রবিবার, ১৭ ডিসেম্বর ২০১৭
Thursday, 16 Nov, 2017 12:37:00 pm
No icon No icon No icon

ঘাটাইলে সাড়ে ৩ কোটি টাকা ঘুষ বানিজ্যের অভিযোগ বিট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে


ঘাটাইলে সাড়ে ৩ কোটি টাকা ঘুষ বানিজ্যের অভিযোগ বিট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে


মনোয়ার হোসেন সোহেল, টাইমস ২৪ ডটনেট, ঘাটাইল (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি: ঘাটাইলের ঝড়কা বিটের সাবেক বিট কর্মকর্তা ওয়াদুদুর রহমান ফরেষ্টার ও বটতলি বিটের বিট কর্মকর্তা মোঃ মোশাারফ হোসেন ফরেষ্টারের বিরুদ্ধে অংশিদারিত্বের ভিত্তিতে সামাজিক বনায়নের সুবিধা ভোগী নিয়োগের নাম নিয়ে সাড়ে ৩ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ পাওয়া গেছে। ভূক্ত ভোগীরা এ দু’বিট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ এনে দুর্নীতি দমন কমিশনসহ বিভিন্ন দফতরে লিখিত অভিযোগ করেছে। প্রাপ্ত অভিযোগ ও সরেজমিনে ঘুরে জানা গেছে, নিয়োগের সময় ঝড়কা  বিট কর্মকর্তা ওয়াদুদুর রহমান ফরেষ্টারকে ৪০/৪৫ হাজার টাকা ও চেক নেয়ার সময় ঘুষ দিতে হয়েছে চেক প্রতি ৩০০০ হাজার টাকা করে। এতে ৬০০শ প্লটে ঘুষের পরিমান দাড়ায় ২ কোটি ৫৮ লাখ টাকা। আর বটতলি বিটের বিট কর্মকর্তা মোশারফ হোসেন ফরেষ্টার প্রতিটি প্লট বরাদ্ধ দিতে নিয়েছেন ১০ থেকে ৪০ হাজার টাকা পর্যন্ত। এতে ৩ শতাধিক উপকার ভোগী নিয়োগে ঘুষের পরিমান দাড়িয়েছে গড় হিসেবে ৩০ হাজার টাকা করে ৯০ লাখ টাকা। আর চেক দেয়ার সময় নেয়া হয়েছে ৩ হাজার টাকা করে। এতে কমপক্ষে কোটি টাকার অধিক ঘুষ নিয়েছেন বলে ভূক্তভোগীরা জানিয়েছে। এভাবে লটের গাছ কাটা থেকে শুরু করে গাছের চারা, কামলার মজুরী সব কিছুই করেছে পার্টিসিপেন্টরা। এতে করে প্রতি প্লটে তাদের খরচ হয়েছে ৪০/৫০ হাজার টাকা করে। এভাবে তারা তাদের প্রাপ্য ৪৫% টাকার চেক নিতে বিট অফিসারকে দিতে হয়েছে ৩০০০ হাজার টাকা করে। বিধিমালা ও  চুক্তি অনুযায়ী বন বিভাগ ৪৫%, উপকারভোগী ৪৫% আর ট্রি ফার্মিং (টিএফ) ফান্ডের জন্য ১০% টাকা জমা রাখা হয় ব্যাংকে। এ টাকা গুলোই পরবর্তীতে পার্টিসিপেন্টদের মাধ্যমে গাছের চারা, সার, আগাছা পরিষ্কার ও কামলার মজুরী বাবদ খরচ করার কথা। অথচ বিট কর্মকর্তারা টিএফ ফান্ডের  টাকাই সভাপতি ও সেক্রেটারীর  কাছ থেকে বøাঙ্ক চেকে স্বাক্ষর নিয়ে ব্যাংক থেকে টাকা উত্তোলন করে আত্মসাত করেছে বলে জানাগেছে। স্থানীয়রা জানিয়েছে অবৈধ এ টাকার ভাগ পায় ডিএফও, এসিএফ (উত্তর)সহ উপর মহলে। এ ব্যাপারে বন কমিটির কোষাধ্যক্ষ কায়ছার মিয়ার কাছে জানতে চাইলে বলেন, বিট কর্মকর্তা ওয়াদুদুর রহমান ফরেষ্টার আমাদের কাছ থেকে শুধু স্বাক্ষর নিয়েছে, কত টাকা উত্তোলন করা হলো তা আর কখনো জানানো হয়না। আর প্লট হারাতে পারে এমন আশংকায় জানার চেষ্টাও করা হয়না বলেও জানান। অপরদিকে নিরক্ষরদেরকে সভাপতি ও সেক্রেটারী বানিয়ে তাদের নামে ব্যাংক একাউন্টে টাকা রেখে যারা বিট কর্মকর্তাদের আনুগত্য তাদেরকেই কমিটিতে রাখা হয়। জানা যায়, ঝড়কা বিটের জনৈক পার্টিসিপেন্ট রেজাককে দুটি সামছুলকে দুটি ও বিসা মিয়াকে তিনটি প্লটের সভাপতি করা হয়েছে। বিট কর্মকর্তারা কয়েক ধাপে ব্যাংক থেকে এ টাকা উত্তোলন করে আত্মসাত করেছে বলে জানা গেছে। এদিকে বিট কর্মকর্তা ওয়াদুদুর রহমান নাগরপুরের সরকার দলীয় এমপি’র ভাই পরিচয়ে দাপট দেখিয়ে সামাজিক বনায়নের অংশীদারদের কাছ থেকে এ টাকা আতœসাৎ করেছে। বিট কর্মকর্তা মোশারফ হোসেন ফরেস্টারের বাড়ী, বিট অফিসের অতি নিকটে থাকায় স্থানীয় প্রভাব খাটিয়ে ৪ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছে। নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানাগেছে বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মাসুদ রানা, সহকারী বন সংরক্ষক উত্তর এমএ হাসানুজ্জামান সহ স্থানীয় রেঞ্জ কর্মকর্তা ও বিট কর্মকর্তাদের যোগসাজসে এ টাকা আত্মসাত করা হয়েছে। ফলে এদের বিরুদ্ধে একাধিক বার লিখিত অভিযোগ, পত্রিকায় ও গণমাধ্যমে সুনিদিষ্ট ভাবে প্রতিবেদন প্রকাশ হলেও কার্যত আইনের হাত তাদেরকে একটু স্পর্শও করেনি। বিট কর্মকর্তাদের ঘুষ বানিজ্যের প্রতিবাদ করলে তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা বন মামলা ঠোকে দেয়া হয় বলে জানালেন আনোয়ার হোসেন নামের এক যুবক। তিনি জানান ঝড়কা বিট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগকারীদের মধ্যে ফটিক, লিটন ও জয়নাল আবেদীন জানান ২০১৪-১৫, ২০১৫-১৬ ও ২০১৬-১৭ সালে যে বাগান গুলো বরাদ্ধ দেওয়া হয় সেগুলোতে নিজ খরচায় চারা কেনা শ্রমিক মজুরী সার প্রভৃতিতে কমপক্ষে ৪৫ হাজার টাকা করে খরচ হয়েছে। এ ছাড়াও প্লট নেয়ার সময় বিট কর্মকর্তাকে ৪০ হাজার টাকা করে দিতে হয়েছে। সহকারী বন সংরক্ষক (উত্তর) এম এ হাসান আলীর কাছে ২৩/১০/১৭ ইং তারিখ ১২ টা ৪২ মিনিটি ও ২৪/১০/১৭ ইং তারিখ সকাল ১০ টা ৫৫ মিনিটে তার মোবাইল ফোনে (০১৭১১-২৪৮৫৫৬) নম্বরে ফোন করলে রিং বাজলেও তিনি রিসিব করেননি। বিট কর্মকর্তা মোশারফ হোসেন ফরেস্টারের কাছে জানতে চাইলে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে লাইন কেটে দেন। টাঙ্গাইল বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (সাবেক) মাসুদ রানার কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন আমার সময় কোন প্লট বরাদ্ধ হয়নি। আমি চলে এসেছি দুই মাস আগে। তিনি কোন দুর্নিতির সাথে জড়িত নেই বলে দাবি করেন। তবে ভূক্ত ভোগীদের দাবি, বিষয়টি দুর্নীতি দমন কমিশনের সরেজমিনে তদন্তের মাধ্যমে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হোক। 


 

এই রকম আরও খবর




Editor: Habibur Rahman
Dhaka Office : 149/A Dit Extension Road, Dhaka-1000
Email: [email protected], Cell : 01733135505
[email protected] by BDTASK