রবিবার, ১৭ ডিসেম্বর ২০১৭
Wednesday, 22 Nov, 2017 12:42:03 am
No icon No icon No icon
অস্পৃশ্যতায় সমাজচুত্য

সৈয়দপুরের হরিজনদের দুর্বিসহ জীবন


সৈয়দপুরের হরিজনদের দুর্বিসহ জীবন


নাজমুল হুদা, টাইমস ২৪ ডটনেট, সৈয়দপুর থেকে: এনজিওর প্রশিক্ষনে কর্মদক্ষতা ও সচেতনতা বেড়েছে। তবে অস্পৃশ্যতা,মাদকের অবাধ ব্যবহার এবং অর্থ বাণিজ্যে কর্ম না পাওয়াসহ নানাবিধ সমস্যায় থমকে গেছে সৈয়দপুরের হরিজনদের জীবনের ধারা। এতে সমাজে চরম বঞ্চনার শিকার হয়ে দুর্বিষহ জিবন কাটছে দলিত এ সম্প্রদায়ের। এ যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পেতে তাই মাননীয় প্রধান মন্ত্রীর কাছে মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার দাবি জানিয়েছে হরিজনরা। একটি সুত্র জানায়, দেশে ৫৫ লাখ দলিত জনগোষ্ঠীর মধ্যে হরিজনদের সংখ্যা প্রায় ১৫ লাখ। এক সময় এদের সম্পর্কে সুস্পষ্ট কোনো তথ্য না থাকায় জাতীয় উন্নয়ন নীতি ও পরিকল্পনা প্রণয়নে তারা বাদ পড়ে যায়। তবে বর্তমান এসকেএস ফাউন্ডেশন,পৌরসভা ও ওয়াটার এইড এদের উন্নয়নে কর্মদক্ষতা, হাইজিনিক পয়ঃনিস্কাশন ও স্বাস্থ্য সচেতনতায় প্রশিক্ষন প্রদান করেন। তবে নিত্য মদ পান আর পরিচ্ছন্নতার কাজের কারনে মানুষ হিসেবে তারা সমাজে নিজেদের গ্রহন যোগ্যতা সৃষ্টি করতে পারেনি।স্বল্প বেতনের কর্ম, সামাজিকভাবে মর্যাদাহীন, বিনোদন,ক্রীড়ায় নেই তাদের অংশ গ্রহন। অতি দরিদ্র বয়স্ক,বিধবা হওয়া সত্তে¡ও মিলছে না কোনো ভাতা। এমনকি সামাজিক প্রতিবন্ধকতায় ভাড়া বাড়িও জুটছেনা। এতে অনাদর আর অবহেলায় এ জনপদের প্রায় ১১০টি হরিজন পরিবারের সাড়েশত মানুষ এক ঘরে হয়ে জিবন-যাপন করছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ভারতবর্ষে হিন্দু রাজাদের শাসনামলে পরিস্কার পরিচ্ছন্নতায় নিয়োজিতদের পরবর্তি বংশধরেরা জন্মগতভাবে এ পেশা ধরে থাকায় পরিণত হন হরিজন সম্প্রদায়। হিন্দু রাজা হতে মুঘল যুগ। অতপর ইংরেজ শাসনামল পরে ভারতবর্ষ ও পাকিস্তান। যুগে যুগে শাসক বদল হলেও দলিত এ সম্প্রদায়ের ভাগ্য বদলায়নি। পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতায় একটি জাতি হিসেবে বিভিন্ন জায়গায় বিক্ষিপ্তভাবে শুরু করে বসবাস।
এদিকে, ইংরেজ শাসনামলে ১৮৭০ সালে সৈয়দপুরে গড়ে উঠে রেলওয়ে কারখানা। শুরুতে এ বিশাল কারখানায় অফিস, স্থাপনা ও শ্রমিক কোয়াটারে পরিচ্ছন্নতা কর্মী হিসেবে স্থায়ী নিয়োগ পান হরিজনরা। পরিচ্ছন্নতার চাকরির পর বিভিন্ন বাসা-বাড়ির টয়লেট পরিস্কারে চুক্তিতে কাজ করতেন। এভাবে কাজের ক্ষেত্র বাড়ায় ভারতের অনেক হরিজন এসে আশ্রয় নেয় এ শহরে। এ সম্প্রদায়ভূক্তদের সংখ্যা বাড়ে। ওই সময় স্যানিটেশন ব্যবস্থা কেউ কল্পনাও করেনি। পরে ৮০ এর দশকে বিভিন্ন এনজিওর পরামর্শে স্থায়ি স্যানিটেশন ব্যবস্থা শুরু হওয়ার পর দিনের পর দিন হরিজনরা কর্মহীন হয়ে পড়ে। শুরু হয় অভাব-অনটন। অনেকে পরিবারসহ ভারতে পাড়ি জমান। পর্যায়ক্রমে হরিজনদের সংখ্যা কমতে কমতে এখন এ শহরের বিভিন্ন এলাকায় রয়েছে প্রায় সাড়ে ৭শত।
সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, শহরের তামান্না সিনেমা হল সংলগ্ন, পাওয়ার হাউস এলাকা, অফিসার্স কলোনী, সুরকী মহল্লা, নতুন বাবুপাড়া এলাকায় ঘুরে দেখা যায়, হরিজনদের ধিক্কারের দৃশ্য। শহরের রেল লাইনের ধারের মক্কা রেস্তেরা। এ রেস্তেরায় জায়গা হয়নি জয়,ছোটে,মালুয়া,ওমরজিৎ ও রাজেন্দ্র বাশফোরের। রেললাইনের ওপর বসিয়ে তাদের গøাসে চা ঢেলে দিচ্ছেন রেস্তেরার মালিক। বঞ্চনা আর অবহেলার আক্ষেপে হরিজন রাজেন্দ্র (৩৮) জানান, আমরা কোন ছোট ব্যবসা শুরু করে সেখানে কেউ খরচ করে না। তৃষ্ণার্ত হয়ে কারো কাছে পানি চাইলেও দেয় না। সেলুনে চুল কাটতে গেলে নাপিত তাড়িয়ে দেয়। ওমরজিৎ জানান, সৈয়দপুর হাসপাতালে দির্ঘ দেড় যুগ কাজ করছি। শুধু ঘুষের টাকা দিতে না পারায় চাকরি হয়নি। রেস্তেরা মালিক মালিক মক্কা, মোস্তাফিজুর,একরাম হরিজনদেও প্রবেশে বাধা বিষয়ে এটি নিয়মের কথা বলে জানান। সৈয়দপুর শহরের সুড়কি মহল্লা এলাকার উচ্চ মাধ্যমিক ১ম বর্ষের ছাত্র সঞ্জয় জানান, আমাদের ধ্বংস করছে মাদক। কারন অভিভাবকরা যা আয় করে।পুরোটাই মদপান করে শেষ করে। এভাবে এক সময় লিভারের রোগে আক্রান্ত হয়ে অল্প বয়সে মারা যাচ্ছে। এতে অনেক পরিবারে বিধবা, পিতা-মাতা হারা সন্তানের সংখ্যা বাড়ছে। আর আর্থিক সংকটে লেখা পড়া ছেড়ে দিয়ে পরিচ্ছন্নতা কর্মির পেশায় যাচ্ছে।সৈয়দপুর হরিজন কল্যাণ সমিতির সাধারন সম্পাদক মালুয়া বাশফোর জানান, আমরা শত বঞ্চনার বিষয়গুলি সকলে জানলেও কোন প্রতিকার পাই না। তাই সরকারের কাছে আবেদন এ দশা থেকে আমাদেও রাষ্ট্রিয় আইনের মাধ্যমে নিঃস্কৃতি দেয়া হয়। এ নিয়ে এসকেএস ও ওয়াটার এইডের প্রজেক্ট কো-অর্ডিনেটর মোঃ নজরুল ইসলাম বলেন, হরিজনদের জিবন্নোয়নে আমরা অনেক কাজ করেছি। সামনে আরো অনেক কর্মসুচি আছে। তবে সামাজিক গ্রহন যোগ্যতায় সকলকেই এগিয়ে আসতে হবে। 

 

এই রকম আরও খবর




Editor: Habibur Rahman
Dhaka Office : 149/A Dit Extension Road, Dhaka-1000
Email: [email protected], Cell : 01733135505
[email protected] by BDTASK