বুধবার, ২৪ মে ২০১৭
Thursday, 16 Feb, 2017 03:22:31 pm
No icon No icon No icon

খেয়ামাঝির কাছে হাজারো মানুষ জিম্মি

খেয়ামাঝির কাছে হাজারো মানুষ জিম্মি


নুরে আলম ফয়েজ, টাইমস ২৪ ডটনেট, ভোলা প্রতিনিধি: ভোলার তুলাতলি থেকে মাঝের চরে যাতায়াতের একমাত্র মাধ্যম খেয়া নৌকার মাঝিদের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে চরাঞ্চলের কয়েক হাজার মানুষ। খেয়ার মাঝিদের ইচ্ছার উপর চরে যাতায়াত নির্ভর করছে। মাঝি ইচ্ছা করলে খেয়া চলে। ইচ্ছা না করলে খেয়া চলে না। জরুরি প্রয়োজনেও লোকজন চরে যাতায়াত করতে পারছেনা। অভিযোগ রয়েছে খেয়া যার নামে ইজারা নেয়া হয়েছে সে খেয়াপারাপর না করে ছাত্রদলের কর্মীদেরকে সাব ইজারা দিয়েছে। তারা এক এক দিন এক এক জন পালাক্রমে খেয়া পারাপার করছে। তাই অতিরিক্ত লাভের জন্য যাত্রীদেরকে বিভিন্নভাবে হয়রানি করার ঘটনা ঘটছে। 

সরেজমিনে গেলে স্থানীয়রা জানায়, ভোলা সদর উপজেলার ধনিয়া ইউনিয়নের তুলাতলি ঘাট থেকে সরকারি ইজারা নিয়ে ছগির মাঝি খেয়া নৌকা চালায়। দুটি ট্রলারে যাতায়াত করে। যাত্রী প্রতি ১৫ থেকে ২০ টাকা আদায় করা হয়। ওই ট্রলারে যাত্রীদের সাথে ব্যবসায়ীদের মালামাল এমন কি গরু-ছাগলও আনা নেয়া করে। অনেক সময় অধিক মালামাল নিয়ে চরম ঝুকির মধ্যে উত্তাল মেঘনা নদী পাড়ি দেয়। কোন কোন সময় যাত্রীদের নামিয়ে দিয়ে কেবলমাত্র মালামাল আনানেয়া করা হয়। এতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা যাত্রীদের অপেক্ষা করতে হয়। শুধু তা ই নয় খেয়া মাঝির দৌড়াত্ম্যের কারণে কেউ ইচ্ছা করলে অন্য কোন ট্রলার নিয়ে কেউ চরে যাতায়াত করতে পারেনা। এতে করে জরুরি প্রয়োজনে যাত্রীরা ঘাটে আটকে পড়ে। 
খেয়াঘাটে আটকে পড়া চরফ্যাসনগামী যাত্রী মো: ছাদেক এবং আব্দুল মালেক দফাদার অভিযোগ করেন, খেয়ামাঝি ও তার লোকজনের কাছে চরের কয়েক হাজার মানুষ জিম্মি। এদের ইচ্ছামত খেয়া চলে। ভাড়া আদায়েও কোন নিয়ম নীতি মানা হচ্ছে না। মাত্র ১০ মিনিটের খেয়া পাড়াপাড়ে ১৫ থেকে ২০ টাকা আদায় করে। বিষয়টি যেন কেউ দেখছে না। হামলা মামলার ভয়ে কেউ প্রতিবাদও করতে পারে না। এ কারণে অনেক সময় গুরুতর অসুস্থ কাউকে চর থেকে মূল ভূখন্ডে আনতে বিলম্ব হয়। আবার অতিরিক্ত টাকাও খরচ হয়। তা ছাড়া খেয়া চলাচলের কোন নিয়ম নীতি না থাকায় এবং কর্তৃপক্ষ কোন তদারকি না করায় ইচ্ছামত ভাড়া আদায়ের অভিযোগও রয়েছে। 
বুধবার দুপুর ২টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত প্রায় অর্ধশত যাত্রী তুলাতলি আসার জন্য মাঝের চরের খেয়াঘাটে অপেক্ষা করতে বাধ্য হয়। কারণ ওই সময় চর থেকে বস্তায় বস্তায় সবজী আনা হচ্ছিল। তখন যাত্রীরা অন্য ট্রলার নিয়ে আসতে চাইলে পারেনি। কারণ খেয়ামাঝির লোকজনের ভয়ে অন্যান্য ট্রলারের মাঝিরা যাত্রী পারাপার করতে পারে না। এ ছাড়া সবজী মালিকরা অন্যা ট্রলার ভাড়া করে মালামাল আনতে চাইলে খেয়ার মাঝিকে ট্রলার প্রতি ৪ থেকে ৬শত টাকা করে দিতে বাধ্য করে। বিষয়টি চরম অমানবিক এবং দ্রুত এর সমাধানের দাবি জানিয়েছেন চরবাসী।
মাঝের চরের মদনপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নাছির উদ্দিন নান্ন ু ডাক্তার সাংবাদিকদের জানান, খেয়ার মাঝিরা যাত্রীদের সাথে চরম দুর্ব্যবহার করে। ছোট হাত ব্যগ নিলেও এক দেড়শ টাকা আদায় করে। তারা মানুষের সাথে সন্ত্রাসী আচরণ করে। এদের কাছে চরের হাজার হাজার মানুষ জিম্মি। 
খেয়ার মাঝি ছগির জানান, তারা যাত্রীদের হয়রানি করছে না। তবে ৮ জন ভাগিদার পালাক্রমে খেয়া চালাচ্ছে। 
ভোলা জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের স্থানীয় সরকার শাখার উপ-পরিচালক অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব )মাহমুদুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। এ ছাড়া কিছুদিনের মধ্যে নতুন বছরের জন্য ওই খেয়া ইজারা দেয়ার সময় বিষয়টি খতিয়ে দেয়া হবে।


টাইমস ২১৪ ডটনেট/দুনিয়া/৩৫৮৫/১৭

এই রকম আরও খবর




Editor: Habibur Rahman
Dhaka Office : 11 Banga Bandhu Avenue (2nd Floor), Dhaka-1000
Email: [email protected], Cell : 01733135505
[email protected] by BDTASK