২৫৯তম ঐতিহ্যবাহী হুমগুটি খেলা অনুষ্ঠিত


মো. অা. জব্বার, ফুলবাড়ীয়া( ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি :  শনিবার ( ১৩ জানুয়ারী) অনুষ্ঠিত হলো  ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়া উপজেলার ঐতিহ্যবাহী ঐতিহাসিক ২৫৯তম হুমগুটি খেলা। প্রধান অতিথি হিসেবে খেলাটি উদ্বোধন করেন ময়মনসিংহ জেলা পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মো. মমতাজ উদ্দিন মন্তা, এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদ সদস্য তাজুল ইসলাম বাবলু, কেন্দ্রীয় জাসদ নেতা সৈয়দ শফিকুল ইসলাম মিন্টু, ইউপি সদস্য সহ এলাকার গণ্যমান্য  ব্যক্তিবর্গ।  এলাকায় সরজমিনে গিয়ে  জানাযায়, ঐতিহ্যবাহী এই হুমগুটি খেলা  পৌষ মাসের শেষ বিকেলে অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে।  প্রতি বছরের ন্যায় এবছর  জমিদার আমলের তালুক-পরগনার সীমানায় ২৫৯তম   ঐতিহ্যবাহি হুমগুটি খেলাটি অনুষ্ঠিত হয়  ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলার  ফুলবাড়ীয়া টু ময়মনসিংহ সড়গের পাশে লক্ষীপুর গ্রামের বড়ই আটা বন্দে ( খোলা মাঠে)। পৌষ মাসের শেষ দিনকে স্থানীয়ভাবে বলা হয় পুহুরা। অার পুহুরা দিনে  প্রায় ২৫৮ বছরের  ঐতিহ্যবাহী এই খেলা বছরে একবার একই স্থানে হয়ে অাসতেছে। 
পিতলের তৈরি ১ মণ ওজনের গুটিটি  অায়াত্ত করে নিজ গ্রামে নিয়ে গুম করা পর্যন্ত চলে এই খেলা। নিজ গ্রামে তোলতে দুই / তিন দিন লাগতে পারে। লক্ষীপুর গ্রামের ৫০ বছরের অাফছর অালী বলেন, কোন কোন বছর কয়েক দিন লেগে যায়, কোন গ্রামে গুটি তোলতে ( গুম করতে)। তখন দিন রাত খেলা হয়।   বিকেল চারটার দিকে খেলা শুরু হয়। সকাল থেকে ফুলবাড়ীয়া ছাড়াও পাশ্ববর্তী ত্রিশাল, মুক্তাগাছা উপজেলার লোকজন আসতে থাকে লক্ষ্মীপুর বড়ই আটা বন্দে।
ফুলবাড়ীয়া উপজেলা সদর থেকে ৫ কিলোমিটার উত্তরে লক্ষীপুরের বড়ই আটা বন্দে খেলা শুরুর আগে ময়মনসিংহ-ফুলবাড়ীয়া সড়কের অদূরে ভাটিপাড়া, বালাশ্বর, তেলিগ্রামের সংযোগস্থল নতুন সড়কে লোকে লোকারণ্য হয়ে যায়।
মুক্তাগাছার  জমিদার রাজা শশীকান্তের সাথে ত্রিশালের বৈলরের হেম চন্দ্র রায় জমিদারের জমির পরিমাপ নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি হয়। জমিদার আমলের শুরু থেকেই তালুকের প্রতি কাঠা জমির পরিমাপ ছিল ১০ শতাংশে, পরগনার প্রতি কাঠা জমির পরিমাপ ছিল সাড়ে ৬ শতাংশে। একই জমিদারের ভূ-খন্ডে দুই নীতির প্রতিবাদে তীব্র প্রতিবাদ গড়ে ওঠে। জমির পরিমাপ নিয়ে সৃষ্ট বিরোধ মীমাংসার জন্য লক্ষ্মীপুর গ্রামের বড়ই আটা নামক স্থানে (যেখানে শুরু তালুক পরগনার সীমানা) সেখানে এই গুটি খেলার আয়োজন করা হয়।গুমগুটি খেলার শর্ত ছিল, গুটিটি যে দিকে যাবে তা হবে তালুক, পরাজিত অংশের নাম হবে পরগনা। জমিদার আমলের গুটি খেলায় মুক্তাগাছা জমিদারের প্রজারা বিজয়ী হয়। আজও তালুক পরগনার সীমান্তের জিরো পয়েন্টে ব্রিটিশ আমলে জমিদারি খেলার গোরাপত্তন হলেও এখন ও আমন ধান কাটা শেষ, বোরো ধান আবাদের আগে প্রজাদের শক্তি পরীক্ষার  জন্য জমিদারদের এই পাতানো খেলা চলছে যুগ যুগ ধরে। গুম গুটি খেলাকে কেন্দ্র করে  প্রাচীনকাল থেকেই লক্ষ্মীপুর, বড়ই আটা, ভাটিপাড়া বালাশ্বর, শুভরিয়া, কালীবাজাইল, তেলিগ্রাম, সারুটিয়া, গড়বাজাইল, বাসনা, দেওখোলা, কুকরাইল, বরুকা, ফুলবাড়ীয়া পৌর সদর, আন্ধারিয়া পাড়া, জোরবাড়ীয়া, চৌদার, দাসবাড়ী, কাতলাসেন সহ আশে পাশের ১৪/১৫টি গ্রামে শুরু হয় উৎসবের আমেজ। ছোট ছোট ছেলে মেয়েরা পড়ে নতুন জামা কাপড়, শতাধিক গরু-ছাগল জবাই হয় গ্রামের বিভিন্ন স্থানে। গুটি খেলা এক নজর দেখার জন্য দূরদূরান্তের আত্মীয় স্বজনরাও ভীড় জমায় এ গ্রামে।
এ খেলায় থাকে না কোন রেফারী বা আম্পিয়ার । আইন শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে   কোন প্রকার বাহিনীর প্রয়োজন হয় না। বিকেল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলে খেলা। কোন কোন বছর পরদিন পর্যন্ত খেলা চলার রেকর্ডও আছে। একেক এলাকার একেকটি নিশানা থাকে। ঐ নিশানা দেখে বুঝা যায় কারা কার পক্ষের  লোক। গুটিটি কোন দিকে যাচ্ছে তা মুলত চিহিৃত করা হয় নিশানা দেখে এবং রাতে নিশানা করা হয় টর্চ লাইটের বা মশালের অালোয়।   নিজেদের দখলে নিতে বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করা হয় খেলায়। এভাবে গুটিটি গুম না হওয়া পর্যন্ত চলে। হুমগুটি উন্নয়ন কমিটির পরিচালক এবিছিদ্দিক বলেন,দীর্ঘ ২৫৮ বছ যাবত এ এলাকায় হুমগুটি খেলা অনুষ্ঠিত হচ্ছে সকলের সার্বিক সহযোগীতায এ পযন্ত কোন প্রকার দূর্ঘনা ঘটেনি,  সাধারন সম্পাদক এবি ছিদ্দিক বলেন, এ খেলা  সকলের সহযোগীতায  কমিটির  পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক  মো: চঞ্চল মাহমুদ জানান, আবহাওয়া অনুকুলে না থাকলেও খেলায় কোন ধরনের প্রভাব পড়বে না, যারা খেলোয়াড়  তারা যথা সময়েই আসবে এবং খেলা চলবে।

এই রকম আরও খবর




Editor: Habibur Rahman
Dhaka Office : 149/A Dit Extension Road, Dhaka-1000
Email: [email protected], Cell : 01733135505
[email protected] by BDTASK